রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

রবিবার ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

১০ দিনের মধ্যে পেঁয়াজ মিলবে ৬০-৭০ টাকায়

প্রকাশিত : 05:41 AM, 25 November 2019 Monday ৪৯ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :
alokitosakal

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানিয়েছেন, ১০ দিনের মধ্যে জাহাজে পেঁয়াজের বড় চালান আসছে। এরপর পণ্যটির কেজিপ্রতি দাম নেমে আসবে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। অবশ্য ব্যবসায়ীরা বলেছেন, এ দাম আরো কমে আসবে।

গতকাল এফবিসিসিআই আয়োজিত সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম অন্য দেশ থেকে জাহাজে পেঁয়াজ আনতে সময় লাগবে ১২ থেকে ১৪ দিন। এটা যে ২৪-২৫ দিন লাগবে, ধারণা ছিল না। আর যে সময় পেঁয়াজের দামটা বেশি বাড়তে শুরু করে, তখন আমি ছিলাম অস্ট্রেলিয়ায়। তবে প্রতিদিন আমি সাত-আটবার ফোন করেছি।’

টিপু মুনশি আরো বলেন, ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি আবার চালুর ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কথা দিয়েছিল। দুর্ভাগ্য, তারা রপ্তানি চালু করেনি। ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধই মূলত দাম বাড়ার প্রধান কারণ। তিনি বলেন, এ সময়ে যেখানে মাসে এক লাখ টন পেঁয়াজ আসত, সেখানে ভারত বন্ধ করার পর ২৫ হাজার টন এসেছে। ৭৫ হাজার টনই ঘাটতি। আর ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাব তো আছেই।

বৈঠকে চালের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, মানুষ মোটা চালের পরিবর্তে এখন সরু চাল বেশি খাচ্ছে। এ কারণে সরু চালে বেশি চাপ পড়ায় দাম কিছুটা বাড়লেও এখন দাম নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে পাইকারি বাজারের দামের তুলনায় খুচরা বাজারে কেজিতে সাত-আট টাকা পার্থক্য থাকার বিষয়ে তিনি ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরকে কঠোর তদারকির পরামর্শ দেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, উড়োজাহাজে পেঁয়াজ আনতে অনেক বেশি খরচ পড়ছে। এ পেঁয়াজ আনা লাভজনক নয়। সেটা সরকার ৪৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করছে। জাহাজে আনা পেঁয়াজ কম্পানিগুলো বিক্রি করবে। সেটার খরচ কম হবে।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৬০-৭০ টাকায় নেমে আসবে বললেও ব্যবসায়ীরা মন্ত্রীকে জানান, জাহাজে আনা পেঁয়াজের খরচ কম পড়বে। তখন বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তার পরও আপনাদের ভয়ে কিছুটা বাড়িয়ে বললাম।’ তিনি জানান, চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত এসব পেঁয়াজের কেজিপ্রতি খরচ পড়বে ৩২ টাকা।

বৈঠকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর সরবরাহ বাজারে স্থিতিশীল রাখতে যৌথভাবে নতুন উদ্যোগের (প্ল্যাটফরম) বিষয়ে একমত হয়েছেন সরকার ও ব্যবসায়ী নেতারা। এই নতুন উদ্যেগের মাধ্যমে আগামীতে সরকার ও ব্যবসায়ীরা মিলে ভোগ্যপণ্যের সুষম সরবরাহের মাধ্যমে সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করবে বলে জানানো হয়। এতে ব্যবসায়ীদের পক্ষে নেতৃত্ব দেবে এফবিসিসিআই।

বৈঠকে এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, শিল্পসচিব আবদুল হালিম, খাদ্যসচিব শাহাবুদ্দিন আহমদ, প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান মো. মফিজুল ইসলাম, সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান, এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি মুনতাকিম আশরাফ ও মো. সিদ্দিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

পেঁয়াজের মজুদদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছি। সবাই বাংলাদেশি। কেউ সরকারপক্ষ বা বিরোধীপক্ষ দেখছি না। আমরা তাদের সরকারের পক্ষ থেকে সোজাসাপ্টা মেসেজ দিয়েছি। যদি কেউ পণ্যের মজুদ করে বাজারে পণ্যের অহেতুক চাপ সৃষ্টি করে তাদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়া হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা নিত্যপণ্যের ব্যবসায়ীদের আরো একটি মেসেজ দিয়েছি, বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। পেঁয়াজ নিয়ে সংকট হয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজ বাজারে আছে। এ জন্য কাদের কাছে পেঁয়াজের মজুদ ছিল, তারা কখন আমদানি করেছে, কখন ও কত টাকায় বিক্রি করেছে—তা এনবিআর খতিয়ে দেখছে। এসব পণ্যে কোনো ট্যাক্স বা শুল্ক নেই। তাই সমস্যা হওয়ার কথা নয়। চালের ওপর শুল্ক আছে। কারণ উৎপাদনে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ। ভোক্তাদের জানাতে চাই, লবণ, তেল, চিনি, ডাল—এ জাতীয় নিত্যপণ্যে ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা হবে না।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্যারিফ কমিশনের প্রতিনিধি মো. নুর উর রহমান বলেন, দেশে পেঁয়াজের চাহিদা আছে ২৪ লাখ টন। রমজানে তা আরো দুই লাখ টন বৃদ্ধি পায়। দেশে যে পরিমাণ উৎপাদিত হয় তার ২২-২৮ শতাংশ পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়। ফলে প্রতিবছর ৯-১১ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। যার ৯৮ শতাংশই আমদানি হয় ভারত থেকে। তবে পেঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শুল্ক নেই।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT