ঢাকা ০৮:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
ইলিশ উৎপাদন

খাতার সঙ্গে ঘাটেরহিসাব মেলে না

ভরা মৌসুমেও নদ-নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ মিলছে না। সাগরের ইলিশও ধরা পড়ছে না জালে। মোকামে তাই বেচাকেনা কম। গত কয়েক মাস ধরে ইলিশ নিয়ে তাই হাহাকার সর্বত্র। অথচ মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, আগের দুই বছরের তুলনায় এবার ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে। ঘাটের হিসাব আর খাতার হিসাবের এই বিপরীত চিত্রে ধন্দে পড়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার বরিশাল নগরের পোর্ট রোড মৎস্য মোকাম ঘুরে দেখা গেছে, ইলিশ তেমন একটা নেই। কয়েকটি জায়গায় ১৫-২০ মণ ইলিশ বিক্রির দরদাম চলছে। এর অধিকাংশই নদীর কিংবা সাগর মোহনার।

ব্যবসায়ীরা জানান, গত কয়েক দিন ধরে এক কেজি ওজনের ইলিশ প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ৫৪ থেকে ৫৬ হাজার টাকায়। আর এলসি (৬০০ থেকে ৯০০ গ্রাম) সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৪৬ হাজার টাকা মণে। ভারতে রপ্তানির কারণে মণপ্রতি ৩ হাজার টাকা বেড়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান। পোর্ট রোডের ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, এখন যে পরিমাণ ইলিশ থাকার কথা ছিল, তেমনটা উঠছে না।

তবে বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের (২০২২) আগস্টে বরিশাল বিভাগে ইলিশ উৎপাদন হয়েছে ২৫ হাজার ৬২৯ মেট্রিক টন। আগের বছর ২০২১ সালের আগস্টে বিভাগে ইলিশ উৎপাদন হয় ২১ হাজার ২৬৫ মেট্রিক টন এবং ২০২০ সালে উৎপাদন হয়েছে ১৮ হাজার ৩৫৩ মেট্রিক টন। অর্থাৎ, অধিদপ্তরের হিসাবমতে গত দুই বছরের তুলনায় বেশি ইলিশ উৎপাদন হয়েছে।

একইভাবে ২০২২ সালের জুলাইয়ে বরিশাল বিভাগে ইলিশ উৎপাদন হয়েছে ১৫ হাজার ১৭৬ মেট্রিক টন, ২০২১ সালের জুলাইয়ে ১১ হাজার ২২২ মেট্রিক টন এবং ২০২০ সালের জুলাইয়ে ১৮ হাজার ৬৫ মেট্রিক টন।

নদী-সাগরে ইলিশ না থাকলেও পরিসংখ্যানে এবার ইলিশের উৎপাদন বেশি হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বরিশাল মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা (ইলিশ) ড. বিমল চন্দ্র দাস আজকের পত্রিকাকে বলেন, এবার তাপমাত্রা বেশি হওয়ায় ইলিশ গভীর সাগরে চলে গেছে, যে কারণে জেলেরা বেশি মাছ ধরতে পারছেন না। বরিশালে না ধরা পড়লেও উপকূলে রয়েছে। ইলিশের গড় উৎপাদন কমছে না।

বরিশাল সদর উপজেলার সায়েস্তাবাদের জেলে সোহরাব হোসেন গত ২০ বছর ধরে আড়িয়াল খাঁ নদীতে ইলিশ ধরেন। তিনি বলেন, ‘এ বছর কেন এত ইলিশ কম তা বলা কঠিন। জালে মাছই ধরা পড়ছে না।’ চরমোনাইর জেলে মিলন মন্ডল জানান, ভরা মৌসুমেও কীর্তনখোলায় ইলিশ অনেকটা কম।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক মৎস্য ব্যবসায়ী জানান, মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মোকামে ঘুরেফিরে মাস শেষে একটি উৎপাদন হিসাব দেখান। এই পরিসংখ্যানের সঙ্গে ব্যবসায়ী কিংবা জেলেরা সম্পৃক্ত নন। যে কারণে ইলিশ উৎপাদন নির্ধারণের পদ্ধতি আরও যৌক্তিক ও বিশ্বসযোগ্য হওয়া উচিত।

এ ব্যাপারে বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আনিছুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, সব সময়ই ইলিশ পাওয়া যায়। তবে এ সময় ব্যাপক আকারে ইলিশ আসার কথা, কিন্তু সেটা এখন আসছে না। হয়তো এক-দুই সপ্তাহ পর মাছ ধরা পড়বে।

Tag :

