ঢাকা ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ‘ছক্কা’ ফারহানা

নারী জাগরণের অগ্রদূত ছিলেন বেগম রোকেয়া। তারই নামানুসারে উত্তরবঙ্গে রয়েছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে গত ১২-২০ জুন মার্কেটিং বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত হয় ‘মার্কেটিং স্পোর্টস উইক-২০২২’। অনেকটা মজা করে ফারহানা আক্তার ওই মার্কেটিং স্পোর্টস উইকে বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত ক্রিকেট খেলায় ব্যাট হাতে নিয়েছিলেন। আর তার পরই তার একের পর এক চার, ছক্কা মারার দৃশ্য মুঠোফোনে প্রায় দু’মিনিটের এক ভিডিও ধারণ করে তারই এক জুনিয়র।

ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে সেই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে এবং সবাই খুব প্রফুল্লতার সঙ্গে ভিডিও দেখেছে। ফারহানা বগুড়ার মেয়ে। চার ভাইবোনের মধ্যে সে তৃতীয়। ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলা, লাফঝাঁপ, দৌড়াদড়ি করতে পছন্দ করত সে। এগুলোর পাশাপাশি তার ক্রিকেট খেলতে খুবই ভালো লাগত। বলা যায় ক্রিকেট খেলা তার শখ ছিল। নবম শ্রেণি পর্যন্ত ফারহানা এলাকার বন্ধুবান্ধব এবং কাজিনদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলেছে। একটা সময় সে পড়াশোনার ব্যস্ততা আর সামাজিক ও পারিবারিক চাপে ক্রিকেট খেলা কী জিনিস তা ভুলতে বসেছিল। এর পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর নিজ বিভাগ এমনকি পুরো বিশ্ববিদ্যালয় যখন মেয়েদের জন্য আলাদা করে খেলাধুলার জন্য বিভিন্ন টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয় তখন ফারহানা নিজের ছোট্টবেলার সেই খেলাধুলা করার সুপ্ত শখকে পরিচর্যা এবং নিজেকে বিনোদন দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। কারণ তিনি মনে করেন, দুবেলা খাবার না খেলে যেমন মানুষ ভারসাম্য রেখে চলতে পারে না, তেমনি বিনোদন ছাড়াও মানুষ সামনের দিকে অগ্রসর হতে পারে না। ফারহানার বড় ভাইয়েরও ইচ্ছা ছিল বড় ক্রিকেট খেলোয়াড় হওয়া। কিন্তু বিসিবিতে ভর্তি হওয়ার জন্য যখন সিদ্ধান্ত নিল তখন দেশের রাজনৈতিক অবস্থা বিশেষ করে ঢাকার রাজনৈতিক অবস্থা বেশ অস্থির ছিল। তা ছাড়া পরিবারও এ বিষয়ে তেমন আগ্রহ দেখায়নি। এজন্য এক পা এগিয়েও দুপা পিছিয়ে আসতে হয় তার বড় ভাইকে।

ফারহানা আক্তার বলেন, ‘সেদিন যদি আমার বড় ভাই বিসিবিতে যোগদান করে একজন ক্রিকেট খেলোয়াড় হতে পারত। তা হলে হয়তো জন্মগতভাবে আমার ক্রিকেট খেলার প্রতিভার স্ফুরণ ঘটিয়ে পুরো নারী সমাজের কাছে একজন ক্রিকেট খেলোয়াড় না হয়ে এক অনুপ্রেরণার নাম হতে পারতাম।’ ফারহানা বেশ লাজুক প্রকৃতির মেয়ে। ক্রিকেটের পাশাপাশি সে ভালো ভলিবলও খেলে। সেদিন তাদের টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগে কেবল ট্রায়াল দেওয়ার জন্য সে ব্যাট হাতে নিয়েছিল। তার পর যখন চারদিকে তার চার, ছক্কা মারার ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেল তখন বন্ধুরা তাকে দেখলেই বলে এই দেখো আমাদের মাঝে সেলিব্রিটি আসতেছে। এই সেলিব্রিটি গার্লের ছোটবেলায় ইচ্ছা ছিল ডাক্তার হওয়া। এর পর বাস্তবিক নিয়মানুসারে তার জীবন চলে এবং ২০১৭-১৮ সেশনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কেটিং বিভাগে ভর্তি হন। এখন তিনি একদমই সময় নষ্ট করতে চান না। ব্যাপারটা ঠিক এমন যে, যেখানে ইন্টারেস্ট আছে, সেখানে তিনি আছেন। অর্থাৎ সরকারিভাবে তিনি কোনো ধরনের সহায়তা কিংবা সমর্থন পেলে ক্রিকেট খেলাকে নিজের ক্যারিয়ার হিসেবে গড়ে পুরো নারী সমাজের জন্য রোলমডেল হতে চান। পাশাপাশি তার মতো ক্রিকেটপ্রেমী মেয়েদের ক্রিকেট জগতে আনার জন্য কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী। ঠিক যেমনটা বেগম রোকেয়া পেছনে পড়া নারী গোষ্ঠীকে সামনের কাতারে এনে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে উদ্যমী হয়েছিলেন।

Tag :
জনপ্রিয়

হোসেনপুর বাজার সনাতন ধর্মাবলম্বী ব্যাবসায়িকদের উদ্যোগে বস্ত্র বিতরণ

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ‘ছক্কা’ ফারহানা

প্রকাশের সময় : ০৮:২২:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২

নারী জাগরণের অগ্রদূত ছিলেন বেগম রোকেয়া। তারই নামানুসারে উত্তরবঙ্গে রয়েছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে গত ১২-২০ জুন মার্কেটিং বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত হয় ‘মার্কেটিং স্পোর্টস উইক-২০২২’। অনেকটা মজা করে ফারহানা আক্তার ওই মার্কেটিং স্পোর্টস উইকে বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত ক্রিকেট খেলায় ব্যাট হাতে নিয়েছিলেন। আর তার পরই তার একের পর এক চার, ছক্কা মারার দৃশ্য মুঠোফোনে প্রায় দু’মিনিটের এক ভিডিও ধারণ করে তারই এক জুনিয়র।

ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে সেই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে এবং সবাই খুব প্রফুল্লতার সঙ্গে ভিডিও দেখেছে। ফারহানা বগুড়ার মেয়ে। চার ভাইবোনের মধ্যে সে তৃতীয়। ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলা, লাফঝাঁপ, দৌড়াদড়ি করতে পছন্দ করত সে। এগুলোর পাশাপাশি তার ক্রিকেট খেলতে খুবই ভালো লাগত। বলা যায় ক্রিকেট খেলা তার শখ ছিল। নবম শ্রেণি পর্যন্ত ফারহানা এলাকার বন্ধুবান্ধব এবং কাজিনদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলেছে। একটা সময় সে পড়াশোনার ব্যস্ততা আর সামাজিক ও পারিবারিক চাপে ক্রিকেট খেলা কী জিনিস তা ভুলতে বসেছিল। এর পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর নিজ বিভাগ এমনকি পুরো বিশ্ববিদ্যালয় যখন মেয়েদের জন্য আলাদা করে খেলাধুলার জন্য বিভিন্ন টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয় তখন ফারহানা নিজের ছোট্টবেলার সেই খেলাধুলা করার সুপ্ত শখকে পরিচর্যা এবং নিজেকে বিনোদন দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। কারণ তিনি মনে করেন, দুবেলা খাবার না খেলে যেমন মানুষ ভারসাম্য রেখে চলতে পারে না, তেমনি বিনোদন ছাড়াও মানুষ সামনের দিকে অগ্রসর হতে পারে না। ফারহানার বড় ভাইয়েরও ইচ্ছা ছিল বড় ক্রিকেট খেলোয়াড় হওয়া। কিন্তু বিসিবিতে ভর্তি হওয়ার জন্য যখন সিদ্ধান্ত নিল তখন দেশের রাজনৈতিক অবস্থা বিশেষ করে ঢাকার রাজনৈতিক অবস্থা বেশ অস্থির ছিল। তা ছাড়া পরিবারও এ বিষয়ে তেমন আগ্রহ দেখায়নি। এজন্য এক পা এগিয়েও দুপা পিছিয়ে আসতে হয় তার বড় ভাইকে।

ফারহানা আক্তার বলেন, ‘সেদিন যদি আমার বড় ভাই বিসিবিতে যোগদান করে একজন ক্রিকেট খেলোয়াড় হতে পারত। তা হলে হয়তো জন্মগতভাবে আমার ক্রিকেট খেলার প্রতিভার স্ফুরণ ঘটিয়ে পুরো নারী সমাজের কাছে একজন ক্রিকেট খেলোয়াড় না হয়ে এক অনুপ্রেরণার নাম হতে পারতাম।’ ফারহানা বেশ লাজুক প্রকৃতির মেয়ে। ক্রিকেটের পাশাপাশি সে ভালো ভলিবলও খেলে। সেদিন তাদের টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগে কেবল ট্রায়াল দেওয়ার জন্য সে ব্যাট হাতে নিয়েছিল। তার পর যখন চারদিকে তার চার, ছক্কা মারার ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেল তখন বন্ধুরা তাকে দেখলেই বলে এই দেখো আমাদের মাঝে সেলিব্রিটি আসতেছে। এই সেলিব্রিটি গার্লের ছোটবেলায় ইচ্ছা ছিল ডাক্তার হওয়া। এর পর বাস্তবিক নিয়মানুসারে তার জীবন চলে এবং ২০১৭-১৮ সেশনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কেটিং বিভাগে ভর্তি হন। এখন তিনি একদমই সময় নষ্ট করতে চান না। ব্যাপারটা ঠিক এমন যে, যেখানে ইন্টারেস্ট আছে, সেখানে তিনি আছেন। অর্থাৎ সরকারিভাবে তিনি কোনো ধরনের সহায়তা কিংবা সমর্থন পেলে ক্রিকেট খেলাকে নিজের ক্যারিয়ার হিসেবে গড়ে পুরো নারী সমাজের জন্য রোলমডেল হতে চান। পাশাপাশি তার মতো ক্রিকেটপ্রেমী মেয়েদের ক্রিকেট জগতে আনার জন্য কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী। ঠিক যেমনটা বেগম রোকেয়া পেছনে পড়া নারী গোষ্ঠীকে সামনের কাতারে এনে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে উদ্যমী হয়েছিলেন।