রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

রবিবার ২০ অক্টোবর ২০১৯, ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

হাওরে ভাসমান বেডে সবজির বাম্পার ফলন

প্রকাশিত : ০৫:০২ পূর্বাহ্ণ, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ শনিবার ৫২ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :
alokitosakal

হবিগঞ্জের হাওর এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে চাষাবাদ না হওয়ায় আগে অনেক জমি পতিত থাকত। কিন্তু এখন বন্যাসহিষ্ণু ভাসমান বেডে সবজি চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অনাবাদি জমিতে উৎপাদিত হচ্ছে বিষমুক্ত সবজি।

কচুরিপানা দিয়ে তৈরি ভাসমান বেডে বিভিন্ন প্রকার সবজির ভালো ফলন হওয়ায় লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা। জলাবদ্ধ এবং বন্যাদুর্গত এলাকার কৃষকরা যাতে এভাবে সারা বছর সবজি চাষ করতে পারেন, সেজন‌্য এবছর অনেকগুলো প্রদর্শনী প্লট করে দিয়েছে কৃষি বিভাগ।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে- অতিবৃষ্টি ও বন্যায় কখনো ডুববে না, সেচের প্রয়োজন পড়বে না, কীটনাশক ও সারের প্রয়োজন হবে না, এমন সবজিখেত এতদিন ছিল কৃষকদের স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত করছে কৃষি বিভাগ। দু-একটি নয়, অর্ধশতাধিক ভাসমান বেডে বিভিন্ন প্রকার সবজি আবাদ করেছেন হবিগঞ্জের হাওরের কৃষকরা।

প্রায় সারা বছরই জলাবদ্ধ থাকে এবং বন্যা ও বৃষ্টির জন্য যেসব এলাকার খেত পানিতে ডুবে থাকে, সেসব জায়গায় কৃষি বিভাগ প্রদর্শনীর মাধ্যমে কলাগাছের ভেলা ও কচুরিপানা দিয়ে বেড করে দিয়েছে।

ভাসমান এসব বেডে আবাদ হচ্ছে লাল শাক, ঢেঁড়স, লাউসহ বিভিন্ন প্রকার সবজি। এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে যথেষ্ট লাভ হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে। কম জমিতে বেশি ফসল আবাদ সম্ভব হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন কৃষকরা।

বানিয়াচং উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, প্রতিবছরই বন্যা, অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে উপজেলার প্রায় ৩৫০ হেক্টর জমি জলাবদ্ধ থাকে। খেত তলিয়ে ফসল নষ্ট হয়। তাই সময়মতো ফসল আবাদ করা যায় না। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হন প্রান্তিক কৃষকরা। তবে ভাসমান বেডে সবজি আবাদ করে কৃষকরা লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছেন।

ভাটিপাড়া গ্রামের কৃষক বিষ্ণুপদ দাস বলেন, ভাসমান বেডে যে সবজি চাষ করা যায়, আগে তা জানা ছিল না। কৃষি কর্মকর্তার অনুরোধে পরীক্ষামূলকভাবে ভাসমান সবজির বেড করি। ফসল যা হয়েছে তা দেখে পরান জুড়িয়ে গেছে। আমার এই ভাসমান সবজির খামার দেখে এলাকার অনেক চাষী নিজেদের উদ্যোগেই এভাবে চাষ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. দুলাল উদ্দিন জানান, ভাসমান বেডে সবজি চাষ লাভজনক। এলাকার কৃষকদের এ ব্যাপারে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এতে চাষিরা ভাসমান বেডে সবজি চাষ করতে রাজি হন। এ বছর সবজি বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলে অন্য কৃষকদের মধ্যেও আগ্রহ দেখা গেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. তমিজ উদ্দিন খান জানান, ভাসমান বেডে সবজি আবাদ সম্প্রসারণ এবং জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। এটি লাভজনক পদ্ধতি। কৃষকরা এখান থেকে লাভবান হতে পারছেন। তাছাড়া হাওর এলাকায় সবজির চাহিদাও পূরণ হচ্ছে। সবজি বিক্রি করে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT