ঢাকা ০৯:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

হত্যার পর প্রেমিকার মরদেহের সঙ্গে তিনদিন সহবাস করেন প্রেমিক

কেটে গেছে তিন মাস। প্রথমে কেউই সন্দেহ করেননি। শুধু তরুণীর মায়ের মনটা খচখচ করছিল। মনে হচ্ছিল, মেয়ের মৃত্যুটি হত্যাকাণ্ড। ৫৯ বছরের মা মারিয়া নাজারেথ ভার্গাস পুলিশকে একবার জানালেও পাত্তা পাননি। কিন্তু মেয়ের মৃত্যুর পর ভয়ানক কাণ্ড ঘটেছে টানা তিনদিন।

জানা গেছে, জুন মাসে মেয়ে ভার্গাসের মৃত্যু হয়েছিল। সেই থেকে ফেরারি ছিল মেয়ের সঙ্গীও। তারপরই ভেঙে পড়েন মা মারিয়া। এক মাসের মাথায় জুলাইয়ে, একদিন মারিয়ার ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে এক তরুণ, যে ছিল তার মেয়েরই সঙ্গী। জোরে জোরে কোপ মারে তাকে। যদিও শেষ পর্যন্ত প্রাণ বাঁচে মা মারিয়ার। আবার পুলিশকে পুরো ঘটনা জানান মারিয়া।

তখনই সন্দেহ হয় পুলিশের। শুরু হয় তদন্ত। ৬ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ-পূর্ব ব্রাজিলের জয়েনভিল শহর থেকে আটক করা হয় তরুণকে। তাকে জেরা করে চোখ কপালে পুলিশের। তখন পুলিশ বুঝতে পারে, ভুল বলেননি মারিয়া।

জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, জুন মাসেই মারা গিয়েছিলেন ভার্গাস। কীভাবে, সেই প্রশ্নই ঘুরছে পুলিশের মাথায়। মনে করা হচ্ছে, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। আর তার নেপথ্যে রয়েছেন তার সঙ্গী।, এমন ধারণা থেকে ভার্গাসের বাড়ির সামনে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করে পুলিশ। তাতে দেখা যায়, জুন মাসে এক শনিবার ভার্গাসের বাড়িতে ঢোকে ঐ তরুণ। তদন্তের স্বার্থেই তার নাম প্রকাশ করা হয়নি।

টানা তিনদিন তাকে ঐ বাড়ি থেকে বের হতে দেখা যায়নি। তিনদিন পর বাড়ি থেকে বেরিয়ে ভার্গাসের মাকে মেয়ের মৃত্যুর খবর দেয় তরুণ। তারপর উধাও হয়ে যায়। মা থানায় খবর দেন। পুলিশ ভার্গাসের বাড়িতে পৌঁছায়। সেখানে গিয়ে সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়লেও পুলিশ নিশ্চিত হতে পারেনি। তাই রিপোর্টে দিয়ে জানায়, স্বাভাবিকভাবেই মৃত্যু হয়েছে ভার্গাসের।

একমাস পর ভার্গাসের মায়ের ওপর ব্যর্থ আক্রমণে পুলিশের টনক নড়ে। আবার তদন্ত শুরু করে। মারিয়া যাতে তদন্ত করতে পুলিশকে চাপ না করেন সেজন্যই খুন করতে চেয়েছিল তরুণ। পরে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারও করেন তিনি।

তদন্তে নেমে কবর খুঁড়ে পুলিশ বের করে ভার্গাসের দেহ। আবার ময়নাতদন্ত করানো হয়। তাতে দেখা যায়, শ্বাসরোধ করেই ভার্গাসকে হত্যা করা হয়েছে। কেন, সেই জবাব এখনো দেয়নি তরুণ।

তবে জেরায় তরুণ যা বলেছে, তাতে চমকে গিয়েছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ভার্গাসকে খুন করে তিনদিন তার মরদেহের সঙ্গে কাটান তরুণ। সেই মরদেহের সঙ্গে এক ঘরে ঘুমিয়েছে, খেয়েছে, দৈনন্দিন কাজ সেরেছেন!

