ঢাকা ০৯:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

অক্টোবরে ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনের সম্ভাবনা

বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের সিদ্ধান্তের আভাস মিলেছে বহু আগে। একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের সম্মেলনেরও গুঞ্জন চলছে। শোকের মাস আগস্ট শেষ হওয়ার পর পরই আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠনের নতুন সম্মেলন দৃশ্যমান হতে যাচ্ছে। আগামী অক্টোবরে ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলন হতে পারে। আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড থেকে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে। বিষয়টি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় একজন নেতা।

তিনি জানান, ছাত্রলীগের অভিভাবক আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে সম্মেলনের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। সম্মেলন প্রস্তুতির জন্য সম্ভাব্য তারিখ প্রস্তাব করে প্রধানমন্ত্রী বরাবর পাঠানোর জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ছাত্রলীগের নেতারা সম্ভাব্য তারিখ পাঠালে প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনের দিন চূড়ান্ত করবেন। এজন্য ছাত্রলীগের নেতারা মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সম্মেলনের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সমন্বয়ক, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য বলেন, ‘এখনো কিছু বলতে পারব না। শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভা রয়েছে। সেখানে আমি নেত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলব। তারপর সম্মেলনের বিষয়ে জানাতে পারব।’

সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রলীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয় ২০১৮ সালের ১১ ও ১২ মে। ২৯তম ওই জাতীয় সম্মেলনের প্রায় দুই মাসের মাথায় ৩১ জুলাই কমিটি ঘোষণা করা হয়। তাতে সভাপতি হন রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক হন গোলাম রাব্বানী। দুর্নীতি ও নৈতিক স্খলনের কারণে পরের বছরের অর্থাৎ ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর পদচ্যুত হন শোভন-রাব্বানী। তখন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব দেওয়া হয় যথাক্রমে সহ-সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে। পরের বছর ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি তারা পূর্ণ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান।

পূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সিনিয়র একাংশ বলে আসছেন সেই শোভন-রাব্বানীর পথেই হাঠছেন জয়-লেখক। বিলাসবহুল গাড়ি ও ফ্ল্যাট রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি, জেলা কমিটি, এমনকি উপজেলা কমিটি থেকেও বিপুল পরিমাণ অর্থ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব কমিটিতে আওয়ামীবিরোধী পরিবার, বিভিন্ন অপরাধমূলক মামলার আসামি এবং অছাত্ররা পদ, বিবাহিত, অছাত্র ও মাদক ব্যবসায়ী, ছাত্র শিবির-ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্তদের দিয়ে করা হচ্ছে কমিটি। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের পক্ষ থেকে ‘প্রেস রিলিজ’ কমিটি দিতে বারবার নিষেধ করা হলেও মানা হয়নি সেই নির্দেশনা। বিষয়টি গড়িয়েছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যানিবাহী কমিটির বৈঠক পর্যন্ত।

তবে এসব বিষয়ে প্রথম দিকে চুপ থাকলেও এখন মুখ খোলেন জয়-লেখকের অনুসারীরাও। কিন্তু বরাবরের মতোই এসব অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন সংগঠনের সভাপতি জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক। এই নিয়ে ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ৪ জন সমন্বয়কের কাছে বারবার অভিযোগ দিয়েছেন সংগঠনের ওই সিনিয়র নেতারা।

শুধু তাই নয়, কেন্দ্রীয় নেতাদের কাজের সুযোগ না দেয়া নিয়ে সংগঠনে চলছে অসন্তোষ। ছাত্রলীগের কমিটির জাতীয় সম্মেলনের দাবিতে সংঘবদ্ধ থাকছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে। এদের মধ্যে রয়েছেন সংগঠনটির সহ-সভাপতি শওকতুজ্জামান সৈকত, সোহান খান, ইয়াজ আল রিয়াদ, মাজহারুল ইসলাম শামীম, সৈয়দ মো. আরিফ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান আল ইমরানসহ তাদের অনুসারীরা।

জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ মো. আরিফ হোসেন বলেন, ছাত্রলীগের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটিতে কয়েকজন সুবিধাভোগী ছাড়া নেতাদের বিরাট অংশ সম্মেলনের পক্ষে। ছাত্রলীগের অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেই অতি দ্রুত ছাত্রলীগের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা হতে পারে বলে আমাদের আশা।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক করোনার সময় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সফলতা পেয়েছেন ঠিকই, তবে সাংগঠনিক কার্যক্রমে তারা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের ব্যর্থতার জন্য আমরা নানা সময় যুক্তি-পরামর্শ দিতাম কিন্তু তারা দুজনই কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র নেতাদের দেওয়া পরামর্শ আমলে নেননি। তাদের বিতর্কের শেষ নেই। আমাদের অভিভাবক সংগঠন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তাদেরকে (জয়-লেখক) সম্মেলনের তারিখ জমা দিতে বলেছেন, কিন্তু তারা পদের মায়া এতটাই আঁকড়ে ধরেছেন সে নির্দেশনাও অমান্য করেছে। এখন ছাত্রলীগের অভিভাবক নেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় তারিখ ঘোষণা করা হবে এবং বর্তমান কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক তাদের ভুল স্বীকার করে অতিদ্রুত সম্মেলন দেবে।’

আরেক সহ-সভাপতি সোহান খান বলেন, বর্তমান কমিটির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক সবদিক দিয়েই ব্যর্থ। তারা যেখানে যে কমিটি করেছেন তার মধ্যে ৯৯ শতাংশ কমিটি নিয়েই বিতর্ক আছে। অযোগ্যদের দিয়ে ছাত্রলীগ হয় না। এখানে সাংগঠনিক দক্ষতা এবং তিলে তিলে গড়ে ওঠার নেতৃত্ব লাগে। জয় এবং লেখক তা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের মেয়াদ শেষ, তাই সংগঠনে থাকার নৈতিক অধিকার তাদের নেই। তিনি বলেন, যেহেতু সামনে জাতীয় নির্বাচন, তাই অতি দ্রুত সম্মেলন প্রয়োজন। এ কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ এবং তারা (জয়-লেখক) এত অপরাধ করেছে যে তা বলে শেষ করা যাবে না। আমরা যোগ্য নেতার হাতে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব চাই। যারা আগামী নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিবে। আমাদের অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া সব নির্দেশনা আমরা পালন করব।

সম্মেলনের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, সম্মেলনের জন্য আমাদের সব প্রস্তুতি রয়েছে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তারিখ চূড়ান্ত করলেই সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা হবে।

এ সব বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘ছাত্রলীগের নেতারা অনানুষ্ঠানিকভাবে সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারিখ ঘোষণা দিলেই আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু হবে।’

Tag :
জনপ্রিয়

করোনা মোকাবিলার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্যখাতের মানোন্নয়ন করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

অক্টোবরে ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনের সম্ভাবনা

প্রকাশের সময় : ১১:১০:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের সিদ্ধান্তের আভাস মিলেছে বহু আগে। একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের সম্মেলনেরও গুঞ্জন চলছে। শোকের মাস আগস্ট শেষ হওয়ার পর পরই আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠনের নতুন সম্মেলন দৃশ্যমান হতে যাচ্ছে। আগামী অক্টোবরে ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলন হতে পারে। আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড থেকে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে। বিষয়টি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় একজন নেতা।

তিনি জানান, ছাত্রলীগের অভিভাবক আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে সম্মেলনের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। সম্মেলন প্রস্তুতির জন্য সম্ভাব্য তারিখ প্রস্তাব করে প্রধানমন্ত্রী বরাবর পাঠানোর জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ছাত্রলীগের নেতারা সম্ভাব্য তারিখ পাঠালে প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনের দিন চূড়ান্ত করবেন। এজন্য ছাত্রলীগের নেতারা মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সম্মেলনের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সমন্বয়ক, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য বলেন, ‘এখনো কিছু বলতে পারব না। শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভা রয়েছে। সেখানে আমি নেত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলব। তারপর সম্মেলনের বিষয়ে জানাতে পারব।’

সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রলীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয় ২০১৮ সালের ১১ ও ১২ মে। ২৯তম ওই জাতীয় সম্মেলনের প্রায় দুই মাসের মাথায় ৩১ জুলাই কমিটি ঘোষণা করা হয়। তাতে সভাপতি হন রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক হন গোলাম রাব্বানী। দুর্নীতি ও নৈতিক স্খলনের কারণে পরের বছরের অর্থাৎ ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর পদচ্যুত হন শোভন-রাব্বানী। তখন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব দেওয়া হয় যথাক্রমে সহ-সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে। পরের বছর ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি তারা পূর্ণ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান।

পূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সিনিয়র একাংশ বলে আসছেন সেই শোভন-রাব্বানীর পথেই হাঠছেন জয়-লেখক। বিলাসবহুল গাড়ি ও ফ্ল্যাট রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি, জেলা কমিটি, এমনকি উপজেলা কমিটি থেকেও বিপুল পরিমাণ অর্থ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব কমিটিতে আওয়ামীবিরোধী পরিবার, বিভিন্ন অপরাধমূলক মামলার আসামি এবং অছাত্ররা পদ, বিবাহিত, অছাত্র ও মাদক ব্যবসায়ী, ছাত্র শিবির-ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্তদের দিয়ে করা হচ্ছে কমিটি। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের পক্ষ থেকে ‘প্রেস রিলিজ’ কমিটি দিতে বারবার নিষেধ করা হলেও মানা হয়নি সেই নির্দেশনা। বিষয়টি গড়িয়েছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যানিবাহী কমিটির বৈঠক পর্যন্ত।

তবে এসব বিষয়ে প্রথম দিকে চুপ থাকলেও এখন মুখ খোলেন জয়-লেখকের অনুসারীরাও। কিন্তু বরাবরের মতোই এসব অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন সংগঠনের সভাপতি জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক। এই নিয়ে ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ৪ জন সমন্বয়কের কাছে বারবার অভিযোগ দিয়েছেন সংগঠনের ওই সিনিয়র নেতারা।

শুধু তাই নয়, কেন্দ্রীয় নেতাদের কাজের সুযোগ না দেয়া নিয়ে সংগঠনে চলছে অসন্তোষ। ছাত্রলীগের কমিটির জাতীয় সম্মেলনের দাবিতে সংঘবদ্ধ থাকছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে। এদের মধ্যে রয়েছেন সংগঠনটির সহ-সভাপতি শওকতুজ্জামান সৈকত, সোহান খান, ইয়াজ আল রিয়াদ, মাজহারুল ইসলাম শামীম, সৈয়দ মো. আরিফ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান আল ইমরানসহ তাদের অনুসারীরা।

জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ মো. আরিফ হোসেন বলেন, ছাত্রলীগের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটিতে কয়েকজন সুবিধাভোগী ছাড়া নেতাদের বিরাট অংশ সম্মেলনের পক্ষে। ছাত্রলীগের অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেই অতি দ্রুত ছাত্রলীগের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা হতে পারে বলে আমাদের আশা।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক করোনার সময় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সফলতা পেয়েছেন ঠিকই, তবে সাংগঠনিক কার্যক্রমে তারা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের ব্যর্থতার জন্য আমরা নানা সময় যুক্তি-পরামর্শ দিতাম কিন্তু তারা দুজনই কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র নেতাদের দেওয়া পরামর্শ আমলে নেননি। তাদের বিতর্কের শেষ নেই। আমাদের অভিভাবক সংগঠন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তাদেরকে (জয়-লেখক) সম্মেলনের তারিখ জমা দিতে বলেছেন, কিন্তু তারা পদের মায়া এতটাই আঁকড়ে ধরেছেন সে নির্দেশনাও অমান্য করেছে। এখন ছাত্রলীগের অভিভাবক নেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় তারিখ ঘোষণা করা হবে এবং বর্তমান কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক তাদের ভুল স্বীকার করে অতিদ্রুত সম্মেলন দেবে।’

আরেক সহ-সভাপতি সোহান খান বলেন, বর্তমান কমিটির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক সবদিক দিয়েই ব্যর্থ। তারা যেখানে যে কমিটি করেছেন তার মধ্যে ৯৯ শতাংশ কমিটি নিয়েই বিতর্ক আছে। অযোগ্যদের দিয়ে ছাত্রলীগ হয় না। এখানে সাংগঠনিক দক্ষতা এবং তিলে তিলে গড়ে ওঠার নেতৃত্ব লাগে। জয় এবং লেখক তা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের মেয়াদ শেষ, তাই সংগঠনে থাকার নৈতিক অধিকার তাদের নেই। তিনি বলেন, যেহেতু সামনে জাতীয় নির্বাচন, তাই অতি দ্রুত সম্মেলন প্রয়োজন। এ কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ এবং তারা (জয়-লেখক) এত অপরাধ করেছে যে তা বলে শেষ করা যাবে না। আমরা যোগ্য নেতার হাতে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব চাই। যারা আগামী নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিবে। আমাদের অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া সব নির্দেশনা আমরা পালন করব।

সম্মেলনের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, সম্মেলনের জন্য আমাদের সব প্রস্তুতি রয়েছে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তারিখ চূড়ান্ত করলেই সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা হবে।

এ সব বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘ছাত্রলীগের নেতারা অনানুষ্ঠানিকভাবে সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারিখ ঘোষণা দিলেই আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু হবে।’