ঢাকা ০৯:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

প্রচ্ছদ ফিচার তারার মেলা এখনো অপ্রতিরোধ্য শাকিব

শাকিব খানের জনপ্রিয়তা যে এতটুকু কমেনি, তার প্রমাণ পাওয়া গেল কয়েক দিন আগে। নয় মাস যুক্তরাষ্ট্র থেকে সম্প্রতি দেশে ফেরেন এই অভিনেতা। তাকে বরণ করতে বিমানবন্দরে যে হুলস্থুল পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল, তা নজিরবিহীন। এর আগে চলচ্চিত্রের কোনো নায়কের ক্যারিয়ারে ভক্তদের এমন মাতামাতি খুব একটা দেখা যায়নি। অনেকে তো আগের দিন ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেছেন প্রিয় নায়ককে একনজর দেখার জন্য। কেউ কেউ আগের দিন রাত থেকেই অপেক্ষা করেছেন বিমানবন্দরে। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শাকিবকে বরণ করতে ভক্তদের এমন কান্ড এর আগে আর কারো বেলায় হয়নি। জানা যায়, খুলনা, যশোর, ভোলা, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর, সিলেট, হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, দিনাজপুর, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা ফুল ও ব্যানার নিয়ে শাকিবকে বরণ করে নেয়। বিমানবন্দরে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তারাও অবাক হন এই দৃশ্যে। তারা জানান, রাজনৈতিক নেতাদের আগমনে কর্মীরা বিমানবন্দরে বরণ করতে দেখেছেন। কিন্তু কোনো নায়ককে এভাবে বরণ করতে আগে কখনই দেখেননি। শাকিব খান নিজেও তখন উচ্ছ্বসিত হয়ে জানান, তিনি কল্পনাও করেননি এমনটা ঘটবে। ভক্তদের এই পাগলামির কাছে তিনি চির ঋণী!

বলছিলেন, ‘এক জীবনে এর চেয়ে পাওয়া আর কিছু হতে পারে না। যারা শুধু ভালোবাসার টানে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এসেছে। এরা ভালোবাসে বলেই শত বাধাবিপত্তি পার করে এগিয়ে যাচ্ছি। সব সময় ফ্যানরা আমাকে সাপোর্ট করেছে। তারা না থাকলে আমার অস্তিত্ব থাকত না।’ সেই দিন খবরে আলোচনার শীর্ষে থাকলেও ভুল ইংরেজি শব্দ ব্যবহারের ফলে সমালোচনায় পড়েন তিনি।

দীর্ঘ ৯ মাস অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও সরব ছিলেন সিনেপর্দায়। এ সময়ে বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে তার ‘গলুই’ ও ‘বিদ্রোহী’। চলচ্চিত্র দুটি দর্শক গ্রহণ করলে ‘গলুই’ ব্যাপক সাড়া ফেলে। ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া এই চলচ্চিত্র দুটির মধ্যে ‘গলুই’ ঈদুল আজহায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাগৃহেও মুক্তি পেয়েছে। নিউইয়র্কে থাকা অবস্থায় ‘লিডার; আমিই বাংলাদেশ’ চলচ্চিত্রের ডাবিংও সম্পন্ন করেন তিনি।

দেশে ফিরে সম্প্রতি শুটিংয়ে ফিরেছেন শাকিব। গত রোববার একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের শুটিংয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান তিনি। পরদিন সোমবার বিকেলে শুটিংয়ে ফেরার খবর জানিয়ে শাকিব তার ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি প্রকাশ করেন। ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, নতুন লক্ষ্য নিয়ে নতুন করে আবার শুরু। ফিরে এলাম লাইট ক্যামেরা অ্যাকশনে। ছবিটি সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লুফে নেয় তার ভক্তরা। তারা বলছেন, শাকিব খান যে নতুন কিছু করার লক্ষ্যে আবার ফিরছেন ছবিটি দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। শাকিব খান জানান, অনেকদিন পর শুটিংয়ে ফিরে ভীষণ ভালো লাগছে। এতদিন এই পরিবেশটা মিস করছিলেন তিনি। শাকিব খান বার্জার পেইন্টসের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করছেন। তাই এই পণ্যের বিজ্ঞাপনে তিনি কাজ করছেন। এতে শাকিবের সহশিল্পী চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া। শুটিংয়ে ফিরলেও এখনো সিনেমার জন্য ক্যামেরার সামনে দাঁড়াননি শাকিব খান। তবে শিগগিরই পরিকল্পনানুযায়ী মাঠে নামবেন তিনি। বলেন, ‘দেশে ও বিদেশে মিলে অনেকগুলো সিনেমার সিরিয়াল তৈরি হয়েছে। কোনটা কীভাবে শুরু করব সবাই ধীরে ধীরে জানতে পারবেন। তবে যা হবে আগে কখনই হয়নি। শিগগির ‘মায়া’ সিনেমার শুটিং শুরু হবে। আগামীতে তপু খানের ‘লিডার’ সিনেমা আসবে। হয়তো সে আমার সঙ্গে সামনে আরও কাজ করবে।’

শাকিব খানের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এসকে ফিল্মস থেকে নির্মিত হবে ‘মায়া’ নামের নতুন একটি চলচ্চিত্র। এটি ২০২১-২২ অর্থবছরে ৬৫ লাখ টাকা সরকারি অনুদান পেয়েছে। ইতোমধ্যে নায়িকাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই সিনেমায় শাকিব খানের বিপরীতে দেখা যাবে হালের সেনসেশন পুজা চেরীকে। এর আগে ‘গলুই’ চলচ্চিত্রে দেখা গেছে তাদের। নতুন সিনেমায় সহশিল্পী নিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা মেধাবী আগামীতে তাদের সঙ্গে কাজ করব। কারণ আমি সব সময় মেধার মূল্যায়ন করি। জুনিয়র-সিনিয়র যেই হোক মেধাবীর দাম আমার কাছে সবার আগে। সামনে বেছে বেছে তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ ও দেশের বাইরে দুই জায়গাতেই কাজ করতে চাই।’ শুধু পুজার মতো জুনিয়র অভিনেত্রীই নন, দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অনেকের সঙ্গে পর্দা ভাগাভাগি করেছেন শাকিব। আলোচিত-সমালোচিত, সিনিয়র-জুনিয়র অনেক নায়িকার বিপরীতে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন। তার প্রথম চলচ্চিত্র আফতাব খান টুলুর ‘সবাইতো সুখী হতে চায়’তে অভিনয় করেছিলেন কারিশমা শেখের বিপরীতে। তবে চলচ্চিত্রটির কাজ শেষ হওয়ার আগেই মুক্তি পায় ‘অনন্ত ভালোবাসা’। এটিই শাকিব খানের মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম চলচ্চিত্র। এতে তার নায়িকা ছিলেন চিত্রনায়িকা মৌসুমীর ছোটবোন ইরিন জামান। ‘অনন্ত ভালোবাসা’ সাফল্য না পেলেও নজর কাড়েন শাকিব। পরের বছর ২০০০ সালে মুক্তি পায় শাকিব খান অভিনীত ‘গোলাম’, ‘আজকের দাপট’, ‘দু’জন দু’জনার’, ‘বিষে ভরা নাগিন’, ‘হীরা চুনি পান্না’ ইত্যাদি। তাকে এ চলচ্চিত্রগুলোর মাধ্যমে দেখা যায় শাবনূর, পূর্ণিমা, পপি ও মুনমুনের বিপরীতে। ‘অনন্ত ভালোবাসা’ প্রসঙ্গে শাকিবের ভাষ্য, ‘সিনেমাটি আমাকে পরিচিতি এনে দিয়েছিল। সে সময়ের গুণী নির্মাতারা সিনেমাটি হলে গিয়ে দেখেছেন। আমার প্রশংসা করেছেন। এরপর অনেক গুণী নির্মাতার সঙ্গে কাজের সুযোগ হয়।’ ক্যারিয়ারে দুই দশক পার করলেও শেষ দশকের পুরোটাই সাফল্যের সঙ্গে চলেছেন তিনি। অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে রয়েছেন এখনো। তাকে নির্ভর করেই চলেছে বর্তমান চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্র নির্মাতারা এই নায়কের শিডিউলের অপেক্ষায় থাকেন। বছরে যে কয়টি চলচ্চিত্র নির্মাণ হয় তার আশি শতাংশেরই নায়ক হিসেবে থাকছেন শাকিব খান। বাকি বিশ শতাংশ চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন অন্য নায়করা। বছরে দু/একটি ব্যবসা সফল চলচ্চিত্র থাকলে তা শাকিব খানেরই। তিনি না চাইলেও পরিচালক-প্রযোজকরা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে তাকে ছাড়া বিকল্প চিন্তা করতে সাহস করেন না। তার চলচ্চিত্র মুক্তি পেলে প্রেক্ষাগৃহে অপেক্ষাকৃত দর্শক সমাগম বাড়ে। চলচ্চিত্রে তার গুরুত্ব এতটাই বেড়েছে যে, দেশের বিগ বাজেটের চলচ্চিত্রের পাশাপাশি যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্রে কাজ করেন। কলকাতার স্থানীয় চলচ্চিত্র থেকেও তার ডাক পড়ে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় পরিপূর্ণ তার ক্যারিয়ার।

তবে এই সাফল্যের জন্য শাকিবকে করতে হয়েছে কঠোর পরিশ্রম। সেরা হওয়ার দৌড়ে তিনি ধীরে ধীরে উঠে এসেছেন সবার ওপরে। এ বিষয়ে শাকিবের মন্তব্য, ‘আমি কাজপাগল ছেলে ছিলাম। যে চরিত্র এসেছে লুফে নিয়েছি। অনেক সিনেমাতে আমি ছিলাম দ্বিতীয় নায়ক। সেসব সিনেমাতেও কাজ করেছি। আমি জানতাম, পর্দায় মুখ দেখাতে পারলেই নজর কাড়তে পারব।’ অভিনয় অধ্যায়ে সমৃদ্ধ থাকলেও ব্যক্তিগত জীবনে এখনো অপরিপূর্ণ শাকিব খান। চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসকে গোপনে বিয়ে করলেও টেকেনি সেই দাম্পত্য জীবন। অবশ্য গোপন সংসারে জন্ম হয় আব্রাম খান জয় নামে এক পুত্র সন্তানের। সে এখন মা অপুর সঙ্গেই আছে। অপরিপূর্ণ জীবনকে পরিপূর্ণতা দিতে চান নতুন বিয়ে ও ঘর বাঁধার মাধ্যমে। তাইতো যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে জানালেন সেই সংবাদ। বলেন, ‘আর গোপনে কিছুই করব না। বিয়ে করলে ধুমধাম আয়োজনে সবাইকে জানিয়ে করব। পরিবার চাচ্ছে আমি সেটেল হই। আগেরবার নিজের ইচ্ছেতে করেছিলাম। এবার যা কিছু হবে পরিবারের পছন্দে হবে। হয়তো শিগগির হবে। আমার পরিবার চাইছে, সুন্দর গোছানো কিছু হোক। সবাই একসঙ্গে আনন্দে জীবনটা পার করে দেই।’

Tag :
জনপ্রিয়

পুলিশের বিরুদ্ধে গাঁজা দিয়ে কলেজ ছাত্রকে ফাঁসানোর চেষ্টা

প্রচ্ছদ ফিচার তারার মেলা এখনো অপ্রতিরোধ্য শাকিব

প্রকাশের সময় : ০৭:২৫:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

শাকিব খানের জনপ্রিয়তা যে এতটুকু কমেনি, তার প্রমাণ পাওয়া গেল কয়েক দিন আগে। নয় মাস যুক্তরাষ্ট্র থেকে সম্প্রতি দেশে ফেরেন এই অভিনেতা। তাকে বরণ করতে বিমানবন্দরে যে হুলস্থুল পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল, তা নজিরবিহীন। এর আগে চলচ্চিত্রের কোনো নায়কের ক্যারিয়ারে ভক্তদের এমন মাতামাতি খুব একটা দেখা যায়নি। অনেকে তো আগের দিন ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেছেন প্রিয় নায়ককে একনজর দেখার জন্য। কেউ কেউ আগের দিন রাত থেকেই অপেক্ষা করেছেন বিমানবন্দরে। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শাকিবকে বরণ করতে ভক্তদের এমন কান্ড এর আগে আর কারো বেলায় হয়নি। জানা যায়, খুলনা, যশোর, ভোলা, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর, সিলেট, হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, দিনাজপুর, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা ফুল ও ব্যানার নিয়ে শাকিবকে বরণ করে নেয়। বিমানবন্দরে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তারাও অবাক হন এই দৃশ্যে। তারা জানান, রাজনৈতিক নেতাদের আগমনে কর্মীরা বিমানবন্দরে বরণ করতে দেখেছেন। কিন্তু কোনো নায়ককে এভাবে বরণ করতে আগে কখনই দেখেননি। শাকিব খান নিজেও তখন উচ্ছ্বসিত হয়ে জানান, তিনি কল্পনাও করেননি এমনটা ঘটবে। ভক্তদের এই পাগলামির কাছে তিনি চির ঋণী!

বলছিলেন, ‘এক জীবনে এর চেয়ে পাওয়া আর কিছু হতে পারে না। যারা শুধু ভালোবাসার টানে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এসেছে। এরা ভালোবাসে বলেই শত বাধাবিপত্তি পার করে এগিয়ে যাচ্ছি। সব সময় ফ্যানরা আমাকে সাপোর্ট করেছে। তারা না থাকলে আমার অস্তিত্ব থাকত না।’ সেই দিন খবরে আলোচনার শীর্ষে থাকলেও ভুল ইংরেজি শব্দ ব্যবহারের ফলে সমালোচনায় পড়েন তিনি।

দীর্ঘ ৯ মাস অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও সরব ছিলেন সিনেপর্দায়। এ সময়ে বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে তার ‘গলুই’ ও ‘বিদ্রোহী’। চলচ্চিত্র দুটি দর্শক গ্রহণ করলে ‘গলুই’ ব্যাপক সাড়া ফেলে। ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া এই চলচ্চিত্র দুটির মধ্যে ‘গলুই’ ঈদুল আজহায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাগৃহেও মুক্তি পেয়েছে। নিউইয়র্কে থাকা অবস্থায় ‘লিডার; আমিই বাংলাদেশ’ চলচ্চিত্রের ডাবিংও সম্পন্ন করেন তিনি।

দেশে ফিরে সম্প্রতি শুটিংয়ে ফিরেছেন শাকিব। গত রোববার একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের শুটিংয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান তিনি। পরদিন সোমবার বিকেলে শুটিংয়ে ফেরার খবর জানিয়ে শাকিব তার ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি প্রকাশ করেন। ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, নতুন লক্ষ্য নিয়ে নতুন করে আবার শুরু। ফিরে এলাম লাইট ক্যামেরা অ্যাকশনে। ছবিটি সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লুফে নেয় তার ভক্তরা। তারা বলছেন, শাকিব খান যে নতুন কিছু করার লক্ষ্যে আবার ফিরছেন ছবিটি দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। শাকিব খান জানান, অনেকদিন পর শুটিংয়ে ফিরে ভীষণ ভালো লাগছে। এতদিন এই পরিবেশটা মিস করছিলেন তিনি। শাকিব খান বার্জার পেইন্টসের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করছেন। তাই এই পণ্যের বিজ্ঞাপনে তিনি কাজ করছেন। এতে শাকিবের সহশিল্পী চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া। শুটিংয়ে ফিরলেও এখনো সিনেমার জন্য ক্যামেরার সামনে দাঁড়াননি শাকিব খান। তবে শিগগিরই পরিকল্পনানুযায়ী মাঠে নামবেন তিনি। বলেন, ‘দেশে ও বিদেশে মিলে অনেকগুলো সিনেমার সিরিয়াল তৈরি হয়েছে। কোনটা কীভাবে শুরু করব সবাই ধীরে ধীরে জানতে পারবেন। তবে যা হবে আগে কখনই হয়নি। শিগগির ‘মায়া’ সিনেমার শুটিং শুরু হবে। আগামীতে তপু খানের ‘লিডার’ সিনেমা আসবে। হয়তো সে আমার সঙ্গে সামনে আরও কাজ করবে।’

শাকিব খানের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এসকে ফিল্মস থেকে নির্মিত হবে ‘মায়া’ নামের নতুন একটি চলচ্চিত্র। এটি ২০২১-২২ অর্থবছরে ৬৫ লাখ টাকা সরকারি অনুদান পেয়েছে। ইতোমধ্যে নায়িকাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই সিনেমায় শাকিব খানের বিপরীতে দেখা যাবে হালের সেনসেশন পুজা চেরীকে। এর আগে ‘গলুই’ চলচ্চিত্রে দেখা গেছে তাদের। নতুন সিনেমায় সহশিল্পী নিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা মেধাবী আগামীতে তাদের সঙ্গে কাজ করব। কারণ আমি সব সময় মেধার মূল্যায়ন করি। জুনিয়র-সিনিয়র যেই হোক মেধাবীর দাম আমার কাছে সবার আগে। সামনে বেছে বেছে তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ ও দেশের বাইরে দুই জায়গাতেই কাজ করতে চাই।’ শুধু পুজার মতো জুনিয়র অভিনেত্রীই নন, দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অনেকের সঙ্গে পর্দা ভাগাভাগি করেছেন শাকিব। আলোচিত-সমালোচিত, সিনিয়র-জুনিয়র অনেক নায়িকার বিপরীতে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন। তার প্রথম চলচ্চিত্র আফতাব খান টুলুর ‘সবাইতো সুখী হতে চায়’তে অভিনয় করেছিলেন কারিশমা শেখের বিপরীতে। তবে চলচ্চিত্রটির কাজ শেষ হওয়ার আগেই মুক্তি পায় ‘অনন্ত ভালোবাসা’। এটিই শাকিব খানের মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম চলচ্চিত্র। এতে তার নায়িকা ছিলেন চিত্রনায়িকা মৌসুমীর ছোটবোন ইরিন জামান। ‘অনন্ত ভালোবাসা’ সাফল্য না পেলেও নজর কাড়েন শাকিব। পরের বছর ২০০০ সালে মুক্তি পায় শাকিব খান অভিনীত ‘গোলাম’, ‘আজকের দাপট’, ‘দু’জন দু’জনার’, ‘বিষে ভরা নাগিন’, ‘হীরা চুনি পান্না’ ইত্যাদি। তাকে এ চলচ্চিত্রগুলোর মাধ্যমে দেখা যায় শাবনূর, পূর্ণিমা, পপি ও মুনমুনের বিপরীতে। ‘অনন্ত ভালোবাসা’ প্রসঙ্গে শাকিবের ভাষ্য, ‘সিনেমাটি আমাকে পরিচিতি এনে দিয়েছিল। সে সময়ের গুণী নির্মাতারা সিনেমাটি হলে গিয়ে দেখেছেন। আমার প্রশংসা করেছেন। এরপর অনেক গুণী নির্মাতার সঙ্গে কাজের সুযোগ হয়।’ ক্যারিয়ারে দুই দশক পার করলেও শেষ দশকের পুরোটাই সাফল্যের সঙ্গে চলেছেন তিনি। অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে রয়েছেন এখনো। তাকে নির্ভর করেই চলেছে বর্তমান চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্র নির্মাতারা এই নায়কের শিডিউলের অপেক্ষায় থাকেন। বছরে যে কয়টি চলচ্চিত্র নির্মাণ হয় তার আশি শতাংশেরই নায়ক হিসেবে থাকছেন শাকিব খান। বাকি বিশ শতাংশ চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন অন্য নায়করা। বছরে দু/একটি ব্যবসা সফল চলচ্চিত্র থাকলে তা শাকিব খানেরই। তিনি না চাইলেও পরিচালক-প্রযোজকরা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে তাকে ছাড়া বিকল্প চিন্তা করতে সাহস করেন না। তার চলচ্চিত্র মুক্তি পেলে প্রেক্ষাগৃহে অপেক্ষাকৃত দর্শক সমাগম বাড়ে। চলচ্চিত্রে তার গুরুত্ব এতটাই বেড়েছে যে, দেশের বিগ বাজেটের চলচ্চিত্রের পাশাপাশি যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্রে কাজ করেন। কলকাতার স্থানীয় চলচ্চিত্র থেকেও তার ডাক পড়ে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় পরিপূর্ণ তার ক্যারিয়ার।

তবে এই সাফল্যের জন্য শাকিবকে করতে হয়েছে কঠোর পরিশ্রম। সেরা হওয়ার দৌড়ে তিনি ধীরে ধীরে উঠে এসেছেন সবার ওপরে। এ বিষয়ে শাকিবের মন্তব্য, ‘আমি কাজপাগল ছেলে ছিলাম। যে চরিত্র এসেছে লুফে নিয়েছি। অনেক সিনেমাতে আমি ছিলাম দ্বিতীয় নায়ক। সেসব সিনেমাতেও কাজ করেছি। আমি জানতাম, পর্দায় মুখ দেখাতে পারলেই নজর কাড়তে পারব।’ অভিনয় অধ্যায়ে সমৃদ্ধ থাকলেও ব্যক্তিগত জীবনে এখনো অপরিপূর্ণ শাকিব খান। চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসকে গোপনে বিয়ে করলেও টেকেনি সেই দাম্পত্য জীবন। অবশ্য গোপন সংসারে জন্ম হয় আব্রাম খান জয় নামে এক পুত্র সন্তানের। সে এখন মা অপুর সঙ্গেই আছে। অপরিপূর্ণ জীবনকে পরিপূর্ণতা দিতে চান নতুন বিয়ে ও ঘর বাঁধার মাধ্যমে। তাইতো যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে জানালেন সেই সংবাদ। বলেন, ‘আর গোপনে কিছুই করব না। বিয়ে করলে ধুমধাম আয়োজনে সবাইকে জানিয়ে করব। পরিবার চাচ্ছে আমি সেটেল হই। আগেরবার নিজের ইচ্ছেতে করেছিলাম। এবার যা কিছু হবে পরিবারের পছন্দে হবে। হয়তো শিগগির হবে। আমার পরিবার চাইছে, সুন্দর গোছানো কিছু হোক। সবাই একসঙ্গে আনন্দে জীবনটা পার করে দেই।’