কিন্তু কেন এ ভয়াবহ কাণ্ড ঘটিয়েছে? তরুণ পুলিশকে জানিয়েছে, সে ভেবেছিল ফের ‘জীবিত’ হয়ে উঠবেন প্রেমিকা। আগের মতোই সব ঠিক হয়ে যাবে। শেষ পর্যন্ত যখন বেঁচে ওঠেননি প্রেমিকা, তখন বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় সে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তরুণকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ব্রাজিলের পুলিশ।

দেহের সঙ্গে বসবাসের ঘটনা এর আগেও দুনিয়ায় বহু বার ঘটেছে। কলকাতার রবিনসন স্ট্রিটের সেই কাণ্ড। ২০১৫ সালে কলকাতার রবিনসন স্ট্রিটের এক বাড়ি থেকে মিলেছিল এক নারী, এক বৃদ্ধ ও দুই পোষ্য কুকুরের কঙ্কাল। বাড়িতে জীবিত ছিলেন এক মাত্র পার্থ দে। মৃত্যুর পর পরিজনদের দেহ সৎকার না করে ঘরেই রেখে দিয়েছিলেন।

গত মে মাসে চেন্নাইতে এক নারী স্বামীর মৃত্যুর পরেও কাউকে খবর দেননি। দু’দিন মৃতদেহের সঙ্গে বসবাস করেন। মেয়েরা বারবার ফোন করছিলেন। কেউ ফোন ধরেননি। শেষে থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে উদ্ধার করে পি অশোক বাবু নামে ঐ ব্যক্তির দেহ। পদ্মিনী নামে ৪৮ বছরের ঐ মহিলার অবসাদের চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু নিজের প্রেমিকাকে খুন করে সহবাস, এমন বড় একটা শোনা যায়নি।

Tag :
জনপ্রিয়

বীরমুক্তিযোদ্ধা ভূপেশ কুমার দাস রায় আর নেই : বিভিন্ন মহলে শোক

হত্যার পর প্রেমিকার মরদেহের সঙ্গে তিনদিন সহবাস করেন প্রেমিক

প্রকাশের সময় : ০১:১১:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

কেটে গেছে তিন মাস। প্রথমে কেউই সন্দেহ করেননি। শুধু তরুণীর মায়ের মনটা খচখচ করছিল। মনে হচ্ছিল, মেয়ের মৃত্যুটি হত্যাকাণ্ড। ৫৯ বছরের মা মারিয়া নাজারেথ ভার্গাস পুলিশকে একবার জানালেও পাত্তা পাননি। কিন্তু মেয়ের মৃত্যুর পর ভয়ানক কাণ্ড ঘটেছে টানা তিনদিন।

জানা গেছে, জুন মাসে মেয়ে ভার্গাসের মৃত্যু হয়েছিল। সেই থেকে ফেরারি ছিল মেয়ের সঙ্গীও। তারপরই ভেঙে পড়েন মা মারিয়া। এক মাসের মাথায় জুলাইয়ে, একদিন মারিয়ার ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে এক তরুণ, যে ছিল তার মেয়েরই সঙ্গী। জোরে জোরে কোপ মারে তাকে। যদিও শেষ পর্যন্ত প্রাণ বাঁচে মা মারিয়ার। আবার পুলিশকে পুরো ঘটনা জানান মারিয়া।

তখনই সন্দেহ হয় পুলিশের। শুরু হয় তদন্ত। ৬ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ-পূর্ব ব্রাজিলের জয়েনভিল শহর থেকে আটক করা হয় তরুণকে। তাকে জেরা করে চোখ কপালে পুলিশের। তখন পুলিশ বুঝতে পারে, ভুল বলেননি মারিয়া।

জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, জুন মাসেই মারা গিয়েছিলেন ভার্গাস। কীভাবে, সেই প্রশ্নই ঘুরছে পুলিশের মাথায়। মনে করা হচ্ছে, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। আর তার নেপথ্যে রয়েছেন তার সঙ্গী।, এমন ধারণা থেকে ভার্গাসের বাড়ির সামনে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করে পুলিশ। তাতে দেখা যায়, জুন মাসে এক শনিবার ভার্গাসের বাড়িতে ঢোকে ঐ তরুণ। তদন্তের স্বার্থেই তার নাম প্রকাশ করা হয়নি।

টানা তিনদিন তাকে ঐ বাড়ি থেকে বের হতে দেখা যায়নি। তিনদিন পর বাড়ি থেকে বেরিয়ে ভার্গাসের মাকে মেয়ের মৃত্যুর খবর দেয় তরুণ। তারপর উধাও হয়ে যায়। মা থানায় খবর দেন। পুলিশ ভার্গাসের বাড়িতে পৌঁছায়। সেখানে গিয়ে সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়লেও পুলিশ নিশ্চিত হতে পারেনি। তাই রিপোর্টে দিয়ে জানায়, স্বাভাবিকভাবেই মৃত্যু হয়েছে ভার্গাসের।

একমাস পর ভার্গাসের মায়ের ওপর ব্যর্থ আক্রমণে পুলিশের টনক নড়ে। আবার তদন্ত শুরু করে। মারিয়া যাতে তদন্ত করতে পুলিশকে চাপ না করেন সেজন্যই খুন করতে চেয়েছিল তরুণ। পরে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারও করেন তিনি।

তদন্তে নেমে কবর খুঁড়ে পুলিশ বের করে ভার্গাসের দেহ। আবার ময়নাতদন্ত করানো হয়। তাতে দেখা যায়, শ্বাসরোধ করেই ভার্গাসকে হত্যা করা হয়েছে। কেন, সেই জবাব এখনো দেয়নি তরুণ।

তবে জেরায় তরুণ যা বলেছে, তাতে চমকে গিয়েছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ভার্গাসকে খুন করে তিনদিন তার মরদেহের সঙ্গে কাটান তরুণ। সেই মরদেহের সঙ্গে এক ঘরে ঘুমিয়েছে, খেয়েছে, দৈনন্দিন কাজ সেরেছেন!

কিন্তু কেন এ ভয়াবহ কাণ্ড ঘটিয়েছে? তরুণ পুলিশকে জানিয়েছে, সে ভেবেছিল ফের ‘জীবিত’ হয়ে উঠবেন প্রেমিকা। আগের মতোই সব ঠিক হয়ে যাবে। শেষ পর্যন্ত যখন বেঁচে ওঠেননি প্রেমিকা, তখন বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় সে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তরুণকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ব্রাজিলের পুলিশ।

দেহের সঙ্গে বসবাসের ঘটনা এর আগেও দুনিয়ায় বহু বার ঘটেছে। কলকাতার রবিনসন স্ট্রিটের সেই কাণ্ড। ২০১৫ সালে কলকাতার রবিনসন স্ট্রিটের এক বাড়ি থেকে মিলেছিল এক নারী, এক বৃদ্ধ ও দুই পোষ্য কুকুরের কঙ্কাল। বাড়িতে জীবিত ছিলেন এক মাত্র পার্থ দে। মৃত্যুর পর পরিজনদের দেহ সৎকার না করে ঘরেই রেখে দিয়েছিলেন।

গত মে মাসে চেন্নাইতে এক নারী স্বামীর মৃত্যুর পরেও কাউকে খবর দেননি। দু’দিন মৃতদেহের সঙ্গে বসবাস করেন। মেয়েরা বারবার ফোন করছিলেন। কেউ ফোন ধরেননি। শেষে থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে উদ্ধার করে পি অশোক বাবু নামে ঐ ব্যক্তির দেহ। পদ্মিনী নামে ৪৮ বছরের ঐ মহিলার অবসাদের চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু নিজের প্রেমিকাকে খুন করে সহবাস, এমন বড় একটা শোনা যায়নি।