রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শুক্রবার ০৩ এপ্রিল ২০২০, ২০শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

১২:৩৯ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ রংপুর মেডিকেলে প্রথম দিনে ৪২ জনের নমুনা সংগ্রহ ◈ ২৪ ঘণ্টায় ৫ জনের দেহে করোনা শনাক্ত, মোট ৬১ ◈ ধামইরহাটে কর্মহীন শ্রমিক-রিক্সা-ভ্যান চালক ও ঘরে বসে থাকা চা-পান দোকানীর পাশে এম.পি শহীদুজ্জামান ◈ রামগঞ্জে কার্যক্রম চালু রাখায় ২টি ইটভাটা বন্ধ করলেন ইউএনও ◈ লক্ষ্মীপুরে শফিউল বারী বাবু’র পক্ষ থেকে ছাত্রদলের নেতা রিফাদ’র ত্রান বিতরন ◈ লক্ষ্মীপুরে আইসোলেশনে থাকা দুই জনই করোনামুক্ত ◈ আজ থেকে মক্কা ও মদীনায় ২৪ ঘন্টার কারফিউ ◈ না.ঞ্জের বন্দরে করোনায় নারীর মৃত্যু, ১শ’ পরিবার লকডাউন ◈ বাড়িভাড়া ও ব্যাংক লোন-সংক্রান্ত প্রচারটি গুজব ◈ প্রতি উপজেলার দু’জনের নমুনা পরীক্ষার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী দেননি!

সাধারণ মানুষের প্রকৃত ভালোবাসায় সর্বমহলে সমাদৃত অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল

প্রকাশিত : ০২:১০ AM, ১১ মার্চ ২০২০ Wednesday ১১৮ বার পঠিত

মেহেদী হাসান, স্টাফ রিপোর্টার:
alokitosakal

তারুণ্য আর বিনয়ের উৎকৃষ্ট উদাহরণ আওয়ামী রাজনীতির আলোকিত মুখ জিল্লুর রহমান জুয়েল। চাঁদপুরের তরুণ আর যুব রাজনীতির আদর্শিক নাম বললেও বেমানান হবে না। ইতিমধ্যে চাঁদপুর শহরের নবীন-প্রবীণদের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছেন জুয়েল। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে এবার তিনি চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে লড়বেন। ৪৬ বছর বয়সী এ মানুষটি রাজনীতিতে এখন একজন গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তি। যিনি তার বিচক্ষণতা ও দক্ষতা দিয়ে আওয়ামী রাজনীতিতে নিজের অবস্থান জানান দিয়েছেন। চাঁদপুরের তরুণ আর যুব রাজনীতির আদর্শিক নাম বললেও ভুল হবে না। ছোট বেলা থেকেই পড়াশোনায় মেধাবী ছিলেন। সবসময় পরিচ্ছন্ন ছাত্র-রাজনীতি চর্চা করেছেন। দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন এবং ভবিষ্যতে আরো বেশি করতে চান। মানুষের প্রয়োজনীয়তা বুঝার চেষ্টা করেন। জনগনের সাথে মিলে মিশেই থাকা পছন্দ করেন তিনি। জনগনও অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েলকে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ছেন। পূর্ব ঘোষণা ছাড়া তিনি হঠাৎ করে যে এলাকায়ই যাচ্ছেন না কেন, সেখানেই মুহুর্তের মধ্যেই শ’ শ’ লোক জড়ো হয়ে যায়। ভালোবেসে বুকে টেনে নেন। সাধারণ মানুষ তাদের মনের চাওয়া পাওয়া, সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করেন। এ দৃশ্য দেখে মনে হয় সন্তানের কাছে পিতা-মাতা তাদের আবেগ অনুভূতি প্রকাশ করছে। উঠতি বয়সী তরুণ ও যুবকরা সেলফি বা ছবি তোলার জন্য মুখিয়ে থাকে। ভালোবাসা ও আন্তরিকতার কারণে সাধারণ জনগনের কাছে খুবই জনপ্রিয় তিনি।
চাঁদপুর শহরের ওয়্যারলেস এলাকার সাহেববাড়ির মো. লুৎফর রহমান ও শাহানারা বেগম দম্পতির ৮ সন্তানের মধ্যে সপ্তম হলেন জিল্লুর রহমান জুয়েল। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মেধাবী জুয়েল সবসময় পরিচ্ছন্ন ছাত্ররাজনীতি চর্চা করেছেন। চাঁদপুরের এ মেধাবীমুখ আসন্ন চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনে প্রতীক পাওয়ার পরপরই সর্বপ্রথম তার মুখোমুখি হন আমাদের স্টাফ রিপোর্টার মোঃ মেহেদী হাসান। সাক্ষাৎকারটি পাঠকের সামনে তুলে ধরা হলো।
আলোকিত সকাল : কেমন আছেন?
জিল্লুর রহমান জুয়েল : আলহামদুল্লিলাহ; আপনি কেমন আছেন?
আলোকিত সকাল : জ্বি ভালো আছি। চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেলেন। কেমন অনুভূতি?
জিল্লুর রহমান জুয়েল : অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে হাজার শুকরিয়া।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার হাতে নৌকা প্রতীক তুলে দিয়েছেন। আপনারা দোয়া করবেন, আমি যেনো তার সম্মান ধরে রাখতে পারি। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে দলীয় মনোনয়ন পাওয়াটা অনেক আনন্দের। আমার সাথে যারা দলীয় মনোনয়ন চেয়েছেন সবাই যোগ্য। তবে দল আমাকে বেটার মনে করেছেন তাই মনোনয়ন দিয়েছেন। এটা আমার জন্য চিরস্মরণীয়।
আলোকিত সকাল : পৌর নির্বাচন করার সিদ্ধান্তটা কবে থেকে নিয়েছেন?
জিল্লুর রহমান জুয়েল : নির্বাচন করতে চাই আর সেটা দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবেই করতে চেয়েছিলাম। মহান আল্লাহ তা পূরণ করেছেন। দলীয় মনোনয়ন না পেলে যিনি প্রতীক পাবেন তার পক্ষে অবশ্যই কাজ করতাম ঠিক যেভাবে আমি প্রার্থী হলে করার চিন্তা করেছি। রাজনীতির সাথে ছোটবেলা থেকেই সম্পৃক্ত ছিলাম। এখনো আছি এবং ভবিষ্যতেও সক্রিয় থাকবো।
আলোকিত সকাল : সাধারণ মানুষের কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
জিল্লুর রহমান জুয়েল : আমি খুবই আশাবাদী। কারণ চাঁদপুর পৌরসভা প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। আমি নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করি এখানের ভোটাররা সচেতনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। এ জায়গাতেই আমি আশাবাদী। চাঁদপুর পৌর এলাকার মানুষজন আমাকে খুব আপন করে নিচ্ছেন। আমি যেখানেই যাচ্ছি তাদের ভালো সাড়া পাচ্ছি।
আলোকিত সকাল : চাঁদপুরের বড় সমস্যাগুলো কি?
জিল্লুর রহমান জুয়েল : বর্জ্যব্যবস্থাপনা খুবই দুর্বল। নির্বাচিত কাউন্সিলরদের নিজস্ব কোনো কার্যালয় নেই। নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে গিয়ে পৌরসভার আয়ের উৎস বাড়াতে হবে। নাগরিক সুবিধা সংকুচিত করে আয় বাড়াতে পারেন না। বিভিন্ন খাত হতে আয় করবেন কিন্তু নাগরিক ভোগান্তি না দিয়ে। যে সকল চিন্তা থেকে অটোরিকশা লাইসেন্স দিলো পৌরসভা। মূলত সে চিন্তা ভেস্তে গেছে। বলা হলো, একটি অটোরিকশার প্যাডেলে রিকশার চেয়ে তিনগুণ বেশি যাত্রী নিতে পারে। অথচ শহরে খালি অটোরিকশাও ঘুরে। একজন দুইজন যাত্রী পেলেই চলতে থাকে। এভাবে দিন দিন অটো বাড়ানো হলো। তাছাড়া শহরে যানজটের সৃষ্টি করছে অটোরিকশা। এমনকি বিদ্যুতের অপব্যবহারও হচ্ছে। এ সকল সমস্যা সমাধান করার প্রত্যাশা রাখছি এবং চাঁদপুর শহরকে আরো আলোকিত শহরে রূপান্তর করতে চাই।
আলোকিত সকাল : পৌরবাসী কর যেভাবে দিচ্ছে। সেবার মান তার তুলনায় কতটুকু?
জিল্লুর রহমান জুয়েল : সরকার থেকে যে অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যায় তা দিয়ে নাগরিক সুবিধা পরিপূর্ণ করা কঠিন। তাই আয় বৃদ্ধি করতে হবে। সেবার মান মূল্যায়ন করা যাবে না। তবে মান বাড়ানোর অনেক সুযোগ ছিলো। নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে সুপরিকল্পিত চিন্তা বাস্তবায়ন করা হয়। এ যেমন ধরুন, বিপণীবাগ পৌর মার্কেটসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেই কাজ করার সুযোগ আছে এবং করতে হবে। যাই হোক, আমি সমালোচনা করতে চাই না। আমি কাজ করতে চাই। এক্ষেত্রে পৌরসভার আয় বৃদ্ধির সুযোগ আছে। আমি সে বিষয় নিয়ে কাজ করতে চাই।
আলোকিত সকাল : নির্বাচিত হলে কোন্ সমস্যাটা আগে সমাধান করবেন?
জিল্লুর রহমান জুয়েল : সর্বপ্রথম বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও যানজট নিরসনে উদ্যোগগ্রহণ করবো। শহরের সৌন্দর্যবর্ধনে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করবো।
আলোকিত সকাল : চাঁদপুর শহরে কী পরিবর্তন আনতে হবে?
জিল্লুর রহমান জুয়েল : সড়ক ব্যবস্থাপনা অবশ্যই পরিবর্তন আনতে হবে। সড়ক বাড়াতে হবে। বিশেষ বিশেষ সড়ক ওয়ানওয়ে করে দিতে হবে। চাঁদপুর পর্যটনের জন্যে সম্ভাবনাময় জেলা। পরিকল্পনা আছে, কিন্তু বাস্তবায়ন হচ্ছে না। বিশেষ করে, এক্ষেত্রে অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন। পৌরসভার নান্দনিকতা বাড়াতে হবে। কারণ এ বিষয়টি সরকার খুবই গুরুত্ব দিচ্ছে। আমি শহর সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে অবশ্যই সিদ্ধান্ত নিবো। এক্ষেত্রে অবশ্যই পরিকল্পনা ঢেলে সাজাবো। রাজধানী থেকে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে আসলে মনে হয় অন্ধকার দ্বীপে পা ফেললাম। আমার মতে, শহরে আরো আলোকসজ্জা বাড়ানো উচিত।
আলোকিত সকাল : ভোটাররা কেন আপনাকে ভোট দেবে?
জিল্লুর রহমান জুয়েল : আমার ৪৭ বছরের জীবনে আমি সৎ জীবন-যাপন করেছি। আমার ব্যক্তিগত আয়ে কোনো অসৎ উপার্জন নেই। আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে আমি সততার সাথে মেয়রের দায়িত্ব পালন করবো। এটাই আমার আস্থার জায়গা। আমার ব্যাপারে আস্থা ও ভরসা করে মানুষ আমার সম্পর্কে ভালো মত পোষণ করে। আর চাঁদপুরের মানুষ খুবই সচেতন। আমার দ্বারা কোন অনৈতিক কাজের আশ্রয় পাবেন না। আমাকে ভোট দিলে আমি আপনাদের লজ্জিত করবো না। চাঁদপুর পৌরসভার উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। আলোকিত সকাল : চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনে জনগণের কাছে আপনার প্রত্যাশা কি?
জিল্লুর রহমান জুয়েল : প্রথম প্রত্যাশা তাদের ভোট যেন দলমত নির্বিশেষে দেয়। প্রার্থী হিসেবে আমি তাদের সার্বিক সহযোগিতা করবো। এক্ষেত্রেও পৌরবাসী যেন অধিকার প্রয়োগে সুচিন্তা প্রয়োগ করে। তারা যেন সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়Ñএটাই আমার চাওয়া।
আলোকিত সকাল : জাতীয় আর স্থানীয় উন্নয়নের ব্যবধান কেমন চোখে পড়ছে?
জিল্লুর রহমান জুয়েল : ১১ বছরে দেশের যে উন্নয়ন হয়েছে সে ধারা পৌরসভার ক্ষেত্রেও করতে হবে। বর্তমান সরকারের যে উন্নয়নের জোয়ার বইছে তা পৌরসভাগুলোতেও করতে হবে। তবেই সমোন্নয়ন বণ্টন হবে।
আলোকিত সকাল ঃ পৌর নাগরিকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন।
জিল্লুর রহমান জুয়েল ঃ চাঁদপুর পৌরসভার বয়স একশ পঁচিশ বছর। বৃটিশ আমলে অবিভক্ত ভারত বর্ষের বাণিজ্যিক কেন্দ্র আসাম-বেঙ্গল গেটওয়ে হিসেবে খ্যাত চাঁদপুর শহরের গোড়াপত্তন ঘটে। বাণিজ্যিক শহর হিসেবে চাঁদপুর পৌরসভার প্রতিষ্ঠা পায়। শতবর্ষী পৌরসভা হিসেবে তুলনামূলক আরো উন্নয়ন প্রয়োজন ছিলো। আপনাদের ভোটে আমি নির্বাচিত হলে, দৃশ্যমান উন্নয়ন করে চাঁদপুরকে আধুনিক পৌরসভায় রূপান্তর করবো। চাঁদপুরের বাণিজ্যিক ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলে বিশ্বে চাঁদপুরের নতুন পরিচিতি হিসেবে তুলে ধরবো। আর এ উন্নয়ন হবে শুধুমাত্র আপনাদের ভোটে আমি নির্বাচিত হতে পারলে।
আলোকিত সকাল : সময় দেয়ার জন্যে আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
জিল্লুর রহমান জুয়েল : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেন দীর্ঘায়ু হন, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি আপাসহ দলীয় সিনিয়র-জুনিয়র নেতাকর্মীদের পরামর্শে আমি এগিয়ে যেতে চাই। আপনাকেও ধন্যবাদ।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT