ঢাকা ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

একটি সেতুর জন্য দুর্ভোগে ইছামতি পাড়ের ৪০ গ্রাম

মানিকগঞ্জের শিবালয়ের আমডালা বাজার সংলগ্ন ইছামতি নদীর ওপর একটি সেতুর অভাবে অন্তত ৩৫-৪০টি গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শত বছর ধরে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে এই নদীর ওপর স্থাপিত বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হচ্ছেন।

জনসাধারণসহ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা বিশাল এই বাঁশের সাঁকো পারাপারের সময় প্রতিনিয়তই ছোট-খাটো দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এ অঞ্চলের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে দারুণ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কৃষকদেরকে। ফলে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।

এলাকাবাসী জানান, মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আমডালা বাজারের পশ্চিমপাশ দিয়ে বয়ে গেছে ইছামতি নদী। এই নদীর ওপর একটি সেতু না থাকায় দুই পাড়ের অন্তত ৩৫-৪০টি গ্রামের মানুষের ভোগান্তির যেন শেষ নেই। এই বাঁশের সাকো দিয়ে দুবলাডাঙ্গা, চরেরডাঙ্গা, নতুন ফরিদপুর, অন্বয়পুর, দাসকান্দি, রুপসা, নালী, হিমগঞ্জ, আনুলিয়া, ঋভাদি, চকপাড়া, আড়পাড়া, পাইপাড়া, মাধবদিয়া, উত্তর কাসাদুর, চরআমডালা, টেপড়া, দশচিড়া, উলাইল, কোনাবাড়ি, রঘুনাথপুরসহ অন্তত ৩৫-৪০টি গ্রামের মাানুষ নিয়মিত যাতায়াত করে থাকেন।

বাজারের সাথেই রয়েছে আমডালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাদরাসা, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ভূমি অফিস। কিন্তু নদীতে সেতু না থাকায় সব সেবা থেকেই বঞ্চিত হচ্ছে এলাকাবাসী। স্থানীয়দের নিজস্ব খরচে এখানে নির্মাণ করা হয়েছে একটি বাঁশের সাঁকো। আর এই বিশাল সাঁকো ঝুঁকি নিয়ে পার হতে গিয়ে প্রায়দিনই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন স্কুলের শিক্ষার্থীসহ বয়স্ক নারী-পুরুষ।

সাঁকো পার হয়ে হাসপাতালে যেতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় দুই পাড়ের অসুস্থ্য রোগীদের। এ অঞ্চলের উৎপাদিত কৃষিপণ্যসহ অন্যান্য দ্রব্যাদি বাজারজাতকরণে বিকল্প রাস্তায় অতিরিক্ত ৬-৭ কি. মি. পথ ঘুরে ভোগান্তি পোহাতে হয় স্থানীয়দের। তাই জনস্বার্থে এখানে একটি সেতু নির্মাণের দাবি অত্র এলাকার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সকল শ্রেণিপেশার মানুষের।

স্থানীয়রা ক্ষোভের সাথে জানান, স্বাধীনতার পর বিএনপি ও আওয়ামী লীগ যে দলই ক্ষমতায় এসেছে এমপিরা এখানে একটি সেতু নির্মাণ করে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে শুধু ভোটই নিয়ে গেছেন, কিন্তু নির্বাচন শেষ হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে সেই প্রতিশ্রুতিও ভুলে গেছেন। আর কোনো খোঁজখবর নেন নাই। তারা শুধু আশ্বাসই পেয়ে যাচ্ছেন কিন্তু সেতু আর পাচ্ছেন না।

তাই এ অঞ্চলটি এখনো উন্নয়নের ছোঁয়া বঞ্চিত হয়ে অন্ধকারেই রয়ে গেছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। প্রতি বছরই বিভিন্ন এলাকার বাড়ি বাড়ি গিয়ে লোকজনের কাছ থেকে ধান, চাল ও টাকা সংগ্রহ করে সেই টাকা দিয়ে এই বাঁশের সাকো তৈরি করা হয়। তাই এখানে ব্রিজ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ভোগের শেষ নেই।

মানিকগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, কোনো স্থানে সেতু নির্মাণ করতে হলে ওই স্থানের দুই পাশে এলজিইডির তালিকাভুক্তি রাস্তা থাকতে হবে। ইছামতি নদীর ওই স্থানের দুইপাশে এলজিইডির তালিকাভুক্তি কোনো সড়ক নেই। তাই এতোদিন সেতু নির্মাণ হয়নি।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি আমি এখন জানলাম। অতি দ্রুত নদীর দুইপাড়ের রাস্তার এলজিইডির তালিকাভুক্তির জন্য আগে আবেদন করব। রাস্তাটি তালিকাভুক্তি হয়ে গেলে ওই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হবে। প্রস্তাবনা পাশ হয়ে গেলেই এরপর সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

Tag :
জনপ্রিয়

হোসেনপুর বাজার সনাতন ধর্মাবলম্বী ব্যাবসায়িকদের উদ্যোগে বস্ত্র বিতরণ

একটি সেতুর জন্য দুর্ভোগে ইছামতি পাড়ের ৪০ গ্রাম

প্রকাশের সময় : ০৯:২১:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

মানিকগঞ্জের শিবালয়ের আমডালা বাজার সংলগ্ন ইছামতি নদীর ওপর একটি সেতুর অভাবে অন্তত ৩৫-৪০টি গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শত বছর ধরে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে এই নদীর ওপর স্থাপিত বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হচ্ছেন।

জনসাধারণসহ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা বিশাল এই বাঁশের সাঁকো পারাপারের সময় প্রতিনিয়তই ছোট-খাটো দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এ অঞ্চলের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে দারুণ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কৃষকদেরকে। ফলে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।

এলাকাবাসী জানান, মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আমডালা বাজারের পশ্চিমপাশ দিয়ে বয়ে গেছে ইছামতি নদী। এই নদীর ওপর একটি সেতু না থাকায় দুই পাড়ের অন্তত ৩৫-৪০টি গ্রামের মানুষের ভোগান্তির যেন শেষ নেই। এই বাঁশের সাকো দিয়ে দুবলাডাঙ্গা, চরেরডাঙ্গা, নতুন ফরিদপুর, অন্বয়পুর, দাসকান্দি, রুপসা, নালী, হিমগঞ্জ, আনুলিয়া, ঋভাদি, চকপাড়া, আড়পাড়া, পাইপাড়া, মাধবদিয়া, উত্তর কাসাদুর, চরআমডালা, টেপড়া, দশচিড়া, উলাইল, কোনাবাড়ি, রঘুনাথপুরসহ অন্তত ৩৫-৪০টি গ্রামের মাানুষ নিয়মিত যাতায়াত করে থাকেন।

বাজারের সাথেই রয়েছে আমডালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাদরাসা, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ভূমি অফিস। কিন্তু নদীতে সেতু না থাকায় সব সেবা থেকেই বঞ্চিত হচ্ছে এলাকাবাসী। স্থানীয়দের নিজস্ব খরচে এখানে নির্মাণ করা হয়েছে একটি বাঁশের সাঁকো। আর এই বিশাল সাঁকো ঝুঁকি নিয়ে পার হতে গিয়ে প্রায়দিনই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন স্কুলের শিক্ষার্থীসহ বয়স্ক নারী-পুরুষ।

সাঁকো পার হয়ে হাসপাতালে যেতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় দুই পাড়ের অসুস্থ্য রোগীদের। এ অঞ্চলের উৎপাদিত কৃষিপণ্যসহ অন্যান্য দ্রব্যাদি বাজারজাতকরণে বিকল্প রাস্তায় অতিরিক্ত ৬-৭ কি. মি. পথ ঘুরে ভোগান্তি পোহাতে হয় স্থানীয়দের। তাই জনস্বার্থে এখানে একটি সেতু নির্মাণের দাবি অত্র এলাকার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সকল শ্রেণিপেশার মানুষের।

স্থানীয়রা ক্ষোভের সাথে জানান, স্বাধীনতার পর বিএনপি ও আওয়ামী লীগ যে দলই ক্ষমতায় এসেছে এমপিরা এখানে একটি সেতু নির্মাণ করে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে শুধু ভোটই নিয়ে গেছেন, কিন্তু নির্বাচন শেষ হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে সেই প্রতিশ্রুতিও ভুলে গেছেন। আর কোনো খোঁজখবর নেন নাই। তারা শুধু আশ্বাসই পেয়ে যাচ্ছেন কিন্তু সেতু আর পাচ্ছেন না।

তাই এ অঞ্চলটি এখনো উন্নয়নের ছোঁয়া বঞ্চিত হয়ে অন্ধকারেই রয়ে গেছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। প্রতি বছরই বিভিন্ন এলাকার বাড়ি বাড়ি গিয়ে লোকজনের কাছ থেকে ধান, চাল ও টাকা সংগ্রহ করে সেই টাকা দিয়ে এই বাঁশের সাকো তৈরি করা হয়। তাই এখানে ব্রিজ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ভোগের শেষ নেই।

মানিকগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, কোনো স্থানে সেতু নির্মাণ করতে হলে ওই স্থানের দুই পাশে এলজিইডির তালিকাভুক্তি রাস্তা থাকতে হবে। ইছামতি নদীর ওই স্থানের দুইপাশে এলজিইডির তালিকাভুক্তি কোনো সড়ক নেই। তাই এতোদিন সেতু নির্মাণ হয়নি।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি আমি এখন জানলাম। অতি দ্রুত নদীর দুইপাড়ের রাস্তার এলজিইডির তালিকাভুক্তির জন্য আগে আবেদন করব। রাস্তাটি তালিকাভুক্তি হয়ে গেলে ওই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হবে। প্রস্তাবনা পাশ হয়ে গেলেই এরপর সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে।