ঢাকা ১০:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

এখনো কুষ্ঠরোগের ঝুঁকিতে ৯ জেলা

দেশে কুষ্ঠ রোগী কমলেও এখনো এ রোগের ঝুঁকিতে রয়েছে ৯ জেলা। অন্যান্য জেলার তুলনায় এসব জেলায় সর্বোচ্চ কুষ্ঠ রোগী শনাক্ত হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোর মধ্যে রংপুর বিভাগের ছয়টি জেলা রয়েছে। জেলাগুলো হলো- রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও পঞ্চগড়। এ ছাড়া মেহেরপুর, মৌলভীবাজার ও জয়পুরহাটেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কুষ্ঠ রোগী শনাক্ত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রমনায় অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশে সফররত জাপানের সাসাকাওয়া হেলথ ফাউন্ডেশনের (এসএইচএফ) তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দেশের পিপুলস ফেডারেশন অব লেপ্রসির সদস্যদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক মত বিনিময় সভায় এ তথ্য উঠে আসে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাকিল আহম্মদ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন। প্রবন্ধে বলা হয়, দেশে ২০২১ সালে মোট কুষ্ঠরোগী ছিলেন ২ হাজার ৮৭২ জন। তাদের মধ্যে রোগটির কারণে শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েছেন ১৬৫ জন। ২০২০ সালে মোট ২ হাজার ৭২৪ রোগীর মধ্যে প্রতিবন্ধী হয়েছেন ১৩৭ জন। ২০১৯ সালে মোট কুষ্ঠরোগী ছিলেন ৩ হাজার ৬৩৮ জন এবং প্রতিবন্ধী হয়েছেন ২৫২ রোগী। ২০১৮ সালে মোট রোগী ছিলেন ৩ হাজার ৭২৬ জন। তাদের মধ্যে প্রতিবন্ধী হয়েছেন ২৯৭ জন। ২০১৭ সালে ২ হাজার ৭৫৭ রোগীর মধ্যে ২৯৬ জন, ২০১৬ সালে ৩ হাজার ১ রোগীর মধ্যে ১৯২ জন এবং ১৯৯৮ সালে ১১ হাজার ৯১ রোগীর মধ্যে ১ হাজার ২৫২ জন প্রতিবন্ধী হয়েছেন।

মুল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় অধ্যাপক ডা. সাকিল আহম্মদ বলেন, কুষ্ঠরোগ প্রতিরোধে কোনো টিকা নেই। আক্রান্ত রোগীকে খাবার ওষুধ খাওয়ানো হয়। আগে এ ওষুধ দীর্ঘদিন খেতে হতো। এখন ছয় মাস খেলেই কুষ্ঠ রোগী ভালো হয়ে যাচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব ড. মো. আনোয়ার হোসাইন হাওলাদার বলেন, বাংলাদেশকে ২০৩০ সালের মধ্যে কুষ্ঠ মুক্ত করতে সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখার ব্যবস্থা করা হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়, বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে কুষ্ঠ রোগ নির্মূলে জোরালো কর্মসূচি চলমান রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ঘোষিত কুষ্ঠ রোগীর সংখ্যা প্রতি ১০ হাজারে ১ জনে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা ১৯৯৮ সালেই অর্জিত হয়েছে। এমনকি কুষ্ঠরোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতেও সক্ষম হয়েছে সরকার। বর্তমানে বিশ্বে কুষ্ঠ ভারাক্রান্ত দেশের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ।

মত বিনিময় সভায় আলোচকরা জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে কুষ্ঠরোগীদের তেমন কোনো লক্ষণ থাকে না বলে তাদের খুঁজে খুঁজে বের করতে হয়, যা অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং। অথচ প্রাথমিকভাবে রোগটি নির্ণয় করা গেলে রোগী দ্রুত সুস্থ হন। এমনকি দীর্ঘ মেয়াদী কোনো জটিলতায় ভোগার আশঙ্কাও কম থাকে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নিলুফার নাজনীন, জাপানের সাসাকাওয়া হেলথ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. তাকাহিরো নানরী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার টিবি লেপ্রোসীর প্রতিনিধি ডা. অনুপমা হাজারীকা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. সামিউল ইসলাম, লাইন ডিরেক্টর (টিবি/লেপ্রোসী) ডা. খুরশীদ আলম প্রমুখ।

Tag :
জনপ্রিয়

দেশে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স ভয়াবহ আকার ধারণ করতে চলেছে: স্বাস্থ্য মহাপরিচালক।

এখনো কুষ্ঠরোগের ঝুঁকিতে ৯ জেলা

প্রকাশের সময় : ০৯:১৫:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

দেশে কুষ্ঠ রোগী কমলেও এখনো এ রোগের ঝুঁকিতে রয়েছে ৯ জেলা। অন্যান্য জেলার তুলনায় এসব জেলায় সর্বোচ্চ কুষ্ঠ রোগী শনাক্ত হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোর মধ্যে রংপুর বিভাগের ছয়টি জেলা রয়েছে। জেলাগুলো হলো- রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও পঞ্চগড়। এ ছাড়া মেহেরপুর, মৌলভীবাজার ও জয়পুরহাটেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কুষ্ঠ রোগী শনাক্ত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রমনায় অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশে সফররত জাপানের সাসাকাওয়া হেলথ ফাউন্ডেশনের (এসএইচএফ) তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দেশের পিপুলস ফেডারেশন অব লেপ্রসির সদস্যদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক মত বিনিময় সভায় এ তথ্য উঠে আসে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাকিল আহম্মদ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন। প্রবন্ধে বলা হয়, দেশে ২০২১ সালে মোট কুষ্ঠরোগী ছিলেন ২ হাজার ৮৭২ জন। তাদের মধ্যে রোগটির কারণে শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েছেন ১৬৫ জন। ২০২০ সালে মোট ২ হাজার ৭২৪ রোগীর মধ্যে প্রতিবন্ধী হয়েছেন ১৩৭ জন। ২০১৯ সালে মোট কুষ্ঠরোগী ছিলেন ৩ হাজার ৬৩৮ জন এবং প্রতিবন্ধী হয়েছেন ২৫২ রোগী। ২০১৮ সালে মোট রোগী ছিলেন ৩ হাজার ৭২৬ জন। তাদের মধ্যে প্রতিবন্ধী হয়েছেন ২৯৭ জন। ২০১৭ সালে ২ হাজার ৭৫৭ রোগীর মধ্যে ২৯৬ জন, ২০১৬ সালে ৩ হাজার ১ রোগীর মধ্যে ১৯২ জন এবং ১৯৯৮ সালে ১১ হাজার ৯১ রোগীর মধ্যে ১ হাজার ২৫২ জন প্রতিবন্ধী হয়েছেন।

মুল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় অধ্যাপক ডা. সাকিল আহম্মদ বলেন, কুষ্ঠরোগ প্রতিরোধে কোনো টিকা নেই। আক্রান্ত রোগীকে খাবার ওষুধ খাওয়ানো হয়। আগে এ ওষুধ দীর্ঘদিন খেতে হতো। এখন ছয় মাস খেলেই কুষ্ঠ রোগী ভালো হয়ে যাচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব ড. মো. আনোয়ার হোসাইন হাওলাদার বলেন, বাংলাদেশকে ২০৩০ সালের মধ্যে কুষ্ঠ মুক্ত করতে সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখার ব্যবস্থা করা হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়, বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে কুষ্ঠ রোগ নির্মূলে জোরালো কর্মসূচি চলমান রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ঘোষিত কুষ্ঠ রোগীর সংখ্যা প্রতি ১০ হাজারে ১ জনে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা ১৯৯৮ সালেই অর্জিত হয়েছে। এমনকি কুষ্ঠরোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতেও সক্ষম হয়েছে সরকার। বর্তমানে বিশ্বে কুষ্ঠ ভারাক্রান্ত দেশের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ।

মত বিনিময় সভায় আলোচকরা জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে কুষ্ঠরোগীদের তেমন কোনো লক্ষণ থাকে না বলে তাদের খুঁজে খুঁজে বের করতে হয়, যা অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং। অথচ প্রাথমিকভাবে রোগটি নির্ণয় করা গেলে রোগী দ্রুত সুস্থ হন। এমনকি দীর্ঘ মেয়াদী কোনো জটিলতায় ভোগার আশঙ্কাও কম থাকে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নিলুফার নাজনীন, জাপানের সাসাকাওয়া হেলথ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. তাকাহিরো নানরী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার টিবি লেপ্রোসীর প্রতিনিধি ডা. অনুপমা হাজারীকা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. সামিউল ইসলাম, লাইন ডিরেক্টর (টিবি/লেপ্রোসী) ডা. খুরশীদ আলম প্রমুখ।