রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বুধবার ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৪:০৬ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ দশমিনায় বাবাকে জবাই করে হত্যাকারী ছেলে ইমরান গ্রেফতার ◈ সরকারি অর্থ আত্মসাত ও স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান সাময়িক বরখাস্ত ◈ ধীতপুর ইউনিয়ন তাতীঁলীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠন ◈ রাজশাহীতে বাসের ধাক্কায় সিএনজির চালকসহ আহত ৩ জন ◈ ধামইরহাটে মুজিববর্ষে ১৫০ গৃহহীন পাচ্ছে নতুন ঘর, দেখছে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন ◈ কুড়িগ্রামে শাক সবজী চাষে ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টা কৃষকদের ◈ মোহনগঞ্জে সাইকেল নিয়ে দ্বন্দ্বে যুবক নিহত ◈ দৌলতপুরে মোটরসাইকেল ও স্টারিং গাড়ি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১ ◈ ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে নাসিং হোম ক্লিনিকে ভূল চিকৎসায় প্রসূতি মায়ের মৃত্যু ◈ ডামুড্যার কিশোরী কাজল হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
জেলার রাজনীতি গোপালগঞ্জ

সাধারণ মানুষের ভরসা আওয়ামী লীগ

বিএনপিতে কোন্দল, অন্য দলগুলো অস্তিত্বহীন

প্রকাশিত : ০৫:৩৯ AM, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ Sunday ১৭৯ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে খ্যাত গোপালগঞ্জ। গোপালগঞ্জে পাঁচটি উপজেলা নিয়ে তিনটি নির্বাচনি আসন রয়েছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে যতবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রায় ততবারই এসব আসন থেকে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। আসনগুলো বরাবরই আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে।

বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এ জেলা অবহেলিত ও উন্নয়নবঞ্চিত ছিল। এ সময়ে যারা ক্ষমতায় ছিলেন তারা এ জেলার কোনো উন্নয়ন করেননি। এমন নানা কারণে এ জেলায় আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো দলের ভোটারও বাড়েনি। তবে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে। এরপর ২০০১-২০০৮ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালে আবারও উন্নয়নবঞ্চিত হয় এ এলাকার মানুষ। এরপর আবারও আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটে। দেশের অন্য আসনগুলোর তুলনায় রাজনৈতিক কারণে গোপালগঞ্জের আসনগুলো একটু ব্যতিক্রম। গোপালগঞ্জ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান।

এ জেলায় বিএনপি ও জাতীয় পার্টি নাম সর্বস্ব দলে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়া ওয়ার্কার্স পার্টি ও বাসদসহ অন্য দলগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই গোপালগঞ্জে।

গোপালগঞ্জ-০১ আসন মুকসুদপুর উপজেলার ১টি পৌরসভা, ১৬টি ইউনিয়ন ও কাশিয়ানী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ আসনটিতে বর্তমানে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান সংসদ সদস্য। ২০০৮ সালে বিজয়ী হন লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান। তিনি পান ১ লাখ ৮৩ হাজার ২১৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মো. সেলিমুজামান পান ৯ হাজার ৯৮৬ ভোট। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আবারও ২ লাখ ৪০ হাজার ৩০৪ ভোটে পেয়ে লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান (আ.লীগ) নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জাতীয় পার্টির দীপা মজুমদার পান ৫ হাজার ৮৬৩ ভোট। বিএনপি এ নির্বাচন বর্জন করে।

গোপালগঞ্জ-০২ আসনের সংসদ সদস্য হলেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী শেখ ফজলুল করিম সেলিম।

শেখ ফজলুল করিম সেলিম দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ৩৭ বছর ধরে জাতীয় সংসদে এলাকার মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছেন। ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জয়লাভ করে সর্বোচ্চ ৮ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে রেকর্ড গড়েন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম।

এ আসনে তার রয়েছে বিপুল জনপ্রিয়তা। এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত করে থাকেন তিনি। তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে রয়েছে তার গভীর যোগাযোগ ও সম্পর্ক। মাঝেমধ্যে তিনি তার নিজ নির্বাচনি এলাকায় আসেন খোঁজখবর নেন গরিব-দুঃখী সাধারণ মানুষের। যোগ দেন নানা রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও। এভাবেই তিনি তার জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন।

গোপালগঞ্জ-০৩ আসনটি দুটি পৌরসভা, টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও কোটালীপাড়া উপজেলার ১১ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ আসনের সংসদ সদস্য হলেনÑ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০০১ সালের নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ১ লাখ ৫৪ হাজার ১৩০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হাফেজ ওমর আহম্মদ (খেলাফত মজলিশ) পান ৭ হাজার ২২ ভোট। ২০০৮ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনা (আওয়ামী লীগ) পুনরায় নির্বাচিত হন ১ লাখ ৫৮ হাজার ১৫৮ ভোট পেয়ে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এস এম জিলানী (বিএনপি) পান ৪ হাজার ৪৫১ ভোট। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ১ লাখ ৮৭ হাজার ১৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টি (এরশাদ) প্রার্থী এ জেড অপু শেখ পান ২ হাজার ৪৩০ ভোট। বিএনপি এ নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়া থেকে বিরত থাকে।

১৯৮৬ সাল থেকে এ আসনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এ আসন আওয়ামী লীগের শক্তিশালী ঘাঁটি। শতভাগ ভোটারই নৌকার সমর্থক। শুধু সংসদ নির্বাচনই নয় স্থানীয় নির্বাচনেও রয়েছে আওয়ামী লীগের একক আধিপত্য। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী এমদাদুল হক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে। উপজেলা নির্বাচনে গোপালগঞ্জে দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচন হলেও আওয়ামী লীগ নেতা গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় শেখ লুৎফর রহমান বাচ্চু, কোটালীপাড়ায় বিমল কৃষ্ণ বিশ্বাস, টুঙ্গিপাড়ায় সোলায়মান বিশ্বাস, কাশিয়ানী উপজেলায় সুব্রত ঠাকুর নির্বাচিত হন। তবে মুকসুদপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাবির মিয়া নির্বাচিত হন।

পৌরসভা নির্বাচনগুলোতেও রয়েছে আওয়ামী লীগের আধিপত্য। গোপালগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী কাজী লিয়াকত আলী লেকু, টুঙ্গিপাড়া পৌরসভায় শেখ আহম্মদ হোসেন মির্জা, কোটালীপাড়ায় মো. কামাল হোসেন শেখ ও মুকসুদপুরে আতিকুর রহমান মিয়া নির্বাচিত হন।

অন্যদিকে গোপালগঞ্জে বিএনপির অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। বর্তমানে বিএনপি তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। জেলায় বিএনপির পার্টি অফিস না থাকলেও নেতাদের বাসায় কোনো রকমে চলে দলীয় কার্যক্রম। গত ২২ জুন শরীফ রাফিকুজ্জামানকে আহ্বায়ক এবং এম মনসুর আলীকে সদস্য সচিব করে ৩৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় বিএনপির মহাসচিব। এ আহ্বায়ক কমিটিতে দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে এমন অভিযোগে এনে একসময় বিএনপির সক্রিয় নেতাকর্মীরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করে কয়েকজন নেতা ওই আহ্বায়ক কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন। ফলে একেবারে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে বিএনপি। দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষিত কোনো কর্মসূচিই পালন করেন না নেতাকর্মীরা। অধিকাংশ নেতাই ঢাকায় অবস্থান করায় নেতৃত্ব শূন্য অবস্থায় রয়েছে বিএনপি।

আর মহাজোটের শরিক হলেও জাতীয় পার্টির কোনো কার্যক্রম নেই গোপালগঞ্জে। গোপালগঞ্জে জাতীয় পার্টির কোনো সভা-সমাবেশ পালন হয় না। এখানে নাম সর্বস্ব দলে পরিণত হয়েছে জাতীয় পার্টি। এ ছাড়া বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি মাঝেমধ্যে দুয়েকটি সভা-সমাবেশ করলেও ওয়ার্কার্স পার্টি ও বাসদের কোনো অস্তিত্ব চোখে পড়ে না গোপালগঞ্জে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT