ঢাকা ০২:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় বন্ধ ৭ সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ

নেত্রকোনা সীমান্তে ঠাকুরাকোনা-কলমাকান্দা সড়কের ১৫টি সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হলেও জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় আটকে আছে ৭টি সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়কের নির্মাণ কাজ। ফলে সড়কগুলো জনগণের তেমন কোনও উপকারে আসছে না। কারণ স্বাভাবিক অবস্থায় যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। ফলে নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এখন পর্যন্ত অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ না হওয়াতে সড়ক নির্মাণ স্থবির হয়ে আছে বলে জানা গেছে। একই অবস্থা নেত্রকোনা-কেন্দুয়া সড়কের। সেখানেও জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ বন্ধ রয়েছে।

এই দুইটি সড়কের জন্য টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে ৯৯৬ কোটি টাকা। সড়ক ও জনপথ বিভাগ এই সড়ক নির্মাণ করছে। জমি অধিগ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসন বরাবরে বহু আগেই সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে টাকাও হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে লোকবলের অভাবে জমি জরিপ এবং অধিগ্রহণে দেরি হচ্ছে বলে জেলা প্রশাসন থেকে জানা গেছে।

নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনা-কলমাকান্দার ৩০ কিলোমিটার সড়কে ১৫টি পাকা সেতু নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে আটটি সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। তবে বাইপাস সড়কের মধ্যে চল্লিশা, কালীর, দুধকুড়ি এবং উলুয়াটি এলাকায় নির্মিত সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ না করায় অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা যাচ্ছে না।

এ ছাড়া নেত্রকোনা-কলমাকান্দা সড়কে বাউসী, হিরাকান্দা এবং মুন্সী খালের পের সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হলেও জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা যাচ্ছে না। বাই পাস সড়কের ঠিকাদারের লোকজন জানান, দ্রুত জমি অধিগ্রহণ করে তাদের কাছে জমি বুঝিয়ে না দিলে তারা আর কাজ করবেন না।

নেত্রকোনার বীর মুক্তিযোদ্ধা লেখক হায়দার জাহান চৌধুরী বলেন, শহরের উত্তর দিকের যে স্থান দিয়ে বাইপাশ নির্মাণ করা হচ্ছে তা ভালো উদ্যোগ। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হওয়ার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তিনি কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানান।

নেত্রকোনা চেম্বারের সহ-সভাপতি এইচ আর খান পাঠান সাকি বলেন, অবিলম্বে সড়কগুলো অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণে জমি অধিগ্রহণ করে তা বুঝিয়ে দেওয়া দরকার। তাহলে শহরের যানজট কিছুটা কমবে। তবে কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানান তিনি।

নেত্রকোনার পরিবহন মালিক সমিতির সম্পাদক আরিফ খান বলেন, সংযোগ সড়ক নির্মিত হলে শহরের সড়কের উপর চাপ কমবে। দুর্ঘটনাও কমবে। তিনি দ্রুত কাজ শেষ করার আহ্বান জানান।

এ ব্যাপারে নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার শরিফ খান বলেন, তবে সড়কের জমি অধিগ্রহণ করার কাজটি শেষ না হওয়ায় এবং ঠিকাদারকে বুঝিয়ে না দেওয়াতে সড়ক নিমার্ণ কাজ শুরু করতে দেরি হচ্ছে। জমি অধিগ্রহণ শেষ হলেই কেবল সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু করা যাবে।

নিবার্হী প্রকৌশলী আরো বলেন, চারটি সেতুর নিমার্ণ কাজ শেষ হয়ে গেছে। ঠিকাদাররা সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের জন্য জায়গা চাচ্ছে। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় তাদের জমি বুঝিয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বিধায় অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে না। ঠিকাদাররা এখন তাদের মেশিনপত্র নিয়ে চলে যেতে চাইছেন।

জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি তিনি অবগত।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জমি অধিগ্রহণের পূর্বে প্রাথমিক জরিপ কাজ চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক সার্ভেয়ার না থাকায় জমি অধিগ্রহণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে এ সমস্যা অচিরেই কাটিয়ে উঠে জমি অধিগ্রহণ করে তা বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, এ ছাড়াও জমি নিয়ে জমির মালিকদের মধ্যে নানান জটিলতা থাকায় এই জরিপ কাজটি শেষ করতে সময় লাগছে। একই জমি বিভিন্ন লোকজন দাবি করে বসে। ফলে জরিপের কাজ দেরি হয়। এরপরও জরিপ সমস্যা সমাধানে তার দপ্তর সচেষ্ট। জনগণের স্বার্থেই তা দ্রুত করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

Tag :
জনপ্রিয়

গোমস্তাপুরে অধ্যক্ষের অফিস ভাংচুর আহত-৪

জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় বন্ধ ৭ সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ

প্রকাশের সময় : ১০:৪৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

নেত্রকোনা সীমান্তে ঠাকুরাকোনা-কলমাকান্দা সড়কের ১৫টি সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হলেও জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় আটকে আছে ৭টি সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়কের নির্মাণ কাজ। ফলে সড়কগুলো জনগণের তেমন কোনও উপকারে আসছে না। কারণ স্বাভাবিক অবস্থায় যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। ফলে নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এখন পর্যন্ত অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ না হওয়াতে সড়ক নির্মাণ স্থবির হয়ে আছে বলে জানা গেছে। একই অবস্থা নেত্রকোনা-কেন্দুয়া সড়কের। সেখানেও জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ বন্ধ রয়েছে।

এই দুইটি সড়কের জন্য টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে ৯৯৬ কোটি টাকা। সড়ক ও জনপথ বিভাগ এই সড়ক নির্মাণ করছে। জমি অধিগ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসন বরাবরে বহু আগেই সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে টাকাও হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে লোকবলের অভাবে জমি জরিপ এবং অধিগ্রহণে দেরি হচ্ছে বলে জেলা প্রশাসন থেকে জানা গেছে।

নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনা-কলমাকান্দার ৩০ কিলোমিটার সড়কে ১৫টি পাকা সেতু নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে আটটি সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। তবে বাইপাস সড়কের মধ্যে চল্লিশা, কালীর, দুধকুড়ি এবং উলুয়াটি এলাকায় নির্মিত সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ না করায় অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা যাচ্ছে না।

এ ছাড়া নেত্রকোনা-কলমাকান্দা সড়কে বাউসী, হিরাকান্দা এবং মুন্সী খালের পের সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হলেও জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা যাচ্ছে না। বাই পাস সড়কের ঠিকাদারের লোকজন জানান, দ্রুত জমি অধিগ্রহণ করে তাদের কাছে জমি বুঝিয়ে না দিলে তারা আর কাজ করবেন না।

নেত্রকোনার বীর মুক্তিযোদ্ধা লেখক হায়দার জাহান চৌধুরী বলেন, শহরের উত্তর দিকের যে স্থান দিয়ে বাইপাশ নির্মাণ করা হচ্ছে তা ভালো উদ্যোগ। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হওয়ার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তিনি কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানান।

নেত্রকোনা চেম্বারের সহ-সভাপতি এইচ আর খান পাঠান সাকি বলেন, অবিলম্বে সড়কগুলো অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণে জমি অধিগ্রহণ করে তা বুঝিয়ে দেওয়া দরকার। তাহলে শহরের যানজট কিছুটা কমবে। তবে কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানান তিনি।

নেত্রকোনার পরিবহন মালিক সমিতির সম্পাদক আরিফ খান বলেন, সংযোগ সড়ক নির্মিত হলে শহরের সড়কের উপর চাপ কমবে। দুর্ঘটনাও কমবে। তিনি দ্রুত কাজ শেষ করার আহ্বান জানান।

এ ব্যাপারে নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার শরিফ খান বলেন, তবে সড়কের জমি অধিগ্রহণ করার কাজটি শেষ না হওয়ায় এবং ঠিকাদারকে বুঝিয়ে না দেওয়াতে সড়ক নিমার্ণ কাজ শুরু করতে দেরি হচ্ছে। জমি অধিগ্রহণ শেষ হলেই কেবল সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু করা যাবে।

নিবার্হী প্রকৌশলী আরো বলেন, চারটি সেতুর নিমার্ণ কাজ শেষ হয়ে গেছে। ঠিকাদাররা সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের জন্য জায়গা চাচ্ছে। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় তাদের জমি বুঝিয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বিধায় অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে না। ঠিকাদাররা এখন তাদের মেশিনপত্র নিয়ে চলে যেতে চাইছেন।

জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি তিনি অবগত।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জমি অধিগ্রহণের পূর্বে প্রাথমিক জরিপ কাজ চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক সার্ভেয়ার না থাকায় জমি অধিগ্রহণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে এ সমস্যা অচিরেই কাটিয়ে উঠে জমি অধিগ্রহণ করে তা বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, এ ছাড়াও জমি নিয়ে জমির মালিকদের মধ্যে নানান জটিলতা থাকায় এই জরিপ কাজটি শেষ করতে সময় লাগছে। একই জমি বিভিন্ন লোকজন দাবি করে বসে। ফলে জরিপের কাজ দেরি হয়। এরপরও জরিপ সমস্যা সমাধানে তার দপ্তর সচেষ্ট। জনগণের স্বার্থেই তা দ্রুত করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।