ঢাকা ১২:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সড়ক যেন চাষের জমি

যশোরের শার্শা উপজেলার লক্ষনপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড দুর্গাপুর গ্রামের প্রায় দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়কটি পাকা না করায় দুর্ভোগ চরমে। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ কাঁদা ভেঙে যাতায়াত করেন। বর্ষায় সড়কটি আরো বেহাল হয়ে যায়। তখন পায়ে হেটে হেঁটে চলাচলও কঠিন হয়ে যায়।

এদিকে বিকল্প কোনো সড়ক না থাকায় গ্রামবাসীকে বাধ্য হয়েই কাঁদা-পানি মাড়িয়ে প্রতিনিয়ত এ সড়কে চলাচল করতে হচ্ছে।

স্বাধীনতার পর থেকেই এ সড়কটি কাঁচা। সড়কটি পাকা হবে এ আশায় এলাকাবাসী বছরের পর বছর অপেক্ষায় আছেন। কিন্তু কাঁচা সড়ক আর পাকা হয় না। জনপ্রতিনিধিরা বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিনেও সংস্কার না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই কাঁদা পানিতে সড়কটি একাকার। সড়কের মাঝখানে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য বড় বড় গর্তের। আর তাতে প্রতিনিয়ত জমছে পানি। চলাচল করতে পারছে না যানবাহন। পায়ে হেটে চলাচল করাও এখন কষ্টসাধ্য।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এ গ্রামের শিক্ষার্থীরা কাঁচা সড়কটি ব্যবহার করে দুই কিলোমিটার দূরের বাহাদুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও রহিমপুর আলিম মাদরাসায় যায়। এছাড়াও এই গ্রাম থেকে দেশের বৃহত্তম বেনাপোল স্থল বন্দরে কাজ করতে যাওয়ার জন্য একমাত্র সড়ক এটি।

দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একটি মাত্র সড়ক এটি। বর্ষার দিনে এই সড়ক দিয়ে একেবারেই চলাচল করা যায় না। অনেক সময় বয়স্ক মানুষ চলতে গিয়ে গুরুতর আহত হন। মোটরসাইকেল, ভ্যান গাড়ি, সাইকেল কাদাঁর মধ্যে উল্টে যায়। এছাড়া প্রসূতি মা কিংবা জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স কিংবা গাড়ি গ্রামের ভেতর যায় না।

স্থানীয় বাসিন্দা কবির হোসেন বলেন, দিনের বেলায় কোন রকম পার হওয়া যায়। কিন্তু রাতের বেলায় আর যাওয়া যায় না। আমরা এলাকাবাসী এই সড়কটি দ্রুত পাকা করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য রাসেদ আলী আলোকিত সকালকে বলেন, সড়কটির জন্য অনেক দপ্তরে যোগাযোগ করেছি কিন্তু কারো কাছ থেকে কোনো আশ্বাস পাইনি।

স্থানীয় সমাজকর্মী জহুরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান চেয়ারম্যানের ব্যর্থতার কারণে এ সড়কটি পাকা হচ্ছে না। শুধু এ সড়ক নয় এলাকার উন্নয়নে তিনি কোনো কাজই করেন না। তিনি এমপিকে বাদ দিয়ে মেয়রের রাজনীতি করার কারণে এমপির কাছে কোনো কাজের জন্য যান না। অন্যান্য চেয়ারম্যানরা কাজ পেলেও তিনি এলাকার উন্নয়নে কাজ পান না।

তিনি আরো বলেন, এই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আনোয়ারা খাতুন ২০১৮ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সাড়ে ৪ বছর চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন। এর আগে তার স্বামী প্রয়াত সালাহউদ্দিন আহমেদ শান্তি এই ইউনিয়নে ২ বছর চেয়ারম্যান ছিলেন। তার মৃত্যুতে উপ-নির্বাচনে তার স্ত্রী আনোয়ারা খাতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০২১ সালের ২৯ নভেম্বরের ইউপি নির্বাচনে আবারও চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আনোয়ারা খাতুন।

লক্ষণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ারা খাতুন আলোকিত সকালকে বলেন, আমার ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রামে একটি রাস্তাও পাকা নেই। খুবই কষ্টে আছে ওই গ্রামের বাসিন্দারা। গত বছরও ওই রাস্তাটি মাপ হয়েছিলো। তারপরও কী কারণে রাস্তাটির কাজ বন্ধ যায় আমার জানা নেই। তবে রাস্তাটির বিষয়ে এমপি সাহেবের কাছে অনুরোধ জানাবো।

Tag :
জনপ্রিয়

রসিক নির্বাচন ; আ’লীগের মেয়র প্রার্থী ডালিয়ার গণসংযোগ অনুষ্ঠিত

সড়ক যেন চাষের জমি

প্রকাশের সময় : ০৮:৪০:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২

যশোরের শার্শা উপজেলার লক্ষনপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড দুর্গাপুর গ্রামের প্রায় দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়কটি পাকা না করায় দুর্ভোগ চরমে। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ কাঁদা ভেঙে যাতায়াত করেন। বর্ষায় সড়কটি আরো বেহাল হয়ে যায়। তখন পায়ে হেটে হেঁটে চলাচলও কঠিন হয়ে যায়।

এদিকে বিকল্প কোনো সড়ক না থাকায় গ্রামবাসীকে বাধ্য হয়েই কাঁদা-পানি মাড়িয়ে প্রতিনিয়ত এ সড়কে চলাচল করতে হচ্ছে।

স্বাধীনতার পর থেকেই এ সড়কটি কাঁচা। সড়কটি পাকা হবে এ আশায় এলাকাবাসী বছরের পর বছর অপেক্ষায় আছেন। কিন্তু কাঁচা সড়ক আর পাকা হয় না। জনপ্রতিনিধিরা বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিনেও সংস্কার না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই কাঁদা পানিতে সড়কটি একাকার। সড়কের মাঝখানে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য বড় বড় গর্তের। আর তাতে প্রতিনিয়ত জমছে পানি। চলাচল করতে পারছে না যানবাহন। পায়ে হেটে চলাচল করাও এখন কষ্টসাধ্য।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এ গ্রামের শিক্ষার্থীরা কাঁচা সড়কটি ব্যবহার করে দুই কিলোমিটার দূরের বাহাদুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও রহিমপুর আলিম মাদরাসায় যায়। এছাড়াও এই গ্রাম থেকে দেশের বৃহত্তম বেনাপোল স্থল বন্দরে কাজ করতে যাওয়ার জন্য একমাত্র সড়ক এটি।

দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একটি মাত্র সড়ক এটি। বর্ষার দিনে এই সড়ক দিয়ে একেবারেই চলাচল করা যায় না। অনেক সময় বয়স্ক মানুষ চলতে গিয়ে গুরুতর আহত হন। মোটরসাইকেল, ভ্যান গাড়ি, সাইকেল কাদাঁর মধ্যে উল্টে যায়। এছাড়া প্রসূতি মা কিংবা জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স কিংবা গাড়ি গ্রামের ভেতর যায় না।

স্থানীয় বাসিন্দা কবির হোসেন বলেন, দিনের বেলায় কোন রকম পার হওয়া যায়। কিন্তু রাতের বেলায় আর যাওয়া যায় না। আমরা এলাকাবাসী এই সড়কটি দ্রুত পাকা করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য রাসেদ আলী আলোকিত সকালকে বলেন, সড়কটির জন্য অনেক দপ্তরে যোগাযোগ করেছি কিন্তু কারো কাছ থেকে কোনো আশ্বাস পাইনি।

স্থানীয় সমাজকর্মী জহুরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান চেয়ারম্যানের ব্যর্থতার কারণে এ সড়কটি পাকা হচ্ছে না। শুধু এ সড়ক নয় এলাকার উন্নয়নে তিনি কোনো কাজই করেন না। তিনি এমপিকে বাদ দিয়ে মেয়রের রাজনীতি করার কারণে এমপির কাছে কোনো কাজের জন্য যান না। অন্যান্য চেয়ারম্যানরা কাজ পেলেও তিনি এলাকার উন্নয়নে কাজ পান না।

তিনি আরো বলেন, এই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আনোয়ারা খাতুন ২০১৮ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সাড়ে ৪ বছর চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন। এর আগে তার স্বামী প্রয়াত সালাহউদ্দিন আহমেদ শান্তি এই ইউনিয়নে ২ বছর চেয়ারম্যান ছিলেন। তার মৃত্যুতে উপ-নির্বাচনে তার স্ত্রী আনোয়ারা খাতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০২১ সালের ২৯ নভেম্বরের ইউপি নির্বাচনে আবারও চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আনোয়ারা খাতুন।

লক্ষণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ারা খাতুন আলোকিত সকালকে বলেন, আমার ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রামে একটি রাস্তাও পাকা নেই। খুবই কষ্টে আছে ওই গ্রামের বাসিন্দারা। গত বছরও ওই রাস্তাটি মাপ হয়েছিলো। তারপরও কী কারণে রাস্তাটির কাজ বন্ধ যায় আমার জানা নেই। তবে রাস্তাটির বিষয়ে এমপি সাহেবের কাছে অনুরোধ জানাবো।