ঢাকা ০৮:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সামঞ্জস্য বিধান করা হোক

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস বা বিসিএসের বিভিন্ন ক্যাডার সার্ভিসের মধ্যে নানা রকম অসামঞ্জস্য রয়েছে। এ নিয়ে আন্ত ক্যাডার সার্ভিস অসন্তুষ্টি যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে সুযোগ-সুবিধার অসামঞ্জস্য নিয়ে বঞ্চনার অনুভূতি। এ নিয়ে অতীতে অনেক ক্ষোভ-অসন্তোষও দেখা গেছে। গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, সম্প্রতি ক্যাডার সার্ভিস কম্পোজিশন এবং ক্যাডার রুলস হালনাগাদ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কিন্তু সেটিও হচ্ছে খুবই ধীরগতিতে। ফলে বিভিন্ন ক্যাডার সার্ভিসের মধ্যে নিয়োগ, পদোন্নতি ও সুযোগ-সুবিধার তারতম্য সৃষ্টি হচ্ছে।

প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, ১৯৮০ সালে প্রণীত ক্যাডার সার্ভিসের গঠন কাঠামো ও নীতিমালা গত ৪২ বছরেও হালনাগাদ করা হয়নি। ফলে দেখা যায়, সেই গঠন-কাঠামো অনুযায়ী যেখানে যে পরিমাণ পদ বা লোকবল থাকা প্রয়োজন সেখানে বাস্তব প্রয়োজনে অনেক বেশি পদ সৃষ্টি করা হয়ে গেছে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে আছে অ্যাডমিন বা প্রশাসন ও পুলিশ সার্ভিস। পুলিশ সার্ভিসে নিয়মবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত আইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদও সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রশাসন ক্যাডারেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদ সৃষ্টি হয়েছে। এসব কারণে সম্প্রতি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (কৃষি) কম্পোজিশন অ্যান্ড ক্যাডার রুলস-১৯৮০ সংশোধন করে কৃষি ক্যাডারের পদ হালনাগাদ করা হয়েছে। এটি কার্যকর করা হয়েছে ২০০৯ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে। হালনাগাদের পর বিসিএস কৃষি ক্যাডারে পদ হয়েছে দুই হাজার ১৯৮টি, যা আগে ছিল এক হাজারের মতো। এবার বিসিএস (পুলিশ) কম্পোজিশন অ্যান্ড ক্যাডার রুলস-১৯৮০ সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কম্পোজিশন অনুযায়ী পুলিশ ক্যাডারে ৭১২টি পদ থাকলেও বর্তমানে ক্রিয়াশীল পদের সংখ্যা তিন হাজার ৮৭টি। প্রশাসন ক্যাডারে কর্মরত আছেন পাঁচ হাজারের বেশি কর্মকর্তা। তাঁদের একটি বড় অংশ পদোন্নতি পাচ্ছে সুপারনিউমারারি (সংখ্যাতিরিক্ত পদ) পদের নামে। অন্যদিকে কিছু ক্যাডারে নিয়মের বেড়াজাল ডিঙিয়ে পদ সৃষ্টি করা যায়নি বললেই চলে। আবার কিছু ক্যাডার সার্ভিসে জনবল কাঠামো হ্রাসও পেয়েছে। যেমন—বিসিএস বাণিজ্য ক্যাডারে ১৯৮০ সালে পদ ছিল ১১৬টি, সেখানে এখন ক্যাডার পদ আছে মাত্র ২১টি।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন ক্যাডার সার্ভিসের মধ্যে সমন্বয় সৃষ্টির তাগিদ দিচ্ছেন। তাঁরা মনে করেন, শুধু পদের সংখ্যা নয়, সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রেও সমন্বয় তৈরি করা প্রয়োজন। অ্যাডমিন ক্যাডারের পঞ্চম গ্রেডের (উপসচিব) একজন কর্মকর্তা ব্যক্তিগত গাড়ি ক্রয়ের জন্য ৩০ লাখ টাকার সুদবিহীন ঋণ নিতে পারেন। গাড়ি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তিনি প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা করে পাবেন। অন্য সব ক্যাডারে সেই সুযোগ নেই। আমরা মনে করি, রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে নিয়োগ, পদোন্নতি ও সুযোগ-সুবিধার সামঞ্জস্য করা অত্যন্ত জরুরি।

Tag :

মধ্যনগরে দুর্গোৎসব উপলক্ষে ৩৩টি পূজামন্ডপে নগদ অর্থ প্রদান করেন, এমপি রতন

সামঞ্জস্য বিধান করা হোক

প্রকাশের সময় : ০৮:৫৭:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস বা বিসিএসের বিভিন্ন ক্যাডার সার্ভিসের মধ্যে নানা রকম অসামঞ্জস্য রয়েছে। এ নিয়ে আন্ত ক্যাডার সার্ভিস অসন্তুষ্টি যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে সুযোগ-সুবিধার অসামঞ্জস্য নিয়ে বঞ্চনার অনুভূতি। এ নিয়ে অতীতে অনেক ক্ষোভ-অসন্তোষও দেখা গেছে। গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, সম্প্রতি ক্যাডার সার্ভিস কম্পোজিশন এবং ক্যাডার রুলস হালনাগাদ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কিন্তু সেটিও হচ্ছে খুবই ধীরগতিতে। ফলে বিভিন্ন ক্যাডার সার্ভিসের মধ্যে নিয়োগ, পদোন্নতি ও সুযোগ-সুবিধার তারতম্য সৃষ্টি হচ্ছে।

প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, ১৯৮০ সালে প্রণীত ক্যাডার সার্ভিসের গঠন কাঠামো ও নীতিমালা গত ৪২ বছরেও হালনাগাদ করা হয়নি। ফলে দেখা যায়, সেই গঠন-কাঠামো অনুযায়ী যেখানে যে পরিমাণ পদ বা লোকবল থাকা প্রয়োজন সেখানে বাস্তব প্রয়োজনে অনেক বেশি পদ সৃষ্টি করা হয়ে গেছে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে আছে অ্যাডমিন বা প্রশাসন ও পুলিশ সার্ভিস। পুলিশ সার্ভিসে নিয়মবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত আইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদও সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রশাসন ক্যাডারেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদ সৃষ্টি হয়েছে। এসব কারণে সম্প্রতি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (কৃষি) কম্পোজিশন অ্যান্ড ক্যাডার রুলস-১৯৮০ সংশোধন করে কৃষি ক্যাডারের পদ হালনাগাদ করা হয়েছে। এটি কার্যকর করা হয়েছে ২০০৯ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে। হালনাগাদের পর বিসিএস কৃষি ক্যাডারে পদ হয়েছে দুই হাজার ১৯৮টি, যা আগে ছিল এক হাজারের মতো। এবার বিসিএস (পুলিশ) কম্পোজিশন অ্যান্ড ক্যাডার রুলস-১৯৮০ সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কম্পোজিশন অনুযায়ী পুলিশ ক্যাডারে ৭১২টি পদ থাকলেও বর্তমানে ক্রিয়াশীল পদের সংখ্যা তিন হাজার ৮৭টি। প্রশাসন ক্যাডারে কর্মরত আছেন পাঁচ হাজারের বেশি কর্মকর্তা। তাঁদের একটি বড় অংশ পদোন্নতি পাচ্ছে সুপারনিউমারারি (সংখ্যাতিরিক্ত পদ) পদের নামে। অন্যদিকে কিছু ক্যাডারে নিয়মের বেড়াজাল ডিঙিয়ে পদ সৃষ্টি করা যায়নি বললেই চলে। আবার কিছু ক্যাডার সার্ভিসে জনবল কাঠামো হ্রাসও পেয়েছে। যেমন—বিসিএস বাণিজ্য ক্যাডারে ১৯৮০ সালে পদ ছিল ১১৬টি, সেখানে এখন ক্যাডার পদ আছে মাত্র ২১টি।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন ক্যাডার সার্ভিসের মধ্যে সমন্বয় সৃষ্টির তাগিদ দিচ্ছেন। তাঁরা মনে করেন, শুধু পদের সংখ্যা নয়, সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রেও সমন্বয় তৈরি করা প্রয়োজন। অ্যাডমিন ক্যাডারের পঞ্চম গ্রেডের (উপসচিব) একজন কর্মকর্তা ব্যক্তিগত গাড়ি ক্রয়ের জন্য ৩০ লাখ টাকার সুদবিহীন ঋণ নিতে পারেন। গাড়ি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তিনি প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা করে পাবেন। অন্য সব ক্যাডারে সেই সুযোগ নেই। আমরা মনে করি, রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে নিয়োগ, পদোন্নতি ও সুযোগ-সুবিধার সামঞ্জস্য করা অত্যন্ত জরুরি।