রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শনিবার ২২ জানুয়ারি ২০২২, ৯ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০৩:০৪ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ আ’লীগ নেতা সৈয়দ মাসুদুল হক টুকুর পিতার ২১ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ◈ ঘাটাইল আশ্রয়ন প্রকল্প পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক ◈ শীতার্তদের মুখে হাসি ফোটালেন সিদ্ধিরগঞ্জ মানব কল্যাণ সংস্থা ◈ হরিরামপুরে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে বন্ধে স্ত্রীর অনশন ◈ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গরীব-দুঃখীদের পাশে রয়েছেন সাবেক সিনিয়র সচিব সাজ্জাদুল হাসান… ◈ কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগর করোনা এক্সপার্ট টিমের কম্বল বিতরণ ◈ পেইড পিয়ার ভলান্টিয়ারদের চাকরী স্থায়ীকরণের দাবিতে মানববন্ধন ◈ ফুলবাড়ীতে শীতার্তাদের মাঝে ডিয়ার এক্স টিমের শীতবস্ত্র বিতরণ ◈ রানীরবন্দর রুপালী ব্যাংক লিঃ ব্যবস্থাপকের বিদায় ও বরণ ◈ শার্শায় বাইক ছিনতাই করে চালককে হত্যায় জড়িত ৩ আসামী আটক

হবিগঞ্জে খিরা চাষে লাভবান কৃষক

প্রকাশিত : ০৪:৪১ AM, ২৬ জানুয়ারী ২০২০ রবিবার ৫৮৪ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

কৃষি বিভাগের উৎসাহে হবিগঞ্জে খিরার চাষাবাদে মনোযোগী হয়েছেন কৃষকরা। যেখানে কৃষকরা একটি ফসলের চাষ করতেন, সেখানে বর্তমানে জমি আবাদ করে তিনটি ফসলের চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে স্থান পেয়েছে খিরা চাষও। আর ভালো ফলন ও বিক্রি থেকে আশানুরূপ সাড়া পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

এ মৌসুমে জেলায় প্রায় সাড়ে ৭০০ একর জমিতে খিরা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জেলা কৃষি বিভাগ। এ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে শীতের শুরুতেই খিরা চাষ শুরু হয়ে বর্ষাকালের আগ পর্যন্ত চলবে। এখানে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও চাষাবাদে যুক্ত হয়েছেন। পাচ্ছেন সফলতাও। তার প্রমাণ জেলার বানিয়াচং উপজেলার নয়া পাথারিয়া গ্রামে দুই বোন মিলে খিরা চাষ করছেন। তারা হলেন এ গ্রামের মৃত ডা. ওয়াহাব উল্লাহর মেয়ে রোকেয়া বানু ও এশা বানু।

একান্ত আলাপে রোকেয়া বানু জানান, তার বিয়ে হয়েছিল মাধবপুরে। তাকে রেখে স্বামী আরেকটি বিয়ে করেন। তাই দেড় বছরের একমাত্র কন্যা সন্তানকে নিয়ে তিনি বাবার বাড়ি নয়া পাথারিয়ায় চলে আসেন। এদিকে তার বোন এশা বানুরও বিয়ে হয়নি। দুই বোন অসহায় হয়ে পড়েন। কী করে বেঁচে থাকা যাবে ভাবছিলেন। দুই বোন মিলে জীবিকা নির্বাহে গরু পালন শুরু করেন। শুধু গরু পালনের আয়ে তাদের চলছিল না। অবশেষে গরুর গোবর দিয়ে তারা পরিকল্পনা করেন ফসল চাষের। শুরু করেন ধান চাষ। কিন্তু ধান চাষে খরচ বেশি, লাভও কম। এদিকে নয়া পাথারিয়ার হাওর এলাকায় শীতের শুরুতে খিরা চাষ শুরু করেন চাষিরা। এ চাষিদের অনুকরণ করে তারা দুই বোন খিরা চাষের সিদ্ধান্ত নেন। বছর মেয়াদি চুক্তিতে জমি বর্গা নিয়ে তারা শুরু করেন খিরা চাষ।

প্রতি বছরের মতো এ বছরও ৬০ হাজার টাকায় আড়াই একর জমি বর্গা নিয়ে খিরা চাষ করেছেন তারা। খিরার ভালো ফলন হয়েছে। দামও ভালো হওয়ায় তারা খুশি। হবিগঞ্জে খিরা চাষে
ষ শেষ পৃষ্ঠার পর
এ খিরা স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে।
সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, রোদ ও বৃষ্টির মিতালীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে তারা দুই বোন খিরা চাষের পাশাপাশি দুই ফসল ধান চাষ করছেন। ফসলের ফলনের সঙ্গে তাদের ভালো ও মন্দ জড়িত। সকাল হলে ক্ষেত থেকে খিরা সংগ্রহ করে পাইকারের কাছে বিক্রি করেন।
রোকেয়া বানু বলেন, সৎপথে জীবিকা নির্বাহে কষ্ট আছে জেনেই নারী হয়েও তারা কৃষি কাজে জড়িত হয়েছেন। বর্তমানে খিরা চাষ তাদের অভাব ঘুচিয়েছে। এ পেশায় তারা প্রতিষ্ঠিত হতে চান। তার একমাত্র শিশু কন্যার মুখের প্রতি তাকিয়ে তিনি জীবনের বাকি সময়টুকু কৃষিকাজে জড়িয়ে থাকতে চান। এভাবেই প্রতিষ্ঠিত হতে চান তারা দুই বোন। কৃষি কাজে নিজেদের শ্রমের পাশাপাশি প্রয়োজনে শ্রমিকদের নিয়ে আসেন। শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে তারা ফসলের পরিচর্যা করছেন।
শুধু নয়াপাথারিয়া নয় চাষে খরচ কম ও লাভ বেশি হওয়ায় এ বছরও জেলার বিভিন্ন স্থানে খিরা চাষ বেড়েছে। নতুন করে খিরা চাষে যুক্ত হয়েছেন অনেক চাষি। নয়া পাথারিয়া গ্রামের শফিক মিয়া, মনির মিয়া, আবদুল মান্নানসহ অন্য চাষিরাও খিরা চাষে মনোযোগী হয়েছেন। কারণ বাজারে খিরার প্রচুর চাহিদা রয়েছে। পাইকাররা আগ্রহের সঙ্গে খিরা কিনছেন। চাষিরা মাঠ থেকে খিরা তুলে বস্তায় ভরছেন। বস্তাভর্তি খিরা কিনে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এরপর ট্রাকে বোঝাই করে সরবরাহ করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে।
চাষি সুজন মিয়া জানান, এবার খিরার বাম্পার ফলন হয়েছে। দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে প্রতি কেজি খিরার পাইকারি দাম উঠেছে ১৫ থেকে ১৭ টাকা। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি খিরা বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়। প্রতি সপ্তাহে ৮ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকার খিরা বিক্রি করছেন তিনি। ইমরান মিয়া জানান, পরিবারে অভাব দেখা দিলে স্থানীয় কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় ৩৬ শতক জমিতে খিরার চাষ শুরু করেন তিনি। চাষে খরচ হয়েছে ১২ হাজার টাকা। জমি থেকে খিরা তোলা শুরু হয়েছে জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে। এপ্রিল পর্যন্ত চলবে খিরা তোলা। প্রতি সপ্তাহে তিন থেকে চারবার খিরা তোলেন তিনি। দাম এখন একটু বেশি থাকলেও মার্চের পর দাম কমে যেতে পারে। তবে সব মিলিয়ে খরচ বাদ দিয়ে এবার তার খিরা থেকে আয় হবে ৫০ হাজার টাকা।
খিরা ব্যবসায়ী কাজল মিয়া জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখন হাইব্রিড খিরা পাওয়া গেলেও হবিগঞ্জের উঁচু জমিতে দেশীয় খিরার ভালো ফলন হয়েছে। এখানকার খিরায় স্বাদ রয়েছে। তাই বাজারে এর চাহিদা বেশি। স্থানীয় ভোক্তাদের চাহিদা মিটিয়ে কিছু খিরা দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. তফিজ উদ্দিন বলেন, কৃষি বিভাগের উৎসাহ পেয়ে চাষিরা খিরা চাষে মনোযোগী হয়েছেন। জেলার বিভিন্ন স্থানে খিরার ভালো ফলনে চাষিরা আনন্দিত। খিরা চাষকে এগিয়ে নিতে তিনি কাজ করছেন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT