ঢাকা ১১:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২, ২২ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

লোকসানের হিসাব কষছেন পেঁয়াজচাষিরা

পাবনায় পেঁয়াজের হাটে গত এক সপ্তাহর ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম আরো কমেছে। শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে ১১শ টাকা মণ দরে। এক সপ্তাহ আগে দাম ছিল ১২-১৪ টাকা প্রতি মণ। এতে চাষিদের উৎপাদন খরচ উঠছে না বলে তারা জানিয়েছেন।

দেশের অন্যতম বড় পেঁয়াজের হাট বনগ্রামে হাটে গিয়ে দেখা গেছে, পেঁয়াজের আমদানি এখনও বেশ ভালো। চাষিরা বছর শেষে ভালো দাম পাবেন বলে আশায় ছিলেন। কিন্তু তাদের আশার গুড়ে বালি।

চাষিরা বলছেন, নতুন মূলকাটা পেঁয়াজ লাগানো শুরু হবে কয়েক দিনের মধ্যেই। এখনও পেঁয়াজের দাম না বাড়ায় তারা লাভের আশা ছেড়ে দিয়েছেন। বরং তারা হিসাব কষছেন বিঘা প্রতি কত টাকা ক্ষতি হলো। ক্ষতিগ্রস্ত অনেক চাষি আর পেঁয়াজ চাষ করবেন না বলেও জানিয়েছেন।

ব্যাপারিরা বলছেন হাট থেকে পেঁয়াজ কিনে তারা ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে সরবরাহ করেন। আড়তে দাম কম, তাই তারা পেঁয়াজ বেশি দামে কিনতে পারছেন না।

দেশে প্রতিবছর পেঁয়াজের বার্ষিক উৎপাদন প্রায় ২৫ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে পাবনা জেলা থেকেই উৎপাদন হয় প্রায় সাড়ে ছয় লাখ থেকে সাত লাখ মেট্রিক টন। যা মোট উৎপাদনের এক চতুর্থাংশের বেশি। আর পাবনা জেলার সাঁথিয়া-সুজানগর উপজেলা থেকে উৎপাদন হয় প্রায় পৌনে পাঁচ লাখ মেট্রিক টন। সে হিসাবে সারা দেশে মোট উৎপাদিত পেঁয়াজের এক পঞ্চমাংশ উৎপাদিত হয় পাবনার এ দুটি উপজেলা থেকে।

পাবনার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সাইফুল ইসলাম জানান, পাবনা জেলার সাঁথিয়া-সুজানগর দেশের পেঁয়াজের রাজধানী। দেশের এক চতুর্থাংশের বেশি পেঁয়াজ পাবনা জেলায় জন্মে। কৃষি বিভাগ চাষিদের পুরো মৌসুম জুড়ে পরামর্শ দিয়েছে। মৌসুমের শেষের দিকে চাষিরা সাধারণত ভালো দাম পেয়ে থাকেন। এবার বাজারে যোগান বেশি থাকায় দাম কিছুটা কম।

Tag :

যুক্তরাষ্ট্রে ছুরিকাঘাতে নিহত ২, আহত ৬

লোকসানের হিসাব কষছেন পেঁয়াজচাষিরা

প্রকাশের সময় : ০৯:০১:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২

পাবনায় পেঁয়াজের হাটে গত এক সপ্তাহর ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম আরো কমেছে। শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে ১১শ টাকা মণ দরে। এক সপ্তাহ আগে দাম ছিল ১২-১৪ টাকা প্রতি মণ। এতে চাষিদের উৎপাদন খরচ উঠছে না বলে তারা জানিয়েছেন।

দেশের অন্যতম বড় পেঁয়াজের হাট বনগ্রামে হাটে গিয়ে দেখা গেছে, পেঁয়াজের আমদানি এখনও বেশ ভালো। চাষিরা বছর শেষে ভালো দাম পাবেন বলে আশায় ছিলেন। কিন্তু তাদের আশার গুড়ে বালি।

চাষিরা বলছেন, নতুন মূলকাটা পেঁয়াজ লাগানো শুরু হবে কয়েক দিনের মধ্যেই। এখনও পেঁয়াজের দাম না বাড়ায় তারা লাভের আশা ছেড়ে দিয়েছেন। বরং তারা হিসাব কষছেন বিঘা প্রতি কত টাকা ক্ষতি হলো। ক্ষতিগ্রস্ত অনেক চাষি আর পেঁয়াজ চাষ করবেন না বলেও জানিয়েছেন।

ব্যাপারিরা বলছেন হাট থেকে পেঁয়াজ কিনে তারা ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে সরবরাহ করেন। আড়তে দাম কম, তাই তারা পেঁয়াজ বেশি দামে কিনতে পারছেন না।

দেশে প্রতিবছর পেঁয়াজের বার্ষিক উৎপাদন প্রায় ২৫ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে পাবনা জেলা থেকেই উৎপাদন হয় প্রায় সাড়ে ছয় লাখ থেকে সাত লাখ মেট্রিক টন। যা মোট উৎপাদনের এক চতুর্থাংশের বেশি। আর পাবনা জেলার সাঁথিয়া-সুজানগর উপজেলা থেকে উৎপাদন হয় প্রায় পৌনে পাঁচ লাখ মেট্রিক টন। সে হিসাবে সারা দেশে মোট উৎপাদিত পেঁয়াজের এক পঞ্চমাংশ উৎপাদিত হয় পাবনার এ দুটি উপজেলা থেকে।

পাবনার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সাইফুল ইসলাম জানান, পাবনা জেলার সাঁথিয়া-সুজানগর দেশের পেঁয়াজের রাজধানী। দেশের এক চতুর্থাংশের বেশি পেঁয়াজ পাবনা জেলায় জন্মে। কৃষি বিভাগ চাষিদের পুরো মৌসুম জুড়ে পরামর্শ দিয়েছে। মৌসুমের শেষের দিকে চাষিরা সাধারণত ভালো দাম পেয়ে থাকেন। এবার বাজারে যোগান বেশি থাকায় দাম কিছুটা কম।