ঢাকা ০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

আন্দোলন আরও বেগবান করার সিদ্ধান্ত বিএনপির

রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হত্যাকান্ড, জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এবং খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দীকে মুক্তির দাবিতে আন্দোলন আরও বেগবান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। আগামী ১০ সেপ্টম্বরের পর থেকে আন্দোলনের গতি বাড়তে থাকবে। প্রতিটি বিভাগে সমাবেশ করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক গতি ফিরিয়ে আনা হবে। সবশেষ ঢাকায় মহাসমাবেশ করে চূড়ান্ত আন্দোলনে নামার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির।

আন্দোলনের বিষয়ে পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে সোমবার দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভা হয়। ওই সভার বিষয়বস্তু বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরা হয়।

সভায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থতার জন্য সরকারের পদত্যাগ দাবি করে বলা হয়, পুলিশ বেশির ভাগ জায়গায় আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সহযোগিতা করে এবং পরবর্তীকালে কয়েক হাজার নেতা-কর্মীর মিথ্যা মামলা দিয়ে বাড়ি বাড়ি তলস্নাশি করে যাচ্ছে। সব হত্যাকান্ড, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এবং খালেদা জিয়াসহ রাজবন্দীদের মুক্তির দাবিতে আন্দোলন আরও বেগবান করা হবে। এ সময়ে পুলিশের গুলিতে নিহত, নির্যাতন ও হেফাজতে মৃতু্যর বিষয়ে প্রতিটি ঘটনায় মামলা দায়ের এর জন্য কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ে খবমধষ ঈবষষ গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় বাংলাদেশ সীমান্তে মিয়ানমার বাহিনীর গোলা নিক্ষেপের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি বিএনপি নেতারা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রচার চালাতে জনগণের ১৩২ কোটি টাকার অর্থ অপচয়ের এলইডি প্রকল্প গ্রহণের সমালোচনা করেন।

সভায় ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা করার জন্য দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডক্টর আব্দুল মঈন খানকে আহ্বায়ক, বিএনপি নেতা ইসমাইল জাবিউলস্নাহ, জহির উদ্দিন স্বপন, এবিএম মোশারফ সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সভায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ডক্টর খন্দকার মোশাররফ হোসেন. ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ডক্টর আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।

আন্দোলনের রূপরেখা তৈরির অংশ হিসেবে সম্প্রতি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে নেতারা এমন নানা প্রস্তাব দেন।

সূত্রমতে, সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি এড়িয়ে জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি অব্যাহত রাখার জন্য বৈঠকে নেতারা জোর দিয়েছেন। একইসঙ্গে সরকারের তরফ থেকে সব ধরনের উসকানিমূলক আচরণ কৌশলে মোকাবিলা করার কথা বলা হয়।

বিএনপির সিনিয়র এক নেতা জানান, আন্দোলন সফল করতে ধীরে ধীরে আগানোর কোনো বিকল্প নেই বলে অধিকাংশ নেতা মনে করেন। তবে ধারাবাহিক কর্মসূচির কোনো বিকল্প নেই। এছাড়া বিএনপির কর্মসূচিতে বিনা উসকানিতে হামলার ঘটনাগুলো কূটনৈতিক পর্যায়েও তুলে ধরার বিষয়ে হাইকমান্ডকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পরবর্তী আন্দোলনের বিষয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সরকার জনগণের সমর্থিত নয়। তাদেরকে ক্ষমতা থেকে এখন জনদাবি। এজন্য রাজপথ দখলে নিতে হবে। ধাপে ধাপে সরকার পতনের চূড়ান্ত আন্দোলন হবে।

Tag :
জনপ্রিয়

রসিক নির্বাচন ; আ’লীগের মেয়র প্রার্থী ডালিয়ার গণসংযোগ অনুষ্ঠিত

আন্দোলন আরও বেগবান করার সিদ্ধান্ত বিএনপির

প্রকাশের সময় : ০৭:২০:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হত্যাকান্ড, জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এবং খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দীকে মুক্তির দাবিতে আন্দোলন আরও বেগবান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। আগামী ১০ সেপ্টম্বরের পর থেকে আন্দোলনের গতি বাড়তে থাকবে। প্রতিটি বিভাগে সমাবেশ করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক গতি ফিরিয়ে আনা হবে। সবশেষ ঢাকায় মহাসমাবেশ করে চূড়ান্ত আন্দোলনে নামার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির।

আন্দোলনের বিষয়ে পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে সোমবার দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভা হয়। ওই সভার বিষয়বস্তু বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরা হয়।

সভায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থতার জন্য সরকারের পদত্যাগ দাবি করে বলা হয়, পুলিশ বেশির ভাগ জায়গায় আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সহযোগিতা করে এবং পরবর্তীকালে কয়েক হাজার নেতা-কর্মীর মিথ্যা মামলা দিয়ে বাড়ি বাড়ি তলস্নাশি করে যাচ্ছে। সব হত্যাকান্ড, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এবং খালেদা জিয়াসহ রাজবন্দীদের মুক্তির দাবিতে আন্দোলন আরও বেগবান করা হবে। এ সময়ে পুলিশের গুলিতে নিহত, নির্যাতন ও হেফাজতে মৃতু্যর বিষয়ে প্রতিটি ঘটনায় মামলা দায়ের এর জন্য কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ে খবমধষ ঈবষষ গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় বাংলাদেশ সীমান্তে মিয়ানমার বাহিনীর গোলা নিক্ষেপের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি বিএনপি নেতারা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রচার চালাতে জনগণের ১৩২ কোটি টাকার অর্থ অপচয়ের এলইডি প্রকল্প গ্রহণের সমালোচনা করেন।

সভায় ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা করার জন্য দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডক্টর আব্দুল মঈন খানকে আহ্বায়ক, বিএনপি নেতা ইসমাইল জাবিউলস্নাহ, জহির উদ্দিন স্বপন, এবিএম মোশারফ সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সভায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ডক্টর খন্দকার মোশাররফ হোসেন. ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ডক্টর আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।

আন্দোলনের রূপরেখা তৈরির অংশ হিসেবে সম্প্রতি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে নেতারা এমন নানা প্রস্তাব দেন।

সূত্রমতে, সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি এড়িয়ে জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি অব্যাহত রাখার জন্য বৈঠকে নেতারা জোর দিয়েছেন। একইসঙ্গে সরকারের তরফ থেকে সব ধরনের উসকানিমূলক আচরণ কৌশলে মোকাবিলা করার কথা বলা হয়।

বিএনপির সিনিয়র এক নেতা জানান, আন্দোলন সফল করতে ধীরে ধীরে আগানোর কোনো বিকল্প নেই বলে অধিকাংশ নেতা মনে করেন। তবে ধারাবাহিক কর্মসূচির কোনো বিকল্প নেই। এছাড়া বিএনপির কর্মসূচিতে বিনা উসকানিতে হামলার ঘটনাগুলো কূটনৈতিক পর্যায়েও তুলে ধরার বিষয়ে হাইকমান্ডকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পরবর্তী আন্দোলনের বিষয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সরকার জনগণের সমর্থিত নয়। তাদেরকে ক্ষমতা থেকে এখন জনদাবি। এজন্য রাজপথ দখলে নিতে হবে। ধাপে ধাপে সরকার পতনের চূড়ান্ত আন্দোলন হবে।