রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বুধবার ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১লা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০৭:০৩ পূর্বাহ্ণ

হ্রদে নামলেই ‘পাথর’ হয়ে যায় পশুপাখি!

প্রকাশিত : ০৮:৫৭ AM, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ সোমবার ৩৮৫ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

হ্রদে নামামাত্রই ‘পাথর’ হয়ে যাচ্ছে পশুপাখি! বিষয়টি শুনে অবাস্তব লাগছে, তাই না? আদৌ কি সত্যিই এমন ঘটনা ঘটছে? নাকি এটা শুধুই একটা রটনা! সত্যিই কি হ্রদের এমন ক্ষমতা রয়েছে? এই অদ্ভুত ঘটনার পেছনে যে কাহিনি রয়েছে, সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

হ্রদটির নাম নেট্রন। দক্ষিণ আফ্রিকার দেশ তানজানিয়ার উত্তর প্রান্তে রয়েছে হ্রদটি। এটি একটি লবণাক্ত হ্রদ। দৈর্ঘ্যে ৫৭ কিলোমিটার এবং প্রস্থে ২২ কিলোমিটার নেট্রন হ্রদে এওয়াসো নায়গ্রো নদীর পানি এসে পড়ে। আশপাশের বেশ কয়েকটি উষ্ণ প্রস্রবণের পানিও এ হ্রদে পড়ে। ফলে বিভিন্ন খনিজে সমৃদ্ধ এ হ্রদের জল। আগে এ হ্রদ নিয়ে বহু কথা শোনা গেলেও প্রামাণ্য কিছু মেলেনি কোনো দিনই। ২০১১ সালে নিক ব্রান্ডট নামে এক ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার নেট্রন হ্রদের সামনে গিয়ে চমকে যান। হ্রদের পাড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছিল অসংখ্য পশুপাখির মৃতদেহ। ব্রান্ডট জানান, সেগুলো দেখে মনে হচ্ছিল যেন কোনো পাথরের মূর্তি সাজিয়ে রাখা!

এর পেছনের রহস্য জানতে শুরু হয় গবেষণা। জানা যায়, সোডিয়াম কার্বোনেট এবং সোডার পরিমাণঅত্যধিক বেশি এ হ্রদের জলে। প্রচুর সোডিয়াম ও কার্বোনেটযুক্ত ট্র্যাকাইট লাভা দিয়েতৈরি হয়েছে নেট্রন হ্রদের তলদেশ। পরীক্ষায় জানা যায়, হ্রদের জল অস্বাভাবিক ক্ষারধর্মী। ত্বককে পুড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে, যা পশুপাখির পক্ষে অসহনীয়।
বছরের বেশির ভাগ সময় হ্রদের জলের তাপমাত্রা থাকে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফলে পানি দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে যায়। আর তলদেশে পড়ে থাকে পানির মতো তরল লাভা। সোডিয়াম ও কার্বোনেটের জন্য হ্রদে জন্ম নেয় সায়োনো ব্যাকটেরিয়া নামে অণুজীব। এ অণুজীবের শরীরে লাল রঞ্জক থাকে। ফলে হ্রদের পানি লাল রঙের হয়। বিজ্ঞানীরা বলেন, এ রঙেই আকৃষ্ট হয়ে পশুপাখি হ্রদে নামে। কিন্তু পানিতে অতিরিক্ত ক্ষারধর্মীর জন্য সেগুলোর মৃত্যু হয়। নেট্রন হ্রদের পানি ক্ষারধর্মী হলেও এ হ্রদই পূর্ব আফ্রিকার লেসার ফ্লেমিঙ্গো পাখিদের সবচেয়ে বড় এক প্রজনন ক্ষেত্র। প্রায় ২৫ লাখ লেসার ফ্লেমিঙ্গো এ হ্রদে দেখতে পাওয়া যায়। কারণ এ হ্রদের অগভীর পানিতে পাওয়া যায় প্রচুর নীলাভ-সবুজ শৈবাল। এ শৈবাল খেয়েই তারা বেঁচে থাকে এবং বংশ বৃদ্ধি করে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, হ্রদের এ ক্ষারধর্মীর সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিয়েছে এ ফ্লেমিঙ্গোরা। ফলে নেট্রন হ্রদের পানি ফ্লেমিঙ্গোদের জমাট দেহ খুঁজে পাওয়া যায়নি। আনন্দবাজা।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT