রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বুধবার ১৯ জানুয়ারি ২০২২, ৬ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

১০:১৪ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ তাহিরপুর হাওর পাড়ে বৃক্ষরোপণের স্থান পরিদর্শন করেন,ইউএনও ◈ সরকারি কাজে বাধা, যুবকের তিনমাস কারাদণ্ড ◈ গজারিয়ায় কম্বিং অভিযানে ১০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ২ টি বেহুন্দি জাল আটক করে -কোস্ট গার্ড ◈ বান্দরবানে সেনা জোনে ১১০ ব্রিগেড সিগন্যাল কোম্পানী প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠিত ◈ শাহজাদপুরে আইনজীবীদের আদালত বর্জন অব্যাহত ◈ জুতা পরে কমলমতি শিশুদের ক্লাসে ঢুকতে দেয় না প্রধান শিক্ষক ◈ রবিবা’র আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বিষয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ◈ পাকুন্দিয়ায় শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ◈ ভূঞাপুরে কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন ◈ যশোরের শার্শায় ইজিবাইক চালককে হত্যা করে বাইক ছিনতাই

সাতকানিয়ায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি বশির ১ বছর পর গ্রেফতার

প্রকাশিত : ০১:০০ AM, ১৫ নভেম্বর ২০২১ সোমবার ৪২০ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

মোঃ মিজানুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টার:

চট্টগ্রাম: সাতকানিয়া উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নে ১৯৯৯ সালে চাঞ্চল্যকর সাবেক চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন হত্যা মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি বশির আহমদকে দীর্ঘ ১ বছর পর শনিবার (১৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তার নিজ বাড়ি থেকে এলিট ফোর্স (র‍্যাব-৭) র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের একটি আভিযাত্রিক দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করেছে। র‌্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মোঃ নুরুল আবছার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বশির আহমদ চৌধুরী সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ রুপকানিয়া ৯নং ওয়ার্ড সিকদার পাড়ার মৃত আহমদ হোসাইন চৌধুরীর ছেলে।

দক্ষিণ রুপকানিয়া, আল-আমিন পাড়ার উমর মিয়ার ছেলে, সরওয়ার কামাল বলেন তত্কালীন স্থানীয় চেয়ারম্যান নেজাম উদ্দীনের আপন মামা বশির অবৈধভাবে তার ভাগিনা নেজাম সহ তাদের ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে এলাকার মানুষকে জিম্মি করে কৃষি জমি থেকে মাটি কাটা, ইজারাবিহীন খাল থেকে ড্রেজার মেশিন স্কেভেটর দিয়ে বালু উত্তোলন সহ এমন কোন অপকর্ম নেই যা তারা করেনি। এ সমস্ত অপকর্মের বিরুদ্ধে মোঃ বাদশা সহ আমরা যারা প্রতিবাদ করেছি। আমাদেরকে অনেক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করতেছে। আমাদের হত্যা করার পরিকল্পনা করেছে। তাদের ভয়ে আমি এলাকায় থাকতে পারছি না।
আমি এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জনস্বার্থে বশির ও তার ভাগিনা নেজামের অনিয়ম দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড , হত্যা, ডাকাতি, অপহরণ, অস্ত্র ব্যবসা, মাদক ব্যবসা, সহ তাদের বিভিন্ন অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় ও তাদের বিভিন্ন অপকর্মের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কারনে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডাদেশ মাথায় নিয়ে পলাতক থাকার প্রায় ১ বছর ধরে মৃত্যুদণ্ডাদেশসহ ১ ডজনের বেশি মামলার পলাতক আসামি বশির তার একটি সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে সর্বশেষ বশিরের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) রাত ৯ টার দিকে বশির সহ তার সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলার শিকার হয়েছি। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা শেষে আমি বাদী হয়ে বশির সহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে সাতকানিয়া মামলা দায়ের করেছি। বর্তমানে তার সন্ত্রাসী বাহিনীরা বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছে।

সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামী বশির আহমদ চৌধুরীকে শনিবার রাতে নিজ বাড়ি থেকে র‌্যাব-৭ এর একটি টিম গ্রেফতার করেছে। এরপর শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বশির আহমদকে থানায় হস্তান্তর করেন। রবিবার( ১৪ নভেম্বর) গ্রেফতারকৃত আসামিকে যথাযথ পুলিশ স্কটের মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সাতকানিয়া উপজেলার ১৭ নম্বর সোনাকানিয়া ইউনিয়নের দুইবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেনকে ১৯৯৯ সালের ৩ অক্টোবর রাতে মির্জাখীল দরবার শরিফের ওরস চলাকালীন দরবারের ফটকে বসে আলাপ করার সময় সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করেছিল। ওই সময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। এ ঘটনায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। সন্ত্রাসীরা চতুর্দিক থেকে ঘিরে ধরে তাকে গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। হত্যাকাণ্ডের পরদিন ৪ অক্টোবর নিহত চেয়ারম্যানের স্ত্রী সৈয়দা রোশনা আকতার বাদী হয়ে ২০ জন আসামির নাম উল্লেখ করে সাতকানিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ কে এম মোজাম্মেল হকের আদালত ২১ বছর আগে সংঘটিত আলোচিত আমজাদ হোসেন চেয়ারম্যান হত্যা মামলায় বশির আহমদ চৌধুরী ও তার ভাগিনা সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের তত্কালীন চেয়ারম্যান নেজাম উদ্দীনসহ ১০ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। মামলার রায়ে খালাস পান চারজন ও মামলার প্রধান আসামী লুৎফুর রহমান চৌধুরী মৃত্যুবরণ করলে তিনি মামলা থেকে বাদ পড়েন। রায় ঘোষণার আগে থেকেই বশির পলাতক ছিল। মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া আসামিরা হলেন সাতকানিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন, জাহেদ, আবু মো. রাশেদ, মানিক, জিল্লুর রহমান, মো. রফিক, ফারুক আহমেদ, জসিম উদ্দিন, বশির আহমেদ ওরফে ডাকাত বশির ও তারেক। তাঁদের মধ্যে বশির ও তারেক পলাতক। যাবজ্জীবন সাজা পাওয়া আসামিরা হলেন মো. ইদ্রিস, হারুন মিয়া, আইয়ুব, মোরশেদ আলম ও ইদ্রিস। এর মধ্যে শেষের তিনজন পলাতক। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চারজন আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন আবু তাহের, শায়ের, মোস্তাক আহমেদ ও আবদুল মালেক। হত্যাকাণ্ডের সময় বশিরের ভাগিনা নিজাম উদ্দিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তিনি সাতকানিয়া সদর ইউনিয়ন থেকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া আরেক আসামি বশির আহমেদ সম্পর্কে নিজামের মামা।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT