রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

মঙ্গলবার ১৯ জানুয়ারি ২০২১, ৬ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৯:১৩ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ মোহাম্মদ অংকন’র উপন্যাস ‘আলোমতি’ : সমাজ-ধর্ম ও সামাজিক জীবনাচারণের নির্মম চিত্রের প্রতিচ্ছবি ◈ ধামইরহাট সীমান্তে শীতার্তদের মাঝে ১৪ বিজিবি’র শীতকালীন কম্বল বিতরণ ◈ কানে হেডফোন থাকায় ট্রেনের হুইসেলও শুনতে পাননি রনি ◈ মডেল সাদিয়া নাজের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ◈ ধামইরহাটে গ্রাম্য সালিশে পিটিয়ে বাদীর দাঁত ভেঙ্গে দিলেন ইউপি সদস্য নুরনবী চঞ্চল ◈ বাগাতিপাড়ায় সচেতন এনজিও’র এ্যাভোকেসী সভা ◈ আখাউড়া পৌরসভায় ৪৯ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষনা ◈ নবীনগরে নাইট সার্কেল ফ্রিজ কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট এর উদ্বোধন ◈ নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে সিএমপির পাঁচ থানায় ওসি পদে রদবদল ◈ মুরাদনগরে ৪’শ পরিবারে শীতবস্ত্র বিতরণ

হত্যা করার কথা স্বীকার করেছেন গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা: ডিবি

প্রকাশিত : ০২:২০ PM, ৮ অক্টোবর ২০১৯ মঙ্গলবার ২০১ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

আবরার ফাহাদকে হত্যার ঘটনায় আটক বুয়েট ছাত্রলীগের নেতা–কর্মী। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় গতকাল সোমবার ছাত্রলীগের ১০ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হত্যা করার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম।

আবরার বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭ তম ব্যাচ) ছাত্র ছিলেন। তিনি থাকতেন বুয়েটের শেরেবাংলা হলের নিচতলায় ১০১১ নম্বর কক্ষে। গত রোববার রাতে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করেন বুয়েট ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মী।

গতকাল রাতে আবরার হত্যার ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে তাঁর বাবা বরকত উল্লাহ ঢাকার চকবাজার থানায় মামলা করেন। আটক ১০ জনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় বলে জানিয়েছেন লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মুনতাসিরুল ইসলাম।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাম্প্রতিক কিছু চুক্তির সমালোচনা করে ফেসবুকে আবরারের কিছু স্ট্যাটাস এই হত্যার কারণ বলে গতকাল সোমবার দিনভর বুয়েটের ক্যাম্পাসে আলোচনা ছিল। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

হলের শিক্ষার্থী ও একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আবরারের বাড়ি কুষ্টিয়ায়। রোববার বিকেলে তিনি বাড়ি থেকে বুয়েটের হলে ফেরেন। কয়েক ঘণ্টার মাথায় রাত আটটার দিকে আবরারসহ দ্বিতীয় বর্ষের সাত-আটজন ছাত্রকে শেরেবাংলা হলের দোতলার ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে পাঠান তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাত-আটজন নেতা। তাঁরা আবরার ফাহাদের মুঠোফোন নিয়ে ফেসবুক ও মেসেঞ্জার ঘেঁটে দেখেন। এরপর ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে আবরারকে পেটাতে শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়নরত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আরও কয়েকজন নেতা-কর্মী আসেন। তাঁরা আরেক দফা পেটান আবরারকে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, পেটানোর একপর্যায়ে আবরার নিস্তেজ হয়ে পড়েন। তখন ছাত্রলীগের নেতারা আবরারের হলের সহপাঠীদের ডেকে আনেন এবং তাঁদের দিয়ে নিথর দেহটি দোতলা ও নিচতলার মাঝামাঝি সিঁড়িতে নিয়ে রাখেন। এরপর ছাত্রলীগের নেতারা বাইরে যান রাতের খাবার খেতে। পরে যখন নিশ্চিত হলো আবরার বেঁচে নেই, তখন সিঁড়ি থেকে লাশ নিয়ে রাখা হয় হলের ক্যানটিনে। গতকাল ভোরে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে।

ঘটনায় জড়িত যাঁরা
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, আবরারকে প্রথম দফা পেটানোর ঘটনায় ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপসম্পাদক ও পুরকৌশল বিভাগের ছাত্র অমিত সাহা, উপদপ্তর সম্পাদক ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র মুজতাবা রাফিদ, সমাজসেবাবিষয়ক উপসম্পাদক ও বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ইফতি মোশারফ ওরফে সকালসহ তৃতীয় বর্ষের আরও কয়েকজন। দ্বিতীয় দফায় পেটান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অনীক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক ও নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একই বর্ষের মেফতাহুল ইসলাম ওরফে জিয়নসহ কয়েকজন। তাঁরা সবাই বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ওরফে রাসেলের অনুসারী।

ঘটনার সময় ২০১১ নম্বর কক্ষে উপস্থিত ছিলেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আশিকুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, ‘রাত আটটার দিকে আবরারকে ২০১১ নম্বর কক্ষে ডাকা হয়। আমি মাঝেমধ্যে ওই কক্ষে বন্ধুর কাছে যাই। ওই দিন রাতে গিয়ে দেখতে পাই, সেখানে আবরারের ফেসবুক আইডি ও মেসেঞ্জার চেক করা হচ্ছে। রাত পৌনে নয়টার দিকে আমি কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসি। পরে সেখানে কী হয়েছে, জানি না।’

গ্রেপ্তার ১০ জন
এ ঘটনায় গতকাল সকালে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফুয়াদ হোসেনকে আটক করা হয়। ডিবির যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, এই দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, কারা আবরারকে ডেকে নিয়ে গেছেন এবং লাশ বের করে সিঁড়িতে রেখেছেন, তাঁদের হলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হয়েছে।

দুপুরের পর পুলিশ এ হত্যার ঘটনায় আটক করে ছাত্রলীগের নেতা অনীক সরকার, মেফতাহুল ইসলাম, ইফতি মোশারেফ, বুয়েট ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান ওরফে রবিন, গ্রন্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ ওরফে মুন্না, ছাত্রলীগের সদস্য মুনতাসির আল জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম ওরফে তানভীর ও মোহাজিদুর রহমান।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT