রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

মঙ্গলবার ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৬ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

হাইমচরের পানের খ্যাতি দেশজুড়ে

প্রকাশিত : ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ণ, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ রবিবার ৫০ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :
alokitosakal

চাঁদপুর জেলাধীন হাইমচর উপজেলায় পান ও সুপারি চাষের খ্যাতি বহু বছরের। দীর্ঘদিন ধরেই তারা এ খ্যাতি ধরে রেখেছেন। এ খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে।

উপজেলার অধিকাংশ মানুষ মৎস্য ও কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তবে এখন শিক্ষার হার বৃদ্ধি পাওয়ায় এ এলাকার অনেকেই চাকরি ও ব্যবসা করছেন। বর্তমান সময়ে উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে বর্তমান সরকারের উদ্যোগে মেঘনার ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে বাঁধ নির্মাণ করায় জমির মূল্য আগের চেয়ে বেড়েছে কয়েকগুণ। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পুরো উপজেলায় সব পানের বরজ ভালো অবস্থানে রয়েছে। এ এলাকার ব্যবসায়ীরা বিগত বছরগুলোয় পান চাষ করে ভালো মুনাফা অর্জন করেছে। এ বছরও পান চাষ ভালো হয়েছে। গেল কয়েক মাস পান বিক্রি করে মূল্য পাচ্ছেন মোটামুটি ভালো। তাই কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ীসহ সবার মুখেই আনন্দের হাসি ফুটেছে। কয়েক দিন হাইমচর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে পানের বরজ ঘুরে এসব চিত্র পাওয়া গেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ২১৭ হেক্টর জমিতে পান এবং ৩১০ হেক্টর জমিতে সুপারি চাষ হয়। এ পান-সুপারি চাষের সঙ্গে প্রায় ৯ শতাধিক কৃষক জড়িত। এ দুই ফসল থেকে বছরে একজন কৃষক কমপক্ষে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা আয় করেন। উপজেলার কৃষকরা পান ও সুপারি চাষ করেই পরিবারের খরচ জোগান এবং তাদের পারবারের চাহিদা পূরণ করেন। হাইমচরের পান ও সুপারি উপজেলার চাহিদা মেটানোর পর অন্যান্য উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। চাঁদপুর জেলার ৮ উপজেলার মধ্যে পান ও সুপারি উৎপাদনে হাইমচর উপজেলার ঐতিহ্য দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে রয়েছে। উপজেলার আলগী উত্তর ইউনিয়নের মহজমপুর, ছোট লক্ষ্মীপুর ও আশপাশের গ্রামের একাধিক কৃষকের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বর্তমান মৌসুমে পান বেশি বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার তারা বরজ থেকে পান কেটে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেন। অধিকাংশ কৃষকই পার্শ্ববর্তী ফরিদগঞ্জ উপজেলার রামপুর বাজার, চাঁদপুর সদর ও মতলবে পান বিক্রি করতে নিয়ে যান। ভোর রাত ৪টা থেকে সূর্যোদয়ের আগেই ওই বাজারগুলোয় বেচা বিক্রি শেষ হয়ে যায়। এ কারণে পান বিক্রির জন্য একদিন আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে হয়। এ এলাকার অধিকাংশ চাষি জানান, এ বছর চাষকৃত পান বিক্রি করে তারা ব্যাপক লাভবান হয়েছেন, যা তারা বিগত বছরে হননি।

সদর উপজেলার মহামায়া এলাকার পান ব্যবসায়ী জমির হোসেন বলেন, পানের মৌসুম এলে তিনি হাইমচরে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে পান ক্রয় করে বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করেন। এতে করে তার প্রতি বিড়ায় ১০ থেকে ২০ টাকা লাভ হয়। আর আড়ৎ থেকে ক্রয় করলে লাভ করা যায় না। তিনি আরও বলেন, পান ক্রয়-বিক্রয়ে কয়েকভাবে মূল্য নির্ধারণ হয়। কেউ পাইকারি, কেউ খুচরা এবং কেউ পানের খিলি বিক্রি করেন। যিনি খিলিপান বিক্রি করেন তার এক বিড়া পানের মূল্য দাঁড়ায় কমপক্ষে ৪০০ টাকা।

পান চাষি মোস্তফা ও মো. জসিম মিয়া বলেন, এ বছর আমরা এক বিড়া পান ১০০ থেকে শুরু করে ১৩০ টাকায় বিক্রি করছি। অন্য বছরের তুলনায় পানের দাম খুবই ভালো পাওয়া যাচ্ছে। বরজ থেকে পান কেটে অধিকাংশ কৃষকই রামপুর বাজারে পাইকারি বিক্রি করেন। আবার বিভিন্ন এলাকা থেকে কিছু ব্যবসায়ী আমাদের কাছ থেকে এসে ১০০ থেকে ২০০ বিড়া পান পাইকারি দরে ক্রয় করে নিয়ে যান। তারা আবার এসব পান জেলার বিভিন্ন এলাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন এবং তারাও সে পান বিক্রি করে লাভ করে তাদের সংসার ভালোভাবে চালাতে পারছেন বলে তারা জানান।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT