রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

মঙ্গলবার ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০৮:৪৫ অপরাহ্ণ

শিরোনাম

সিনেমার গানে দর্শক শ্রোতার সাড়া নেই

প্রকাশিত : ০৭:৩৫ AM, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ সোমবার ৩৬০ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

সিনেমার গল্প টেনে তুলতে গানের বিকল্প নেই। গান গল্পে প্রাণ জাগায়। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র গাননির্ভর হলেও এখন আর তা নেই। আগের মতন এখন আর সিনেমা দেখার পর দর্শক গুনগুনিয়ে গান গায় না। মুখে মুখে রটে না সিনেমার গান। গত কয়েক বছরে বাংলা চলচ্চিত্রে কোনো গান জনপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা তা বলা কঠিন।

হয়তো দু’একটি গান পাওয়া যাবে, যেগুলো সামান্য সময়ের জন্য জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কিন্তু হারিয়ে গেছে আবার। অথচ সত্তর, আশি কিংবা নব্বই দশকের চলচ্চিত্রের অনেক গান এখনও জনপ্রিয় হয়ে আছে। সেইসব গান এখনও দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে বলেই এখনও ওইসব গানের ব্যবহার হচ্ছে। এখন সিনেমার গল্পের সঙ্গে গানের কোনো সামঞ্জস্য নেই। হুট করেই গান চলে আসে গল্পের মাঝে। কথা ও সুরে নেই কোনো নতুনত্ব। গীতিকার হয়তো জানেন না তিনি কি লিখেছেন। অনেক ছবিতে তো সিনেমার দৈর্ঘ্য বাড়ানোর জন্যই গান ব্যবহার করা হয়। অশ্লীল কথার অভিযোগও পাওয়া যায় এখনকার সিনেমার গানে। এইতো গেল বছরে ‘দহন’ সিনেমার একটি গানের অশ্লীল কথার বিষয়টি তো সবারই জানা। অবশ্য তোপের মুখে পড়ে মুক্তির আগে গানটি সংশোধন করতে বাধ্য হন পরিচালক। বর্তমানে কোনো সিনেমা মুক্তির আগে তার দু-একটি গান অনলাইনে প্রকাশ করা হয়। কিন্তু মুক্তির পরেও সিনেমার সেই গান দর্শকদের হৃদয়ে নাড়া দেয় না। চলতি বছরে তারকাবহুল বেশকিছু ছবি মুক্তি পেলেও কোনো ছবির গানই জনপ্রিয় হয়নি। মুক্তির আগে চলতি মাসের একাধিক ছবি নিয়ে হৈ-চৈ হলেও মুক্তির পর ছবিগুলোর সাথে গানগুলোও ফ্লপ হয়েছে। ইতোমধ্যে মুক্তি প্রতীক্ষিত শাকিব খান অভিনীত ‘শাহেন শাহ’ ছবির চারটি গান প্রকাশিত হয়েছে। গত এক সপ্তাহ আগে এ ছবির ‘তুই আমি চল’ গানটি প্রকাশ পেলেও সাড়া জাগায়নি।

এর আগে এ ছবির একে একে তিনটি গান প্রকাশ পেলেও কোনোটিই দর্শকের গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। ভালো করার চেষ্টা ও চর্চা চলছে, যার সংখ্যা একেবারেই নগণ্য। এ নিয়ে প্রখ্যাত গীতিকার ও সুরকার আলম খান বলেন, ‘যুগের সঙ্গে সব পরিবর্তন হয়ে গেছে। এখন আর সিনেমার গানে মেলোডি পাচ্ছি না। বাংলা গানের সঙ্গে সংমিশ্রণও হয়ে গেছে। আগে আমরা একটি সিনেমার গানের জন্য গীতিকার-সুরকার ও শিল্পীরা মিলে যে পরিশ্রম করতাম। যে যত্ন নিয়ে কাজ করতাম এখন তা হয় কিনা আমার জানা নেই। আগে সিনেমার গল্পের সঙ্গে গানের মিল ছিল। দৃশ্যের সঙ্গে গানের মিল ছিল। গানের আগের সিকু্যয়েন্সের সঙ্গে গানের মিল ছিল। এখন ছবির দৃশ্যেও সঙ্গে গানের মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। হুট করে কি থেকে কি যেন হয়। ছবির দৃশ্যেও যা বলে গানের কথা তা বলে না। গানের কথা ও সুরের ঘাটতি থাকে। আগে রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমিন, বশির আহমেদ, সৈয়দ আব্দুল হাদি, এন্ডু্রকিশোরের মতো শিল্পীও এখন নেই।’

কণ্ঠশিল্পী মনির খান বলেন, ‘চলচ্চিত্র একটি বড় মাধ্যম। বড় পর্দার কাজ গোপনে হয় না। আমার জীবনে দেখা আলাউদ্দিন আলী সিনেমার গানের জন্য দিনের পর দিন পরিশ্রম করতেন। সিনেমার গানের জন্য মানুষের মেলা বসাতেন। সেখানে ওই সিনেমার প্রযোজক, পরিচালক, নায়ক-নায়িকা, গায়ক-গায়িকা, সুরকার, গীতিকার, মিউজিশিয়ান সবাই একত্র হতেন। একটি গান নিয়ে বিশ্লেষণ হতো। সিনেমার স্ক্রিপ্ট, গানের স্ক্রিপ্ট ও সুর নিয়ে আলোচনা হতো। সবার পরিশ্রমে সুন্দর একটি গান তৈরি হতো। এজন্য সময় লাগত। এরপর সেই গান চলচ্চিত্রে ব্যবহার হতো। কিন্তু এখন একটি সিনেমার গান খুব অল্প সময়ে তৈরি হচ্ছে। ঘরে বসে নিজের মতো করেই গান তৈরি হচ্ছে। সেসব গান শ্রোতাদের ভালো লাগছে না। তাই এখনকার সিনেমার গান জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে।’

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT