ঢাকা ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২, ২২ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

নেচে গেয়ে কারাম উদযাপন

মাসুদ রানা, পত্নীতলা( নওগাঁ) প্রতিনিধি :

আদিবাসীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব কারাম পূজা। বংশ পরম্পরায় যুগ যুগ ধরে প্রতি বছর উত্তরের সমতল ভূমির নওগাঁর আদিবাসীরা এই কারাম উৎসব পালন করে। শুক্রবার রাত শুরু হয়ে দিনব্যাপী জেলার পত্নীতলা উপজেলার শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম মাঠে এ উৎসব পালিত হয়। এ উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা সহ জেলা ও জেলার বাহির থেকে আগত আদিবাসী বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন উৎসবে যোগ দিয়ে তাদের নিজেদের ভাষা সাংস্কৃতি আর ঐতিহ্য তুলে ধরেন।

শনিবার বিকালে উপজেলা আদিবাসী নেতৃবৃন্দের আয়োজনে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে যতিন টপ্যর সভাপতিত্ত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি শহীদুজ্জামান সরকার এমপি। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল গাফ্ফার, নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও রুমানা আফরোজ, নজিপুর পৌর মেয়র রেজাউল কবির চৌধুরী,উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আহাদ, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ অরুন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক দিলিপ চৌহান,কারিতাস রাজশাহী অঞ্চলের ডিএম দিপক এককা, আদিবাসী নেতা যতিন টপ্য, নরেন পাহান, সুধির তির্কী, ইগ্নেসিউশ হেম্রম, (আনন্দ,), পরেশ টুডু, যোশেফ, সুজিত পাহান, বিশ্বনাথ,
সহ উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের আদিবাসী নেতৃবৃন্দ প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে প্রায় ২৫ টি দল নাচ গান পরিবেশন করে নিজস্ব কৃষ্টি কালচার তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আদিবাসী সাংস্কৃতির বিভন্ন স্টল পরিদর্শন ও নাচ গান উপভোগ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রায় ২৫ টি দল নাচ গান পরিবেশন করে নিজস্ব কৃষ্টি কালচার তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আদিবাসী সাংস্কৃতির বিভন্ন স্টল পরিদর্শন ও নাচ গান উপভোগ করেন।

কারাম একটি গাছের নাম। আদিবাসী বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠির মানুষের কাছে এটি একটি পবিত্র গাছ। মঙ্গলেরও প্রতীক। প্রতি বছর বংশপরমপরায় ভাদ্র মাসের পূর্ণিমায় পালন করা হয় এই পূজা। এই উৎসবকে ঘিরে মূখরিত হয়ে নওগাঁর আদিবাসি বসবাসরত এলাকাগুলো। পূজার সময় আদিবাসিদের সহদ্বয় দুই ভাই ধর্মা ও কর্মা’র জীবনী তুলে ধরেন তাদের ধর্মগুরু। আদিবাসি বিশ্বাস করে ধর্ম পালন করায় ধর্মা রক্ষা পান সকল বিপদের হাত থেকে। আর কর্মা ধর্ম পালন করায় তার ক্ষতি হয়। ভাদ্র মাসের প্রথম পূর্ণিমায় আদিবাসি সম্প্রদায়ের লোকজন উপবাস করে কারাম গাছের ডাল কেটে আনেন।

এরপর সন্ধ্যায় পুঞ্জিগা মতে পূর্ণিমা শুরু হলে কারামডাল কেটে অস্থায়ী মন্ডবে পুঁতে রেখে পূজা-অর্চনা আর নাচ-গান ও কিচ্ছা বলার মধ্য দিয়ে প্রতি বছর কারাম এ উৎসব পালন করে। এ সময় পুরো এলাকা আদিবাসীসহ সকল সম্প্রদায় হয়ে উঠে মিলন মেলা। পূজা শেষে পরদিন কারাম ডাল উঠিয়ে গ্রামের তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সের নারী-পুরুষ নেচে গেয়ে গ্রামের বাড়ি বাড়ি ঘুরে পুকুরে জল বিসর্জন দেয়। আদিবাসিরা এ কারাম উৎসবের জন্য অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় থাকেন। এ উৎসবে জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক দল দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের নাচ-গান পরিবেশন করেন।

পত্নীতলা আদিবাসি যুব পরিষদের সভাপতি পরেশ টুডু বলেন , এ উৎসবের মূল উদ্দেশ্য আদিবাসিদের নিজেদের ভাষা সাংস্কৃতি আর ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি সারাদেশে আদিবাসিদের উপর অত্যাচার, উৎচ্ছেদ, নির্যাতন ও দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সঙ্গবদ্ধ করা। আদিবাসীদের ভাষা ও সংষ্কৃতি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এটা রক্ষার্থে সরকারি ভাবে এগিয়ে আসা প্রয়োজন মনে করেন।

জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নরেন পাহান বলেন, প্রতি বছরই কারাম উৎসব করা হয়ে থাকে। এ উৎসবে সহদ্বর দুই ভাই ধর্মা ও কর্মা’র জীবনী তুলে ধরা হয়। এতে করে আমাদের সংসারে অভাব-অনটন দূর হয়ে যায়। বিভিন্ন রোগবালাই থেকে রক্ষা হয়। এই বিশ্বাস থেকে বংশপরমপরায় এই কারাম ডাল পূজা করে আসা হচ্ছে।

Tag :

২ লাখ টাকার ফুলদানি নিলামে বিক্রি হলো ৯২ কোটি টাকায়

নেচে গেয়ে কারাম উদযাপন

প্রকাশের সময় : ০১:৩৯:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২

মাসুদ রানা, পত্নীতলা( নওগাঁ) প্রতিনিধি :

আদিবাসীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব কারাম পূজা। বংশ পরম্পরায় যুগ যুগ ধরে প্রতি বছর উত্তরের সমতল ভূমির নওগাঁর আদিবাসীরা এই কারাম উৎসব পালন করে। শুক্রবার রাত শুরু হয়ে দিনব্যাপী জেলার পত্নীতলা উপজেলার শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম মাঠে এ উৎসব পালিত হয়। এ উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা সহ জেলা ও জেলার বাহির থেকে আগত আদিবাসী বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন উৎসবে যোগ দিয়ে তাদের নিজেদের ভাষা সাংস্কৃতি আর ঐতিহ্য তুলে ধরেন।

শনিবার বিকালে উপজেলা আদিবাসী নেতৃবৃন্দের আয়োজনে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে যতিন টপ্যর সভাপতিত্ত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি শহীদুজ্জামান সরকার এমপি। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল গাফ্ফার, নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও রুমানা আফরোজ, নজিপুর পৌর মেয়র রেজাউল কবির চৌধুরী,উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আহাদ, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ অরুন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক দিলিপ চৌহান,কারিতাস রাজশাহী অঞ্চলের ডিএম দিপক এককা, আদিবাসী নেতা যতিন টপ্য, নরেন পাহান, সুধির তির্কী, ইগ্নেসিউশ হেম্রম, (আনন্দ,), পরেশ টুডু, যোশেফ, সুজিত পাহান, বিশ্বনাথ,
সহ উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের আদিবাসী নেতৃবৃন্দ প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে প্রায় ২৫ টি দল নাচ গান পরিবেশন করে নিজস্ব কৃষ্টি কালচার তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আদিবাসী সাংস্কৃতির বিভন্ন স্টল পরিদর্শন ও নাচ গান উপভোগ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রায় ২৫ টি দল নাচ গান পরিবেশন করে নিজস্ব কৃষ্টি কালচার তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আদিবাসী সাংস্কৃতির বিভন্ন স্টল পরিদর্শন ও নাচ গান উপভোগ করেন।

কারাম একটি গাছের নাম। আদিবাসী বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠির মানুষের কাছে এটি একটি পবিত্র গাছ। মঙ্গলেরও প্রতীক। প্রতি বছর বংশপরমপরায় ভাদ্র মাসের পূর্ণিমায় পালন করা হয় এই পূজা। এই উৎসবকে ঘিরে মূখরিত হয়ে নওগাঁর আদিবাসি বসবাসরত এলাকাগুলো। পূজার সময় আদিবাসিদের সহদ্বয় দুই ভাই ধর্মা ও কর্মা’র জীবনী তুলে ধরেন তাদের ধর্মগুরু। আদিবাসি বিশ্বাস করে ধর্ম পালন করায় ধর্মা রক্ষা পান সকল বিপদের হাত থেকে। আর কর্মা ধর্ম পালন করায় তার ক্ষতি হয়। ভাদ্র মাসের প্রথম পূর্ণিমায় আদিবাসি সম্প্রদায়ের লোকজন উপবাস করে কারাম গাছের ডাল কেটে আনেন।

এরপর সন্ধ্যায় পুঞ্জিগা মতে পূর্ণিমা শুরু হলে কারামডাল কেটে অস্থায়ী মন্ডবে পুঁতে রেখে পূজা-অর্চনা আর নাচ-গান ও কিচ্ছা বলার মধ্য দিয়ে প্রতি বছর কারাম এ উৎসব পালন করে। এ সময় পুরো এলাকা আদিবাসীসহ সকল সম্প্রদায় হয়ে উঠে মিলন মেলা। পূজা শেষে পরদিন কারাম ডাল উঠিয়ে গ্রামের তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সের নারী-পুরুষ নেচে গেয়ে গ্রামের বাড়ি বাড়ি ঘুরে পুকুরে জল বিসর্জন দেয়। আদিবাসিরা এ কারাম উৎসবের জন্য অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় থাকেন। এ উৎসবে জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক দল দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের নাচ-গান পরিবেশন করেন।

পত্নীতলা আদিবাসি যুব পরিষদের সভাপতি পরেশ টুডু বলেন , এ উৎসবের মূল উদ্দেশ্য আদিবাসিদের নিজেদের ভাষা সাংস্কৃতি আর ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি সারাদেশে আদিবাসিদের উপর অত্যাচার, উৎচ্ছেদ, নির্যাতন ও দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সঙ্গবদ্ধ করা। আদিবাসীদের ভাষা ও সংষ্কৃতি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এটা রক্ষার্থে সরকারি ভাবে এগিয়ে আসা প্রয়োজন মনে করেন।

জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নরেন পাহান বলেন, প্রতি বছরই কারাম উৎসব করা হয়ে থাকে। এ উৎসবে সহদ্বর দুই ভাই ধর্মা ও কর্মা’র জীবনী তুলে ধরা হয়। এতে করে আমাদের সংসারে অভাব-অনটন দূর হয়ে যায়। বিভিন্ন রোগবালাই থেকে রক্ষা হয়। এই বিশ্বাস থেকে বংশপরমপরায় এই কারাম ডাল পূজা করে আসা হচ্ছে।