রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২০, ১৩ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১১:৩৮ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ রাজশাহীর তাহেরপুর পৌরসভা বিএনপি’র আয়োজনে মতবিনিময় সভা ◈ পত্নীতলায় পউস ব্লাড এইড এর উদ্যোগে ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পেইন ◈ রাজশাহীর পবা উপজেলা পরিষদে মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয় ◈ ইয়াবাসহ দুই মাদক বিক্রেতা গ্রেফতার করেছে পুলিশ ◈ তাড়াইলে কৃষি বিষয়ক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত ◈ কুড়িগ্রামে আমন ধানের ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কা ◈ তৃতীয় বারের মতো কিশোরগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ পুলিশ পরিদর্শক নির্বাচিত নাহিদ হাসান সুমন ◈ হোসেনপুরে শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতন করে হত্যা ◈ আমতলীতে মাদকসেবীদের আতঙ্কের নাম এস.আই সোহেল রানা ◈ ময়মনসিংহ ত্রিশাল কালীর বাজার স্পোটিং ক্লাবের উদ্যোগে ফুটবল খেলা আয়োজন

স্থাপনা ভাঙা-গড়ার খেলা

প্রকাশিত : ০৪:৫৮ AM, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ Saturday ২০৩ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

বছরজুড়ে সিটি কর্পোরেশন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), নৌ-মন্ত্রণালয় ও রেল-মন্ত্রণালয় নিয়মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চালায়। এতে সরকারের মোটা অংকের টাকা আয়-ব্যয় হয়। কিন্তু দেখা যায়, একদিকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে, অন্যদিকে আবার সেগুলো দখল হয়ে যাচ্ছে। উচ্ছেদ অভিযানের নামে দিনের পর দিন রাজধানীসহ সারা দেশে এভাবেই চলছে ভাঙা-গড়ার খেলা। তবে উচ্ছেদ হওয়া জায়গায় আবার যেন স্থাপনা গড়ে উঠতে না পারে এ নিয়ে সংস্থাগুলোর কোনো মাথাব্যথা নেই।

এ ব্যাপারে সংস্থাগুলোর বক্তব্য হচ্ছে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া কোনোভাবেই অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করা যাবে না। কারণ, প্রতিটি এলাকায় যারা অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলেন; তারা সেই এলাকার স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ছত্রছায়ায় থাকেন। এই ভাঙা-গড়ার খেলায় সরকারের বিপুল অর্থ লোকসান, কর্মকর্তাদের সময় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ব্যবহার করা হচ্ছে। এ জন্য সংস্থাগুলোর সবার আগে দরকার— যেসব রাজনৈতিক নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ফুটপাত ও সরকারি জমি দখল হয়ে যাচ্ছে, তাদের সচেতনতার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ পরিস্থিতিতে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে শুরু করছে ফুটপাত দখলমুক্ত অভিযান।

ঢাকার দুই মেয়র ও সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বলছেন, এবার আর দখলমুক্ত ফুটপাত নতুন করে দখল হতে দেয়া হবে না। কিছুদিন আগেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) গুলিস্তান এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এদিকে উচ্ছেদ করছে অন্যদিকে ফের ফুটপাত দখল হয়ে যাচ্ছে।

ডিএসসিসির মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, গুলিস্তানের কয়েকটি দখল হয়ে যাওয়া সড়ক উদ্ধারে অভিযান চালানো হবে। অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেও সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার কাজ অব্যাহত থাকবে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেছেন, রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে একটি পুলিশ ফাঁড়ি বসানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সিটি কর্পোরেশন একটি জায়গা ইতোমধ্যে নির্ধারণ করেছে।

মেয়র বলেন, জনগণের জন্য ফুটপাত, রাস্তা। কিন্তু একটি গোষ্ঠী ফুটপাত দখল করতে করতে রাস্তাও দখল করে ফেলে। বাণিজ্য ও চাঁদাবাজি করছে। এই রাস্তা, ফুটপাত জনগণের টাকায় হয়েছে। তারা এই দখল চায় না। দখল উচ্ছেদের পরও আবার দখল করা হয়। তাই আমরা এখানকার একটি জায়গা ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য পুলিশকে দেবো। পুলিশ ফাঁড়ি থেকেই এ এলাকায় ফুটপাত দখলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গত কয়েক বছরে দুই সিটি কর্পোরেশন রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে শতশত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে। এ বছরই অভিযান হয়েছে এমন অন্তত ২০টি স্থান ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি স্থানই আগের মতোই হকার আর ব্যবসায়ীদের দখলে চলে গেছে।

সমপ্রতি সরেজমিন দেখা গেছে, গত ১৬ নভেম্বর ডিএনসিসি ঢাকঢোল পিটিয়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার মধ্য বেগুনবাড়ী এলাকার সড়কের দুপাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের অবৈধ ওয়ার্ড কার্যালয়টিও ছিলো। এ ছাড়া আরও প্রায় অর্ধশত দোকান বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। কিন্তু উচ্ছেদের পরদিনই ব্যবসায়ীরা নিজ নিজ জায়গায় অস্থায়ী দোকান বসিয়ে ফের ব্যবসা শুরু করে দেন।মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় রাজউক উচ্ছেদ অভিযান করে বুলডোজার দিয়ে অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলে সেখানেও ফের স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখা গেলো শাহবাগের অবৈধ ফুলের দোকান উচ্ছেদের বেলায়ও। ২২ নভেম্বর শতাধিক দোকান উচ্ছেদ করা হয়। কিন্তু উচ্ছেদের পর আবার দোকানদারেরা তা দখল করে নেয়। ভেঙে ফেলা সব দোকান নতুন করে গড়ে উঠেছে। উচ্ছেদের সময় শাহবাগ থানার পুলিশও সেখানে উপস্থিত ছিলো।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সগীর হোসেন আমার সংবাদকে বলেন, আমাদের উচ্ছেদের জন্য নিয়োগ করেছে, আমরা উচ্ছেদ করে এসেছি। এবার যেসব এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে, সেখানে ফের যেন দখল না হয় সেটির আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা দেখভাল করবেন। এ জন্য গত সপ্তাহ ডিএনসিসি একটি টিম গঠন করেছে। সিটি কর্পোরেশনের ফুটপাত ও সড়ক বাদেও কিছুদিন আগে তোড়জোর করে নৌ-মন্ত্রণালয় অবৈধ নদী দখলমুক্ত করলেও মেঘনা নদীতে ফের দখলের রাজত্ব চলছে। নদী ভরাট করে সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, কলকারখানা, ডকইয়ার্ড ও বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। মেঘনা নদীর কোন সীমানা পিলার না থাকায় বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান নিজেদের ইচ্ছামতো নদী দখল করে কলকারখানা তৈরি করছে। দুই মাস আগে মেঘনা লঞ্চঘাট এলাকায় দোকানপাটসহ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও কয়েক দিন যেতে না যেতেই আবার আগের মতো অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে বুড়িগঙ্গা ও তুরাগের মতো মেঘনা নদীও হারানোর সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

এদিকে সম্প্রতি কারওয়ান বাজারের পর রাজধানীর খিলগাঁও-মালিবাগে রেললাইনের দুপাশের অবৈধ স্থাপনাও উচ্ছেদ করে রেল কর্তৃপক্ষ। এই এলাকায় ফের ভাসমান ঘরবাড়ি তৈরি করা হয়েছে। এখানে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও নানা অসামাজিক কাজ-কর্মের অভিযোগ আছে। তা ছাড়া রেল লাইনের ওপরেই বাজার বসে।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর এম মাহবুব উল ইসলাম বলেন, মেঘনা নদীর সীমানা পিলার না থাকার কারণে অনেকে ভুয়া কাগজ বানিয়ে নদীর জায়গা নিজেদের করে নিচ্ছে। যত বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান হোক না কেন সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হবে। নদীকে রক্ষার জন্য সরকার কঠোর অবস্থানে আছে। নদীর জায়গা নদীকে ফিরিয়ে দিতে হবে এটা আমাদের অঙ্গিকার।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান আমার সংবাদকে বলেন, সারা দেশে উচ্ছেদ অভিযানগুলো বিচ্ছিন্নভাবে করায় সফলতা আসছে না। নৌ-মন্ত্রণলয়, রাজউক কিংবা সিটি কর্পোরেশন সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়াই অভিযান চালায়। প্রথম এক-দুই মাস দখলদাররা নিশ্চুপ থাকে পরে আগের রূপেই চলে আসে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সামগ্রিকভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালালে সফল হওয়া যাবে বলে মনে করছেন এ নগরপরিকল্পনাবিদরা।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT