ঢাকা ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ভোটের আগে জোটকে খুশি করতে চায় আওয়ামী লীগ

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা না দিলেও মূলত এখন আর জোটের কার্যকারিতা নেই। তবে কেন্দ্রীয় ১৪ দলীয় জোটের মধ্যে টানাপড়েন থাকলেও এর বাইরে আর কোনো জোট করবে না আওয়ামী লীগ। তাই আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরিকদের ক্ষোভের বিষয়টি বিবেচনা করবে ক্ষমতাসীন দলটি। নির্বাচনকে সামনে রেখে জোটের নেতৃত্বে থাকা আওয়ামী লীগ অন্যদের খুশি করার বিষয়টি বিবেচনা করবে বলে আভাস দিয়েছেন দলটির একাধিক শীর্ষ নেতাও।

সূত্র বলছে, সম্প্রতি বিএনপিকে ছেড়ে দিচ্ছে জামায়াত- এমন খবরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট বা ১৪ দলীয় জোটের বিষয়টিও। মহাজোট নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ার পেছনে আওয়ামী লীগের অনাগ্রহ মূলত দায়ী। এই অনাগ্রহের পেছনে রয়েছে ভোটের রাজনীতির সমীকরণ। অন্যদিকে ১৪ দলের শরিকদের মধ্যে দূরত্ব বাড়ার পেছনে পাওয়া- না- পাওয়ার ক্ষোভ। টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা দলটি দেশ চালাতে গিয়ে প্রশাসননির্ভর হয়ে পড়েছে। এতে শরিক দলগুলো অনেকটাই গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে। ফলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে ১৪ দলের শরিকদের।

আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা বলছেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে নতুন কোনো জোট নয়। যে পুরনো ১৪ দলীয় জোট রয়েছে, সেটি নিয়েই আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন মোকাবিলা করবে দলটি। ১৪ দলীয় জোট স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে নিয়ে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। গত ১৫ মার্চ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জোট নেত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গণভবনে ১৪ দলীয় জোটের বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে জোট নেত্রী বলেছেন, ১৪ দল ছিল, আছে ও ভবিষ্যতে থাকবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। তারা বলেন, বিএনপির সঙ্গে দেশের জনগণ নেই। সঙ্গত কারণেই তাদের পাশ থেকে জামায়াতে ইসলামী সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু এটা তাদের কৌশল মাত্র। তারা কখনো কাউকে ছাড়বে না। তবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ছিল নির্বাচনি জোট। আর ১৪ দল আদর্শিক জোট। তাই এই আদর্শিক জোটের চাওয়া- পাওয়া বিবেচনা করেই আগামীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

১৪ দলের একাধিক নেতা বলেন, ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের বৈশিষ্ট্যই এ রকম। তারা তাদের কর্মকাণ্ড দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছে আমাদের আর দরকার নেই। এখন তো আন্দোলন- সংগ্রাম নেই। সে জন্য আওয়ামী লীগ হয়তো ভোটের হিসাব কষছে। জোট এখন তাদের কাছে বাড়তি ঝামেলা। শরিকরা যে যার পথে চলছে। ইদানীং ঐক্যের ক্ষেত্রে একটু ঢিলেঢালা অবস্থা দেখা যাচ্ছে। সরকার প্রশাসন- আমলানির্ভর হয়ে দেশ পরিচালনা করছে। সাম্প্রদায়িকতা ও দুর্নীতি বিষয়ে ১৪ দলের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কথা বলা দরকার, সেগুলো হচ্ছে না। এই গা- ছাড়া ভাবটাই ঐক্যকে বিনষ্ট করে। ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা এখনও রয়েছে। তবে আদর্শিক বিষয়গুলোকে ধারণ করে ঐক্য পরিচালনা না করলে এটা কাগুজে খেলনার মতো হয়ে যাবে। তবে রাজনৈতিক সংকট যত ঘনীভূত হবে, ১৪ দলের অ্যাক্টিভিটিও দৃশ্যমান হবে। কিন্তু আওয়ামী লীগের গা- ছাড়া মনোভাবের কারণে ১৪ দলের ঐক্য ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির জন্য ক্ষতির কারণ হবে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘১৪ দল গঠিত হয়েছিল অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও উগ্র সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে। কিন্তু এখন আর তেমন নেই। ১৪ দলীয় জোটের সব কিছুই নির্ভর করে আওয়ামী লীগের ওপর। জোট নেত্রী শেখ হাসিনা ১৪ দলীয় জোট ঐক্যবদ্ধ থাকবে এমন আশ্বাস দিলেও এখনও অনেকটা অস্পষ্ট। কারণ আমাদের সঙ্গে আলোচনা করে কোনো কিছুই হয় না। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না রাখলে আমরা এককভাবে প্রার্থী দেব।’

১৪ দলের অন্যতম শরিক সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন, ‘মহাজোট এখন আর নেই। এখন শুধু ১৪ দলীয় জোট রয়েছে। আর বিভিন্ন সময় পাওয়া- না- পাওয়ার বিষয়ে শরিকরা যে ক্ষোভ প্রকাশ করে, এটি আসলে পলিসির ব্যাপার। ১৪ দল আছে, এটি থাকবে। আগামী নির্বাচনও ঐক্যবদ্ধভাবে করবে ১৪ দল।’

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্ল্যাহ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট ছিল। তবে আগামী নির্বাচনে মহাজোটকে নিয়ে আওয়ামী লীগ নির্বাচন করবে কি না, সেটি সময় বলে দেবে। কিন্তু ১৪ দলীয় জোট আছে, থাকবে। হয়তো ১৪ দলের শরিকদের মধ্যে পাওয়া- না- পাওয়ার ক্ষোভ থাকতে পারে। আগামীতে সময়মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আরেকটি বিষয় হলো- পরিবারকে যতই দেওয়া হোক না কেন, সবাই সন্তুষ্ট হয় না। তাই বলে পরিবার ভেঙে যায় না। তবে সব কিছু সমঝোতার মাধ্যমে আগামীতে হবে।’

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ঢাকা মহানগর ১৪ দলীয় জোটের সমন্বয়ক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ১৪ দল আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। ১৪ দলের মুখপাত্র আমির হোসেন আমুর নেতৃত্বে জোটের আগামীতে আরও একের পর এক কর্মসূচি থাকবে। সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মোকাবিলায় আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি নেবে। ১৪ দলে কোনো ঘাটতি নেই। বরং ১৪ দল ঐক্যবদ্ধ ও অত্যন্ত শক্তিশালী। এটি একটি আদর্শিক জোট। এটা কোনো নির্বাচনি জোট নয় যে, সহজেই ভেঙে যাবে। আর নতুন করে কোনো জোটও করবে না আওয়ামী লীগ। জোটে থাকলে ক্ষোভ থাকতেই পারে। তবে আগামীতে আদর্শ ও রাজনীতির স্বার্থে এটি হয়তো থাকবে না।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘মহাজোট আসলে এখন অ্যাক্টিভ নয়। এটি ছিল নির্বাচনি জোট। তবে সামনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট অংশগ্রহণ করবে কি না, সেটি এখনই বলা যাবে না। তবে কেন্দ্রীয় ১৪ দলীয় জোট একটি আদর্শিক জোট। এই জোট আছে, থাকবে। তাদের মধ্যে ক্ষোভ থাকতেই পারে। তবে রাজনৈতিক স্বার্থে খুশি- অখুশির বিষয়টি আগামীতে দেখা হবে। আমরা একসঙ্গে আগামীতে পথ চলতে চাই।’

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর মহাজোট সরকারের শিল্পমন্ত্রী ছিলেন সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া। এরপর আর তাকে মন্ত্রিসভায় রাখা হয়নি। এ সময় ঢাকা- ৮ আসনের এমপি হন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। পরে ২০১৩ সালের ১৮ নভেম্বর মেননকে সর্বদলীয় সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী করা হয়। পরে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা- ৮ আসন থেকে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং মহাজোট সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি। জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মন্ত্রিসভায় তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়ে টানা সাত বছর ছিলেন। পরে তাকে আর মন্ত্রিসভায় রাখা হয়নি। তিনি এখন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি। এরপর আর ১৪ দলের শরিকদের কাউকে মন্ত্রিসভায় রাখা হয়নি।

Tag :
জনপ্রিয়

হোসেনপুর বাজার সনাতন ধর্মাবলম্বী ব্যাবসায়িকদের উদ্যোগে বস্ত্র বিতরণ

ভোটের আগে জোটকে খুশি করতে চায় আওয়ামী লীগ

প্রকাশের সময় : ০৮:৪৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা না দিলেও মূলত এখন আর জোটের কার্যকারিতা নেই। তবে কেন্দ্রীয় ১৪ দলীয় জোটের মধ্যে টানাপড়েন থাকলেও এর বাইরে আর কোনো জোট করবে না আওয়ামী লীগ। তাই আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরিকদের ক্ষোভের বিষয়টি বিবেচনা করবে ক্ষমতাসীন দলটি। নির্বাচনকে সামনে রেখে জোটের নেতৃত্বে থাকা আওয়ামী লীগ অন্যদের খুশি করার বিষয়টি বিবেচনা করবে বলে আভাস দিয়েছেন দলটির একাধিক শীর্ষ নেতাও।

সূত্র বলছে, সম্প্রতি বিএনপিকে ছেড়ে দিচ্ছে জামায়াত- এমন খবরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট বা ১৪ দলীয় জোটের বিষয়টিও। মহাজোট নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ার পেছনে আওয়ামী লীগের অনাগ্রহ মূলত দায়ী। এই অনাগ্রহের পেছনে রয়েছে ভোটের রাজনীতির সমীকরণ। অন্যদিকে ১৪ দলের শরিকদের মধ্যে দূরত্ব বাড়ার পেছনে পাওয়া- না- পাওয়ার ক্ষোভ। টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা দলটি দেশ চালাতে গিয়ে প্রশাসননির্ভর হয়ে পড়েছে। এতে শরিক দলগুলো অনেকটাই গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে। ফলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে ১৪ দলের শরিকদের।

আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা বলছেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে নতুন কোনো জোট নয়। যে পুরনো ১৪ দলীয় জোট রয়েছে, সেটি নিয়েই আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন মোকাবিলা করবে দলটি। ১৪ দলীয় জোট স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে নিয়ে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। গত ১৫ মার্চ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জোট নেত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গণভবনে ১৪ দলীয় জোটের বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে জোট নেত্রী বলেছেন, ১৪ দল ছিল, আছে ও ভবিষ্যতে থাকবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। তারা বলেন, বিএনপির সঙ্গে দেশের জনগণ নেই। সঙ্গত কারণেই তাদের পাশ থেকে জামায়াতে ইসলামী সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু এটা তাদের কৌশল মাত্র। তারা কখনো কাউকে ছাড়বে না। তবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ছিল নির্বাচনি জোট। আর ১৪ দল আদর্শিক জোট। তাই এই আদর্শিক জোটের চাওয়া- পাওয়া বিবেচনা করেই আগামীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

১৪ দলের একাধিক নেতা বলেন, ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের বৈশিষ্ট্যই এ রকম। তারা তাদের কর্মকাণ্ড দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছে আমাদের আর দরকার নেই। এখন তো আন্দোলন- সংগ্রাম নেই। সে জন্য আওয়ামী লীগ হয়তো ভোটের হিসাব কষছে। জোট এখন তাদের কাছে বাড়তি ঝামেলা। শরিকরা যে যার পথে চলছে। ইদানীং ঐক্যের ক্ষেত্রে একটু ঢিলেঢালা অবস্থা দেখা যাচ্ছে। সরকার প্রশাসন- আমলানির্ভর হয়ে দেশ পরিচালনা করছে। সাম্প্রদায়িকতা ও দুর্নীতি বিষয়ে ১৪ দলের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কথা বলা দরকার, সেগুলো হচ্ছে না। এই গা- ছাড়া ভাবটাই ঐক্যকে বিনষ্ট করে। ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা এখনও রয়েছে। তবে আদর্শিক বিষয়গুলোকে ধারণ করে ঐক্য পরিচালনা না করলে এটা কাগুজে খেলনার মতো হয়ে যাবে। তবে রাজনৈতিক সংকট যত ঘনীভূত হবে, ১৪ দলের অ্যাক্টিভিটিও দৃশ্যমান হবে। কিন্তু আওয়ামী লীগের গা- ছাড়া মনোভাবের কারণে ১৪ দলের ঐক্য ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির জন্য ক্ষতির কারণ হবে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘১৪ দল গঠিত হয়েছিল অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও উগ্র সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে। কিন্তু এখন আর তেমন নেই। ১৪ দলীয় জোটের সব কিছুই নির্ভর করে আওয়ামী লীগের ওপর। জোট নেত্রী শেখ হাসিনা ১৪ দলীয় জোট ঐক্যবদ্ধ থাকবে এমন আশ্বাস দিলেও এখনও অনেকটা অস্পষ্ট। কারণ আমাদের সঙ্গে আলোচনা করে কোনো কিছুই হয় না। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না রাখলে আমরা এককভাবে প্রার্থী দেব।’

১৪ দলের অন্যতম শরিক সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন, ‘মহাজোট এখন আর নেই। এখন শুধু ১৪ দলীয় জোট রয়েছে। আর বিভিন্ন সময় পাওয়া- না- পাওয়ার বিষয়ে শরিকরা যে ক্ষোভ প্রকাশ করে, এটি আসলে পলিসির ব্যাপার। ১৪ দল আছে, এটি থাকবে। আগামী নির্বাচনও ঐক্যবদ্ধভাবে করবে ১৪ দল।’

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্ল্যাহ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট ছিল। তবে আগামী নির্বাচনে মহাজোটকে নিয়ে আওয়ামী লীগ নির্বাচন করবে কি না, সেটি সময় বলে দেবে। কিন্তু ১৪ দলীয় জোট আছে, থাকবে। হয়তো ১৪ দলের শরিকদের মধ্যে পাওয়া- না- পাওয়ার ক্ষোভ থাকতে পারে। আগামীতে সময়মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আরেকটি বিষয় হলো- পরিবারকে যতই দেওয়া হোক না কেন, সবাই সন্তুষ্ট হয় না। তাই বলে পরিবার ভেঙে যায় না। তবে সব কিছু সমঝোতার মাধ্যমে আগামীতে হবে।’

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ঢাকা মহানগর ১৪ দলীয় জোটের সমন্বয়ক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ১৪ দল আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। ১৪ দলের মুখপাত্র আমির হোসেন আমুর নেতৃত্বে জোটের আগামীতে আরও একের পর এক কর্মসূচি থাকবে। সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মোকাবিলায় আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি নেবে। ১৪ দলে কোনো ঘাটতি নেই। বরং ১৪ দল ঐক্যবদ্ধ ও অত্যন্ত শক্তিশালী। এটি একটি আদর্শিক জোট। এটা কোনো নির্বাচনি জোট নয় যে, সহজেই ভেঙে যাবে। আর নতুন করে কোনো জোটও করবে না আওয়ামী লীগ। জোটে থাকলে ক্ষোভ থাকতেই পারে। তবে আগামীতে আদর্শ ও রাজনীতির স্বার্থে এটি হয়তো থাকবে না।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘মহাজোট আসলে এখন অ্যাক্টিভ নয়। এটি ছিল নির্বাচনি জোট। তবে সামনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট অংশগ্রহণ করবে কি না, সেটি এখনই বলা যাবে না। তবে কেন্দ্রীয় ১৪ দলীয় জোট একটি আদর্শিক জোট। এই জোট আছে, থাকবে। তাদের মধ্যে ক্ষোভ থাকতেই পারে। তবে রাজনৈতিক স্বার্থে খুশি- অখুশির বিষয়টি আগামীতে দেখা হবে। আমরা একসঙ্গে আগামীতে পথ চলতে চাই।’

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর মহাজোট সরকারের শিল্পমন্ত্রী ছিলেন সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া। এরপর আর তাকে মন্ত্রিসভায় রাখা হয়নি। এ সময় ঢাকা- ৮ আসনের এমপি হন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। পরে ২০১৩ সালের ১৮ নভেম্বর মেননকে সর্বদলীয় সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী করা হয়। পরে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা- ৮ আসন থেকে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং মহাজোট সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি। জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মন্ত্রিসভায় তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়ে টানা সাত বছর ছিলেন। পরে তাকে আর মন্ত্রিসভায় রাখা হয়নি। তিনি এখন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি। এরপর আর ১৪ দলের শরিকদের কাউকে মন্ত্রিসভায় রাখা হয়নি।