ঢাকা ০৭:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বারবার দুর্ঘটনা: বিআরটি প্রকল্পের ট্রাফিক সুরক্ষার ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন

বিআরটি প্রকল্পের ট্রাফিক সুরক্ষা খাতে ব্যয়ের যৌক্তিকতা এবং এর সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গাজীপুর ও ঢাকার মধ্যে দ্রুত নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা চালু করতে ২০১২ সালে গাজীপুর হতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত সাড়ে ২০ কিমি নির্দিষ্ট লেনে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট স্থাপনের উদ্যোগ নেয় সরকার। তবে চার বছরের প্রকল্প ১০ বছরেও শেষ হয়নি।

নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় এরই মধ্যে প্রকল্পটির ব্যয় ও সময় কয়েকবার বেড়েছে। দুই হাজার ৩৯ কোটি টাকার প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে চার হাজার ২৬৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অন্যদিকে প্রকল্পটি নির্দিষ্ট সময়ে বাস্তবায়ন না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এই রুটের যাত্রীরা।

এ ছাড়া ট্রাফিক সুরক্ষায় বরাদ্দ রাখা হলেও মাঝেমধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। নতুন করে বিআরটি প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো নিয়ে বৃহস্পতিবার পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্পটির মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের অবহেলায় বারবার দুর্ঘটনা ঘটায় প্রকল্পটির ট্রাফিক সুরক্ষায় রাখা অর্থ ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন।

পরিকল্পনা কমিশন বলছে, ‘মেইনটেইন্যান্স অ্যান্ড প্রটেকশন অব ট্রাফিক’ খাতে পাঁচ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। তারপরও প্রকল্প চলাকালে ওই এলাকায় যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত না করার ফলে সাম্প্রতিক সময়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনাসহ একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এমতাবস্থায় এই অর্থ বরাদ্দ ও ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এই খাতে অর্থ ব্যয় হওয়ার পরও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ার কারণ জানতে চেয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।

নির্মাণকাজ শুরুর পর এ পর্যন্ত বিআরটির উড়ালপথ তৈরির গার্ডার ধসে চারটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত ১৪ আগস্ট উত্তরার জসিমউদ্দীন রোড এলাকায় গার্ডার তোলার সময় একটি গাড়ির ওপর পড়ে যায়। এ ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজন নিহত হন। এর আগে গত ১৫ জুলাই গাজীপুর শহরে গার্ডারের নিচে চাপা পড়ে একজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। গত বছর ১৪ মার্চ বিমানবন্দর এলাকায় এবং আবদুল্লাহপুরে একই দিনে দুইবার গার্ডারধসের ঘটনা ঘটে। এতে নির্মাণকাজে যুক্ত ছয়জন আহত হন। তাদের মধ্যে তিনজন চীনের নাগরিক ছিলেন।

এ বিষয়ে ঢাকা বিআরটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি এই প্রকল্পের ডিটেইল কাজের অংশ না। তাই এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারব না।’

এ বিষয়ে জানতে বিআরটি প্রকল্পের পরিচালক মহিরুল ইসলাম খানকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বিআরটি প্রকল্পে বারবার দুর্ঘটনার বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য সচিব সত্যজিৎ কর্মকার বলেন, ‘আমরা তাদের কাজ নিয়ে খুবই অসন্তুষ্ট। আমরা তাদের বলেছি তারা যেন যে কাজ আছে সেটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে করে এবং কাজ “সেফটি ফাস্ট” নীতি অবলম্বন করে মানসম্মতভাবে করা হয় তার জন্য বলেছি।’

সার্বিক বিষয়ে পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক সামসুল হক বলেন, এটি একটি দুর্বল প্রকল্প। যে উদ্দেশ্যে বিআরটি চিন্তা করা হয়েছিল তা হয়নি। নির্দিষ্ট সময়ে না করতে পারায় জনগণের ভোগান্তি বেড়েছে। ব্যয় বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। বাংলাদেশের মতো এত ব্যয় কোথাও নেই। এত ব্যয় হলেও সেই অনুযায়ী কাজ হচ্ছে না। যে কাজ হচ্ছে তারও কোনো জবাবদিহিতা নেই। কাজের ক্ষেত্রে ‘সেফটি ফাস্ট’ নীতি অবলম্বন করার কথা থাকলেও সেটি নেই। এর কারণেই এত দুর্ঘটনা ঘটছে।

ঢাকার জন্য ২০০৫ সালে করা ২০ বছরের পরিবহন পরিকল্পনার (এসটিপি) আওতায় বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়কে বাসের আলাদা লেন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এটাই বিআরটি প্রকল্প, যা ২০১২ সালের ১ ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন পায়। ব্যয় ধরা হয়েছিল দুই হাজার ৪০ কোটি টাকা। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ২০২২ সালের ডিসেম্বরেও কাজ শেষ হবে না-তাই নতুন করে ডিসেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়িয়েছে চার হাজার ২৬৮ কোটি টাকা। প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা-এএফডি, গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি নামে একটি সংস্থা ও বাংলাদেশ সরকার।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ব্যয় বৃদ্ধির মূল কারণ সময়মতো কাজ শেষ না হওয়া। দেরি হওয়ায় নির্মাণ উপকরণের দাম বাড়ার কারণে ৭২৩ কোটি টাকা ব্যয় বেড়েছে। পরামর্শকদের বাড়তি সময়ের বেতন-ভাতাও যোগ হয়েছে। এর বাইরে কিছু কাজ যোগ করা এবং বাড়তি জমি অধিগ্রহণও ব্যয় বৃদ্ধির জন্য দায়ী। বাড়তি ব্যয়ের সংস্থান পেতে দেরি হওয়াও একটি বড় কারণ।

বিআরটির চার ধরনের কাজ বাস্তবায়নে নিয়োজিত সরকারের চারটি সংস্থা-সওজ, সেতু বিভাগ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) ও ঢাকা বিআরটি কোম্পানি।

এর বাইরে কাজ তদারকিতে নিয়োজিত আছে চারটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। সওজের অধীনে ১৬ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণ, বিআরটি লেন নির্মাণ, ছয়টি ছোট উড়ালসড়ক, ২৫টি বিআরটি স্টেশন ও বিমানবন্দরের কাছে পথচারী পারাপারে পাতালপথ নির্মিত হচ্ছে। সাড়ে চার কিলোমিটার উড়ালপথ নির্মাণ, এর মধ্যে বিআরটি লেন তৈরি, স্টেশন নির্মাণ এবং বিদ্যমান টঙ্গী সেতুর জায়গায় ১০ লেনের একটি নতুন সেতু নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে সেতু বিভাগ।

Tag :
জনপ্রিয়

নীলফামারীতে পরিবেশ অধিদপ্তরের হাইড্রোলিক হর্ণ ব্যবহারকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণে জরিমানা

বারবার দুর্ঘটনা: বিআরটি প্রকল্পের ট্রাফিক সুরক্ষার ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশের সময় : ১০:৩৯:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

বিআরটি প্রকল্পের ট্রাফিক সুরক্ষা খাতে ব্যয়ের যৌক্তিকতা এবং এর সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গাজীপুর ও ঢাকার মধ্যে দ্রুত নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা চালু করতে ২০১২ সালে গাজীপুর হতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত সাড়ে ২০ কিমি নির্দিষ্ট লেনে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট স্থাপনের উদ্যোগ নেয় সরকার। তবে চার বছরের প্রকল্প ১০ বছরেও শেষ হয়নি।

নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় এরই মধ্যে প্রকল্পটির ব্যয় ও সময় কয়েকবার বেড়েছে। দুই হাজার ৩৯ কোটি টাকার প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে চার হাজার ২৬৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অন্যদিকে প্রকল্পটি নির্দিষ্ট সময়ে বাস্তবায়ন না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এই রুটের যাত্রীরা।

এ ছাড়া ট্রাফিক সুরক্ষায় বরাদ্দ রাখা হলেও মাঝেমধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। নতুন করে বিআরটি প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো নিয়ে বৃহস্পতিবার পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্পটির মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের অবহেলায় বারবার দুর্ঘটনা ঘটায় প্রকল্পটির ট্রাফিক সুরক্ষায় রাখা অর্থ ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন।

পরিকল্পনা কমিশন বলছে, ‘মেইনটেইন্যান্স অ্যান্ড প্রটেকশন অব ট্রাফিক’ খাতে পাঁচ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। তারপরও প্রকল্প চলাকালে ওই এলাকায় যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত না করার ফলে সাম্প্রতিক সময়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনাসহ একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এমতাবস্থায় এই অর্থ বরাদ্দ ও ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এই খাতে অর্থ ব্যয় হওয়ার পরও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ার কারণ জানতে চেয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।

নির্মাণকাজ শুরুর পর এ পর্যন্ত বিআরটির উড়ালপথ তৈরির গার্ডার ধসে চারটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত ১৪ আগস্ট উত্তরার জসিমউদ্দীন রোড এলাকায় গার্ডার তোলার সময় একটি গাড়ির ওপর পড়ে যায়। এ ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজন নিহত হন। এর আগে গত ১৫ জুলাই গাজীপুর শহরে গার্ডারের নিচে চাপা পড়ে একজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। গত বছর ১৪ মার্চ বিমানবন্দর এলাকায় এবং আবদুল্লাহপুরে একই দিনে দুইবার গার্ডারধসের ঘটনা ঘটে। এতে নির্মাণকাজে যুক্ত ছয়জন আহত হন। তাদের মধ্যে তিনজন চীনের নাগরিক ছিলেন।

এ বিষয়ে ঢাকা বিআরটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি এই প্রকল্পের ডিটেইল কাজের অংশ না। তাই এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারব না।’

এ বিষয়ে জানতে বিআরটি প্রকল্পের পরিচালক মহিরুল ইসলাম খানকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বিআরটি প্রকল্পে বারবার দুর্ঘটনার বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য সচিব সত্যজিৎ কর্মকার বলেন, ‘আমরা তাদের কাজ নিয়ে খুবই অসন্তুষ্ট। আমরা তাদের বলেছি তারা যেন যে কাজ আছে সেটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে করে এবং কাজ “সেফটি ফাস্ট” নীতি অবলম্বন করে মানসম্মতভাবে করা হয় তার জন্য বলেছি।’

সার্বিক বিষয়ে পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক সামসুল হক বলেন, এটি একটি দুর্বল প্রকল্প। যে উদ্দেশ্যে বিআরটি চিন্তা করা হয়েছিল তা হয়নি। নির্দিষ্ট সময়ে না করতে পারায় জনগণের ভোগান্তি বেড়েছে। ব্যয় বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। বাংলাদেশের মতো এত ব্যয় কোথাও নেই। এত ব্যয় হলেও সেই অনুযায়ী কাজ হচ্ছে না। যে কাজ হচ্ছে তারও কোনো জবাবদিহিতা নেই। কাজের ক্ষেত্রে ‘সেফটি ফাস্ট’ নীতি অবলম্বন করার কথা থাকলেও সেটি নেই। এর কারণেই এত দুর্ঘটনা ঘটছে।

ঢাকার জন্য ২০০৫ সালে করা ২০ বছরের পরিবহন পরিকল্পনার (এসটিপি) আওতায় বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়কে বাসের আলাদা লেন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এটাই বিআরটি প্রকল্প, যা ২০১২ সালের ১ ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন পায়। ব্যয় ধরা হয়েছিল দুই হাজার ৪০ কোটি টাকা। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ২০২২ সালের ডিসেম্বরেও কাজ শেষ হবে না-তাই নতুন করে ডিসেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়িয়েছে চার হাজার ২৬৮ কোটি টাকা। প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা-এএফডি, গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি নামে একটি সংস্থা ও বাংলাদেশ সরকার।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ব্যয় বৃদ্ধির মূল কারণ সময়মতো কাজ শেষ না হওয়া। দেরি হওয়ায় নির্মাণ উপকরণের দাম বাড়ার কারণে ৭২৩ কোটি টাকা ব্যয় বেড়েছে। পরামর্শকদের বাড়তি সময়ের বেতন-ভাতাও যোগ হয়েছে। এর বাইরে কিছু কাজ যোগ করা এবং বাড়তি জমি অধিগ্রহণও ব্যয় বৃদ্ধির জন্য দায়ী। বাড়তি ব্যয়ের সংস্থান পেতে দেরি হওয়াও একটি বড় কারণ।

বিআরটির চার ধরনের কাজ বাস্তবায়নে নিয়োজিত সরকারের চারটি সংস্থা-সওজ, সেতু বিভাগ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) ও ঢাকা বিআরটি কোম্পানি।

এর বাইরে কাজ তদারকিতে নিয়োজিত আছে চারটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। সওজের অধীনে ১৬ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণ, বিআরটি লেন নির্মাণ, ছয়টি ছোট উড়ালসড়ক, ২৫টি বিআরটি স্টেশন ও বিমানবন্দরের কাছে পথচারী পারাপারে পাতালপথ নির্মিত হচ্ছে। সাড়ে চার কিলোমিটার উড়ালপথ নির্মাণ, এর মধ্যে বিআরটি লেন তৈরি, স্টেশন নির্মাণ এবং বিদ্যমান টঙ্গী সেতুর জায়গায় ১০ লেনের একটি নতুন সেতু নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে সেতু বিভাগ।