রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বুধবার ১৯ মে ২০২১, ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০২:১০ পূর্বাহ্ণ

হ-য-ব-র-ল স্থলবন্দর

প্রকাশিত : ০৫:১৪ PM, ২৭ এপ্রিল ২০২১ মঙ্গলবার ২৬ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে করোনার ভয়াবহ অবস্থার মধ্যেই সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে কোনো ধরণের স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই চলছে কার্যক্রম। আমাদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলেও ভারত থেকে আসা শত শত ট্রাকচালক ও হেলপার স্বাস্থ্যবিধি না মেনে অবাধে চলাচল করছে। এতে করোনা সংক্রমণের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে বন্দর সংশ্লিষ্টরা। আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে স্থানীয়রা। এ অবস্থায় সব মিলিয়ে অনেকটা হ-য-ব-র-ল অবস্থা স্থলবন্দর এলাকায়।

স্বাস্থবিধি না মানায় বন্দর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন ব্যবসায়ী ও শ্রমিকসহ বন্দরে নিয়োজিতরা। ভারতের করোনা পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় নিয়ে সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেয়ার দাবি জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সরকার ঘোষিত ১৪ দিনের জন্য সীমান্তের স্থলবন্দরগুলোতে যাত্রী চলাচল বন্ধ ঘোষণা করার পরও চরম উদাসীনতায় চলছে ভোমরা স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। কোনো ধরণের স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করেই কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছে বলে অভিযোগ অনেকের।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভোমরা বন্দর দিয়ে যাত্রী আসা-যাওয়া বন্ধ থাকলেও ভারত থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন পণ্য নিয়ে তিন শতাধিক ট্রাক ঢুকছে বাংলাদেশে। ভারত থেকে আসা এসব ট্রাকের কোনো স্যানিটাইজ করা হচ্ছে না। এমনকি ট্রাকের চালক-হেলপারকে কোনো ধরণের স্বাস্থ্যপরীক্ষা ছাড়াই প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে।

শুধু তাই নয়, এসব ট্রাকচালকরা বন্দরের মধ্যে ট্রাক রেখে অবাধে ঘুরছে যত্রতত্র। খাওয়া-দাওয়া করছে স্থানীয় হোটেলগুলোতে। আর এসব ট্রাক থেকে কোনো ধরণের স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই মালামাল নামাচ্ছে স্থানীয় শ্রমিকরা। ফলে করোনা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে শ্রমিকসহ ব্যবসায়ীরাও।

তবে এসবের দায় নিতে রাজি হচ্ছে না বন্দর সংশ্লিষ্ট কোনো বিভাগই। ভোমরা স্থলবন্দর ইমিগ্রেশনের ইনচার্জ বিশ্বজিত সরকার জানান, ইমিগ্রেশনের মধ্যে একটি থার্মাল স্ক্যানার রয়েছে। যার মধ্যেদিয়ে কেউ গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার শরীরের তাপমাত্রা দেখা যায়। সেটি মূলত পাসপোর্ট যাত্রীদের জন্য ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বর্তমানে পাসপোর্ট যাত্রী আসা-যাওয়া বন্ধ থাকায় থার্মাল স্ক্যানারটি এখন ব্যবহার হচ্ছে না।

এ বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক মনিরুল ইসলাম বলেন, মালামাল নিয়ে ভারতীয় ট্রাকগুলো বন্দরের নিদিষ্ট জায়গায় রাখা হয়। এখানে আসার আগে বন্দর সংশ্লিষ্ট আরও অনেক বিভাগ আছে। তারা স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ট্রাক আসার অনুমতি দিলে আমাদের কিছু করার থাকে না। তবে যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কার্যক্রম যেন পরিচালিত হয়, সে ব্যাপারে একটি জুম মিটিং এর মাধ্যমে আগামি দুই-একদিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

কাস্টমসের সুপার আকবর আলী বলেন, গত ২৫ এপ্রিল ভারত থেকে বিভিন্ন পণ্য নিয়ে ৩৪১টি ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ট্রাকের পণ্য খালাস করে অধিকাংশ আবার ফিরেও যাচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার বিষয়টি আমাদের দেখভাল করার দায়িত্ব নয়।

তিনি আরও বলেন, ভারতের বিভাগের সাথে বাংলাদেশের সিএন্ডএফ এর যোগসূত্র রয়েছে। কোনো মালামাল আসলে সিএন্ডএফ বা তাদের প্রতিনিধিরা ফাইল নিয়ে আমাদের দপ্তরে প্রবেশ করে থাকেন। তখন তাদের মাস্ক পরার বিষয়টি আমরা নিশ্চিত করি। তাছাড়া অফিসের বাইরে হাত ধোয়ার জন্য বেসিন বসানো আছে। তবে এখানে ভারতীয়দের কোনো কাজ না থাকায় তারা বেসিন দেখতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আরাফাত হোসেন জানান, ভারতের ওপারে ঘোজাডাঙ্গা বন্দরে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ভারতীয় ড্রাইভার ও হেলপারদের হাত ধোয়া এবং মাস্ক পরার বিষয়টি বাংলাদেশে প্রবেশের পর সবসময় দেখা সম্ভব হয় না। তবে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মিটিং করে দ্রুত একটা কার্যকরী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন সাফায়াত জানান, বিষয়টি নিয়ে সোমবার জেলা প্রশাসকের আয়োজনে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি জুম মিটিং এর আয়োজন করা হয়েছে। বিষয়টি মূলত জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদারকি করার কথা।

ভারতীয় চালক বা হেলপারদের এখন থেকে একটি নিদিষ্ট স্থানে রেখে সেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার জন্য তিনি পরামর্শ দিয়েছেন সিভিল সার্জন। তিনি বলেন, তাদের খাওয়ার জন্য নিদিষ্ট একটি হোটেল বা স্থান ঠিক করা উচিৎ। একইসঙ্গে তারা যেন বাইরে যেতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি করা প্রয়োজন।

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল জানান, বিষয়টি নিয়ে সোমবার জরুরিভাবে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি জুম মিটিং এর আয়োজন করা হয়। সেখানে ভারত থেকে আসা ট্রাকচালক ও হেলপারদের স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়টি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT