রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শুক্রবার ২২ অক্টোবর ২০২১, ৭ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০৬:০৯ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ্ব শাহ আলমের নির্বাচনী উঠান বৈঠক। ◈ তাহিরপুর সীমান্তে ভারতীয় মাদকের চালান সহ বিভিন্ন মালামাল আটক ◈ ফুলবাড়ীর ছয় ইউনিয়নে নৌকার মাঝি হলেন যারা ◈ সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে কলমাকান্দায় মানববন্ধন ◈ ডাচ্-বাংলা ব্যাংক শশিকর বাজারে শুভ উদ্বোধন ◈ তাহিরপুরে তথ্য অধিকার বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষন কমিটির সভা ◈ রাজারহাটে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন ত্রাণ ও দূর্যোগ প্রতিমন্ত্রী ◈ রংপুরে তিস্তা পাড়ের বন্যার্তদের পাশে জেলা আ’ লীগ সাধারন সম্পাদক রেজাউল করিম রাজু ◈ শাহজাদপুরে ইউপি নির্বাচনে পুনরায় নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী আব্দুল বাতেনের সমর্থনে জনসভা অনুষ্ঠিত ◈ জামালগঞ্জে ইমামের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

স্বচ্ছ আকাশের প্রত্যাশা

প্রকাশিত : ১১:৫৩ PM, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ শুক্রবার ১,৪৭৮ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

সঞ্জিত চন্দ্র পন্ডিত:
উনিশ শতকের শেষ ভাগে হিন্দু ধর্মীয় সমাজ ব্যবস্থায় রেনেসাঁর প্রভাব ছিল লক্ষণীয়। সেই সময় রাজা রাম মোহন রায় সতীদাহ প্রথার মতো নির্মম প্রথাকে বিলোপ করেছিলেন। এমনকি একেশ্বরবাদী ঈশ্বরের ধারণা থেকে ব্রাহ্ম ধর্মের গোড়াপত্তন করেছিলেন। রামমোহন রায়ের হাত ধরে পরবর্তীতে ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর হিন্দু নারীদের কল্যাণে চালু করেছিলেন বিধবা বিবাহ প্রথা।

১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে ভারত বর্ষে হিন্দু সামাজিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন হয়েছে বিস্তর। কিন্তু ধর্মীয় ভাবে বিভক্ত পূর্ববঙ্গ এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ অংশে এই পরিবর্তনের ছোঁয়া কমই লেগেছে। বিশেষত ধর্মীয় বাতাবরণে আবদ্ধ হিন্দু নারীদের সম্পত্তির অধিকার একেবারেই সীমিত পর্যায়ে রাখা হয়েছে। অথচ হিন্দু সনাতন ধর্মে নারীর অধিকারকে সুপ্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। সনাতনীদের আদি ধর্ম গ্রন্থ পবিত্র বেদে এ বিষয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়।

১) “পিতার সম্পত্তিতে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার রয়েছে।”ঋগে¦দ ৩/৩১/১। ২) “গর্ভের সন্তান ছেলে হোক বা মেয়ে হোক সে যেন ভালো থাকে।” অথর্ববেদ ২/৩/২৩। ৩) “একজন নারীর কখনো যেন কোন সতীন না থাকে।” অথর্ববেদ ৩/১৮/২। ৪) “নারী হল মঙ্গলময়ী লক্ষ্মী।”অথর্ববেদ ৭/১/৬৪। ৫) “নারী হল জ্ঞানের ধারক।”অথর্ববেদ ৭/৪৭/১। ৬) “নারী হল শিশুর প্রথম জ্ঞানদাতা।”অথর্ববেদ ৭/৪৭/২। ৭) “নারী শিক্ষা গ্রহণ শেষে পতিগৃহে যাবে।’ অথর্ববেদ ১১/৫/১৮। ৮) “নারীর যেন দুঃখ কষ্ট না হয়।” অথর্ববেদ ১২/২/৩১। ৯) “নারীকে উপহার হিসাবে জ্ঞান উপহার দাও।” অর্থববেদ ১৪/১/৬। ১০) “হে নারী! মৃত পতির শোকে অচল হয়ে লাভ কী? বাস্তব জীবনে ফিরে এসো। পুনরায় পতি গ্রহণ কর।” অর্থববেদ ১৮/৩/২। এবং ঋগে¦দ এর ১০/১৮/৮নং শ্লোকে বিধবা নারীর বিবাহের কথা বলা হয়েছে।

তাহলে দেখা যাচ্ছে, ‘সনাতন হিন্দু’ ধর্ম ‘নারী’কে দিয়েছে ‘সর্বোচ্চ’ সম্মান ও ‘সমান অধিকার’, তবে হ্যাঁ! ‘সামাজিক বাস্তবতা’ কেও একেবারে বিস্মৃত হলে চলবে না, যারা ‘নারী’কে উপযুক্ত সম্মান দিতে জানে না। “যে সমাজে নারী অবহেলিত, “যে দেশে নারী নির্যাতিত, “যেখানে নারীদের যোগ্য স্বীকৃতি দেওয়া হয়না, “যেখানে নারীদের প্রাপ্য অধিকার বঞ্চিত করা হয়, সেই ব্যক্তি, সমাজ, দেশ, স্থান, সময় কখনো’ই সমৃদ্ধ হতে পারে না। তবে “সমাজ গঠন, ‘শিক্ষা-দেশ-জাতি-পরিবার’ ইত্যাদি উন্নতিকরণে নারীদেরও এগিয়ে আসতে হবে এবং তাদেরকে আমাদেরও উৎসাহ ও সুযোগ দিতে হবে।
হিন্দু উত্তরাধিকার আইনে নারীর মর্যাদাঃ হিন্দু আইনে উত্তরাধিকার নির্বাচন দুটি মতবাদের উপর প্রতিষ্ঠিত। মিতাক্ষরা ও দায়ভাগ। দায়ভাগের রচয়িতা বাঙালি স্মৃতিকার পণ্ডিত জীমুতবাহন। এর রচনাকাল একাদশ থেকে ত্রয়োদশ শতকের মধ্যে বলে মনে করা হয়। অন্যদিকে আনুমানিক ১১শ শতকে মিতাক্ষরা রচনা করেন অবাঙালি স্মৃতিকার বিজ্ঞানেশ্বর। এই দুই মতবাদের ভিত্তিতে হিন্দু আইনে সম্পত্তি উত্তরাধিকারিদের মধ্যে হস্তান্তর হয়ে থাকে।

বাংলায় ব্রিটিশ শাসকগণ সম্পত্তি বণ্টন, উত্তরাধিকার ও উত্তরাধিকারক্রম নির্ণয়ের আইনের ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করেনি। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর ভারতে হিন্দু আইনের পরিবর্তন ঘটে। ১৯৫৫ সালে ভারতে নতুন বিবাহ আইন প্রচলিত হয়, যাতে বিবাহ পদ্ধতির পরিবর্তন ঘটে এবং বহুপত্নীর বিধান বিলুপ্ত হয়। বিবাহ-বিচ্ছেদ পদ্ধতিরও পরিবর্তন হয়। ১৯৫৬ সালে অপর একটি ধারাবলে দায়ভাগ বা মিতাক্ষরার মাধ্যমে উত্তরাধিকারক্রম পরিবর্তিত হয়। পিতা বা মাতার মৃত্যুর পর সম্পত্তিতে পুত্র-কন্যা উভয়ের সমান অংশ এবং স্ত্রী বা স্বামীর এক তৃতীয়াংশ পাওনা স্বীকৃত হয়। কিন্তু পাকিস্থানে সেই পুরোনো হিন্দু আইন বলবৎ থাকে। বর্তমান বাংলাদেশ তৎকালীন পাকিস্তানের অংশ হওয়ায় একই আইন পূর্ব-পাকিস্তানে বলবৎ করা হয় যা এখনো বর্তমান স্বাধীন বাংলাদেশে কার্যকর রয়েছে।

দায়ভাগ ও মিতাক্ষরার প্রধান পার্থক্য-দায়ভাগ ও মিতাক্ষরার মধ্যে প্রধান পার্থক্য হচ্ছে- ক) দায়ভাগ সম্পত্তির প্রতি জন্মগত অধিকার স্বীকার করে না, মিতাক্ষরা করে খ) দায়ভাগ মতে উত্তরাধিকার ও উত্তরাধিকারক্রম নির্ধারিত হয় পারলৌকিক ক্রিয়াকর্মের বিধান দ্বারা, মিতাক্ষরা মতে নির্ধারিত হয় রক্ত সম্পর্কের দ্বারা গ) দায়ভাগমতে যৌথ পরিবারের সদস্যরা ব্যক্তিগত সম্পত্তির অংশীদার হয় এবং সেগুলো তার পরিবার ভাগ হওয়ার পূর্বেই বিলি বন্দোবস্ত করতে পারে ঘ) দায়ভাগমতে যৌথ পরিবারের বিধবা তার স্বামীর অংশের মালিক হয়, যদি স্বামী নিঃসন্তান অবস্থায় মারা যায়, কিন্তু মিতাক্ষরায় এ বিধি স্বীকৃত নয়। দায়ভাগ পদ্ধতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশ ও আসামে প্রচলিত আছে। আর মিতাক্ষরা পদ্ধতি রয়েছে ভারতের অন্যান্য প্রদেশ ও পাকিস্তানে।

বাংলাদেশে প্রচলিত দায়ভাগ আইন দায়ভাগ মতে পি-দানের অধিকারী ব্যক্তি মাত্রই মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী। দায়ভাগের বিধান অনুযায়ী পিতার অকৃষিবিষয়ক সম্পত্তি ব্যতীত অন্যান্য সম্পদের একমাত্র উত্তরাধিকারী তার পুত্ররা। অকৃষিবিষয়ক সম্পত্তির ক্ষেত্রে মৃতের স্ত্রী পুত্রদের সমান অংশীদার। পুত্র থাকা অবস্থায় কন্যারা পিতার কোনো সম্পত্তির অধিকারি হতে পারে না। কোনো বন্ধ্যা বিধবা কন্যা কিংবা পুত্রহীন অথবা পুত্র লাভের সম্ভাবনা নেই এমন কন্যারা পিতার সম্পত্তির অধিকারী হয় না। তথাকথিত অসতী স্ত্রী কিংবা কন্যাও সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হওয়ার যোগ্য নয়। দায়ভাগ মতে কেবল পাঁচ শ্রেণির স্ত্রীলোক সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তারা হলো- স্ত্রী, কন্যা, মা, পিতামহী ও প্রপিতামহী। তবে এরা কেবল এদের জীবদ্দশায় এ অধিকার ভোগ করতে পারে; মৃত্যুর পর মৃত পুরুষের নিকটতম পুরুষ উত্তরাধিকারী এর মালিক হয়, নারী উত্তরাধিকারী নয়। আজীবন উত্তরাধিকারপ্রাপ্ত স্ত্রীলোকেরা কেবল মৃত ব্যক্তির পারলৌকিক ক্রিয়া সম্পাদনে সীমিত পরিমাণ সম্পত্তি বিক্রি করার অধিকারী। যার ফলে একজন নারী তার পিতা ও স্বামী উভয় সম্পত্তির অধিকার থেকেই বঞ্চিত হচ্ছে।

এছাড়াও যারা উত্তরাধিকার বঞ্চিত হন ধর্মত্যাগী, ধর্মত্যাগীর পুত্র, পুরুষত্বহীন, জন্মান্ধ, আজন্ম বধির, উন্মাদ, নির্বোধ, বোবা, বিকলাঙ্গ, দুরারোগ্য ব্যাধিগ্রস্থ, কুষ্ঠরোগী, সংসারত্যাগী ও বিশ্বাসঘাতক। কোনো হিন্দু ধর্মান্তরিত হলে এবং ধর্মান্তরের পরে উত্তরাধিকার নির্ধারিত হলে সে সম্পত্তির অধিকার পায় না। যদি কোনো হিন্দু বিধবা পুনরায় বিয়ে করে তাহলে পূর্বের স্বামীর নিকট থেকে প্রাপ্ত সম্পদ তাকে ত্যাগ করতে হয়।

বাংলাদেশ সংবিধান ও হিন্দু উত্তরাধিকার আইনঃ বাংলাদেশের সংবিধানের সাথে প্রচলিত হিন্দু উত্তরাধিকার আইন সাংঘর্ষিক বাংলাদেশের সংবিধান নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা দিয়েছে এবং বলা হয়েছে যে, ‘রাষ্ট্র এমন কোনো আইন প্রণয়ন করবে না যা মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। এ ধরণের কোনো আইন থাকলেও তা বাতিল বলে গণ্য হবে।’ সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে বলা হচ্ছে-‘ সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।’ সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে-‘কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করবে না।’ তৃতীয়ত ‘রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী পুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন।’ সংবিধানের ১৯(১) অনুচ্ছেদে বলা আছে-‘সকল নাগরিকের সুযোগের সমতা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হইবেন, (২) বলা আছে, ‘মানুষে মানুষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্য বিলোপ করিবার জন্য, নাগরিকের মধ্যে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করিবার জন্য এবং প্রজাতন্ত্রের সর্বত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমান স্তর অর্জনের উদ্দেশ্যে সুষম সুযোগ-সুবিধাদান নিশ্চিত করিবার জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।’

হিন্দু উত্তরাধিকার আইন সংস্কারে বিবদমান বিষয়ঃ বাংলাদেশের হিন্দু আইন নারীর জন্য অমর্যাদাকর, বৈষম্যমূলক। প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা কিছু বিশ্বাস, কিছু আচার-আচরণ, কিছু কু-প্রথা নিয়েই এই হিন্দু আইন। সময়ের প্রয়োজনে মানুষের জীবন-যাপনে, আচরণে পরিবর্তন এসেছে। মানুষ ধীরে ধীরে তা মেনেও নিয়েছে। হিন্দু সমাজও নানা কুপ্রথা-কুসংস্কার বর্জন করে তার যাত্রা অব্যহত রেখেছে। কিন্তু নারীর অধিকারের ব্যাপারে বাংলাদেশের হিন্দু সমাজের কিছু পুরুষতান্ত্রিক প্রতিনিধি আজও পরিবর্তনের বিপক্ষে অবস্থান করছে।

১. তারা বলেন হিন্দু আইন ধর্মের অঙ্গ। হিন্দু আইনের নিয়ন্ত্রণ তাদের ধর্মের নিয়ন্ত্রণ। রক্ষণশীলদের এই যুক্তি সঠিক নয়। হিন্দু আইনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলেই দেখা যায় এটা কোনো ধর্মীয় বিধি নয়। এই আইন কেবল আঞ্চলিক ও সামাজিক প্রথার উপর প্রতিষ্ঠিত।২. রক্ষণশীল কিছু হিন্দু নেতাদের দ্বিতীয় যুক্তি হচ্ছে, বাংলাদেশের হিন্দু মেয়েরা অন্য ধর্মীয় গোষ্ঠীর বড় টার্গেট। সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে তারা নিরাপত্তাহীন। হিন্দু মেয়েরা সম্পত্তি পেলে মুসলিম যুবক কর্তৃক তাদের জোরপূর্বক অপহরণ, বিয়ে এবং ধর্মান্তরিত করার প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে।

রাজনৈতিক ও সামাজিক কারণে বাংলাদেশে হিন্দু মেয়েরা নিরাপত্তাহীন একথা সত্য। কিন্তু তাদের সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার বড় কারণ তাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতা। কর্মজীবী নারীর আর্থিক নিরাপত্তা থাকায় সমাজে ও পরিবারে তারা অনেক বেশি স্বাধীন ও নিরাপদ। রাষ্ট্রের কাছে যে কোনো অন্যায়ের প্রতিকার চাওয়ার ক্ষমতা স্বাবলম্বী মেয়েরাই রাখে। একটি মেয়ের সম্পদ হলে তার প্রতি ভিন্ন সম্প্রদায়ের যুবকের দৃষ্টি পড়তে পারে-এই ভয়ে কি হিন্দু মেয়েদের চাকরি করতে দেয়া হবে না? আর ধর্মান্তরের প্রশ্ন? পৈত্রিক সম্পত্তি পেলে বরং হিন্দু মেয়েদের ধর্মান্তরিত করা কঠিন হবে। কেননা হিন্দু আইন অনুযায়ী ধর্মান্তরিত হলে সে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবে। ধর্মান্তরিত হিন্দু ধর্মীয় আইন ও রাষ্ট্রীয় আইন উভয় বিধানেই এর নিশ্চয়তা দেয়া আছে। উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে হিন্দু আইনের বিধান হচ্ছে- একবার কোনো ব্যক্তি ধর্মান্তরিত হলে সে তার নতুন ধর্মের পারিবারিক আইন দ্বারা পরিচালিত হবে।

৩. বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়াশীল হিন্দু রক্ষণশীলদের তৃতীয় যুক্তি হচ্ছে- সম্পত্তিতে নারীদের অধিকার ধর্ম অবমাননার সামিল।এই যু্ক্িত সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কারণ প্রচলিত হিন্দু আইন সনাতন ধর্মের আবশ্যিক শর্ত নয়। এই আইন সম্পূর্ণ প্রথাগত ও অঞ্চলভিত্তিক যা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১১ থেকে ১৩ শতকের মধ্যে। স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তীর অপেক্ষায় বাংলাদেশ, এরই মধ্যে “ডিজিটাল বাংলাদেশ” নামক উন্নয়ন ধারণা নিয়ে দেশে পৌঁছে গেছে উন্নয়নের মহাসড়কে। আর এর মূল কারিগর হলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নানামুখী উদ্যোগ সতিই অভূতপূর্ব। হিন্দু উত্তরাধিকার আইনের এই প্রস্তরখণ্ড চূর্ণ হোক এই মানবতাবাদী মহিয়সী নারীর হাতে ধরেই। ইতিহাস অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে রাজা রাম মোহন রায় কিংবা ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরের মত। হাজারো হিন্দু নারীর দীর্ঘশ্বাসের ভারী আবহাওয়ায় আকাশে স্বচ্ছতা এনে দিতে পারে হিন্দু উত্তরাধিকার আইন সংস্কারের একটি দৃঢ পদক্ষেপ।
( তথ্যসূত্রঃ হিন্দু ধর্মীয় গ্রন্থ, হিন্দু উত্তরাধিকার আইন, বিভিন্ন সংবাদ পত্র)

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT