ঢাকা ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ডিমের দামে উল্টো বাঁক

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির অজুহাতে আবারও বেড়েছে ডিমের দাম। চার দিন আগেও যেখানে ডজন প্রতি ডিমের দাম ১১৫ থেকে ১২০ টাকা ছিল, সেখানে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায়।

বিক্রেতারা বলছেন, এই মুহূর্তে দাম বৃদ্ধির পেছনে যৌক্তিক কোনো কারণ না থাকলেও হঠাৎ করেই ডিম ব্যবসায়ী সমিতি দাম বাড়িয়েছে। উৎপাদন কিংবা সরবরাহে ব্যাঘাত না ঘটলেও ডিমের দাম বার বার বাড়ায় হতাশ ক্রেতারা।
সম্পর্কিত খবর

শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর বাড্ডা এলাকার একাধিক বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

বাজার করতে আসা আব্দুল আজিজ নামের এক রিকশাচালক বলেন, মাছ-মাংসের দাম তো আগেই বেড়েছে, ডিমটাই আমাদের ভরসা ছিল, কিন্তু এটার দামও বেড়েছে। আমরা তাহলে খাব কী? কেন আবারও দাম বাড়ল? দিনে আমরা কয় টাকা রোজগার করি? এভাবে কী সংসার চালানো যায়?

মোহসীন কবির নামক আরেক বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, আজ এক ডজন ডিম কিনেছি ১৩০ টাকায়। গত সপ্তাহে কিনেছিলাম ১২০ টাকা দিয়ে। অল্প টাকা বেতনে ঢাকায় থাকা এখন দায় হয়ে গেছে।

বিক্রেতারা বলছেন, দাম বেড়ে গেলে সাধারণ মানুষের জন্যও যেমন সমস্যা, আমরাও ক্ষতির সম্মুখীন হই।

মধ্যবাড্ডার একটি সুপারশপে দেখা গেছে, প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকা করে। সুপারশপের ম্যানেজার নাহিদুল আলম ঢাকা পোস্টকে বলেন, গত চার দিন আগেও আমরা ১১৫ টাকা ডজন করে বিক্রি করেছি। কিন্তু আজ বলে দেওয়া হয়েছে ১৩৫ টাকা করে বিক্রি করতে।

দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেন দাম বেড়েছে এটার কোনো কারণ আমাদের বলা হয়নি। এই মুহূর্তে দাম বাড়ার কোনো কারণও দেখছি না। যেহেতু বেশি দামে কিনে আনতে হয়েছে, বেশি দামেই বিক্রি করতে হবে। কিছুই করার নেই।

মেরুল বাড্ডা কাঁচাবাজার এলাকার ডিম ব্যবসায়ী নূর ইসলাম বলেন, আজকে লাল ডিম (লেয়ার) ডজনপ্রতি ১৩০ টাকা আর সাদা ডিম বিক্রি করছি ১২০ টাকা করে। গত সপ্তাহে লাল ডিম বিক্রি করেছি ১১৫ টাকা থেকে ১২০ টাকা করে।

দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, দ্বিতীয় দফায় দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। ডিম ব্যবসায়ী সমিতি সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়েছে। ডিমের দাম নির্ভর করে সমিতির সভাপতি-সেক্রেটারির ওপর। তারা যখনই চায়, তখনই দাম বাড়ায়। এতে আমাদেরও ক্ষতি।

তিনি আরও বলেন, আনতে গিয়ে অনেক ডিম নষ্ট হয়ে যায়। দাম বেশি হলে ক্ষতির পরিমাণও বেড়ে যায়। তাছাড়া দাম বাড়র ফলে ক্রেতাও কমে যায়।

এর আগে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে ডিমের দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে যায়। প্রতি ডজন ডিম ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায় উঠে। পাড়া-মহল্লার কোনো কোনো দোকানে তা ১৮০ টাকাতেও বিক্রি হয়। তবে বাজার নিয়ন্ত্রণে বাণিজ্যমন্ত্রীর ডিম আমদানির ঘোষণায় ডিমের দাম কমে ১২০ টাকায় নামে। সপ্তাহ না যেতেই আবারো বেড়েছে ডিমের দাম। ডজন প্রতি ১০ টাকা বেড়ে দাম হয়েছে ১৩০ টাকা।

Tag :

প্রতিমায় রং তুলির আঁচড়ে ব্যস্ত কারিগররা

ডিমের দামে উল্টো বাঁক

প্রকাশের সময় : ০৭:৫৬:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির অজুহাতে আবারও বেড়েছে ডিমের দাম। চার দিন আগেও যেখানে ডজন প্রতি ডিমের দাম ১১৫ থেকে ১২০ টাকা ছিল, সেখানে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায়।

বিক্রেতারা বলছেন, এই মুহূর্তে দাম বৃদ্ধির পেছনে যৌক্তিক কোনো কারণ না থাকলেও হঠাৎ করেই ডিম ব্যবসায়ী সমিতি দাম বাড়িয়েছে। উৎপাদন কিংবা সরবরাহে ব্যাঘাত না ঘটলেও ডিমের দাম বার বার বাড়ায় হতাশ ক্রেতারা।
সম্পর্কিত খবর

শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর বাড্ডা এলাকার একাধিক বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

বাজার করতে আসা আব্দুল আজিজ নামের এক রিকশাচালক বলেন, মাছ-মাংসের দাম তো আগেই বেড়েছে, ডিমটাই আমাদের ভরসা ছিল, কিন্তু এটার দামও বেড়েছে। আমরা তাহলে খাব কী? কেন আবারও দাম বাড়ল? দিনে আমরা কয় টাকা রোজগার করি? এভাবে কী সংসার চালানো যায়?

মোহসীন কবির নামক আরেক বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, আজ এক ডজন ডিম কিনেছি ১৩০ টাকায়। গত সপ্তাহে কিনেছিলাম ১২০ টাকা দিয়ে। অল্প টাকা বেতনে ঢাকায় থাকা এখন দায় হয়ে গেছে।

বিক্রেতারা বলছেন, দাম বেড়ে গেলে সাধারণ মানুষের জন্যও যেমন সমস্যা, আমরাও ক্ষতির সম্মুখীন হই।

মধ্যবাড্ডার একটি সুপারশপে দেখা গেছে, প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকা করে। সুপারশপের ম্যানেজার নাহিদুল আলম ঢাকা পোস্টকে বলেন, গত চার দিন আগেও আমরা ১১৫ টাকা ডজন করে বিক্রি করেছি। কিন্তু আজ বলে দেওয়া হয়েছে ১৩৫ টাকা করে বিক্রি করতে।

দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেন দাম বেড়েছে এটার কোনো কারণ আমাদের বলা হয়নি। এই মুহূর্তে দাম বাড়ার কোনো কারণও দেখছি না। যেহেতু বেশি দামে কিনে আনতে হয়েছে, বেশি দামেই বিক্রি করতে হবে। কিছুই করার নেই।

মেরুল বাড্ডা কাঁচাবাজার এলাকার ডিম ব্যবসায়ী নূর ইসলাম বলেন, আজকে লাল ডিম (লেয়ার) ডজনপ্রতি ১৩০ টাকা আর সাদা ডিম বিক্রি করছি ১২০ টাকা করে। গত সপ্তাহে লাল ডিম বিক্রি করেছি ১১৫ টাকা থেকে ১২০ টাকা করে।

দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, দ্বিতীয় দফায় দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। ডিম ব্যবসায়ী সমিতি সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়েছে। ডিমের দাম নির্ভর করে সমিতির সভাপতি-সেক্রেটারির ওপর। তারা যখনই চায়, তখনই দাম বাড়ায়। এতে আমাদেরও ক্ষতি।

তিনি আরও বলেন, আনতে গিয়ে অনেক ডিম নষ্ট হয়ে যায়। দাম বেশি হলে ক্ষতির পরিমাণও বেড়ে যায়। তাছাড়া দাম বাড়র ফলে ক্রেতাও কমে যায়।

এর আগে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে ডিমের দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে যায়। প্রতি ডজন ডিম ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায় উঠে। পাড়া-মহল্লার কোনো কোনো দোকানে তা ১৮০ টাকাতেও বিক্রি হয়। তবে বাজার নিয়ন্ত্রণে বাণিজ্যমন্ত্রীর ডিম আমদানির ঘোষণায় ডিমের দাম কমে ১২০ টাকায় নামে। সপ্তাহ না যেতেই আবারো বেড়েছে ডিমের দাম। ডজন প্রতি ১০ টাকা বেড়ে দাম হয়েছে ১৩০ টাকা।