ঢাকা ০৯:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

রাসেল কি আসলেই শিবিরকর্মী?

সম্প্রতি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ভাইয়ারে’ শিরোনামের একটি সিনেমার জন্য হঠাৎই আলোচনায় নবাগত এক নায়ক। নাম রাসেল মিয়া। সিনেমার প্রচারণা করতে গিয়ে তিনি কোরআন এবং আল্লাহর কসম করে বলেন, ‘ভাইয়ারে’ সম্পূর্ণ ‘পাপমুক্ত’ সিনেমা। এ নিয়ে নানা মহলে শুরু হয় নানা বিতর্ক।

সেই বিতর্কের মাঝেই ফিসফাস, রাসেল মিয়া নাকি জামায়াতে ইসলামি ছাত্র সংগঠন শিবিরের সক্রিয় কর্মী। মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাইদী গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁর মুক্তির দাবিতে শিবিরের করা আন্দোলন মিছিলে রাসেল সামনের সারিতে ছিলেন বলে অনেকে অভিযোগ করছেন।

আসলেই কি রাসেল শিবিরকর্মী? সত্যিটা কী? এ সম্পর্কে জানতে যোগাযোগ করা হয় রাসেলের সঙ্গে। তিনি আলোকিত সকালকে বলেন, ‘আমি যদি শিবিরকর্মী হয়ে থাকি যারা এগুলো বলতেছে তাদেরকে প্রমাণ দিতে বলেন। একটা মানুষ যখন আলোকিত হয়, তখন নিচের মানুষ অনেক কথা বলে। আমি এগুলো কেয়ার করি না।’

নিজেকে তারকা সম্মোধন করে রাসেল মিয়া আরও বলেন, ‘আমি যেন উপরে উঠতে না পারি এ জন্য নিচের মানুষেরা আমাকে টেনে ধরছে। এটা শুধু আমার বেলায় না, বাংলাদেশের প্রত্যেক তারকার বেলায় এটা হয়। আমার বেলায়ও হচ্ছে।’

এদিকে সিনেমার প্রচারণায় ধর্মকে টেনে এনে কসম কাটার বিষয় নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি চলচ্চিত্রাঙ্গনের অনেকেও কঠোর সমালোচনা করেছেন। পরিচালক সমিতির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান তো দাবি করছেন, বিতর্ক সৃষ্টি করে রাসেল মিয়া পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ খ্যাত এই নির্মাতা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ‘এফডিসিতে গেলে রাসেল মিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘পরিচালক সমিতি থেকে ওকে নোটিশ পাঠাব। কিন্তু ওর বাসার ঠিকানা নেই আমাদের কাছে।’

এ প্রসঙ্গে রাসেল আলোকিত সকালকে বলেন, ‘আমার বাসার ঠিকানা ফেসবুকে পোস্ট করে দিয়েছি। আমি গতকালও এফডিসিতে ছিলাম। আবারও যাবো। আমিতো একজন পরিচালকের অধীনে কাজ করেছি। সোহান সাহেব তার সঙ্গে কথা বলে আমার ঠিকানা নিতে পারতেন বা আমার নাম্বারে যোগাযোগ করলে আমি নিজে গিয়ে দেখা করে আসতাম।’

কিন্তু নির্মাতা সোহানের সঙ্গে এই নায়কের কিসের শত্রুতা? রাসেল বলেন, ‘তার (সোহান) সঙ্গে আমার কোনো শত্রুতা নেই। তিনি যদি মনে মনে আমাকে শত্রু ভাবেন তাহলে আমার কী করার আছে। আমি তাকে সন্মান করি। আমি যদি কোনো অন্যায় করে থাকি এবং তা যদি শাস্তিযোগ্য হয় তবে যে শাস্তি দেবে আমি মাথা পেতে নেব।’

গত ২ সেপ্টেম্বর দেশের ৬টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘ভাইয়ারে’। সেখানে বিশেষ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন নিজেকে রাজনীতিক, ব্যবসায়ী ও নারী উদ্যোক্তা বলে দাবি করা বিতর্কিত হেলেনা জাহাঙ্গীর। তিনিই প্রথমে এই সিনেমাকে ‘পাপমুক্ত’ বলেন। এও বলেন, ‍‘ওযু করে এই সিনেমা দেখে বের হয়ে নামাজ পড়া যাবে। ওযু ভাঙবে না।’

এরপর হেলেনা জাহাঙ্গীরের সুরে সুর মিলিয়ে একই কথা বলেন রাসেল মিয়াও। তিনি রীতিমতো কেঁদে কেঁদে কসম কেটে ‘ভাইয়ারে’ সিনেমাকে পাপমুক্ত বলে দাবি করেন। এও দাবি করেন, এই সিনেমার কোনো আর্টিস্ট, পরিচালক বা প্রযোজক কোনো মেয়ের হাত পর্যন্ত ধরে নাই।

Tag :
জনপ্রিয়

করোনা মোকাবিলার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্যখাতের মানোন্নয়ন করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

রাসেল কি আসলেই শিবিরকর্মী?

প্রকাশের সময় : ০১:৩০:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

সম্প্রতি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ভাইয়ারে’ শিরোনামের একটি সিনেমার জন্য হঠাৎই আলোচনায় নবাগত এক নায়ক। নাম রাসেল মিয়া। সিনেমার প্রচারণা করতে গিয়ে তিনি কোরআন এবং আল্লাহর কসম করে বলেন, ‘ভাইয়ারে’ সম্পূর্ণ ‘পাপমুক্ত’ সিনেমা। এ নিয়ে নানা মহলে শুরু হয় নানা বিতর্ক।

সেই বিতর্কের মাঝেই ফিসফাস, রাসেল মিয়া নাকি জামায়াতে ইসলামি ছাত্র সংগঠন শিবিরের সক্রিয় কর্মী। মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাইদী গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁর মুক্তির দাবিতে শিবিরের করা আন্দোলন মিছিলে রাসেল সামনের সারিতে ছিলেন বলে অনেকে অভিযোগ করছেন।

আসলেই কি রাসেল শিবিরকর্মী? সত্যিটা কী? এ সম্পর্কে জানতে যোগাযোগ করা হয় রাসেলের সঙ্গে। তিনি আলোকিত সকালকে বলেন, ‘আমি যদি শিবিরকর্মী হয়ে থাকি যারা এগুলো বলতেছে তাদেরকে প্রমাণ দিতে বলেন। একটা মানুষ যখন আলোকিত হয়, তখন নিচের মানুষ অনেক কথা বলে। আমি এগুলো কেয়ার করি না।’

নিজেকে তারকা সম্মোধন করে রাসেল মিয়া আরও বলেন, ‘আমি যেন উপরে উঠতে না পারি এ জন্য নিচের মানুষেরা আমাকে টেনে ধরছে। এটা শুধু আমার বেলায় না, বাংলাদেশের প্রত্যেক তারকার বেলায় এটা হয়। আমার বেলায়ও হচ্ছে।’

এদিকে সিনেমার প্রচারণায় ধর্মকে টেনে এনে কসম কাটার বিষয় নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি চলচ্চিত্রাঙ্গনের অনেকেও কঠোর সমালোচনা করেছেন। পরিচালক সমিতির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান তো দাবি করছেন, বিতর্ক সৃষ্টি করে রাসেল মিয়া পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ খ্যাত এই নির্মাতা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ‘এফডিসিতে গেলে রাসেল মিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘পরিচালক সমিতি থেকে ওকে নোটিশ পাঠাব। কিন্তু ওর বাসার ঠিকানা নেই আমাদের কাছে।’

এ প্রসঙ্গে রাসেল আলোকিত সকালকে বলেন, ‘আমার বাসার ঠিকানা ফেসবুকে পোস্ট করে দিয়েছি। আমি গতকালও এফডিসিতে ছিলাম। আবারও যাবো। আমিতো একজন পরিচালকের অধীনে কাজ করেছি। সোহান সাহেব তার সঙ্গে কথা বলে আমার ঠিকানা নিতে পারতেন বা আমার নাম্বারে যোগাযোগ করলে আমি নিজে গিয়ে দেখা করে আসতাম।’

কিন্তু নির্মাতা সোহানের সঙ্গে এই নায়কের কিসের শত্রুতা? রাসেল বলেন, ‘তার (সোহান) সঙ্গে আমার কোনো শত্রুতা নেই। তিনি যদি মনে মনে আমাকে শত্রু ভাবেন তাহলে আমার কী করার আছে। আমি তাকে সন্মান করি। আমি যদি কোনো অন্যায় করে থাকি এবং তা যদি শাস্তিযোগ্য হয় তবে যে শাস্তি দেবে আমি মাথা পেতে নেব।’

গত ২ সেপ্টেম্বর দেশের ৬টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘ভাইয়ারে’। সেখানে বিশেষ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন নিজেকে রাজনীতিক, ব্যবসায়ী ও নারী উদ্যোক্তা বলে দাবি করা বিতর্কিত হেলেনা জাহাঙ্গীর। তিনিই প্রথমে এই সিনেমাকে ‘পাপমুক্ত’ বলেন। এও বলেন, ‍‘ওযু করে এই সিনেমা দেখে বের হয়ে নামাজ পড়া যাবে। ওযু ভাঙবে না।’

এরপর হেলেনা জাহাঙ্গীরের সুরে সুর মিলিয়ে একই কথা বলেন রাসেল মিয়াও। তিনি রীতিমতো কেঁদে কেঁদে কসম কেটে ‘ভাইয়ারে’ সিনেমাকে পাপমুক্ত বলে দাবি করেন। এও দাবি করেন, এই সিনেমার কোনো আর্টিস্ট, পরিচালক বা প্রযোজক কোনো মেয়ের হাত পর্যন্ত ধরে নাই।