ঢাকা ০৪:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

তরুণদের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ পাঠাগার

বই পড়ায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ তৈরিতে ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘অদম্য ১৯’ এর উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে ভ্রাম্যমাণ পাঠাগার’। ইতিমধ্যে পাঠাগারটি এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছে।

জানা যায়, পাঠাগারের সার্থকতা হাসপাতালের চেয়েও কম নয়’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে ‘অদম্য ১৯ ভ্রাম্যমাণ পাঠাগার’ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শুরু করে।

পৌর শহরের বিদ্যালয়গুলোতে সপ্তাহের দিনগুলোতে চক্রাকারে আবর্তিত হয় এ পাঠাগার। পাঠাগারের ভ্যান দেখেই ছুটে আসছেন শিক্ষার্থীরা।

পছন্দের বই পাঠ করে জ্ঞান ভান্ডার সমৃদ্ধ করে। ভ্রাম্যমাণ পাঠাগারটিতে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর প্রায় এক হাজার বই রয়েছে। প্রতি মাসেই যুক্ত হচ্ছে নতুন বই।

এ ছাড়া বাড়িতে বই নিয়েও পাঠের সুযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা একটা ফরম পূরণ করার মাধ্যমে এক সপ্তাহের জন্য বই বাড়িতে নিয়ে যেতে পারে। পরবর্তী সপ্তাহে আগের বই ফেরত দিয়ে নতুন বই নিতে পারে।

পাঠাগারটি তৈরিতে অর্থের জোগান দিয়েছেন ৮৫ সামাজিক সংগঠনের সভাপতি আব্দুল হামিদ বাচ্চু।

এ পাঠাগার সম্পর্কে প্রতিষ্ঠাতা মুনতাসীর ফুয়াদ বলেন, জ্ঞানভিত্তিক বা সমাজব্যবস্থা একজন মানুষকে মানবিক হিসেবে মানুষ তৈরি করার ক্ষেত্রে পাঠাগারের বিকল্প নেই।

‘আমাদের সমাজে ছেলেমেয়েরা পাঠ্যবইয়ের বাইরে খুব কমই জ্ঞান রাখে। ফলে যদি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। এ চিন্তা থেকেই শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে ও বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করতে নেওয়া হয়েছে বই পড়ার এ উদ্যোগ।’

গ্রাম সাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও গফরগাঁও প্রেস ক্লাবের সভাপতি শফিকুল কাদির বলেন, ‘বই পড়ার অভ্যাস তৈরিতে তরুণদের ভ্রাম্যমাণ পাঠাগারের উদ্যোগটি ইতিবাচক। আশা করি তারা তাদের এই কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সামনে এগিয়ে যাবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবিদুর রহমান বলেন, তরুণদের এই উদ্যোগ খুবই প্রশংসার যোগ্য। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অদম্য ১৯ সংগঠনকে সাধুবাদ জানাই।

বর্তমান সময়ে মোবাইলের প্রতি যে ভাবে যুব সমাজ আসক্ত হয়েছে এ থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। আর বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। আগামী প্রজন্মের কাছে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে এই ভ্রাম্যমাণ পাঠাগার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

Tag :
জনপ্রিয়

হোসেনপুর বাজার সনাতন ধর্মাবলম্বী ব্যাবসায়িকদের উদ্যোগে বস্ত্র বিতরণ

তরুণদের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ পাঠাগার

প্রকাশের সময় : ০৮:২২:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২

বই পড়ায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ তৈরিতে ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘অদম্য ১৯’ এর উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে ভ্রাম্যমাণ পাঠাগার’। ইতিমধ্যে পাঠাগারটি এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছে।

জানা যায়, পাঠাগারের সার্থকতা হাসপাতালের চেয়েও কম নয়’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে ‘অদম্য ১৯ ভ্রাম্যমাণ পাঠাগার’ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শুরু করে।

পৌর শহরের বিদ্যালয়গুলোতে সপ্তাহের দিনগুলোতে চক্রাকারে আবর্তিত হয় এ পাঠাগার। পাঠাগারের ভ্যান দেখেই ছুটে আসছেন শিক্ষার্থীরা।

পছন্দের বই পাঠ করে জ্ঞান ভান্ডার সমৃদ্ধ করে। ভ্রাম্যমাণ পাঠাগারটিতে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর প্রায় এক হাজার বই রয়েছে। প্রতি মাসেই যুক্ত হচ্ছে নতুন বই।

এ ছাড়া বাড়িতে বই নিয়েও পাঠের সুযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা একটা ফরম পূরণ করার মাধ্যমে এক সপ্তাহের জন্য বই বাড়িতে নিয়ে যেতে পারে। পরবর্তী সপ্তাহে আগের বই ফেরত দিয়ে নতুন বই নিতে পারে।

পাঠাগারটি তৈরিতে অর্থের জোগান দিয়েছেন ৮৫ সামাজিক সংগঠনের সভাপতি আব্দুল হামিদ বাচ্চু।

এ পাঠাগার সম্পর্কে প্রতিষ্ঠাতা মুনতাসীর ফুয়াদ বলেন, জ্ঞানভিত্তিক বা সমাজব্যবস্থা একজন মানুষকে মানবিক হিসেবে মানুষ তৈরি করার ক্ষেত্রে পাঠাগারের বিকল্প নেই।

‘আমাদের সমাজে ছেলেমেয়েরা পাঠ্যবইয়ের বাইরে খুব কমই জ্ঞান রাখে। ফলে যদি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। এ চিন্তা থেকেই শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে ও বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করতে নেওয়া হয়েছে বই পড়ার এ উদ্যোগ।’

গ্রাম সাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও গফরগাঁও প্রেস ক্লাবের সভাপতি শফিকুল কাদির বলেন, ‘বই পড়ার অভ্যাস তৈরিতে তরুণদের ভ্রাম্যমাণ পাঠাগারের উদ্যোগটি ইতিবাচক। আশা করি তারা তাদের এই কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সামনে এগিয়ে যাবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবিদুর রহমান বলেন, তরুণদের এই উদ্যোগ খুবই প্রশংসার যোগ্য। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অদম্য ১৯ সংগঠনকে সাধুবাদ জানাই।

বর্তমান সময়ে মোবাইলের প্রতি যে ভাবে যুব সমাজ আসক্ত হয়েছে এ থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। আর বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। আগামী প্রজন্মের কাছে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে এই ভ্রাম্যমাণ পাঠাগার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।