রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

সোমবার ১০ মে ২০২১, ২৭শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

১১:০৯ পূর্বাহ্ণ

হঠাৎ রাজনীতিতে সক্রিয় বিএনপি

প্রকাশিত : ০৪:২৮ AM, ২৩ নভেম্বর ২০১৯ শনিবার ১৫৩ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

দেশের চলমান অস্বাভাবিক পরিস্থিতি, তারেক জিয়ার জন্মদিন ও খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গ নিয়ে হঠাৎ রাজনীতিতে সক্রিয় বিএনপি। গত সপ্তাহ থেকে দলটির শীর্ষ নেতারাসহ মধ্যম সারির নেতারারাও মাঠপর্যায়ে সরব হয়ে উঠেছেন। পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে সভা-সেমিনার ও বিক্ষোভেও লোক সমাগমের উপস্থিতির মাধ্যমে সরকারের কঠোর সমালোচনা করে যাচ্ছেন।

এছাড়া তারেক জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে ঢাকাসহ সারা দেশে আলোচনা সভা, দোয়া অনুষ্ঠানও করেছে দলটির সকল অঙ্গসংগঠনের নেতারা। পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ করেছে বিএনপি। এ ছাড়া প্রেস ক্লাব, ডিআরইউ, বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে প্রায় প্রতিদিনই খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন।

গতকালও বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে রাজধানীতে বিক্ষোভ করেছে দলটি। এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর , আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী সোহেলও আলাদা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সরকারের সমালোচনা ও খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেছেন।

এদিকে আজ শনিবার বেলা ২টায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সমাবেশ করার বৃহৎ প্রস্তুতি রেখেছে বিএনপি। একই সঙ্গে সারা দেশে জেলা ও মহানগরীতেও এই কর্মসূচি পালন করবে দলটি। আজ বৃহৎ সমাবেশের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মুক্তিতে সরকারকে বার্তা দেয়া হবে বলেও ভাষ্য দলটির নেতাকর্মীদের।

এ নিয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার ক্রমান্বয়ে অবনতি ঘটছে। সরকার অন্ধ প্রতিহিংসার বশে খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতেই তার প্রাপ্য জামিনে বাধা দিয়ে সুচিকিৎসায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। তার প্রতিবাদে আজ শনিবার দলীয় কার্যালয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

রিজভীর দাবি, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি হেঁটে আদালতে যাওয়া খালেদা জিয়ার হাত-পা এখন বেঁকে গেছে। প্রচণ্ড ব্যথার কারণে নিজে উঠে দাঁড়াতে পারছেন না। সোজা হয়ে বসতেও পারছেন না। এমনকি নিজের হাতে খেতেও পারছেন না।

আজকের সমাবেশে বিএনপি অনুমতি পেয়েছে কি-না, জানতে চাইলে বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির আমার সংবাদকে বলেছেন, ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগরী থেকে আবেদন করা হয়েছে। অনুমতির বিষয়টা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আশা করছি অনুমতি দেয়া হবে।

যেহেতু বারবারই এমন কর্মসূচিতে একটা অংশের অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে চায়, এরপর পুলিশ বাদি হয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীর নামে মামলায় দেয়। এমন কর্মসূচিতে আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশনা হলো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করা। বিএনপি সেই উদ্দেশ্য নিয়েই কর্মসূচি পালন করবে। আশা করা যায়, পুলিশ অনুমতিতে বাধা দেবে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল আমার সংবাদকে বলেন, আমাদের শক্ত প্রস্তুতি আছে, বিএনপি বরাবরই প্রস্তুতি রাখে। ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে যে গত ১২ বছরে আমাদের জাতীয় পর্যায়ের এমন কর্মসূচিতে এক-দুই ঘণ্টা আগে সময় দিয়েছে। কোথাও কোথাও ৪৫ মিনিট আগেও সময় দিয়েছে। তারপর সেই কর্মসূচিগুলোতে হাজার হাজার লোক উপস্থিত হয়েছে। কালকে (আজ) সারা দেশেই সমাবেশ হবে। ঢাকার প্রস্তুতিও যেমন আছে, সারা দেশেও একই প্রস্তুতি রয়েছে। যাতে স্বল্প সময়ের নোটিসে হলেও সর্বচ্চ সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত থাকেন। লোক উপস্থিতির ক্ষেত্রে আমাদের সেই আলোকেই পরিকল্পনা করা আছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ বিষয়ে আমার সংবাদকে বলেন, দেশের মানুষ এই সরকারের উপর বিরক্ত হয়ে গেছে। অনুমতি না দিয়ে অগণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করে দেশের মানুষকে বিএনপিকে আর কতদিন আটকে রাখবে। এভাবে আর কতদিন জিম্মি করে রাখা সম্ভব। বাধা-বিপত্তি দিয়ে জনগণকে কতদিন আটকে রাখবে। বাধা-বিপত্তি পেলেও আমাদের কর্মসূচিতে লক্ষাধিক লোক জমা হয়। এ জন্যই তাদের ভয়। কালকের সমাবেশেও (আজ) সেরকমই লোকজন উপস্থিত হবে।

তিনি আরো বলেন, এই সরকার জনগণের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। তাদের আস্থা চলে গেছে অন্য জায়গায়। যে আস্থায় তারা টিকে থাকতে চাচ্ছে, এই আস্থায় কেউ টিকে থাকতে পারেনি। মানুষের সমস্ত অধিকার কেড়ে নিয়ে এভাবে আর কতদিন দেশ চালাবে। বিএনপির কর্মসূচিতে কিছুক্ষণ আগেও অনুমতি দিলে স্বল্প সময়ে লক্ষাধিক লোক উপস্থিত হয়ে যায়। এটিই তাদের ভয়। তাদের সমস্ত ভয় হচ্ছে দেশের জনগণ। আসলে এই সরকার তো জনগণের ভোটে আসেনি। তাদের ভয়টা ওখানেই। এ জন্যই তো সংবিধান ভঙ্গ করে, সমাবেশের অনুমতি দিচ্ছে না, সংবিধান ভঙ্গ করে বাক-স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে, ভোট কেড়ে নিয়েছে, আইনের শাসন কেড়ে নিয়েছে। এগুলো থেকে মুক্ত হতে জনগণ উন্মুখ হয়ে আছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT