রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

রবিবার ৩১ মে ২০২০, ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ

হাওরে ধানের দাম নেই কৃষকের মলিন মুখ

প্রকাশিত : ০৭:৪০ PM, ১৮ মে ২০২০ Monday ৫ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় এবার কিশোরগঞ্জের হাওরে ধান যথাসময়ে কেটে গোলায় তুলেছেন কৃষক। বিস্তীর্ণ হাওরের বাড়িঘরসহ মোকামগুলোতে ধান আর ধান। মনে হয় যেন ধানের সমুদ্র! তবে কৃষকের মুখে হাসি নেই। বাজারে ধানের ন্যায্যমূল্য না থাকায় মলিন মুখ তাদের। এবার কড়া রোদ থাকায় হাওরের ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম এবং নিকলীসহ জেলার ১৩টি উপজেলায় পুরোদমে বোরো ধান কাটা শুরু হয় চৈত্রের শেষ সপ্তাহে। কৃষকের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও ধান কাটা উৎসবে যোগ দেন। এতে কৃষক পুরো ধান ঘরে তুলতে পেরেছেন। কিন্তু করোনার প্রভাবে বাজারে ধানের মূল্য না থাকায় কৃষক উৎপাদন খরচই উঠাতে পারছেন না। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জেলায় এক লাখ ৫৪ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ছয় লাখ ৬৭ হাজার টন চাল। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা অতিক্রম করেছে। কৃষকরা জানান, ধানের দাম না থাকায় চরম হতাশায় পড়েছেন তারা। প্রতি মণ ধান উৎপাদন করতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭২০ টাকা। বর্তমান বাজারদরে উৎপাদন খরচ উঠছে না তাদের। সুদ ও লগ্নির টাকা কীভাবে পরিশোধ করবেন, এ নিয়ে ভাবনায় পড়েছেন তারা। হাওরের বিভিন্ন বাজারে নতুন মোটা ধান সর্বোচ্চ ৬০০, চিকন সর্বোচ্চ ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চামড়া ঘাট, ভৈরব ও অন্যান্য মোকামেও দেখা গেছে ধান সর্বোচ্চ ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকাররা জানান, কৃষকের লোকসান গুনতে হচ্ছে, কিন্তু পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক না থাকায় তাদের কিছু করার নেই। ইটনা উপজেলার বড়িবাড়ী গ্রামের কৃষক মোতালিব মিয়া জানান, তার তিন একর জমিতে ২৪০ মণ ধান হয়েছে। সার, কীটনাশক, সেচ ও অন্যান্য খরচ নিয়ে প্রতি মণ ধানে খরচ হয়েছে ৭২০ টাকার বেশি। বর্তমান বাজারমূল্যে হাজার হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। মিঠামইনের চারি গ্রামের কৃষক রঙ্গু মিয়া জানান, সাত একর জমিতে ৬৫০ মণ ধান পেয়েছেন। উৎপাদন ব্যয় কিছুটা বেশি হয়েছে। ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকদের মেরুদণ্ড ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। পূর্ব অষ্টগ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রঞ্জিত চক্রবর্তী জানান, করোনার কারণে ধানের দাম কম হওয়ায় বর্গাচাষি ও সাধারণ পরিবারে অভিশাপ নেমে এসেছে। একফসলি জমির ওপর নির্ভরশীল কৃষক দাদনের টাকা পরিশোধ করতে পারবে না। সরকার উপযুক্ত মূল্য নির্ধারণ করেছে। কিন্তু এতে প্রান্তিক ও ছোট কৃষকের কোনো লাভ হবে না। কারণ তাদের কাছে থেকে সরাসরি ধান কেনার আয়োজন নেই। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোহাম্মদ তানভীর হোসেন জানান, জেলায় ২২ হাজার ৬৯৮ টন ধান কিনবে সরকার। এর মধ্যে হাওরের চার উপজেলায় ১১ হাজার টনের মতো কেনা হবে। কারণ গোডাউনে এর বেশি জায়গা নেই। সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মায়া ভৌমিক বলেন, কিশোরগঞ্জে চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছয় লাখ ৬৭ হাজার টন। কিন্তু মাত্র ২২ হাজার ৬৯৮ টন কিনবে সরকার, যা উৎপাদনের ৩.২৯ শতাংশ। এতে কৃষকের স্বার্থ রক্ষা হবে না। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ছাইফুল আলম বলেন, ৯৮ ভাগ ধান কেটে ফেলা হয়েছে। দামের বিষয়ে একটু অপেক্ষা করতে হবে। পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক হলে বাজার উঠবে বলে তিনি আশা করেন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT