ঢাকা ১০:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শরতে মন ছুটে যায় কাশবনে

শরৎ মানেই কাশবন। যেন ধবধবে সাদা রমণীর চুলের খোঁপায় অরুণ ধুতির ছোঁয়া। কাশবনের তপ্ত রোদের সুপ্ত দহনে ওষ্ঠাগত জীবন। এসময় হেঁটে পথচলা কিংবা যান্ত্রিক বাহনে ভ্রমণ করা তেমন একটা আরামদায়ক নয়। তবুও মন ছুটে যায় কাশবনে।

শ্রীমঙ্গলের ভানুগাছ সড়ক ধরে বদ্ধভূমি-৭১ পার হয়ে কিছুদূর এগোলে ভুরবুড়িয়া (নদী) ছড়া। ছড়ার পাশে বালুচর, এ চড়ে জেগে উঠেছে সুবিশাল কাশবন। নীল আকাশের নিচে ধবধবে সাদা কাশবন হৃদয় শীতল করে তোলা এক অপরূপ সৌন্দর্য।

প্রকৃতির এই সুন্দর রূপ দেখতে প্রতিদিন ছুটে যায় কিশোর-কিশোরী, নারী-পুরুষ এমনকি ছোট্ট শিশুরাও। কাশবনের রূপ দেখতে চরজুড়ে জমে উঠে ভিড়। স্থানীয় ও দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের পদচারণায় শোনা যায় কলকলানি গুঞ্জন।

এসব কিছুর মধ্যে ক্ষণিকের জন্য আকাশপানে তাকালে মন ভালো হয়ে যাবে। শরতের শুভ্রনীল আকাশে পেঁজাতুলোর মতো মেঘের ভেসে বেড়ানো। আর দিগন্তজোড়া প্রান্তরে কাশফুলের উড়ে বেড়ানোর দৃশ্য তো সোনায় সোহাগার মতো প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের কাছে।

কাশবনে ঘুরে বেড়ানোর আগে কাশফুল সম্পর্কে কিছু তথ্য জানা যেতে পারে। কাশফুল এক ধরনের ঘাসজাতীয় জলজ উদ্ভিদ। এর বৈজ্ঞানিক নাম ঝধপপযধৎঁস ংঢ়ড়হঃধহবঁস. এরা উচ্চতায় সাধারণত ৩ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। এর আদিবাস রোমানিয়ায়।

এই কাশফুলের বেশ কিছু ঔষধি গুণ রয়েছে। যেমন- মানুষের পিত্তথলিতে পাথর হলে নিয়মিত গাছের মূলসহ অন্যান্য উপাদান দিয়ে ওষুধ তৈরি করে পান করলে পাথর দূর হয়। কাশমূল মিহি করে বেটে চন্দনের মতো নিয়মিত গায়ে মাখলে গায়ের দুর্গন্ধ দূর হয়। এছাড়া শরীরে ব্যথানাশক ফোঁড়ার চিকিৎসায় কাশমূল ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

শ্রীমঙ্গল শহরের নিকটেই দেখা মিলেছে এ কাশবনের। কাশফুল প্রেমীদের বেশিরভাগই ছুটে যান ভুরবুড়িয়া ছড়ায়। বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউ এর নিকটবর্তী ব্রিজ থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত ভুরবুড়িয়া ছড়া ভেতর দিয়ে কিছুটা সামনে এগুলেই দেখা মেলে কাশবনের।

স্থানীয় মানুষজন ও চায়ের রাজধানী খ্যাত শ্রীমঙ্গলে ঘুরতে আসা ভ্রমণ পিপাসুদের এখন অন্যতম আকর্ষণ ভুরবুড়িয়া ছড়ার কাশবন। প্রতিদিন সূর্যোদয়ের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত মানুষের বিচরণ থাকে এই কাশবনে।

শরৎ নিয়ে কবিগুরু লিখেছিলেন- ‘শরতের মধ্যে শিশুর ভাব। তার, এই-হাসি, এই-কান্না। সেই হাসিকান্নার মধ্যে কার্যকর গভীরতা নেই, তাহা এমনি হাল্কাভাবে আসে এবং যায় যে, কোথাও তার পায়ের দাগটুকু পড়ে না, জলের ঢেউয়ের উপরটাতে আলোছায়া ভাইবোনের মতো যেমন কেবলই দুরন্তপনা করে অথচ কোন চিহ্ন রাখে না।

কবিগুরুর ভাষায় বললে, ‘আমাদের শরতের বিচ্ছেদবেদনার ভিতরেও একটা কথা লাগিয়া আছে যে, বারে বারে নূতন করিয়া ফিরিয়া ফিরিয়া আসিবে বলিয়াই চলিয়া যায়, তাই ধরার আঙিনায় আগমনী-গানের আর অন্ত পাই। যে লইয়া যায় সেই আবার ফিরাইয়া আনে। তাই সকল উৎসবের মধ্যে বড়ো উৎসব এই হারাইয়া ফিরিয়া পাওয়ার উৎসব।

বিশেষ করে কাশবনকে উদ্দেশ্য করে কবিগুরুর এই লিখনি। তাই হৃদয় বলে, ‘শরতে বসে না মন ঘরে তে, উড়ে যেতে চায় কাশবনে। চর পাড়ে বনের ধারে।

Tag :
জনপ্রিয়

রামপালে বিএনপির ২০ নেতাকর্মীর নামে মামলা আটক-৬

শরতে মন ছুটে যায় কাশবনে

প্রকাশের সময় : ১০:৫৮:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

শরৎ মানেই কাশবন। যেন ধবধবে সাদা রমণীর চুলের খোঁপায় অরুণ ধুতির ছোঁয়া। কাশবনের তপ্ত রোদের সুপ্ত দহনে ওষ্ঠাগত জীবন। এসময় হেঁটে পথচলা কিংবা যান্ত্রিক বাহনে ভ্রমণ করা তেমন একটা আরামদায়ক নয়। তবুও মন ছুটে যায় কাশবনে।

শ্রীমঙ্গলের ভানুগাছ সড়ক ধরে বদ্ধভূমি-৭১ পার হয়ে কিছুদূর এগোলে ভুরবুড়িয়া (নদী) ছড়া। ছড়ার পাশে বালুচর, এ চড়ে জেগে উঠেছে সুবিশাল কাশবন। নীল আকাশের নিচে ধবধবে সাদা কাশবন হৃদয় শীতল করে তোলা এক অপরূপ সৌন্দর্য।

প্রকৃতির এই সুন্দর রূপ দেখতে প্রতিদিন ছুটে যায় কিশোর-কিশোরী, নারী-পুরুষ এমনকি ছোট্ট শিশুরাও। কাশবনের রূপ দেখতে চরজুড়ে জমে উঠে ভিড়। স্থানীয় ও দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের পদচারণায় শোনা যায় কলকলানি গুঞ্জন।

এসব কিছুর মধ্যে ক্ষণিকের জন্য আকাশপানে তাকালে মন ভালো হয়ে যাবে। শরতের শুভ্রনীল আকাশে পেঁজাতুলোর মতো মেঘের ভেসে বেড়ানো। আর দিগন্তজোড়া প্রান্তরে কাশফুলের উড়ে বেড়ানোর দৃশ্য তো সোনায় সোহাগার মতো প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের কাছে।

কাশবনে ঘুরে বেড়ানোর আগে কাশফুল সম্পর্কে কিছু তথ্য জানা যেতে পারে। কাশফুল এক ধরনের ঘাসজাতীয় জলজ উদ্ভিদ। এর বৈজ্ঞানিক নাম ঝধপপযধৎঁস ংঢ়ড়হঃধহবঁস. এরা উচ্চতায় সাধারণত ৩ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। এর আদিবাস রোমানিয়ায়।

এই কাশফুলের বেশ কিছু ঔষধি গুণ রয়েছে। যেমন- মানুষের পিত্তথলিতে পাথর হলে নিয়মিত গাছের মূলসহ অন্যান্য উপাদান দিয়ে ওষুধ তৈরি করে পান করলে পাথর দূর হয়। কাশমূল মিহি করে বেটে চন্দনের মতো নিয়মিত গায়ে মাখলে গায়ের দুর্গন্ধ দূর হয়। এছাড়া শরীরে ব্যথানাশক ফোঁড়ার চিকিৎসায় কাশমূল ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

শ্রীমঙ্গল শহরের নিকটেই দেখা মিলেছে এ কাশবনের। কাশফুল প্রেমীদের বেশিরভাগই ছুটে যান ভুরবুড়িয়া ছড়ায়। বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউ এর নিকটবর্তী ব্রিজ থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত ভুরবুড়িয়া ছড়া ভেতর দিয়ে কিছুটা সামনে এগুলেই দেখা মেলে কাশবনের।

স্থানীয় মানুষজন ও চায়ের রাজধানী খ্যাত শ্রীমঙ্গলে ঘুরতে আসা ভ্রমণ পিপাসুদের এখন অন্যতম আকর্ষণ ভুরবুড়িয়া ছড়ার কাশবন। প্রতিদিন সূর্যোদয়ের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত মানুষের বিচরণ থাকে এই কাশবনে।

শরৎ নিয়ে কবিগুরু লিখেছিলেন- ‘শরতের মধ্যে শিশুর ভাব। তার, এই-হাসি, এই-কান্না। সেই হাসিকান্নার মধ্যে কার্যকর গভীরতা নেই, তাহা এমনি হাল্কাভাবে আসে এবং যায় যে, কোথাও তার পায়ের দাগটুকু পড়ে না, জলের ঢেউয়ের উপরটাতে আলোছায়া ভাইবোনের মতো যেমন কেবলই দুরন্তপনা করে অথচ কোন চিহ্ন রাখে না।

কবিগুরুর ভাষায় বললে, ‘আমাদের শরতের বিচ্ছেদবেদনার ভিতরেও একটা কথা লাগিয়া আছে যে, বারে বারে নূতন করিয়া ফিরিয়া ফিরিয়া আসিবে বলিয়াই চলিয়া যায়, তাই ধরার আঙিনায় আগমনী-গানের আর অন্ত পাই। যে লইয়া যায় সেই আবার ফিরাইয়া আনে। তাই সকল উৎসবের মধ্যে বড়ো উৎসব এই হারাইয়া ফিরিয়া পাওয়ার উৎসব।

বিশেষ করে কাশবনকে উদ্দেশ্য করে কবিগুরুর এই লিখনি। তাই হৃদয় বলে, ‘শরতে বসে না মন ঘরে তে, উড়ে যেতে চায় কাশবনে। চর পাড়ে বনের ধারে।