রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৯:০৫ পূর্বাহ্ণ

১০ গ্রামের মানুষের ভরসা বাঁশের সাকো

প্রকাশিত : ০৪:৪০ AM, ২৬ জানুয়ারী ২০২০ Sunday ১৫১ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

অপেক্ষায় কেটেছে ৪৭ বছর; কেউ কথা রাখেনি। আত্রাই নদে সেতু হয়নি। সেতু না হওয়ার কষ্টে রয়েছেন ১০ গ্রামের মানুষ। দুর্ভোগ সয়ে এলাকাবাসী বর্ষায় নৌকা আর শুস্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকো দিয়ে এই নদ পারাপার হচ্ছেন। সেতু না হওয়ার কারণে এলাকার রাস্তাসহ অন্য কোনো উন্নয়নও তেমন হয়নি। এভাবেই আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন ৭০ বছরের বৃদ্ধ আবদুল হান্নান। নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের বিলহরিবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা তিনি। আত্রাই নদের তীর ঘেঁষেই তার বাড়ি। তার মতো হাজারো মানুষের দাবি বিলহরিবাড়ি-সাবগাড়ি বাজার এলাকায় আত্রাই নদে একটি পাকা সেতু নির্মাণ।

শনিবার সকালে সরেজমিন দেখা যায়, আত্রাই নদে খেয়া নৌকার পরিবর্তে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। উঁচু-নিচু হওয়ায় বয়স্ক মানুষ, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও রোগীদের দুর্ভোগের শেষ নেই। নিরুপায় হয়ে মানুষ ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত পারাপার হচ্ছেন এই নদ।

নদের পূর্ব পাশের হরদমা, কারিগরপাড়া ও বিলহরিবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা আবদুর রাজ্জাক, সানোয়ার হোসেন, আশরাফুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন বলেন, আত্রাই নদে সেতু না থাকায় তাদের গ্রামে পাকা সড়ক হয়নি। নদটি খরস্রোতা হওয়ায় খেয়া নৌকায় পারাপার হতে সময় লাগে প্রায় ২০ মিনিট। ছেলেমেয়েদের স্কুুল-কলেজে যাতায়াত, ফসল পরিবহনসহ উপজেলা সদরে যেতে হয় আত্রাই নদ পার হয়ে। ভরা বর্ষায় খেয়া নৌকাডুবি এবং শুকনোয় বাঁশের সাঁকো পার হতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

সাবগাড়ি বাজারের বাসিন্দা সাবেক অধ্যক্ষ ওমর আলী বলেন, চলনবিল অধ্যুষিত এলাকাটি কৃষিপ্রধান। সাবগাড়ি বাজার সংলগ্ন ঘাট হয়েই নদের উত্তর পাশের গুরুদাসপুর উপজেলার বিলহরিবাড়ি, কারিগরপাড়া, হরদমা এবং সিংড়ার কৃষ্ণনগর, কাউয়াটিকিরি, পানলি ও ডাহিয়া গ্রামের মানুষ, তাদের খেতের ফসল পারাপার এবং জেলা-উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করে থাকেন। তা ছাড়া পশ্চিম পাশের সাবগাড়ি, রাবার ড্যাম, যোগেন্দ্রনগর ও ভিটাপাড়া গ্রামের মানুষ ওই গ্রামগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ এবং চলনবিলের ফসল নিয়ে আসে। সেতু না থাকায় মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

খেয়া নৌকার মাঝি সাদেক আলী বলেন, প্রায় ২৫ বছর যাবৎ নৌকা দিয়ে মানুষ পারাপার করছি। এ জন্য বছরে সবার কাছ থেকে নির্দিষ্ট টাকা এবং ধান নিয়ে থাকি। বর্ষা মৌসুমে খেয়া থাকলেও শুকনো মৌসুমে বাঁশের সাঁকো তৈরি করি। তবে এখানে একটি সেতু হলে আমাদের কষ্ট অনেক লাঘব হবে এবং মানুষ উন্নত জীবনযাপন করতে পারবেন।

স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুস বলেন, অতি দ্রুত এই সেতুটি হয়ে যাবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT