রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

রবিবার ১৭ জানুয়ারি ২০২১, ৪ঠা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৩:৪২ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েই খুন কাউন্সিলর ◈ নজিপুর পৌরসভা নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী রেজাউল কবির বিজয়ী ◈ নবীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী সাবির আহমেদ চৌধুরী বিজয়ী ◈ নৌকার সাথে একাত্মতা ঘোষণা করলেন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী রুস্তম আলী প্রামাণিক ◈ ‘বর্তমান সরকার নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে’ ◈ প্রকাশ্যে এলো কাজী শুভ’র ইচ্ছে ◈ “সবাই পাবে অটোপাশ আমরা কেন খাব বাঁশ” পটুয়াখালীতে পলিটেকনিক ছাত্র-ছাত্রীরা ◈ সোনার বাংলা সংগীত নিকেতনের উদ্যোগে সুনাগরিক গঠনে শিক্ষকের ভূমিকা ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক আলোচনা ◈ ভোলায় ৪০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার- ১ ◈ মির্জাগঞ্জে ব্রিজ ভেঙ্গে নিহত -১, আহত ৬ জন

সেকালের ঈদ আনন্দ

আব্দুল্লাহ আল মুকিত

প্রকাশিত : ১০:৩৭ PM, ২৪ মে ২০২০ রবিবার ১৭৫ বার পঠিত

আব্দুল্লাহ ‍আল মুকিত, ইবি প্রতিনিধি:
alokitosakal

সেকালের ঈদ আনন্দ

প্রতিটি মানুষের কাছে শৈশবের ঈদের স্মৃতি হলো দারুণ আনন্দের । বর্তমানের শত ব্যস্ততার ফাঁকে মনটা বার বার ফিরে যায় স্মৃতিময় অতীতে।
শৈশবের হাজারো স্মৃতির মাঝে খুব বেশি মনেপরে ঈদের দিনের স্মৃতিগুলো। সেই মধুর স্মৃতিমাখা ঈদের দিনগুলি ভুলিই বা কি করে ?
জন্ম আমার গ্রামে হলেও সেখানে খুব বেশিদিন থাকা হয়নি। বাবার চাকুরির সূত্রে খুব অল্প বয়সেই গ্রামের মায়া ত্যাগ করে ইট পাথরের শহরে পাড়ি দিতে হয়েছে। আর তখন থেকে শহরেই বেড়ে উঠা। গ্রামে খুব একটা যাওয়া হতো না, মাঝে মাঝে দাদু আমাদের দেখতে শহরে আসতেন। প্রতি বছর দুই ঈদে দাদুর বাড়ি অর্থাৎ গ্রামে যেতাম। ঈদের দুই একদিন আগে দাদু সাইকেল চালিয়ে আমাকে নিতে শহরে আসতেন। আমিও দাদুকে দেখে বুঝে যেতাম এবার গ্রামের নির্মল বাতাসে প্রাণ ভরে নিশ্বাস নেবার সময় এসেছে।
আব্বু-আম্মুকে নিয়ে ঈদের বাজার আগেই সেরে রাখা হতো।
পরদিন সাইকেলের পেছনে বসে গ্রামের মেঠোপথ ধরে দাদুর বাড়ি ঈদ করতে যেতাম। দাদুবাড়ি পৌঁছেই আমার প্রথম কাজ হলো ঈদের দিন যেসব জামা পরব, সেগুলো কেউ দেখার আগেই কোন গোপন জায়গায় লুকিয়ে রাখা।
আমার বাবারা চার ভাই, আর তাই চাচাত ভাই-বোন সব মিলিয়ে ডজন খানেক হবে! সবাই যে যার মতো জামা-কাপড় লুকিয়ে রাখত এজন্যে যে, অন্যরা দেখে যেন পুরনো না করে দেয়। সন্ধার আগেই গ্রামের সব ছেলেরা মিলে চাঁদ দেখতে বেরোতাম। ঈদের আগের রাতে চাঁদ দেখার মজাই আলাদা। আমার দাদুবাড়ি একদম ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা একটি গ্রাম। আমরা সবাই সীমান্তের পাশে বড় একটা ফাঁকা মাঠে গিয়ে আকাশের দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে থাকতাম চাঁদের অপেক্ষায়। ছোটবেলায় চাঁদ দেখার মাঝে যে কী আনন্দ ছিল সেটা বোঝানো যাবে না।
চাঁদ দেখামাত্র সবাই এক সাথে খুশির মিছিল বের করতাম। প্রচুর বাজিও ফোটানো হতো বাজির শব্দে ঘুমন্ত গ্রাম জেগে উঠে । গ্রামের প্রায় সব বাড়ির জানালার পাশে গিয়ে আমরা বাজি ফুটিয়ে দৌড় দিতাম। মধ্য রাতে বাড়িতে ফিরে দেখতাম হ্যারিকেনের আলোয় সবাই গোল হয়ে বসে মেহেদী দিচ্ছে। একগাদা ভাই বোন একজন আরেক জনকে মেহেদী দিয়ে দেবার দৃশ্য আজও মনেপরে। এভাবেই কেটে যেত রাতের অর্ধেকেরও বেশি।তারপর সবাই একসাথে লম্বা বারান্দায় শুয়ে শুরু হতো গল্পের পসরা। গল্পের ফাঁকেই আমি নিজেকে ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে ফেলতাম। খুব ভোরে আজানের ধ্বনিতে ঘুম ভাঙত। ঝটপট উঠে দাদুর সাথে ফজরের নামাজ পড়তে যেতাম। দাদু বাড়ির সাথেই লাগানো মাটির তৈরী গ্রামের ছোট্ট মসজিদ। কেন জানি তখনকার দিনে ঈদ শীতের সময় হতো। ফজরের নামাজ পড়ে কনকনে শীতের মধ্যে গোসল করতে মন চাইতনা ৷দাদি বড় একটা পাতিলে সবার জন্য পানি গরম করে দিত, শীতের দিনে গরম পানিতে গোসলের মজাই আলাদা। মনের আনন্দে সাবান মেখে গোসল করতাম। গোসল শেষে বের করতাম লুকানো সেই নতুন জামা-কাপড়। এর মধ্যেই বাবা-মা গ্রামে চলে আসত। জামা-কাপড় পরে শুরু হত ঈদ সেলামি নেবার তোড়জোড়। সেলামি নেবার জন্য সব ভাই বোনােরা চলে যেতাম দাদুর কাছে। দাদু আগে থেকেই কড়কড়ে নতুন দশ/বিশ টাকার নোট রেডি করে রাখতেন। যাওয়ামাত্রই মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন কয়েকটা কাগজি নোট। এরপর একে একে সব চাচ্চুদের থেকে আদায় করতাম ঈদ সেলামি। এর মধ্যেই মসজিদের মাইকে মুয়াজ্জিন সাহেব দ্রুত ঈদের মাঠে যাবার তাগাদা দিতেন। দাদির হাতের রান্না করা মজাদার সেমাই, পায়েস, হালুয়া-রুটি খেয়ে কাঁধে একটা জায়নামাজ নিয়ে
সবাই মিলে বেড়িয়ে পরতাম ঈদগাহের দিকে। দাদুবাড়ি থেকে ঈদগাহে হেঁটে যেতে হত,গ্রামের সবাই এক সাথে ধান ক্ষেতের মাঝখান দিয়ে লম্বা লাইনে হেঁটে যেতাম ঈদগাহে। ধবধবে সাদা ঈদগাহের দেয়ালে লগানো হত কাগজের ফুল। মাঠের আশপাশে খেলনা সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসত দোকানী। গ্রামের সব ছেলেমেয়ে জড়ো হতো এখানটায়। সবাই মিলে বেশ হৈ হুল্লোড় হতো। আর সেই সাথে কোলাকুলি তো আছেই। সবাই যেন উৎসব আনন্দে আত্মহারা। নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে খুব কষ্ট হতো এই ভেবে যে, ঈদ এতো তাড়াতাড়ি কেন শেষ হয়…

লেখকঃ শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT