ঢাকা ০১:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ঘূর্ণিঝড় হিন্নামনরে দক্ষিণ কোরিয়ায় অন্তত ৭ জনের মৃত্যু

দক্ষিণ কোরিয়ায় মঙ্গলবার ঘূর্ণিঝড় হিন্নামনরের তাণ্ডবে অন্তত সাতজন মারা গেছেন। ঘূর্ণিঝড়ের সময় জলোচ্ছ্বাসে একটি আবাসিক ভবনের নীচে কার পার্কের ভেতর আটকা পড়ে তারা মারা যান। জানা গেছে, জলোচ্ছ্বাস থেকে গাড়িগুলো বাঁচাতে আন্ডারগ্রাউন্ড কার পার্কে ছুটেছিলেন বেশ কজন। কিন্তু প্রবল তোড়ে বন্যার পানি সেখানে ঢুকে পড়লে আটকা পড়ে যান তারা। সেখান থেকে দুই জনকে বাঁচানো গেলেও বাকিরা পানিতে ডুবে যান।

বিবিসি জানিয়েছে, যে দুজনকে বাঁচানো গেছে তারা পার্কিং লটের ছাদের সাথে পাইপ ধরে ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ঝুলে ছিলেন। এই সপ্তাহের শুরুতে ঘূর্ণিঝড় হিন্নামনর দক্ষিণ কোরিয়ায় আঘাত হানে। এই বছর এখন পর্যন্ত আঘাত হানা ঝড়গুলোর মধ্যে এটিকেই সবচেয়ে শক্তিশালী বলে বলা হচ্ছে। মঙ্গলবার মাটির নীচের ঐ কারপার্কে উদ্ধারকারীরা পৌঁছান। এ জন্য তাদেরকে কয়েক মিটার উঁচু পানি ঠেলে সেখানে যেতে হয়। সেখানে আটকে পড়া ৯ জনই একই ভবনের বাসিন্দা।

যদিও মাত্র দুইজন বেঁচে ছিলেন শেষ পর্যন্ত। যে দুজন প্রাণে বেঁচেছেন তাদের একজন পুরুষ, অন্যজন নারী। এই দুইজনের অবস্থা এখন স্থিতিশীল।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি এই ঘটনাকে বিপর্যয়কর বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, এই দুর্ঘটনার কথা জানার পর আমি রাতে ঘুমাতে পারিনি। পোহ্যাং নামে যে শহরে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে সেটিকে দুর্গত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার সেখানে প্রেসিডেন্টের সফর করার কথা। ঐ শহরে সাগর পাড়ের একটি হোটেল ধসে পড়েছে। হোটেলের কর্তৃপক্ষ অবশ্য বিবিসিকে জানিয়েছে কোন অতিথির কিছু হয়নি।

দক্ষিণ কোরিয়ায় ঘূর্ণিঝড়ে এ পর্যন্ত অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। অনেক জায়গায় রাস্তা ভেঙ্গে গেছে, গাছ ভেঙ্গে পড়েছে এবং অনেক ভবনের কাঁচের জানালা গুড়ো হয়ে গেছে। পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশের মত দক্ষিণ কোরিয়ায় গত কয়েক মাস ধরে যেমন তুমুল বৃষ্টিপাত হচ্ছে তেমনি রেকর্ড গরমও পড়েছে।

Tag :
জনপ্রিয়

সাটুরিয়ায় নিয়োগ বাতিলের দাবীতে মানববন্ধন

ঘূর্ণিঝড় হিন্নামনরে দক্ষিণ কোরিয়ায় অন্তত ৭ জনের মৃত্যু

প্রকাশের সময় : ০৭:৫৭:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

দক্ষিণ কোরিয়ায় মঙ্গলবার ঘূর্ণিঝড় হিন্নামনরের তাণ্ডবে অন্তত সাতজন মারা গেছেন। ঘূর্ণিঝড়ের সময় জলোচ্ছ্বাসে একটি আবাসিক ভবনের নীচে কার পার্কের ভেতর আটকা পড়ে তারা মারা যান। জানা গেছে, জলোচ্ছ্বাস থেকে গাড়িগুলো বাঁচাতে আন্ডারগ্রাউন্ড কার পার্কে ছুটেছিলেন বেশ কজন। কিন্তু প্রবল তোড়ে বন্যার পানি সেখানে ঢুকে পড়লে আটকা পড়ে যান তারা। সেখান থেকে দুই জনকে বাঁচানো গেলেও বাকিরা পানিতে ডুবে যান।

বিবিসি জানিয়েছে, যে দুজনকে বাঁচানো গেছে তারা পার্কিং লটের ছাদের সাথে পাইপ ধরে ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ঝুলে ছিলেন। এই সপ্তাহের শুরুতে ঘূর্ণিঝড় হিন্নামনর দক্ষিণ কোরিয়ায় আঘাত হানে। এই বছর এখন পর্যন্ত আঘাত হানা ঝড়গুলোর মধ্যে এটিকেই সবচেয়ে শক্তিশালী বলে বলা হচ্ছে। মঙ্গলবার মাটির নীচের ঐ কারপার্কে উদ্ধারকারীরা পৌঁছান। এ জন্য তাদেরকে কয়েক মিটার উঁচু পানি ঠেলে সেখানে যেতে হয়। সেখানে আটকে পড়া ৯ জনই একই ভবনের বাসিন্দা।

যদিও মাত্র দুইজন বেঁচে ছিলেন শেষ পর্যন্ত। যে দুজন প্রাণে বেঁচেছেন তাদের একজন পুরুষ, অন্যজন নারী। এই দুইজনের অবস্থা এখন স্থিতিশীল।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি এই ঘটনাকে বিপর্যয়কর বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, এই দুর্ঘটনার কথা জানার পর আমি রাতে ঘুমাতে পারিনি। পোহ্যাং নামে যে শহরে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে সেটিকে দুর্গত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার সেখানে প্রেসিডেন্টের সফর করার কথা। ঐ শহরে সাগর পাড়ের একটি হোটেল ধসে পড়েছে। হোটেলের কর্তৃপক্ষ অবশ্য বিবিসিকে জানিয়েছে কোন অতিথির কিছু হয়নি।

দক্ষিণ কোরিয়ায় ঘূর্ণিঝড়ে এ পর্যন্ত অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। অনেক জায়গায় রাস্তা ভেঙ্গে গেছে, গাছ ভেঙ্গে পড়েছে এবং অনেক ভবনের কাঁচের জানালা গুড়ো হয়ে গেছে। পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশের মত দক্ষিণ কোরিয়ায় গত কয়েক মাস ধরে যেমন তুমুল বৃষ্টিপাত হচ্ছে তেমনি রেকর্ড গরমও পড়েছে।