ঢাকা ০২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

অভিযানের সুফল নিয়ে সংশয়

রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে অননুমোদিত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা কত এবং এর কোনটির অবস্থান কোথায়- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে এর তথ্যভিত্তিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে নতুন যেসব বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র লাইন্সেসের আবেদন করলেও শর্ত পূরণ করতে না পারায় এখনো অনুমোদন পায়নি এবং যেসব প্রতিষ্ঠান মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স নবায়ন করেন- এর তালিকা আছে। তাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গতবারের মতো এবারও ওইসব হাসপাতাল-ক্লিনিক ঘিরেই অভিযান চালিয়েছে। এর বাইরে গণমাধ্যম ও স্থানীয় লোকজনের অভিযোগের ভিত্তিতে অনুমোদনহীনভাবে গড়ে ওঠা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে তারা হানা দিয়েছে। ২৯ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে অভিযান চালিয়ে ৮৫০টি অবৈধ হাসপাতাল ও ক্লিনিক বন্ধ করা হয়েছে। এর তিন মাস আগে একই ধরনের অভিযানে সাড়ে ১৬শ’ হাসপাতাল ও ক্লিনিকে তালা ঝোলানো হয়েছে।

তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক’দিন পরপর এ ধরনের অপরিকল্পিত অভিযানের সুফল পাওয়া নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। সাময়িকভাবে এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ হলেও ক’দিন না যেতেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে ফের অবৈধভাবেই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ ছাড়াও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোর পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালেও মানহীন সেবা চলছে। অবৈধভাবে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ করার আগে সরকারি হাসপাতালের সেবার মান এবং সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়ানো জরুরি বলে মনে করেন তারা।

অন্যদিকে অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেওয়া হলেও এতে মূল লক্ষ্য অর্জিত হবে না বলে স্বীকার করেন খোদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা মনে করেন, শুধু লাইসেন্স না নেওয়ার কারণে স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া নয়, বরং যেসব হাসপাতাল-ক্লিনিকে মানসম্মত চিকিৎসা দেওয়ার পরিবর্তে অপচিকিৎসা চলছে, এসব প্রতিষ্ঠানের মালিক-চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। তা না হলে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করা যাবে না।

এদিকে অবৈধ ও অনিবন্ধিত ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অভিযানের মধ্যে আইসিডিডিআর-বি এক ভয়াবহ তথ্য দিয়েছে। তারা বলেছে, বিভিন্ন সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা করেছে। বিষয়টি দেখতে ইউএস-এইডের সহায়তায় তারা ১২ সিটি করপোরেশনের ১০টি জেলার ২৯টি উপজেলায় একটি গবেষণা জরিপ পরিচালনা করে। গবেষণাটি করতে গিয়ে এক হাজার ১৮৯টি বেসরকারি হাসপাতালকে অ্যাসেসমেন্টের (মূল্যায়ন) জন্য সহযোগিতা চাওয়া হয়। কিন্তু তাদের মধ্যে ৪০টি হাসপাতালই সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানায়। সবশেষে এক হাজার ১১৭টিতে অ্যাসেসমেন্ট করা হয়। জরিপ করা এক হাজার ১১৭টি বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে ৯৫৬টি হাসপাতাল কোনো এক

সময় নিবন্ধনের আওতায় এসেছিল, যা শতকরা ৮৬ শতাংশ। আর বাকি ১৬১টি বেসরকারি হাসপাতাল কখনোই নিবন্ধন করেনি, যা শতাংশ ১৪ শতাংশ।

জরিপে আরও জানানো হয়, কোনো এক সময় নিবন্ধনের আওতায় আসা ৯৫৬টি বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে ৮৮৬টির (৭৯ শতাংশ) লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল, ৬৬টি হাসপাতালের (৬ শতাংশ) বৈধ লাইসেন্স ছিল এবং বাকি চারটি হাসপাতাল (দশমিক ৫ শতাংশ) এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানায়নি।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক বিভাগের সহকারী পরিচালক ডা. বিলস্নাল হোসাইন বলেন, অবৈধ হাসপাতাল বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া ছাড়া তাদের হাতে কোনো ক্ষমতা নেই। তবে যেসব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে মানহীন চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। তিনি জানান, অভিযান পরিচালনাকালে ঢাকা জেনারেল হাসপাতালে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও সেলাইয়ের সুতা দিয়ে অপারেশন করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। কিন্তু আইন প্রয়োগের ক্ষমতা না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি।

নাগরিকের স্বাস্থ্য অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারী এবং বারডেম হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ডাক্তার রশিদ-ই মাহবুব বলেন, সারাদেশেই সরকারি চিকিৎসাসেবায় ঘাটতির সুযোগ নিয়ে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত কোনো নিয়ম না মেনে শত শত হাসপাতাল ও ক্লিনিক গড়ে উঠেছে। সে জন্য চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারিভাবে চিকিৎসাসেবা যেহেতু পর্যাপ্ত নয়, তাই বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চাহিদা বাড়ছে। এখন এই চাহিদার প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন স্থানে বেসরকারি পর্যায়ে হাসপাতাল বা ক্লিনিক গড়ে উঠছে।

বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নিবন্ধন করা প্রথম শর্ত হলেও নিবন্ধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে ডাক্তার রশিদ-ই মাহবুবের। তার ভাষ্য, এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া ‘নিড বেইসড’ নয়। যে যেভাবে পারে নিবন্ধনটা করিয়ে নিয়ে, তা চালিয়ে দেয়। যাকে-তাকে দিয়ে হাসপাতাল-ক্লিনিক চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক সানিয়া তাহমিনা বলেন, ব্যক্তি মালিকানায় বা বেসরকারিভাবে পরিচালিত হাসপাতাল-ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে সেবার মানসিকতার চেয়ে ব্যবসায়িক চিন্তা বড় হয়ে উঠছে। তাই আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার টার্গেট নিয়ে ব্যাঙের ছাতার মতো স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। সেখানে মান দেখার জন্য কর্তৃপক্ষের যে পরিমাণ জনবল দরকার, এর ঘাটতি আছে। এ ছাড়া মানুষেরও সচেতনতার অভাব আছে। এমন প্রেক্ষাপটেই ধীরে ধীরে এটি একটি বিশাল ব্যবসায় পরিণত হয়েছে- যোগ করেন অধ্যাপক তাহমিনা।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, সরকারি হাসপাতালগুলোর ব্যাপারে সরকারের নতুন কোনো উদ্যোগ নেই। সে কারণে স্বাস্থ্য খাত বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের দখলে চলে গেছে। বড় বড় হাসপাতাল হচ্ছে ঠিকই। কিন্তু সিস্টেম অনুযায়ী উন্নত করা হচ্ছে না। যে কারণে প্রাইভেট খাতের হাতে মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে।

এ ছাড়া ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা এই বিপুলসংখ্যক বেসরকারি ক্লিনিকগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনার জন্য সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা যথাযথ নজরদারি কাঠামোই তৈরি হয়নি। রেগুলেটরি কোনো মেকানিজম নেই এবং আর্থিক সঙ্গতিও নেই। অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিষয়গুলো তদারকি করলেও নিবন্ধনের প্রক্রিয়া চালানো এবং নজরদারির জন্য তাদের প্রয়োজনীয় লোকবলও নেই। তাই সার্বিকভাবে বিষযগুলোর দিকে নজর না দিয়ে শুধু অভিযান চালিয়ে ভালো ফল পাওয়া যাবে না।

তাদের এই আশঙ্কা যে অমূলক নয়, তা স্বীকার করেন খোদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেরই অনেক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। তারা জানান, এর আগেও বিভিন্ন সময় অভিযান চালানো হলেও পরিস্থিতির তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। শুধু স্বল্পসংখ্যক হাসপাতাল-ক্লিনিক তাদের মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স নবায়ন করেছেন। কোনো কোনো নতুন প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। তবে বেশকিছু শর্ত পূরণ না করায় তাদের সে ব্যাপারে চিঠি দেওয়ার পর আর যোগাযোগ করেননি। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় অভিযানে বন্ধ করে দেওয়া অনেক হাসপাতাল-ক্লিনিক নানাভাবে ম্যানেজ করে পরে আবার চালু হয়েছে এবং আবার একই অনিয়ম করে চলেছে। তাই এবারের অভিযানে কতটা ফল পাওয়া যাবে তা নিয়ে তারাও সন্দিহান।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেসরকারি খাতে হাসপাতাল ক্লিনিকের সঠিক সংখ্যা তাদের কারও জানা নেই। তবে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক সমিতির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৪ হাজারের মতো তাদের সমিতির তালিকাভুক্ত রয়েছে। সমিতিতে যোগ দেয়নি এ ধরনের ব্যক্তি মালিকানাধীন ও বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র আরও থাকতে পারে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা চলমান সংকটের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকেই দায়ী করেছেন। তাদের ভাষ্য, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাবের কারণে এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। কেননা, বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের সেবা কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায় ধাপে ধাপে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর থেকে ছাড়পত্র নিয়ে চূড়ান্তভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিবন্ধন নিচ্ছে। এতে দীর্ঘ সময় কেটে যাচ্ছে। এ কারণে দেশে অবৈধভাবে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে। এ ছাড়া প্রক্রিয়াগত ত্রম্নটির কারণে নিম্নমানের সেবা দিয়েও মুনাফা করছেন অনেক প্রতিষ্ঠান। অনেক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রোগী হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদারকির অভাব, লোক দেখানো অভিযান, নিজস্ব জনবল সংকটের সুযোগ নিচ্ছেন এসব অসাধু ব্যবসায়ী।

তবে নিজেদের ব্যর্থতার দায় নিচ্ছে না স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সরকারি এই সংস্থাটি বলছে, তারা এসব অবৈধ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। একই সঙ্গে নিবন্ধন পেতে যারা আবেদন করেছেন, তাদের দ্রম্নত সময় নিবন্ধন দেওয়ার কাজ চলমান রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, দেশে নিবন্ধিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা ক্লিনিক রয়েছে ১০ হাজার ৯১৭টি। তবে বর্তমানে কতটি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে নিবন্ধনের অপেক্ষায় রয়েছে, তা জানাতে পারেনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক লেলিন চৌধুরী বলেন, নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মানসম্মত করার কাজটি কখনই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ধারাবাহিকভাবে করেনি। এর আগে অনেকবার উদ্যোগ নিলেও তারা ব্যর্থ হয়েছে। এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠানে মানহীন চিকিৎসার কারণে মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে।

এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেন, আমরা চাই এই খাতে শৃঙ্খলা ফিরে আসুক। এখন অবৈধ হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলো বন্ধ করা হচ্ছে। এরপর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদারকিটা নিয়মিত চলমান থাকতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যদি এই যাত্রায় ব্যর্থ হয়, তবে এটাই হবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বড় ব্যর্থতা। বেসরকারি খাতে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হলে নিরবচ্ছিন্ন তদারকি প্রয়োজন জানিয়ে তিনি বলেন, এটি বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ও সংঘবদ্ধ প্রভাব মোকাবিলা করতে হবে।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালেও এমন অভিযানে নেমেছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কিন্তু মালিকপক্ষের চাপে অভিযান আলোর মুখ দেখেনি। ফলে অবৈধ অনেক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। সর্বশেষ চলতি বছরের ২৬ মে অবৈধ হাসপাতাল-ক্লিনিকের বিরুদ্ধে আরও এক দফা অভিযান পরিচালনা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ সময় এক হাজার ৬০০ অবৈধ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে এতেও পরিস্থিতির তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। এসব প্রতিষ্ঠান পরে কিছু চালুও করা হয়েছে।

Tag :

আমেরিকার ভিসা পেলেন পূজা, অক্টোবরে যাচ্ছেন শাকিব

অভিযানের সুফল নিয়ে সংশয়

প্রকাশের সময় : ১০:৩৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে অননুমোদিত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা কত এবং এর কোনটির অবস্থান কোথায়- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে এর তথ্যভিত্তিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে নতুন যেসব বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র লাইন্সেসের আবেদন করলেও শর্ত পূরণ করতে না পারায় এখনো অনুমোদন পায়নি এবং যেসব প্রতিষ্ঠান মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স নবায়ন করেন- এর তালিকা আছে। তাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গতবারের মতো এবারও ওইসব হাসপাতাল-ক্লিনিক ঘিরেই অভিযান চালিয়েছে। এর বাইরে গণমাধ্যম ও স্থানীয় লোকজনের অভিযোগের ভিত্তিতে অনুমোদনহীনভাবে গড়ে ওঠা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে তারা হানা দিয়েছে। ২৯ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে অভিযান চালিয়ে ৮৫০টি অবৈধ হাসপাতাল ও ক্লিনিক বন্ধ করা হয়েছে। এর তিন মাস আগে একই ধরনের অভিযানে সাড়ে ১৬শ’ হাসপাতাল ও ক্লিনিকে তালা ঝোলানো হয়েছে।

তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক’দিন পরপর এ ধরনের অপরিকল্পিত অভিযানের সুফল পাওয়া নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। সাময়িকভাবে এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ হলেও ক’দিন না যেতেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে ফের অবৈধভাবেই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ ছাড়াও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোর পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালেও মানহীন সেবা চলছে। অবৈধভাবে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ করার আগে সরকারি হাসপাতালের সেবার মান এবং সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়ানো জরুরি বলে মনে করেন তারা।

অন্যদিকে অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেওয়া হলেও এতে মূল লক্ষ্য অর্জিত হবে না বলে স্বীকার করেন খোদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা মনে করেন, শুধু লাইসেন্স না নেওয়ার কারণে স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া নয়, বরং যেসব হাসপাতাল-ক্লিনিকে মানসম্মত চিকিৎসা দেওয়ার পরিবর্তে অপচিকিৎসা চলছে, এসব প্রতিষ্ঠানের মালিক-চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। তা না হলে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করা যাবে না।

এদিকে অবৈধ ও অনিবন্ধিত ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অভিযানের মধ্যে আইসিডিডিআর-বি এক ভয়াবহ তথ্য দিয়েছে। তারা বলেছে, বিভিন্ন সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা করেছে। বিষয়টি দেখতে ইউএস-এইডের সহায়তায় তারা ১২ সিটি করপোরেশনের ১০টি জেলার ২৯টি উপজেলায় একটি গবেষণা জরিপ পরিচালনা করে। গবেষণাটি করতে গিয়ে এক হাজার ১৮৯টি বেসরকারি হাসপাতালকে অ্যাসেসমেন্টের (মূল্যায়ন) জন্য সহযোগিতা চাওয়া হয়। কিন্তু তাদের মধ্যে ৪০টি হাসপাতালই সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানায়। সবশেষে এক হাজার ১১৭টিতে অ্যাসেসমেন্ট করা হয়। জরিপ করা এক হাজার ১১৭টি বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে ৯৫৬টি হাসপাতাল কোনো এক

সময় নিবন্ধনের আওতায় এসেছিল, যা শতকরা ৮৬ শতাংশ। আর বাকি ১৬১টি বেসরকারি হাসপাতাল কখনোই নিবন্ধন করেনি, যা শতাংশ ১৪ শতাংশ।

জরিপে আরও জানানো হয়, কোনো এক সময় নিবন্ধনের আওতায় আসা ৯৫৬টি বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে ৮৮৬টির (৭৯ শতাংশ) লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল, ৬৬টি হাসপাতালের (৬ শতাংশ) বৈধ লাইসেন্স ছিল এবং বাকি চারটি হাসপাতাল (দশমিক ৫ শতাংশ) এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানায়নি।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক বিভাগের সহকারী পরিচালক ডা. বিলস্নাল হোসাইন বলেন, অবৈধ হাসপাতাল বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া ছাড়া তাদের হাতে কোনো ক্ষমতা নেই। তবে যেসব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে মানহীন চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। তিনি জানান, অভিযান পরিচালনাকালে ঢাকা জেনারেল হাসপাতালে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও সেলাইয়ের সুতা দিয়ে অপারেশন করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। কিন্তু আইন প্রয়োগের ক্ষমতা না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি।

নাগরিকের স্বাস্থ্য অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারী এবং বারডেম হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ডাক্তার রশিদ-ই মাহবুব বলেন, সারাদেশেই সরকারি চিকিৎসাসেবায় ঘাটতির সুযোগ নিয়ে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত কোনো নিয়ম না মেনে শত শত হাসপাতাল ও ক্লিনিক গড়ে উঠেছে। সে জন্য চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারিভাবে চিকিৎসাসেবা যেহেতু পর্যাপ্ত নয়, তাই বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চাহিদা বাড়ছে। এখন এই চাহিদার প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন স্থানে বেসরকারি পর্যায়ে হাসপাতাল বা ক্লিনিক গড়ে উঠছে।

বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নিবন্ধন করা প্রথম শর্ত হলেও নিবন্ধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে ডাক্তার রশিদ-ই মাহবুবের। তার ভাষ্য, এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া ‘নিড বেইসড’ নয়। যে যেভাবে পারে নিবন্ধনটা করিয়ে নিয়ে, তা চালিয়ে দেয়। যাকে-তাকে দিয়ে হাসপাতাল-ক্লিনিক চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক সানিয়া তাহমিনা বলেন, ব্যক্তি মালিকানায় বা বেসরকারিভাবে পরিচালিত হাসপাতাল-ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে সেবার মানসিকতার চেয়ে ব্যবসায়িক চিন্তা বড় হয়ে উঠছে। তাই আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার টার্গেট নিয়ে ব্যাঙের ছাতার মতো স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। সেখানে মান দেখার জন্য কর্তৃপক্ষের যে পরিমাণ জনবল দরকার, এর ঘাটতি আছে। এ ছাড়া মানুষেরও সচেতনতার অভাব আছে। এমন প্রেক্ষাপটেই ধীরে ধীরে এটি একটি বিশাল ব্যবসায় পরিণত হয়েছে- যোগ করেন অধ্যাপক তাহমিনা।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, সরকারি হাসপাতালগুলোর ব্যাপারে সরকারের নতুন কোনো উদ্যোগ নেই। সে কারণে স্বাস্থ্য খাত বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের দখলে চলে গেছে। বড় বড় হাসপাতাল হচ্ছে ঠিকই। কিন্তু সিস্টেম অনুযায়ী উন্নত করা হচ্ছে না। যে কারণে প্রাইভেট খাতের হাতে মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে।

এ ছাড়া ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা এই বিপুলসংখ্যক বেসরকারি ক্লিনিকগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনার জন্য সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা যথাযথ নজরদারি কাঠামোই তৈরি হয়নি। রেগুলেটরি কোনো মেকানিজম নেই এবং আর্থিক সঙ্গতিও নেই। অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিষয়গুলো তদারকি করলেও নিবন্ধনের প্রক্রিয়া চালানো এবং নজরদারির জন্য তাদের প্রয়োজনীয় লোকবলও নেই। তাই সার্বিকভাবে বিষযগুলোর দিকে নজর না দিয়ে শুধু অভিযান চালিয়ে ভালো ফল পাওয়া যাবে না।

তাদের এই আশঙ্কা যে অমূলক নয়, তা স্বীকার করেন খোদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেরই অনেক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। তারা জানান, এর আগেও বিভিন্ন সময় অভিযান চালানো হলেও পরিস্থিতির তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। শুধু স্বল্পসংখ্যক হাসপাতাল-ক্লিনিক তাদের মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স নবায়ন করেছেন। কোনো কোনো নতুন প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। তবে বেশকিছু শর্ত পূরণ না করায় তাদের সে ব্যাপারে চিঠি দেওয়ার পর আর যোগাযোগ করেননি। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় অভিযানে বন্ধ করে দেওয়া অনেক হাসপাতাল-ক্লিনিক নানাভাবে ম্যানেজ করে পরে আবার চালু হয়েছে এবং আবার একই অনিয়ম করে চলেছে। তাই এবারের অভিযানে কতটা ফল পাওয়া যাবে তা নিয়ে তারাও সন্দিহান।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেসরকারি খাতে হাসপাতাল ক্লিনিকের সঠিক সংখ্যা তাদের কারও জানা নেই। তবে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক সমিতির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৪ হাজারের মতো তাদের সমিতির তালিকাভুক্ত রয়েছে। সমিতিতে যোগ দেয়নি এ ধরনের ব্যক্তি মালিকানাধীন ও বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র আরও থাকতে পারে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা চলমান সংকটের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকেই দায়ী করেছেন। তাদের ভাষ্য, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাবের কারণে এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। কেননা, বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের সেবা কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায় ধাপে ধাপে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর থেকে ছাড়পত্র নিয়ে চূড়ান্তভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিবন্ধন নিচ্ছে। এতে দীর্ঘ সময় কেটে যাচ্ছে। এ কারণে দেশে অবৈধভাবে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে। এ ছাড়া প্রক্রিয়াগত ত্রম্নটির কারণে নিম্নমানের সেবা দিয়েও মুনাফা করছেন অনেক প্রতিষ্ঠান। অনেক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রোগী হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদারকির অভাব, লোক দেখানো অভিযান, নিজস্ব জনবল সংকটের সুযোগ নিচ্ছেন এসব অসাধু ব্যবসায়ী।

তবে নিজেদের ব্যর্থতার দায় নিচ্ছে না স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সরকারি এই সংস্থাটি বলছে, তারা এসব অবৈধ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। একই সঙ্গে নিবন্ধন পেতে যারা আবেদন করেছেন, তাদের দ্রম্নত সময় নিবন্ধন দেওয়ার কাজ চলমান রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, দেশে নিবন্ধিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা ক্লিনিক রয়েছে ১০ হাজার ৯১৭টি। তবে বর্তমানে কতটি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে নিবন্ধনের অপেক্ষায় রয়েছে, তা জানাতে পারেনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক লেলিন চৌধুরী বলেন, নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মানসম্মত করার কাজটি কখনই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ধারাবাহিকভাবে করেনি। এর আগে অনেকবার উদ্যোগ নিলেও তারা ব্যর্থ হয়েছে। এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠানে মানহীন চিকিৎসার কারণে মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে।

এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেন, আমরা চাই এই খাতে শৃঙ্খলা ফিরে আসুক। এখন অবৈধ হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলো বন্ধ করা হচ্ছে। এরপর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদারকিটা নিয়মিত চলমান থাকতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যদি এই যাত্রায় ব্যর্থ হয়, তবে এটাই হবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বড় ব্যর্থতা। বেসরকারি খাতে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হলে নিরবচ্ছিন্ন তদারকি প্রয়োজন জানিয়ে তিনি বলেন, এটি বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ও সংঘবদ্ধ প্রভাব মোকাবিলা করতে হবে।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালেও এমন অভিযানে নেমেছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কিন্তু মালিকপক্ষের চাপে অভিযান আলোর মুখ দেখেনি। ফলে অবৈধ অনেক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। সর্বশেষ চলতি বছরের ২৬ মে অবৈধ হাসপাতাল-ক্লিনিকের বিরুদ্ধে আরও এক দফা অভিযান পরিচালনা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ সময় এক হাজার ৬০০ অবৈধ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে এতেও পরিস্থিতির তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। এসব প্রতিষ্ঠান পরে কিছু চালুও করা হয়েছে।