রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০১:১৬ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

স্কোয়াশে লাভ দেখছেন নাটোরের কৃষকরা

প্রকাশিত : ০৬:৩৩ PM, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০ Friday ১২১ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

দেশের বিভিন্ন স্থানে চাষাবাদ দেখে নাটোরের কৃষকরাও শুরু করেছেন বিদেশি সবজি স্কোয়াশের চাষ। স্থানীয় অন্য সবজির চেয়ে বেশি পরিমাণে উৎপাদন হওয়ায় আর্থিকভাবে বেশ লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। তারা বলছেন স্কোয়াশ চাষ করে মাত্র ৩ মাসে এক বিঘা জমি থেকে প্রায় ২ লাখ টাকার মতো লাভ করা সম্ভব।

নাটোর সদর উপজেলার ছাতনী ইউনিয়নের ছাতনী-দিয়ারপাড়া গ্রামের তরুণ কৃষক রাজীব হাসান ও মনির এবং কৃষি বিভাগের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।

সরেজমিনে ছাতনী দিয়ারপাড়া গ্রামে গিয়ে কথা হয় স্থানীয় কৃষক রাজীব হাসানের সঙ্গে। দিয়ারপাড়া গ্রামের ইউসুফ প্রামানিকের ছেলে রাজীব জানান, তিনি ইউনিয়ন কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে এক বিঘা পাঁচ কাঠা জমিতে স্কোয়াশের চাষ করেছিলেন। শুরুতে অক্টোবর-নভেম্বর মাসে তিনি নারকেলবেডে স্কোয়াশের বীজ বপন করেন। নিয়মিত পরিচর্যার ১৫-২০ দিন পর বেড থেকে চারাগাছ তুলে মানচিং পদ্ধতিতে জমিতে রোপন করেছেন।

তিনি বলেন, মানচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদের জন্য প্রথমে জমি তৈরির পর তাতে বেড তৈরি করি। এরপর ওই বেডের মাটিতে ২০ কেজি রাসায়নিক সার, ৬০ মণ গোবর সার মেশাই। এরপর বেডের ওপর পলিথিন সেট করে দেই। পলিথিনে ২ ফুট পর পর প্রতিটি চারাগাছ রোপণ করা হয়। চারাগাছের বয়স ৪০-৪৫ দিন হওয়া শুরু হতেই ১-২ দিন পর পর স্কোয়াশ তুলে বাজারে বিক্রি করা শুরু করি। শুরুতে ৬০-৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করলেও এখন বাজার দর ৩০-৩৫ টাকা কেজিতে নেমে এসেছে বলে জানান তিনি। এ পর্যন্ত ওই জমি থেকে ৩৫ বার স্কোয়াশ তোলা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, গাছগুলো থেকে আরও প্রায় ১০ বার স্কোয়াশ তুলে বিক্রি করতে পারবেন। প্রতিটি গাছ থেকে গড়ে ১০ কেজি স্কোয়াশ পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

রাজীব বলেন, স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে স্কোয়াশ ঢাকার কারওয়ান বাজারে পাঠিয়ে বিক্রি করছি। স্কোয়াশ চাষ করতে তার ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকার স্কোয়াশ বিক্রি করেছি। তবে আরও ১০ বার বিক্রি করা যাবে উল্লেখ করে তিনি জানান, এতে তার প্রায় ২ লাখ টাকা লাভ হবে।

কথা হয় স্থানীয় কৃষক মনিরের সঙ্গে। তিনি জানান, দুই বিঘা জমিতে স্কোয়াশের চাষ করেছেন। এখন পর্যন্ত ১০-১৫ হাজার টাকার স্কোয়াশ বিক্রি করেছেন। আরও প্রায় ৩০-৩৫ বার ফসল তুলে বিক্রি করতে পারবেন জানিয়ে তিনি বলেন, এই স্কোয়াশ বিক্রি করে তিনি প্রায় চার লাখ টাকা লাভ করতে পারবেন।

ইউনিয়ন সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাহফুজা আক্তার জানান, সাধারণত উঁচু জমিতে স্কোয়াশের চাষ ভালো হয়। স্কোয়াশ ছোট করে কেটে লবণসহ সেদ্ধ করে শিশুদের পরিবেশন করা যায়। শিশুরা এই সবজি মজা করে খায়।

ছাতনীর পন্ডিতগ্রাম ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন জানান, স্কোয়াশ কুমড়ো জাতীয় সবজি। এটি সালাদ ও সবজি তরকারি হিসেবে রান্না করে খাওয়া যায়। এতে ভিটামিন এ, বি,সি ও বিভিন্ন খনিজ লবণ আছে। এটি চাষে কোনও বিষ প্রয়োগ করতে হয় না, বিধায় নিরাপদ খাদ্য-পুষ্টিমান সমৃদ্ধ।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদুল জানান, গত বছর জেলায় চার বিঘা জমিতে স্কোয়াশ চাষ শুরু হয়। বর্তমানে সদর উপজেলায় ৭ বিঘা জমিতে স্কোয়াশের চাষ হচ্ছে। স্কোয়াশ তিন ধরনের দেখা যায়। সাদা ও সবুজ রঙের। সবুজ রঙের স্কোয়াশ আবার একটি গোলাকৃতি আর অন্যটি লম্বা। শর্ট টাইম সবজি চাষে অধিক লাভবান হওয়ায় কৃষকরা এই স্কোয়াশ চাষে দিন দিন ঝুঁকছেন বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, স্কোয়াশের জমিতে পোকার আক্রমণ রোধে সেক্স ফেরোম্যান ফাঁদ দেওয়া হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে ৭-১০টি সেক্স ফেরোম্যান ফাঁদ দিলেই পোকার আক্রমণ রোধ হয়।

সাধারণত স্কোয়াশ চাষে তেমন কোনও সমস্যা হয় না জানিয়ে তিনি আরও জানান, কোনও কোনও গাছে ছত্রাকের আক্রমণ হয়। তখন ওই গাছের গোড়াতে ছত্রাকনাশক ওষুধ স্প্রে করলেই হয়।

বিঘা প্রতি ১০-১২ মেট্রিকটন স্কোয়াশ উৎপাদন সম্ভব বলে জানান তিনি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক সুব্রত কুমার জানান, সদর উপজেলার ছাতনী ছাড়াও লালপুর উপজেলায় স্কোয়াশ চাষ শুরু হয়েছে। তবে স্থানীয় মার্কেটে এর চাহিদার তুলনায় জেলার বাইরে চাহিদা বেশি। কৃষকরা এই সবজি ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠিয়ে যাতে অধিক লাভবান হতে পারেন, সে বিষয়ে তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহাযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT