রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

মঙ্গলবার ২৪ মার্চ ২০২০, ১০ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

০১:২৫ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

সোশ্যাল ডিসটান্সিং ও লকডাউন কি এবং এদের সুবিধাগুলো কি কি?

সোহেল রানা

প্রকাশিত : ১০:২০ AM, ২১ মার্চ ২০২০ Saturday ২৩ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

করোনাকে দুনিয়া থেকে তাড়ানোর অন্যান্য উপায়ের একটা হলো এর বিস্তার রোধ করার চেষ্টা। অর্থাৎ যেসব ভৌগলিক অঞ্চলে করোনার বিস্তার হয়েছে সেখান থেকে এটিকে অন্যত্র ছড়িয়ে যেতে না দেওয়া। করোনা যেহেতু আক্রান্ত রোগীর ৬ ফুটের আশেপাশে থাকলে সহজেই ছড়িয়ে পড়ে সেহেতু সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং এর অর্থ হলো আমাদের পরস্পরের সাথে যেকোন যোগাযোগে সবসময় ৬ ফুট দূরত্ব বজায় রাখা। এতে করে প্রত্যাশাটা হলো, ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া কমে যাবে।

অপরদিকে, লকডাউন হলো আক্রান্ত ও অনাক্রান্তের চলাফেরা ও পাবলিক লাইফ প্রচন্ডভাবে সীমীত করা। অনেকটাই নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করতে বাধ্য করা।

করোনা নিয়ে লকডাউনের যে ফেইজটা দুনিয়াতে আসবে বলে বিশেষজ্ঞরা প্রেডিক্ট করছিলেন সেটা চলে এসেছে। পৃথিবীর প্রায় সকল দেশই চলাচল সীমীত করেছে, সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং এর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, জনসমাগম হয় এমন স্থানে (স্কুল, কলেজ, পার্ক, রেস্তোরা, মসজিদ/মন্দির/চার্চ) জনসমাগম নিষিদ্ধ করেছে, বিমান চলাচল স্থগিত করেছে।

এসব পদক্ষেপের ফলাফল হিসেবে আমরা যেটি আশা করছি সেটি হলো করোনার বিস্তার কমে যাবে। অর্থাৎ করোনা বিস্তারের যে কার্ভ সেটি ফ্ল্যাটেন হয়ে যাবে। ” Flatten the curve” এর ধারণাটি হলো, প্রতিদিন নতুন আক্রান্তের সংখ্যা সীমীত করা। যেটি চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া বেশ ভালোভাবেই করেছে।

চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া কি কার্ভ ফ্ল্যাটেন করতে পেরেছে? পারলে কিভাবে পেরেছে?

আপাতত প্রতিদিন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুহারের ডাটা দেখে মনে হচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া ও চীন উভয়েই কার্ভ ফ্ল্যাটেন করতে পেরেছে। অর্থাৎ নতুন রোগী এই দুটো দেশেই বেশ কমে গেছে। বোঝা যাচ্ছে তারা ভাইরাসের বিস্তার রোধে ভালো ভূমিকা পালন করছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনা বিস্তারের কার্ভ নিচের দিকে নেমে গেছে অর্থাৎ প্রতিদিন আগের চেয়ে কম সংখ্যক লোক আক্রান্ত হচ্ছে। কোরিয়া ও চায়নার সাফল্যের রহস্য কি?

করোনার বিস্তার রোধ চাইনিজ মডেল হলো লকডাউন ও বাধ্যতামূলক কোয়ারেনটাইন। এর সাথে রয়েছে ব্যাপক জনসচেতনতা ও সাধারণ মানুষের রেসপনসিবল আচরণ।
চায়না বড় শহরগুলোতে মানুষের চলাচলে বাধ্যতামূলক বাধানিষেধ আরোপ করেছিলো এবং হুবেই প্রদেশকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিলো।

অপরদিকে, দক্ষিণ কোরিয়া সকলের জন্য ফ্রি করোনা টেস্টিং ও আগাম চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। প্রতিদিন গড়ে ২০,০০০ লোককে বিনামূল্যে টেস্ট করতে পারে কোরিয়া। এভাবেই আগাম চিহ্নিত করা ও তাদেরকে কোয়ারেনটাইন করার মাধ্যমে কোরিয়াও ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে।

বাংলাদেশে করোনা ছড়ালে এ দুটো মডেলের একটাও পুরোপুরি অনুসরণ করা সম্ভব না। কারণ, আমাদের জনসংখ্যার অতিঘনত্ব ও আমাদের টেস্টিং ক্ষমতার অপ্রতুলতা। চাইনিজ লকডাউন বা কোরিয়ার টেস্টিং দুটোই আমাদের জন্য কঠিন।

লকডাউন এর অসুবিধা কি?

লকডাউনের অসুবিধা হলো অর্থনৈতিক ক্ষতি। বর্তমানের সকল ব্যবসা বন্ধ ও ভবিষ্যতের বাণিজ্যিক ও আর্থিক ক্ষতি। এভাবে অভ্যন্তরীণ ও আর্ন্তজাতিক বাণিজ্য দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে পৃথিবী ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে বেশ কয়েক পিছিয়ে যাবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT