রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২০, ৮ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৮:৩৬ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ নাটোরের লালপুরে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত ◈ নাটোরে এমপির নির্দেশে নলডাঙ্গা পৌরসভার রাস্তা সংস্কার কাজ শুরু ◈ নাটোরের বাগাতিপাড়ায় এক শিক্ষককে কারাদণ্ড দিলেন ভ্রাম্যমাণ আদালত ◈ শুভ্র’র খুনীদের ফাঁসির দাবিতে মুক্তিযোদ্ধা ও সন্তানদের মানববন্ধন ◈ ধর্ষণ মামলার আসামী শরীফকে সাথে নিয়ে পুলিশের অস্ত্র উদ্ধার ◈ টঙ্গীবাড়িতে মা ইলিশ ধরার অপরাধে ৯ জেলেকে কারাদণ্ড ১জনকে অর্থদণ্ড ◈ ধামইরহাটে প্রতিহিংসার বিষে মরলো ১৫ লাখ টাকার মাছ, আটক-২ ◈ হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামের ঐতিহ্যবাহী কুপি বাতি ◈ ভালুকায় কোটি টাকা মুল্যের বনভুমি দখল রহস্যজনক কারনে নিরব বনবিভাগ ◈ নেয়াখালীতে ছেলের পরিকল্পনাতেই মাকে পাঁচ টুকরো

৩৬ ক্যাসিনো গডফাদারের হাজার কোটি টাকা পাচার

প্রকাশিত : ০৫:৫৬ AM, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ Sunday ১৮০ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

এক বছরেরও কম সময়ে মদ-জুয়া ও ক্যাসিনো গডফাদাররা হুন্ডিসহ বিভিন্ন চ্যানেলে হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। এদের যুবলীগের এক ডজন নেতাসহ ৩৬ জনের একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরি করেছে আর্থিক গোয়েন্দারা। এদের অনেকেই ক্যাসিনো থেকে পাওয়া টাকায় লন্ডন, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ফ্ল্যাট কিনেছেন কিংবা সেখানকার ব্যাংকে জমা রেখেছেন। কেউবা পাচারকৃত অর্থ বিদেশে বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন। এছাড়া বেশ কজন গডফাদার তাদের ক্যাসিনো বাণিজ্য নির্বিঘ্নে টিকিয়ে রাখতে বিদেশে অবস্থানরত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের কাছে নিয়মিত টাকা পাঠিয়েছেন বলেও এরই মধ্যে গোয়েন্দারা বেশকিছু তথ্য-প্রমাণ পেয়েছেন। যা এখন গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে জোর তৎপরতা চালানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর আগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে মামলা করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ক্যাসিনো গডফাদারের যে প্রাথমিক তালিকা তৈরি করা হয়েছে, এদের পাচারকৃত অর্থের পরিমাণ হাজার কোটি টাকা হবে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। তবে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে এ অর্থের সঠিক পরিমাণ জানা যাবে। এছাড়া আরো ক্যাসিনো গডফাদারদের গ্রেপ্তার করে তাদের বিদেশে অর্থ পাচারের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে অনেক রাঘববোয়ালদের নাম বেরিয়ে আসবে। এতে পাচারকৃত টাকার পরিমাণও কয়েক গুণ বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ওর্ যাব ইন্টেলিজেন্সের একাধিক সূত্র জানায়, রাজধানীর ফকিরাপুলের ইয়ংমেন্স ক্লাবের সভাপতি, গ্রেপ্তারকৃত যুবলীগ নেতা (সদ্য বহিষ্কৃত) খালেদ মাহমুদ ভূইয়া; কলাবাগান ক্লাবের সভাপতি, কৃষকলীগ নেতা শফিকুল আলম ফিরোজ এবং মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক (বিসিবি) লোকমান হোসেন ভূঁইয়া ক্যাসিনোর অর্থ বিদেশে পাচার সংক্রান্ত ব্যাপক তথ্য দিয়েছেন। এর মধ্যে লোকমান অস্ট্রেলিয়ায় কমনওয়েলথ ও এএনজেড ব্যাংকে ৪১ কোটি টাকা জমা রাখার কথার্ যাবের কাছে স্বীকার করেছেন। খালেদ মাহমুদ ভূইয়া বিদেশে ক্যাসিনোর অর্থ পাচারের কথা স্বীকার করলেও মোট টাকার পরিমাণ তিনি জানাননি। তবে গোয়েন্দাদের ধারণা, তার পাচারকৃত অর্থের পরিমাণ একশ কোটি টাকার কম নয়।

অন্যদিকে গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এনামুল হক এনু ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রূপন ভুইয়া বিদেশে অন্তত দেড় শ কোটি টাকা পাচার করেছে বলে গোয়েন্দারা প্রাথমিকভাবে বেশকিছু তথ্য প্রমাণ পেয়েছে। যা তারা নানাভাবে ক্রসচেক করে দেখছে।

তদন্তে সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দারা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত খালেদ ঢাকার ক্যাসিনোগুলোর দৈনন্দিন আয়, অর্থ ভাগাভাগি এবং বিভিন্ন মাধ্যমে গডফাদারদের অর্থ পাচারের ব্যাপারে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য দিয়েছেন। ক্যাসিনো ব্যবসা পরিচালনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মদদ দেওয়া বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার নামও তিনি জানিয়েছেন। অথচ এসব তথ্য এতোটাই চমকপদ, যা বিশ্বাস করা কঠিন। তাই এসব স্পর্শকাতর বিষয় সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করার চেষ্টা চলছে।

এ প্রসঙ্গে দায়িত্বশীল একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ক্যাসিনো থেকে দৈনিক আয় ও এ টাকার ভাগাভাগি সম্পর্কে খালেদ যে তথ্য দিয়েছেন তা নিজেকে রক্ষা করার জন্যও দিতে পারেন। এমনকি এ তথ্য দিয়ে কাউকে ফাঁসানোর কু অভিসন্ধিও তার থাকতে পারে। তাই তার দেওয়া সব তথ্য তারা এখন প্রকাশ করতে চান না। বরং তার আগে এসব ব্যাপারে পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত সত্য তারা উদঘাটন করতে চান। একই সঙ্গে এ ব্যাপারে পর্যাপ্ত প্রমাণ সংগ্রহের বিষয়টি তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন।

তদন্তে সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দারা জানান, নেপালিদের অনেকে ক্লাবপাড়ার ক্যাসিনোতে মাসিক বেতনে চাকরি করলেও তাদের বেশ কয়েকজন মোটা অংকের চুক্তিতে নিজেরাই ক্যাসিনো চালাতেন। ফলে এ অবৈধ বাণিজ্যের মোটা লাভ তাদের পকেটেই ঢুকত। যা তারা কয়েক দিন পর পর হুন্ডির মাধ্যমে নিজ দেশে পাঠাতেন। এ ছাড়া দেশীয় ক্যাসিনো গডফাদাররা তাদের এ খাতের উপার্জিত অর্থের সিংহভাগ বিদেশে পাচার করতেন। যেসব হুন্ডি ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে এসব টাকা বিদেশে পাঠানো হয়েছে, এদের অন্তত ৮ জনকে গোয়েন্দারা এরই মধ্যে চিহ্নিত করেছেন। শিগগিরই তাদের এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানান তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেসব গডফাদারের বিরুদ্ধে ক্যাসিনোর অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে, এদের মধ্যে অন্তত ১৫ জন শুদ্ধি অভিযানের আগে থেকেই বিদেশে ছিলেন। অভিযানের পর আরো অন্তত ১০ জন দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। বাকিরা দেশেই কোথাও ঘাপটি মেরে আছেন।

ক্যাসিনো গডফাদারদের বিদেশে অর্থ পাচার-সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক আর্থিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের তালিকায় যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, একই কমিটির সদ্য বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ ভূইয়া, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোলস্না মোহাম্মদ আবু কাওছার, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মোবাশ্বর, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা এ কে এম মুমিনুল হক সাঈদ, গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এনামুল হক এনু ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রূপন ভুইয়া, উত্তরা পশ্চিম থানা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকারিয়া, যুবলীগের আইসিটি বিষয়ক সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম এবং নেপালি নাগরিক দীনেশ ও রাজকুমারের নাম রয়েছে।

এছাড়াও বিদেশে অর্থপাচারের প্রাথমিক তালিকায় কলাবাগান ক্লাবের সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজ ওরফে কালা ফিরোজ, মোহামেডান ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন, ভিক্টোরিয়া ক্লাবের সভাপতি কাজল ও সাধারণ সম্পাদক তুহিন, সৈনিক ক্লাবের ক্যাসিনোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যুবলীগ নেতা জসিম উদ্দিন ও এ টি এম গোলাম কিবরিয়া, যুবলীগ নেতা আরমান, তছলিম ও খোরশেদসহ আরো দেড় ডজন ক্যাসিনো গডফাদারের নাম রয়েছে বলে জানা গেছে।

সরকারের নীতি-নির্ধারক মহলের একটি সূত্র জানায়, ক্যাসিনো গডফাদারের বিশাল অংকের অর্থ পাচারের বিষয়টি তারা পুরোপুরি নিশ্চিত। তবে এর মোট পরিমাণ কত আর্থিক গোয়েন্দারা তা এখনো সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করতে পারেনি। অর্থের পরিমাণ যা-ই হোক না কেন তা ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ তৎপরতা চালানো হবে। যে প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরু করা হয়েছে। পাচারকৃত টাকার সিংহভাগ দ্রম্নতই ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে দাবি করে সংশ্লিষ্ট সূত্রটি।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা খুবই জটিল প্রক্রিয়া। মূলত দুই প্রক্রিয়ায় পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। প্রথমত, অর্থ পাচারের ব্যাপারে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেতে হবে। ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেশের আদালতে রাষ্ট্রপক্ষকে মামলা করতে হবে। স্থানীয় আদালতে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার পক্ষে রায় দিতে হবে। আদালতের এ রায়ের কপি অ্যাটার্নি জেনারেলের অফিস থেকে যে দেশে অর্থ পাচার করা হয়েছে ওই দেশের অ্যাটার্নি জেনারেলের অফিসকে অবহিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট দেশের অ্যাটার্নি জেনারেল অফিস অর্থ ফেরত দেয়া যায় কি না তা নিয়ে ওই দেশের আদালতে মামলা করবে। সংশ্লিষ্ট দেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত দেয়ার ব্যাপারে আইনি জটিলতা রয়েছে কী না তা যাচাই-বাছাই করবে। পাচারকৃত অর্থ ফেরত দেয়ার ব্যাপারে আইনি জটিলতা না থাকলে সংশ্লিষ্ট দেশের আদালত থেকে পাচারকৃত অর্থ ফেরত দেয়ার বিষয়ে রায় প্রদান করবে। এর পরই কেবল পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সবকিছু অনুকূলে থাকলে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অর্থ ফেরত আনতে ৫ থেকে ১০ বছর, এমনকি ক্ষেত্র বিশেষ ২০ বছর পর্যন্ত লেগে যেতে পারে।

দ্বিতীয়ত, মামলা করা ছাড়াও পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা যায়, যদি সংশ্লিষ্ট দেশের আইনি কোনো জটিলতা না থাকে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশকে আন্তর্জাতিক অপরাধ দমন সংস্থা এগমন্ড গ্রম্নপের সদস্য হতে হবে। এক্ষেত্রে এক দেশের অ্যাটার্নি জেনারেলের অফিসকে অন্য দেশের অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পাসপোর্ট নম্বরসহ সুনির্দিষ্ট তথ্য সরবরাহ করতে হবে। ওই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির তথ্য যাচাই-বাছাই করবে। যাচাই-বাছাইয়ে তথ্যের গড়মিল না পেলেই কেবল পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা সম্ভব। এ প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে কয়েক বছর লেগে যাবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT