ঢাকা ১১:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ভাঙনে বিলীন আরও বসতভিটা জমি

পানি বাড়ায় যমুনায় ফের ভাঙন শুরু হয়েছে। এক রাতে ভাঙনে প্রায় ৪০টি বসতভিটা একেবারে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সবকিছু হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো। তাদের অভিযোগ, কষ্টে থাকলেও জনপ্রতিনিধিরা তাদের খোঁজখবর নিচ্ছেন না এবং কেউ পাশে দাঁড়াননি।

জানা যায়, সিরাজগঞ্জ জেলায় প্রায় ৮১ কিলোমিটার যমুনা নদীর তীর রয়েছে। এর মধ্যে ৫৫ কিলোমিটার সিসি ব্লক দিয়ে স্থায়ী বাঁধ দেওয়া হয়েছে। ২৬ কিলোমিটার অরক্ষিত এলাকার মধ্যে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার জালালপুর ও কৈজুরী ইউনিয়নে প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকায় কয়েক বছর ধরে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৮-১০টি গ্রামের হাজার হাজার বসতভিটা, ফসলি জমি, মসজিদ-মাদরাসা ও তাঁত কারখানা বিলীন হয়ে গেছে। বাস্তুহারা ও নিঃস্ব হয়ে পড়ছে ভাঙন কবলিত হাজার হাজার মানুষ। চলতি বছরে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে দুটি ইউনিয়নের তিনটি পয়েন্টে ভাঙনে অন্তত শতাধিক বসতভিটা একেবারে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়াও দুই দিন আগে আকস্মিক ভাঙনে জালালপুরে প্রায় ৪০টি বসতবাড়ি সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে এসব পরিবার। ভাঙন অব্যাহত থাকায় আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে এসব মানুষের। তাদের অভিযোগ দুর্ভোগে থাকলেও কোনো জনপ্রতিনিধি তাদের পাশে দাঁড়ায়নি।
ভাঙনকবলিত জালালপুর এলাকার বাসিন্দা শাহআলম ও ছোলেমান জানান, দুই দিন আগে আকস্মিক ভাঙনে প্রায় ৪০টি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ঘর থেকে কোনো কিছুই বের করা সম্ভব হয়নি। সবকিছু হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করলেও কোনো জনপ্রতিনিধি একবার খোঁজ নিতেও আসেনি। ভাঙনকবলিত আবুল কালাম ও ঠাণ্ডু মিয়া জানান, ৮০ ডেসিমেল ফসলি জমি মুহূর্তের মধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। নদীর কাছে এখন বসতভিটাটুকু রয়েছে। এটুকু ভেঙে গেলে একেবারে রাস্তার ফকির হয়ে যাব। এখন নির্ঘুম রাত কাটছে আমাদের। একই এলাকার গফুর সেখ ও শহিদুল ইসলাম জানান, ভাঙনরোধে যদি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয় তবে কয়েকটি গ্রামের শত শত বসতভিটা বিলীন হয়ে যাবে। এ অবস্থায় জরুরিভিত্তিতে ব্যবস্থাগ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভাঙনকবলিতরা। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ওই এলাকার ৬ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙনরোধে প্রকল্প ইতোমধ্যে পাস হয়েছে। জরুরিভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলানো হয়েছিল। কিন্তু তিনটি পয়েন্টে প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকা জিওব্যাগসহ বিলীন হয়ে গেছে। এরপরও যেখানে ভাঙনের তীব্রতা রয়েছে সেখানে নতুন করে জিওব্যাগ ফেলানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া পানি কমে গেলে জালালপুর এলাকায় নদী ড্রেজিং করে গতিপথ পরিবর্তন, একটি ক্রসবার এবং সিসি ব্লক দিয়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হবে।

Tag :

আবদুল্লা আল মামুন নোয়াখালীর শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক  

ভাঙনে বিলীন আরও বসতভিটা জমি

প্রকাশের সময় : ১১:১০:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

পানি বাড়ায় যমুনায় ফের ভাঙন শুরু হয়েছে। এক রাতে ভাঙনে প্রায় ৪০টি বসতভিটা একেবারে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সবকিছু হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো। তাদের অভিযোগ, কষ্টে থাকলেও জনপ্রতিনিধিরা তাদের খোঁজখবর নিচ্ছেন না এবং কেউ পাশে দাঁড়াননি।

জানা যায়, সিরাজগঞ্জ জেলায় প্রায় ৮১ কিলোমিটার যমুনা নদীর তীর রয়েছে। এর মধ্যে ৫৫ কিলোমিটার সিসি ব্লক দিয়ে স্থায়ী বাঁধ দেওয়া হয়েছে। ২৬ কিলোমিটার অরক্ষিত এলাকার মধ্যে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার জালালপুর ও কৈজুরী ইউনিয়নে প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকায় কয়েক বছর ধরে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৮-১০টি গ্রামের হাজার হাজার বসতভিটা, ফসলি জমি, মসজিদ-মাদরাসা ও তাঁত কারখানা বিলীন হয়ে গেছে। বাস্তুহারা ও নিঃস্ব হয়ে পড়ছে ভাঙন কবলিত হাজার হাজার মানুষ। চলতি বছরে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে দুটি ইউনিয়নের তিনটি পয়েন্টে ভাঙনে অন্তত শতাধিক বসতভিটা একেবারে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়াও দুই দিন আগে আকস্মিক ভাঙনে জালালপুরে প্রায় ৪০টি বসতবাড়ি সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে এসব পরিবার। ভাঙন অব্যাহত থাকায় আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে এসব মানুষের। তাদের অভিযোগ দুর্ভোগে থাকলেও কোনো জনপ্রতিনিধি তাদের পাশে দাঁড়ায়নি।
ভাঙনকবলিত জালালপুর এলাকার বাসিন্দা শাহআলম ও ছোলেমান জানান, দুই দিন আগে আকস্মিক ভাঙনে প্রায় ৪০টি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ঘর থেকে কোনো কিছুই বের করা সম্ভব হয়নি। সবকিছু হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করলেও কোনো জনপ্রতিনিধি একবার খোঁজ নিতেও আসেনি। ভাঙনকবলিত আবুল কালাম ও ঠাণ্ডু মিয়া জানান, ৮০ ডেসিমেল ফসলি জমি মুহূর্তের মধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। নদীর কাছে এখন বসতভিটাটুকু রয়েছে। এটুকু ভেঙে গেলে একেবারে রাস্তার ফকির হয়ে যাব। এখন নির্ঘুম রাত কাটছে আমাদের। একই এলাকার গফুর সেখ ও শহিদুল ইসলাম জানান, ভাঙনরোধে যদি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয় তবে কয়েকটি গ্রামের শত শত বসতভিটা বিলীন হয়ে যাবে। এ অবস্থায় জরুরিভিত্তিতে ব্যবস্থাগ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভাঙনকবলিতরা। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ওই এলাকার ৬ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙনরোধে প্রকল্প ইতোমধ্যে পাস হয়েছে। জরুরিভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলানো হয়েছিল। কিন্তু তিনটি পয়েন্টে প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকা জিওব্যাগসহ বিলীন হয়ে গেছে। এরপরও যেখানে ভাঙনের তীব্রতা রয়েছে সেখানে নতুন করে জিওব্যাগ ফেলানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া পানি কমে গেলে জালালপুর এলাকায় নদী ড্রেজিং করে গতিপথ পরিবর্তন, একটি ক্রসবার এবং সিসি ব্লক দিয়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হবে।