রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

রবিবার ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

১১:৩৫ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ বড়াইগ্রামে পৌর ও ইউনিয়নসমূহে গঠিত আ’লীগের কমিটি অনুমোদিত ◈ কোচিং বাণিজ্যে জড়াবেন না: শিক্ষা মন্ত্রী ◈ চাপাইনবাবগঞ্জে প্রয়াসের বিসিটিআপি প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শনে জোনাভেল্ড লিসবেথ ◈ দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে অগ্রগতিতে এগিয়ে রয়েছে; শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি এমপি ◈ দৈনিক খবর এর ৪৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত। ◈ পত্নীতলায় তরুণ বেতার শ্রোতা সংঘের উদ্যোগে বিণামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ◈ খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে প্রতিবেদন চায় হাইকোর্ট ◈ মহেশপুরে ২০০ বোতল ফেন্সিডিল জব্দ, থানায় মামলা ◈ পটুয়াখালীর গলাচিপায় অভিনব কৌশলে মাদক পাচার করার সময় আটক ১ ◈ আল-আমিন পাড়া শর্ট পিচ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০২০ এর ফাইনাল খেলা সম্পন্ন

সুপারির চারায় ভাগ্য বদল

প্রকাশিত : ০৬:৩৩ PM, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০ Friday ৯৭ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নের হংসরাজ গ্রামের কৃষক আশরাফুল আলম। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সুপারির চারা উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন তিনি। তার উৎপাদিত নার্সারির সুপারির চারা স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। আশরাফুলের মতো ওই এলাকার অনেক কৃষকেরই ভাগ্য বদল হয়েছে সুপারিসহ নানা জাতের গাছের চারা উৎপাদন করে।

আশরাফুল আলম বলেন, ‘২০১৯ সালে ৪০ শতাংশ জমিতে সুপারির নার্সারি করি। সার, বীজ, সেচ, পরিচর্যা ও পরিবহন খরচ বাদে ওই চারা বিক্রি করে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা আয় হয়।’ তিনি বলেন, ‘একটি সুপারির চারা উৎপাদনে খরচ হয় ছয় থেকে আট টাকা। সেই চারা ৬ থেকে ১২ মাসের মাথায় বিক্রি হয় ২৫-৩০ টাকায়।’

একই এলাকার কৃষক সুবক্তগীন অনিকেতের (৪৫) পরামর্শে সুপারির চারা উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেন আশরাফুল। সরেজমিনে চারা বাগানে কাজ করতে দেখা যায় তাকে। সেখানে মাটির বেডে বীজ বপন ও বেড প্রস্ততের কাজ করছিলেন তিনি। ছয় ইঞ্চি পরপর বপন করা হয় সুপারির বীজ। সেই বীজ থেকে চারা হয়। ওই চারা ছয় মাস থেকে এক বছরের মাথায় বিক্রি শুরু করা হয়।

এই কৃষক বলেন, ‘নার্সারি একটি লাভজনক ব্যবসা। অনিকেত ভাইয়ের পরামর্শে সুপারি, তেজপাতা, লং, দারুচিনি, এলাচসহ ছয় প্রজাতির গাছের নার্সারি করেছি। এতে কোনও লোকসান নেই।’

এলাকাবাসী জানান, নার্সারি করে আশরাফুল বসতবাড়ির জন্য সম্প্রতি ১০ শতাংশ জমি কিনেছেন। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া খরচ ও ভাতের জন্য তাকে আর চিন্তা করতে হয় না।

আশরাফুলের বাগানে এলাকার বেকার শ্রমিকদের কাজের সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ জন শ্রমিক তার নার্সারিতে কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। শ্রমিক সতিশ চন্দ্র রায় (৬০) বলেন, ‘আগে ভাবতে হতো, কার বাড়িতে কাজ করবো; কীভাবে বাজার খরচের টাকা পাবো। কিন্তু এখন আর সেটা নিয়ে ভাবতে হয় না। প্রতিদিন কাজ পাই। সন্ধ্যা হলে হাজিরার টাকা নিয়ে বাজার থেকে চাল-ডাল কিনে বাড়ি নিয়ে যাই। ওই বাগানের শ্রমিক দুলাল রায়ও (৩৮) একই কথা বললেন।
আশরাফুল আলম বলেন, ‘উত্তরাঞ্চলে অতিথি আপ্যায়নে পান সুপারির বিকল্প নেই। বিশেষ করে বিয়ে বাড়ি, মুখেভাতসহ নানা অনুষ্ঠানে পান সুপারি লাগেই। তাই এই অঞ্চলে সুপারি চাষ লাভজনক। নীলফামারীর পাশাপাশি সিলেট, পাবনা, কুড়িগ্রাম, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর ও লালমনিরহাটের পাইকাররা আমার এখান থেকে সুপারির চারা কিনে নিয়ে যান।’

হরিণচড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘একসময় এই গ্রামের মানুষ ভাত পেতো না। এখন তারা আর্থিক ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গ্রামের মানুষ সুপারি, মেহগনি, আম, জাম, লেবু, লিচু, কামরাঙ্গা, পেয়ারা, নারিকেলসহ বিভিন্ন গাছের নার্সারি করছে। অনেকে বিভিন্ন প্রজাতির ফল ও ফুলের নার্সারি করছে। এতে করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আবুল কাশেম আজাদ বলেন, ‘জেলায় ৬ হাজার ৫৭৯টি ছোট বড় নার্সারি রয়েছে। সামাজিক বনায়ন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি নানা ফুল ও ফল মানুষের কাজে আসছে। সুপারির নার্সারি সংখ্যা বাণিজ্যিকভাবে বাড়াতে মাঠপর্যায়ে কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তারা নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।’

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




মুজিববর্ষ: বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী উদযাপন
21 22 days 03 04 hours 24 25 minutes 15 16 seconds

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT