ঢাকা ১২:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২, ২২ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গা শিবিরে বেড়েছে বাল্যবিয়ে

বাল্যবিয়ের হিড়িক পড়েছে কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। ২০১৭ সালের আগস্ট মাস থেকে পাঁচ বছরে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। সেই সঙ্গে প্রতি বছর যুক্ত হচ্ছে নতুন জন্ম নেয়া প্রায় ৪৫ হাজার রোহিঙ্গা শিশু।

সূত্র জানায়, ৩৪টি ক্যাম্পে অবস্থানরত কম বয়সি নারী ও শিশুরা বিয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছে বিনা অনুমতিতে। যা সমাজ তথা রাষ্ট্রে ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। বাল্যবিয়ে মায়ের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি শিশুর স্বাস্থ্যের জন্যও হুমকিস্বরূপ। কিশোরী বয়সে গর্ভধারণের ফলে বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত সমস্যা, সন্তান জন্মদানে জটিলতাসহ নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় এসব নারীদের।

এক গবেষণা সংস্থার দেওয়া তথ্য মতে, রোহিঙ্গাদের মধ্যে বাল্যবিয়ের প্রচলনের কারণে ক্যাম্পগুলোতে দ্রুত জনসংখ্যা বাড়ছে। এর কারণ হিসেবে অভাব আর নিরাপত্তাহীনতার কথা বলছেন রোহিঙ্গা কমিউনিটির প্রতিনিধিরা। কম বয়সি মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন রোহিঙ্গা ক্যাম্প ১৩ এর আবদুল করিম। মেয়ে রোকসানার বয়স ১৪ আর বর রবিউল আলমের বয়স ১৭ বছর। রবিউল আলম ১৪ নং ক্যাম্পের নুর হোসেনের ছেলে। বিয়ে হয়েছে গত এপ্রিল মাসের ১৯ তারিখে। মেয়ের বাবা আবদুল করিম বলেন, মেয়েদের দ্রুত বিয়ে দেওয়া হল সুন্নত।

ক্যাম্প ৬ ব্লক বি এর ১৩ বছর বয়সী রহিমা বেগমের সঙ্গে বিয়ে হয় ১৭ বছরের আকতার আহমদ, ১৫ বছরের নূর কায়দার বিয়ে হয় ১৮ বছরের নুর হোসেনের। তাদের মতো অনেক রোহিঙ্গা কিশোরীর অল্প বয়সে বিয়ে হচ্ছে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নেয়া ক্যাম্পগুলোতে।

মানবিক বিপর্যয়, খাদ্যাভাব ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে অল্প বয়সে বিয়ে হচ্ছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী, বাল্যবিয়ে রোধের প্রধান কারণগুলো চিহ্নিত করে ও বাল্যবিয়ে রোধ করা যাচ্ছে না বলে উদ্বেগ জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

ইউনিসেফ কর্মকর্তারা বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু মারাত্মক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছেন। মা ও শিশুদের জন্য বিশেষায়িত খাবারের ব্যবস্থা না থাকায় অপুষ্টিতে ভুগছেন অনেকেই। তার ওপর বাল্যবিয়ে ও বহু সন্তান নেয়ার প্রবণতা রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়েছে।

টেকনাফের সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি বলেন, রোহিঙ্গাদের বিয়ে করা আইগতভাবে নিষিদ্ধ। কিন্তু কেউ নিয়ম মানছেন না। রোহিঙ্গারা মনে করেন, এ দেশে একটি সন্তানের বিয়ে দেওয়া মানে নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ সহজ হওয়া। সে কারণেই তারা বাচ্চা মেয়েকে বয়স্ক বাংলাদেশি পাত্রের সঙ্গে বিয়ে দিতে দ্বিধাবোধ করে না। এ সুযোগ স্থানীয় লোকজনও কাজে লাগাচ্ছে।

বিয়ে করলেই নাগরিকত্ব পাওয়া সহজ নয় বলে মনে করেন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ও উখিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী। তার মতে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের বাল্যবিয়ে সংস্কৃতি ও এর প্রভাব নিয়ে গবেষণাধর্মী কাজ করা প্রয়োজন।

Tag :

২ লাখ টাকার ফুলদানি নিলামে বিক্রি হলো ৯২ কোটি টাকায়

রোহিঙ্গা শিবিরে বেড়েছে বাল্যবিয়ে

প্রকাশের সময় : ০৩:০৫:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

বাল্যবিয়ের হিড়িক পড়েছে কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। ২০১৭ সালের আগস্ট মাস থেকে পাঁচ বছরে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। সেই সঙ্গে প্রতি বছর যুক্ত হচ্ছে নতুন জন্ম নেয়া প্রায় ৪৫ হাজার রোহিঙ্গা শিশু।

সূত্র জানায়, ৩৪টি ক্যাম্পে অবস্থানরত কম বয়সি নারী ও শিশুরা বিয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছে বিনা অনুমতিতে। যা সমাজ তথা রাষ্ট্রে ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। বাল্যবিয়ে মায়ের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি শিশুর স্বাস্থ্যের জন্যও হুমকিস্বরূপ। কিশোরী বয়সে গর্ভধারণের ফলে বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত সমস্যা, সন্তান জন্মদানে জটিলতাসহ নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় এসব নারীদের।

এক গবেষণা সংস্থার দেওয়া তথ্য মতে, রোহিঙ্গাদের মধ্যে বাল্যবিয়ের প্রচলনের কারণে ক্যাম্পগুলোতে দ্রুত জনসংখ্যা বাড়ছে। এর কারণ হিসেবে অভাব আর নিরাপত্তাহীনতার কথা বলছেন রোহিঙ্গা কমিউনিটির প্রতিনিধিরা। কম বয়সি মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন রোহিঙ্গা ক্যাম্প ১৩ এর আবদুল করিম। মেয়ে রোকসানার বয়স ১৪ আর বর রবিউল আলমের বয়স ১৭ বছর। রবিউল আলম ১৪ নং ক্যাম্পের নুর হোসেনের ছেলে। বিয়ে হয়েছে গত এপ্রিল মাসের ১৯ তারিখে। মেয়ের বাবা আবদুল করিম বলেন, মেয়েদের দ্রুত বিয়ে দেওয়া হল সুন্নত।

ক্যাম্প ৬ ব্লক বি এর ১৩ বছর বয়সী রহিমা বেগমের সঙ্গে বিয়ে হয় ১৭ বছরের আকতার আহমদ, ১৫ বছরের নূর কায়দার বিয়ে হয় ১৮ বছরের নুর হোসেনের। তাদের মতো অনেক রোহিঙ্গা কিশোরীর অল্প বয়সে বিয়ে হচ্ছে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নেয়া ক্যাম্পগুলোতে।

মানবিক বিপর্যয়, খাদ্যাভাব ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে অল্প বয়সে বিয়ে হচ্ছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী, বাল্যবিয়ে রোধের প্রধান কারণগুলো চিহ্নিত করে ও বাল্যবিয়ে রোধ করা যাচ্ছে না বলে উদ্বেগ জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

ইউনিসেফ কর্মকর্তারা বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু মারাত্মক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছেন। মা ও শিশুদের জন্য বিশেষায়িত খাবারের ব্যবস্থা না থাকায় অপুষ্টিতে ভুগছেন অনেকেই। তার ওপর বাল্যবিয়ে ও বহু সন্তান নেয়ার প্রবণতা রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়েছে।

টেকনাফের সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি বলেন, রোহিঙ্গাদের বিয়ে করা আইগতভাবে নিষিদ্ধ। কিন্তু কেউ নিয়ম মানছেন না। রোহিঙ্গারা মনে করেন, এ দেশে একটি সন্তানের বিয়ে দেওয়া মানে নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ সহজ হওয়া। সে কারণেই তারা বাচ্চা মেয়েকে বয়স্ক বাংলাদেশি পাত্রের সঙ্গে বিয়ে দিতে দ্বিধাবোধ করে না। এ সুযোগ স্থানীয় লোকজনও কাজে লাগাচ্ছে।

বিয়ে করলেই নাগরিকত্ব পাওয়া সহজ নয় বলে মনে করেন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ও উখিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী। তার মতে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের বাল্যবিয়ে সংস্কৃতি ও এর প্রভাব নিয়ে গবেষণাধর্মী কাজ করা প্রয়োজন।