কালীগঞ্জে মায়ের শাড়ি গলায় পেঁচিয়ে ছেলের আত্মহত্যা

ইলিশ উৎপাদন

খাতার সঙ্গে ঘাটেরহিসাব মেলে না

প্রকাশের সময় : ০৭:৪৭:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

ভরা মৌসুমেও নদ-নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ মিলছে না। সাগরের ইলিশও ধরা পড়ছে না জালে। মোকামে তাই বেচাকেনা কম। গত কয়েক মাস ধরে ইলিশ নিয়ে তাই হাহাকার সর্বত্র। অথচ মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, আগের দুই বছরের তুলনায় এবার ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে। ঘাটের হিসাব আর খাতার হিসাবের এই বিপরীত চিত্রে ধন্দে পড়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার বরিশাল নগরের পোর্ট রোড মৎস্য মোকাম ঘুরে দেখা গেছে, ইলিশ তেমন একটা নেই। কয়েকটি জায়গায় ১৫-২০ মণ ইলিশ বিক্রির দরদাম চলছে। এর অধিকাংশই নদীর কিংবা সাগর মোহনার।

ব্যবসায়ীরা জানান, গত কয়েক দিন ধরে এক কেজি ওজনের ইলিশ প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ৫৪ থেকে ৫৬ হাজার টাকায়। আর এলসি (৬০০ থেকে ৯০০ গ্রাম) সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৪৬ হাজার টাকা মণে। ভারতে রপ্তানির কারণে মণপ্রতি ৩ হাজার টাকা বেড়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান। পোর্ট রোডের ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, এখন যে পরিমাণ ইলিশ থাকার কথা ছিল, তেমনটা উঠছে না।

তবে বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের (২০২২) আগস্টে বরিশাল বিভাগে ইলিশ উৎপাদন হয়েছে ২৫ হাজার ৬২৯ মেট্রিক টন। আগের বছর ২০২১ সালের আগস্টে বিভাগে ইলিশ উৎপাদন হয় ২১ হাজার ২৬৫ মেট্রিক টন এবং ২০২০ সালে উৎপাদন হয়েছে ১৮ হাজার ৩৫৩ মেট্রিক টন। অর্থাৎ, অধিদপ্তরের হিসাবমতে গত দুই বছরের তুলনায় বেশি ইলিশ উৎপাদন হয়েছে।

একইভাবে ২০২২ সালের জুলাইয়ে বরিশাল বিভাগে ইলিশ উৎপাদন হয়েছে ১৫ হাজার ১৭৬ মেট্রিক টন, ২০২১ সালের জুলাইয়ে ১১ হাজার ২২২ মেট্রিক টন এবং ২০২০ সালের জুলাইয়ে ১৮ হাজার ৬৫ মেট্রিক টন।

নদী-সাগরে ইলিশ না থাকলেও পরিসংখ্যানে এবার ইলিশের উৎপাদন বেশি হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বরিশাল মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা (ইলিশ) ড. বিমল চন্দ্র দাস আজকের পত্রিকাকে বলেন, এবার তাপমাত্রা বেশি হওয়ায় ইলিশ গভীর সাগরে চলে গেছে, যে কারণে জেলেরা বেশি মাছ ধরতে পারছেন না। বরিশালে না ধরা পড়লেও উপকূলে রয়েছে। ইলিশের গড় উৎপাদন কমছে না।

বরিশাল সদর উপজেলার সায়েস্তাবাদের জেলে সোহরাব হোসেন গত ২০ বছর ধরে আড়িয়াল খাঁ নদীতে ইলিশ ধরেন। তিনি বলেন, ‘এ বছর কেন এত ইলিশ কম তা বলা কঠিন। জালে মাছই ধরা পড়ছে না।’ চরমোনাইর জেলে মিলন মন্ডল জানান, ভরা মৌসুমেও কীর্তনখোলায় ইলিশ অনেকটা কম।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক মৎস্য ব্যবসায়ী জানান, মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মোকামে ঘুরেফিরে মাস শেষে একটি উৎপাদন হিসাব দেখান। এই পরিসংখ্যানের সঙ্গে ব্যবসায়ী কিংবা জেলেরা সম্পৃক্ত নন। যে কারণে ইলিশ উৎপাদন নির্ধারণের পদ্ধতি আরও যৌক্তিক ও বিশ্বসযোগ্য হওয়া উচিত।

এ ব্যাপারে বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আনিছুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, সব সময়ই ইলিশ পাওয়া যায়। তবে এ সময় ব্যাপক আকারে ইলিশ আসার কথা, কিন্তু সেটা এখন আসছে না। হয়তো এক-দুই সপ্তাহ পর মাছ ধরা পড়বে।