ঢাকা ১১:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

রামবুটান উৎপাদনে সফল নরসিংদীর দুই কৃষক

বিদেশি ফল রামবুটান চাষ করে সারাদেশে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন নরসিংদীর শিবপুরের কৃষক জামাল উদ্দিন ও মজনু মিয়া। আর এ ফল চাষ করে সফল হওয়ায় এখন তাদের উৎপাদিত চারা যাচ্ছে সারাদেশে। কৃষি বিভাগ বলছে, রামবুটান চাষের সম্প্রসার কাজ করবে তারা।

জানা গেছে, নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা অষ্টাআনী গ্রামের জামাল উদ্দিন ও মজনু মিয়া কাজের উদ্দেশে মালয়েশিয়া গিয়েছেন। সেখান থেকে এক কেজি রামবুটান ফল এনে খাওয়ার পর বীজ রোপন করেন। রোপনের ৭/৮ বছর পর ফল দেখা দেয়। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, তাতে প্রচুর পরিমানে আয়রণ, পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম এবং ফাইভারসহ ভিটামিস ও মিনারেল রয়েছে। বিদেশি ফল হলেও বাংলাদেশে আপেল, কমলা, খাজুর, আঙ্গুর পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায়। কিন্তু রামবুটান খুব একটা পাওয়া যায়না। সেই রামবুটানের চাষ করেই আশাতিত ফলন হওয়ায় খুশি কৃষক জামাল ও মজনু মিয়া।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে আরও জানা গেছে, ওই দুইজনের প্রায় ১০টি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলে আছে রামবুটান। তাদের এই ফলের খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে আলোড়ন পড়ে যায়। ফল ও চারা নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে অসংখ্য ফোন আসে দেশ-বিদেশ থেকে। যোগাযোগ করে দেখতে এসে সখের বসে নিজেদের সাধ্য মতো চারা নিয়েও যাচ্ছেন অনেকে আবার কেউ কেউ সাথে স্থানীয় লটকনের চারাও নিয়ে যাচ্ছেন। প্রকারভেদে ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা করে বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি চারা। এখন চারা বিক্রি করাই মূল পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন জামাল উদ্দিন ও মজনু মিয়া।

রাজশাহী থেকে রামবুটানের চারা নিতে আসা জসিম উদ্দিন জানান, ইউটিউবের মাধ্যমে জানতে পারেন বিদেশি ফল রামবুটান নরসিংদীতে উৎপাদিত হচ্ছে। তা দেখে মজনু মিয়ার কাছ থেকে কিছু ফল খেয়ে স্বাদ পাওয়ায় দুই হাজার টাকা করে ২০টি রামবুটানের চারা কিনে নেন। সঙ্গে ৫টি লটকনের চারাও কিনে নেন।

একই দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে রামবুটানের চারা কিনতে আসা বশির আহমেদ জানালেন, তার এক ভগ্নিপতি সৌদি আরবে থাকেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছেন শিবপুরে রামবুটান উৎপাদন হয় এবং চারা বিক্রি করা হচ্ছে। তাই তার পরামর্শে এখানে চারা নিতে আসেন। তিনিও ২ হাজার টাকা করে মজনু মিয়ার কাছ থেকে ১০টি চারা ক্রয় করেন। সাথে দুটি লটকনের চারাও কিনে নেন।

রামবুটানের কৃষক মো: জামাল উদ্দিন জানান, দীর্ঘদিন বিদেশে থাকা অবস্থায় সেখানে একাধিকবার এই ফলটি তিনি খেয়েছেন। আর এই ফলটি খেয়ে স্বাদ পাওয়ায় দেশে চাষ করার চিন্তা করেন। সেই থেকে দেশে আসার সময় এক কেজি পাকা ফল নিয়ে আসেন এবং এর বীজ থেকেই চারা উৎপাদন করেন। সেই চারা থেকেই রুপান্তিরত হলো আজ পরিপক্ক গাছে। এখন গাছে থোকায় থোকায় ঝুলে আছে রামবুটানের ফল। আর তা দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন উৎসাহী জনতা।

এদিকে একটি বিদেশি ফল দেশের মাটিতে চাষ হচ্ছে। তাই কৌতুহলবশত দেখতে এসে চারা নিয়ে যাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা দর্শনার্থীরা। পাশাপাশি নরসিংদীর ফল লটকনের চারাও নিয়ে যাচ্ছেন অনেকে। তাই ওই দুজনের বাড়িতেই নার্সারী গড়ে উঠেছে।

তারা জানান, রামবুটানের বীজ থেকে চারা। আর চারা রোপনের ৫/৭ বছরের মধ্যেই গাছে ফল ধরছে। তাদের কাছে ১২ মাসই ফল পাওয়া যাচ্ছে ফল ও চারা। শুধুমাত্র জৈবসার ব্যবহারের মাধ্যমে এই ফল উৎপাদন করা যাচ্ছে।

মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে রামবুটান উৎপাদিত হয়। এই গাছগুলো সম্প্রসারণের বিষয়ে কাজ করছে জানিয়ে নরসিংদী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহুয়া শারমিন মুনমুন বলেন, এই ফলটি সম্প্রসারণে একটু সময় লাগছে। কারণ এই গাছগুলো পেপে গাছের মতো। বীজ থেকে চারা হলে স্ত্রী ও পুরুষ গাছের বিষয় আছে। শুধু তাই নয়, এই দুটি গাছের মধ্যে পরাগায়নের বিষয়টিও রয়েছে। তাই ফল ধরেছে এমন গাছ থেকে যদি কলমের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করা যায় তাহলে ফল ধরার বিষয়টি নিশ্চিত করা যাবে। আর সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই কাজ করে যাচ্ছে কৃষি বিভাগ।

Tag :
জনপ্রিয়

রসিক নির্বাচন ; সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী আরজানা সালেকের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা

রামবুটান উৎপাদনে সফল নরসিংদীর দুই কৃষক

প্রকাশের সময় : ০১:১১:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

বিদেশি ফল রামবুটান চাষ করে সারাদেশে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন নরসিংদীর শিবপুরের কৃষক জামাল উদ্দিন ও মজনু মিয়া। আর এ ফল চাষ করে সফল হওয়ায় এখন তাদের উৎপাদিত চারা যাচ্ছে সারাদেশে। কৃষি বিভাগ বলছে, রামবুটান চাষের সম্প্রসার কাজ করবে তারা।

জানা গেছে, নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা অষ্টাআনী গ্রামের জামাল উদ্দিন ও মজনু মিয়া কাজের উদ্দেশে মালয়েশিয়া গিয়েছেন। সেখান থেকে এক কেজি রামবুটান ফল এনে খাওয়ার পর বীজ রোপন করেন। রোপনের ৭/৮ বছর পর ফল দেখা দেয়। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, তাতে প্রচুর পরিমানে আয়রণ, পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম এবং ফাইভারসহ ভিটামিস ও মিনারেল রয়েছে। বিদেশি ফল হলেও বাংলাদেশে আপেল, কমলা, খাজুর, আঙ্গুর পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায়। কিন্তু রামবুটান খুব একটা পাওয়া যায়না। সেই রামবুটানের চাষ করেই আশাতিত ফলন হওয়ায় খুশি কৃষক জামাল ও মজনু মিয়া।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে আরও জানা গেছে, ওই দুইজনের প্রায় ১০টি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলে আছে রামবুটান। তাদের এই ফলের খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে আলোড়ন পড়ে যায়। ফল ও চারা নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে অসংখ্য ফোন আসে দেশ-বিদেশ থেকে। যোগাযোগ করে দেখতে এসে সখের বসে নিজেদের সাধ্য মতো চারা নিয়েও যাচ্ছেন অনেকে আবার কেউ কেউ সাথে স্থানীয় লটকনের চারাও নিয়ে যাচ্ছেন। প্রকারভেদে ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা করে বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি চারা। এখন চারা বিক্রি করাই মূল পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন জামাল উদ্দিন ও মজনু মিয়া।

রাজশাহী থেকে রামবুটানের চারা নিতে আসা জসিম উদ্দিন জানান, ইউটিউবের মাধ্যমে জানতে পারেন বিদেশি ফল রামবুটান নরসিংদীতে উৎপাদিত হচ্ছে। তা দেখে মজনু মিয়ার কাছ থেকে কিছু ফল খেয়ে স্বাদ পাওয়ায় দুই হাজার টাকা করে ২০টি রামবুটানের চারা কিনে নেন। সঙ্গে ৫টি লটকনের চারাও কিনে নেন।

একই দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে রামবুটানের চারা কিনতে আসা বশির আহমেদ জানালেন, তার এক ভগ্নিপতি সৌদি আরবে থাকেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছেন শিবপুরে রামবুটান উৎপাদন হয় এবং চারা বিক্রি করা হচ্ছে। তাই তার পরামর্শে এখানে চারা নিতে আসেন। তিনিও ২ হাজার টাকা করে মজনু মিয়ার কাছ থেকে ১০টি চারা ক্রয় করেন। সাথে দুটি লটকনের চারাও কিনে নেন।

রামবুটানের কৃষক মো: জামাল উদ্দিন জানান, দীর্ঘদিন বিদেশে থাকা অবস্থায় সেখানে একাধিকবার এই ফলটি তিনি খেয়েছেন। আর এই ফলটি খেয়ে স্বাদ পাওয়ায় দেশে চাষ করার চিন্তা করেন। সেই থেকে দেশে আসার সময় এক কেজি পাকা ফল নিয়ে আসেন এবং এর বীজ থেকেই চারা উৎপাদন করেন। সেই চারা থেকেই রুপান্তিরত হলো আজ পরিপক্ক গাছে। এখন গাছে থোকায় থোকায় ঝুলে আছে রামবুটানের ফল। আর তা দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন উৎসাহী জনতা।

এদিকে একটি বিদেশি ফল দেশের মাটিতে চাষ হচ্ছে। তাই কৌতুহলবশত দেখতে এসে চারা নিয়ে যাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা দর্শনার্থীরা। পাশাপাশি নরসিংদীর ফল লটকনের চারাও নিয়ে যাচ্ছেন অনেকে। তাই ওই দুজনের বাড়িতেই নার্সারী গড়ে উঠেছে।

তারা জানান, রামবুটানের বীজ থেকে চারা। আর চারা রোপনের ৫/৭ বছরের মধ্যেই গাছে ফল ধরছে। তাদের কাছে ১২ মাসই ফল পাওয়া যাচ্ছে ফল ও চারা। শুধুমাত্র জৈবসার ব্যবহারের মাধ্যমে এই ফল উৎপাদন করা যাচ্ছে।

মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে রামবুটান উৎপাদিত হয়। এই গাছগুলো সম্প্রসারণের বিষয়ে কাজ করছে জানিয়ে নরসিংদী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহুয়া শারমিন মুনমুন বলেন, এই ফলটি সম্প্রসারণে একটু সময় লাগছে। কারণ এই গাছগুলো পেপে গাছের মতো। বীজ থেকে চারা হলে স্ত্রী ও পুরুষ গাছের বিষয় আছে। শুধু তাই নয়, এই দুটি গাছের মধ্যে পরাগায়নের বিষয়টিও রয়েছে। তাই ফল ধরেছে এমন গাছ থেকে যদি কলমের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করা যায় তাহলে ফল ধরার বিষয়টি নিশ্চিত করা যাবে। আর সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই কাজ করে যাচ্ছে কৃষি বিভাগ।