ঢাকা ০৯:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ফিজিওথেরাপির ইতিহাস

প্রতি বছর প্রতি মাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনে বিভিন্ন দেশে কিছু দিবস পালিত হয়। ঐ নির্দিষ্ট দিনে অতীতের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণ করা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতেই এই সব দিবস পালিত হয়। পালনীয় সেই সব দিবসগুলোর মধ্যে একটি হলো বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস।

প্রতি বছর সারা বিশ্বে ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস পালন করা হয়। পৃথিবীর সব ফিজিওথেরাপিস্টদের এবং ফিজিওথেরাপি থেকে সুবিধাভোগী রোগীদের একসূত্রে বাঁধতে এবং সমাজের প্রতি ফিজিওথেরাপিস্টদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানকে জানাতেই সারা বিশ্ব জুড়ে এই দিনটি পালিত হয়।

১৯৫১ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ওয়ার্ল্ড কনফেডারেশন অফ ফিজিক্যাল থেরাপি বা ডব্লিউসিপিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ডব্লিউসিপিটির প্রতিষ্ঠা দিবসকে মান্যতা দিতে ১৯৯৬ সালে এই আন্তর্জাতিক সংস্থা বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস ঘোষণা করে। এই দিনটি সাধারণ মানুষের কাছে একটি বড় সুযোগ এনে দেয় সেইসব ফিজিওথেরাপিস্টদের মান্যতা দেওয়া এবং কৃতজ্ঞতা জানানোর যারা সারা বছর ধরে অক্লান্ত ভাবে তাদের রোগীদের সেবা করে যান।

এই দিনটিকে লক্ষ্য রেখে ওয়ার্ল্ড কনফেডারেশন অফ ফিজিক্যাল থেরাপি সব ফিজিওথেরাপিস্টদের এবং ফিজিও থেরাপির সঙ্গে যুক্ত সংস্থাদের নানাভাবে সাহায্য করে এবং এই চিকিৎসা পদ্ধতিটি যাতে আরো উন্নত ভাবে মানুষের কাছে আরো ভালোভাবে পৌঁছে যায় তার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করে। একজন ফিজিওথেরাপিস্টের কাজ হলো তার রোগীকে যন্ত্রণা থেকে মুক্ত করা এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা। একজন রোগীকে অস্ত্রোপচার থেকে রেহাই দিতে ফিজিওথেরাপি খুব সাহায্য করে।

এছাড়াও দীর্ঘকালীন যন্ত্রণা এবং দীর্ঘ চিকিৎসার থেকে মুক্তি পেতে ফিজিওথেরাপি সাহায্য করে। ওয়ার্ল্ড কনফেডারেশন ফর ফিজিক্যাল থেরাপি হলো বিশ্বের একমাত্র আন্তর্জাতিক সংস্থা যা শুধুমাত্র ফিজিওথেরাপিস্টদের জন্য তৈরি। এই সংস্থার সঙ্গে প্রায় ৪৫০০০০ ফিজিওথেরাপিস্ট যুক্ত রয়েছেন। এই সংস্থা সারা পৃথিবী জুড়ে বহু মানুষকে নিজের পেশা হিসেবে ফিজিওথেরাপিকে বেছে নিলে উৎসাহ প্রদান করে।

১৯৫১ সালে ১১টি জাতীয় সংস্থা মিলে এই প্রতিষ্ঠান তৈরি করে, এর মধ্যে ছিল কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, গ্রেট ব্রিটেন, নিউজিল্যান্ড, সাউথ আফ্রিকা, পশ্চিম জার্মানি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্যরা। দিনে দিনে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসের গুরুত্ব সারা বিশ্বজুড়ে অনেক বেড়ে গেছে। ফিজিওথেরাপিস্টরা তাদের রোগীর জন্য যে শ্রম ও ত্যাগ স্বীকার করেন তাকে সম্মান জানানোর জন্যই এই দিনটি বিপুলভাবে পালিত হয়।

যদিও প্রতি বছরই এই দিনটির জন্য কোনো না কোনো নতুন থিম গ্রহণ করা হয়, এই সংস্থার মূল থিম যা কিনা সবসময় অপরিবর্তিত থাকে তা হলো “স্বাস্থ্যের জন্য আন্দোলন ” । প্রতি বছরই এই সংস্থা কিছু গুরুত্বপূর্ণ বার্তা এবং সচেতনতা মূলক তথ্য সমাজকে উপহার দেয় , যেমন কীভাবে নিয়মিত ব্যায়াম মানসিক অবসাদ দূর করতে সাহায্য করে, মানসিক রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার সময় ফিজিওথেরাপিস্টদের ভূমিকা, শারীরিক সচলতা মানুষকে কি কি সাহায্য করতে পারে মানসিক অবসাদের সঙ্গে মোকাবিলা করতে, ফিজিওথেরাপিস্ট এর পরামর্শ মতো চলে রোগীরা কী কী সুফল পেয়েছেন, মানসিক সমস্যা থাকা রোগীদের কী ধরনের শারীরিক সমস্যা হতে পারে, ইত্যাদি।

এই সংস্থার মতে মানসিক সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ফিজিওথেরাপি বা নিয়মিত শরীরচর্চা খুবই সাহায্যকর, বহু মানুষের থেকে বিপুলভাবে উপকৃত হয়েছেন। মানসিক সমস্যার পাশাপাশি অনেক শারীরিক সমস্যার জন্য ফিজিওথেরাপি করাতে হয় যেমন কোনো ব্যথা পেলে বা শরীরের কোনো বিশেষ অঙ্গে কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে ফিজিওথেরাপিতে তা দ্রুত সেরে ওঠে। অনেক সময় কোনো বড় অপারেশনের পরও ফিজিওথেরাপি করে রোগীকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়।

শুধু যে প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্যই ফিজিওথেরাপি এমন নয়। ফিজিওথেরাপি শিশুদের জন্য অনেক কার্যকরী হতে পারে। যদি কোনো শিশুর শারীরিক অক্ষমতা থাকে ফিজিওথেরাপি এক্ষেত্রে কিছুটা সাহায্য করতে পারে। শিশুর সার্বিক বিকাশের ক্ষেত্র ফিজিওথেরাপি সাহায্যকারী হতে পারে। শুধু হাসপাতাল বা ক্লিনিকেই নয় অনেক জায়গায় স্কুলেও ফিজিওথেরাপির ব্যবস্থা থাকে। ফিজিওথেরাপিস্টদের চাহিদা সারা বিশ্ব জুড়েই খুব বেশি।

ফিজিওথেরাপিস্টরা মানুষকে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে সাহায্য করে। ফিজিওথেরাপি মানুষকে বার্ধক্য জনিত রোগ থেকেও মুক্তি পেতে সাহায্য করে। এছাড়াও আরো অসুখ – বিসুখে থেকে অনেকটাই রেহাই দেয়। একজন খেলোয়াড়ের জীবনেও শারীরিক সুস্থতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কোনো শারিরীক সমস্যা হলে তাকেও ফিজিওথেরাপি সাহায্য নিতে হয়। কোনো রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই ফিজিওথেরাপি খুব ভালো ওষুধের কাজ করে, তাই অনেক সময় চিকিৎসকরা ওষুধের বদলে ফিজিওথেরাপি করার পরামর্শ দেন।

অর্থোপেডিক্স , নিউরোলজি, গাইনোকোলজি, কার্ডিও পালমোনারি, নিউরো সার্জারির মত বহু ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি খুব সাহায্য করে থাকে। যদিও ভার এখনো ফিজিওথেরাপি ব্যবস্থা বহুল প্রচলিত নয় চিকিৎসা ব্যবস্থাকে ভারতীয়দের কাছে আরও সহ করার জন্য নানান সংস্থা চেষ্টা করে যাচ্ছে।

বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসে সারা পৃথিবী জুড়েই নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেমন আলোচনা সভা, মিছিল, তথ্যচিত্র প্রদর্শনী, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, নানা ওয়ার্কশপ ইত্যাদি। কানাডায় ফিজিওথেরাপির ছাত্র ছাত্রীরা বুথ তৈরি করে নিত্য পথযাত্রীদের থেকে তারা কীভাবে সুস্থ জীবন যাপন করেন তার তথ্য সংগ্রহ করে। প্রতিবছরই ফিজিওথেরাপির দ্বারা লাখ লাখ মানুষ উপকৃত হচ্ছে নানা অসুখের থেকে এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছে যেমন হৃদ রোগ, পক্ষাঘাত, ডায়াবেটিস, স্ট্রোক, শ্বাসকষ্ট জনিত রোগ, ইত্যাদি।

বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে যে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসে গৃহীত নানা কর্মকাণ্ড ও প্রকল্প সারা বিশ্বজুড়ে খুব আশাজনক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেক দেশেই ফিজিওথেরাপি সপ্তাহ কিংবা ফিজিওথেরাপি মাস উদযাপিত হয়। প্রতি বছরই ওয়ার্ল্ড কনফেডারেশন অফ ফিজিওথেরাপি কোনো না কোনো থিম বেছে নেয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘অস্টিওআর্থাইটিস চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপি সবচেয়ে কার্যকরী চিকিৎসা পদ্ধতি’। বিশ্বের ১২১টি দেশে একযোগে এই দিনে ফিজিওথেরাপি দিবস পালন করা হয়।

Tag :
জনপ্রিয়

বীরমুক্তিযোদ্ধা ভূপেশ কুমার দাস রায় আর নেই : বিভিন্ন মহলে শোক

ফিজিওথেরাপির ইতিহাস

প্রকাশের সময় : ০৯:২১:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

প্রতি বছর প্রতি মাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনে বিভিন্ন দেশে কিছু দিবস পালিত হয়। ঐ নির্দিষ্ট দিনে অতীতের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণ করা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতেই এই সব দিবস পালিত হয়। পালনীয় সেই সব দিবসগুলোর মধ্যে একটি হলো বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস।

প্রতি বছর সারা বিশ্বে ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস পালন করা হয়। পৃথিবীর সব ফিজিওথেরাপিস্টদের এবং ফিজিওথেরাপি থেকে সুবিধাভোগী রোগীদের একসূত্রে বাঁধতে এবং সমাজের প্রতি ফিজিওথেরাপিস্টদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানকে জানাতেই সারা বিশ্ব জুড়ে এই দিনটি পালিত হয়।

১৯৫১ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ওয়ার্ল্ড কনফেডারেশন অফ ফিজিক্যাল থেরাপি বা ডব্লিউসিপিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ডব্লিউসিপিটির প্রতিষ্ঠা দিবসকে মান্যতা দিতে ১৯৯৬ সালে এই আন্তর্জাতিক সংস্থা বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস ঘোষণা করে। এই দিনটি সাধারণ মানুষের কাছে একটি বড় সুযোগ এনে দেয় সেইসব ফিজিওথেরাপিস্টদের মান্যতা দেওয়া এবং কৃতজ্ঞতা জানানোর যারা সারা বছর ধরে অক্লান্ত ভাবে তাদের রোগীদের সেবা করে যান।

এই দিনটিকে লক্ষ্য রেখে ওয়ার্ল্ড কনফেডারেশন অফ ফিজিক্যাল থেরাপি সব ফিজিওথেরাপিস্টদের এবং ফিজিও থেরাপির সঙ্গে যুক্ত সংস্থাদের নানাভাবে সাহায্য করে এবং এই চিকিৎসা পদ্ধতিটি যাতে আরো উন্নত ভাবে মানুষের কাছে আরো ভালোভাবে পৌঁছে যায় তার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করে। একজন ফিজিওথেরাপিস্টের কাজ হলো তার রোগীকে যন্ত্রণা থেকে মুক্ত করা এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা। একজন রোগীকে অস্ত্রোপচার থেকে রেহাই দিতে ফিজিওথেরাপি খুব সাহায্য করে।

এছাড়াও দীর্ঘকালীন যন্ত্রণা এবং দীর্ঘ চিকিৎসার থেকে মুক্তি পেতে ফিজিওথেরাপি সাহায্য করে। ওয়ার্ল্ড কনফেডারেশন ফর ফিজিক্যাল থেরাপি হলো বিশ্বের একমাত্র আন্তর্জাতিক সংস্থা যা শুধুমাত্র ফিজিওথেরাপিস্টদের জন্য তৈরি। এই সংস্থার সঙ্গে প্রায় ৪৫০০০০ ফিজিওথেরাপিস্ট যুক্ত রয়েছেন। এই সংস্থা সারা পৃথিবী জুড়ে বহু মানুষকে নিজের পেশা হিসেবে ফিজিওথেরাপিকে বেছে নিলে উৎসাহ প্রদান করে।

১৯৫১ সালে ১১টি জাতীয় সংস্থা মিলে এই প্রতিষ্ঠান তৈরি করে, এর মধ্যে ছিল কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, গ্রেট ব্রিটেন, নিউজিল্যান্ড, সাউথ আফ্রিকা, পশ্চিম জার্মানি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্যরা। দিনে দিনে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসের গুরুত্ব সারা বিশ্বজুড়ে অনেক বেড়ে গেছে। ফিজিওথেরাপিস্টরা তাদের রোগীর জন্য যে শ্রম ও ত্যাগ স্বীকার করেন তাকে সম্মান জানানোর জন্যই এই দিনটি বিপুলভাবে পালিত হয়।

যদিও প্রতি বছরই এই দিনটির জন্য কোনো না কোনো নতুন থিম গ্রহণ করা হয়, এই সংস্থার মূল থিম যা কিনা সবসময় অপরিবর্তিত থাকে তা হলো “স্বাস্থ্যের জন্য আন্দোলন ” । প্রতি বছরই এই সংস্থা কিছু গুরুত্বপূর্ণ বার্তা এবং সচেতনতা মূলক তথ্য সমাজকে উপহার দেয় , যেমন কীভাবে নিয়মিত ব্যায়াম মানসিক অবসাদ দূর করতে সাহায্য করে, মানসিক রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার সময় ফিজিওথেরাপিস্টদের ভূমিকা, শারীরিক সচলতা মানুষকে কি কি সাহায্য করতে পারে মানসিক অবসাদের সঙ্গে মোকাবিলা করতে, ফিজিওথেরাপিস্ট এর পরামর্শ মতো চলে রোগীরা কী কী সুফল পেয়েছেন, মানসিক সমস্যা থাকা রোগীদের কী ধরনের শারীরিক সমস্যা হতে পারে, ইত্যাদি।

এই সংস্থার মতে মানসিক সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ফিজিওথেরাপি বা নিয়মিত শরীরচর্চা খুবই সাহায্যকর, বহু মানুষের থেকে বিপুলভাবে উপকৃত হয়েছেন। মানসিক সমস্যার পাশাপাশি অনেক শারীরিক সমস্যার জন্য ফিজিওথেরাপি করাতে হয় যেমন কোনো ব্যথা পেলে বা শরীরের কোনো বিশেষ অঙ্গে কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে ফিজিওথেরাপিতে তা দ্রুত সেরে ওঠে। অনেক সময় কোনো বড় অপারেশনের পরও ফিজিওথেরাপি করে রোগীকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়।

শুধু যে প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্যই ফিজিওথেরাপি এমন নয়। ফিজিওথেরাপি শিশুদের জন্য অনেক কার্যকরী হতে পারে। যদি কোনো শিশুর শারীরিক অক্ষমতা থাকে ফিজিওথেরাপি এক্ষেত্রে কিছুটা সাহায্য করতে পারে। শিশুর সার্বিক বিকাশের ক্ষেত্র ফিজিওথেরাপি সাহায্যকারী হতে পারে। শুধু হাসপাতাল বা ক্লিনিকেই নয় অনেক জায়গায় স্কুলেও ফিজিওথেরাপির ব্যবস্থা থাকে। ফিজিওথেরাপিস্টদের চাহিদা সারা বিশ্ব জুড়েই খুব বেশি।

ফিজিওথেরাপিস্টরা মানুষকে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে সাহায্য করে। ফিজিওথেরাপি মানুষকে বার্ধক্য জনিত রোগ থেকেও মুক্তি পেতে সাহায্য করে। এছাড়াও আরো অসুখ – বিসুখে থেকে অনেকটাই রেহাই দেয়। একজন খেলোয়াড়ের জীবনেও শারীরিক সুস্থতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কোনো শারিরীক সমস্যা হলে তাকেও ফিজিওথেরাপি সাহায্য নিতে হয়। কোনো রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই ফিজিওথেরাপি খুব ভালো ওষুধের কাজ করে, তাই অনেক সময় চিকিৎসকরা ওষুধের বদলে ফিজিওথেরাপি করার পরামর্শ দেন।

অর্থোপেডিক্স , নিউরোলজি, গাইনোকোলজি, কার্ডিও পালমোনারি, নিউরো সার্জারির মত বহু ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি খুব সাহায্য করে থাকে। যদিও ভার এখনো ফিজিওথেরাপি ব্যবস্থা বহুল প্রচলিত নয় চিকিৎসা ব্যবস্থাকে ভারতীয়দের কাছে আরও সহ করার জন্য নানান সংস্থা চেষ্টা করে যাচ্ছে।

বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসে সারা পৃথিবী জুড়েই নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেমন আলোচনা সভা, মিছিল, তথ্যচিত্র প্রদর্শনী, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, নানা ওয়ার্কশপ ইত্যাদি। কানাডায় ফিজিওথেরাপির ছাত্র ছাত্রীরা বুথ তৈরি করে নিত্য পথযাত্রীদের থেকে তারা কীভাবে সুস্থ জীবন যাপন করেন তার তথ্য সংগ্রহ করে। প্রতিবছরই ফিজিওথেরাপির দ্বারা লাখ লাখ মানুষ উপকৃত হচ্ছে নানা অসুখের থেকে এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছে যেমন হৃদ রোগ, পক্ষাঘাত, ডায়াবেটিস, স্ট্রোক, শ্বাসকষ্ট জনিত রোগ, ইত্যাদি।

বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে যে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসে গৃহীত নানা কর্মকাণ্ড ও প্রকল্প সারা বিশ্বজুড়ে খুব আশাজনক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেক দেশেই ফিজিওথেরাপি সপ্তাহ কিংবা ফিজিওথেরাপি মাস উদযাপিত হয়। প্রতি বছরই ওয়ার্ল্ড কনফেডারেশন অফ ফিজিওথেরাপি কোনো না কোনো থিম বেছে নেয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘অস্টিওআর্থাইটিস চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপি সবচেয়ে কার্যকরী চিকিৎসা পদ্ধতি’। বিশ্বের ১২১টি দেশে একযোগে এই দিনে ফিজিওথেরাপি দিবস পালন করা হয়।