রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২০, ১৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১০:২৭ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ সরকার বাজার শ্রমিক ইউনিয়ন গ্রুপ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুলতান ও সম্পাদক সেলিম ◈ শেরপুর প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সাথে ইংল্যান্ডের কাউন্সিলর মর্তুজার মতবিনিময় ◈ রাজশাহীর দূর্গাপুর থানার ওসি খুরশিদা বানুর তৎপরতায় আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি ◈ নতুন দায়িত্বে নূরে আলম মামুন ◈ ভাষা সৈনিকের নাতি শুভ্র’র খুনীরা যতই শক্তিশালী হোক তারা রেহাই পাবে না…..গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ◈ ২ টাকার খাবারের কার্যক্রম এবার ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় ◈ মুজিববর্ষ উপলক্ষে ‘আলোর মিছিল’ এর স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচী পালন ◈ রাজশাহীতে মানবাধিকার রক্ষাকারী নেটওয়ার্ক সভা ◈ রায়পু‌রে পুকু‌রে প‌ড়ে দুই শিশুর করুন মৃত‌্যু ◈ পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে কাতার প্রবাসীর সংবাদ সম্মেলন
গাইবান্ধা

‘সাঁকোত উইটলে গাও শিরশির্যায়’

প্রকাশিত : ০৫:৩৯ AM, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ Sunday ২২৪ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

‘নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো। সেটা পার হয়য়্যা স্কুলত যাই। সাঁকোত উইটলে গাও শিরশির্যায়! কত্তদিন হলো, কাইয়ো রাস্তা ঠিক করব্যার অ্যালো না।’ গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কেতকীরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী রহিমা খাতুনের বক্তব্য এটি। মনোহারি দোকানি আজিজ মিয়া বলেন, ‘ভাঙা সড়কে বাঁশের ব্রিজ। তাই সরাসরি মালামাল আনা যায় না। ভ্যানে অল্প অল্প করে আনতে হয়। এতে খরচও বেড়ে যায়।’ এসব প্রতিক্রিয়া শুধু ফুলছড়ি উপজেলার কেতকীরহাট এলাকার মানুষের নয়, উপজেলার অন্তত ১০টি স্থানের বাসিন্দাদের এমন অভিব্যক্তি। কারণ এবারের বন্যার স্রোতে বাঁধ, কাঁচা-পাকা সড়ক ভেঙে যাওয়ায় তারা ভুক্তভোগী। এলাকার লোকজন স্থানীয় কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সাহায্য নিয়ে নিজেদের চলাচলের জন্য তৈরি করেছেন বাঁশের সাঁকো। সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করা হলে যথারীতি উত্তর মিলছে, ‘ক্ষতির ধরন নির্ণয় করে প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে বা হয়েছে। অনুমোদন পেলে কাজ শুরু হবে।’

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক বন্যায় গাইবান্ধার ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, সদর ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ৫৯৩ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক, ২৬৬ কিলোমিটার পাকা সড়ক ও ১৯ কিলোমিটার বাঁধ বিধ্বস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ছোট-বড় ৩১টি সেতু-কালভার্ট। সড়ক ও বাঁধের অন্তত ২০টি পয়েন্ট ভেঙে এবং ধসে যাওয়ায় গাইবান্ধা জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার। পরে জোড়াতালি দিয়ে কোনো রকমে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ফুলছড়ি উপজেলা। ফুলছড়ির কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের ভাসারপাড়া, কেতকীরহাটসহ ১০টি স্থানে বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়েছে।

কালিরবাজারের আমিনুল ইসলাম জানান, ২০১৫ সালের বন্যায় ফুলছড়ির উদাখালী-সিংড়িয়া সড়কের হঠাৎপাড়া, উদাখালী-হাজীরহাট সড়কের হাজীরহাট, কালিরবাজার-গুণভরি সড়কের পূর্বছালুয়া ও কালিরবাজার-বোয়ালী সড়কের চারটি ভাঙা সেতু এখনো সংস্কার করা হয়নি। এসব এলাকার প্রায় আট লাখ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এর সঙ্গে যোগ হলো এবারের বন্যার ক্ষতি। কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধিরা দেখেও চুপচাপ। গজারিয়ার মনা রায় বলেন, ‘ভাঙা ব্রিজের ওপর বানানো বাঁশের সাঁকোগুলো দুর্বল হয়ে গেছে। বাঁশ পচে যাওয়ায় মাঝেমধ্যে পা ঢুকে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে। অসুস্থ মানুষদের ভ্যানে করে পার করে তুলতে হচ্ছে অ্যাম্বুল্যান্সে। স্কুলগামী বাচ্চাদের নিয়ে অভিভাবকরা দুশ্চিন্তায় থাকেন। অনেকবার ধরনা দিয়েও এলজিইডির মন গলানো যায়নি।’

এ ব্যাপারে গাইবান্ধা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুর রহিম শেখ বলেন, ‘দুশ্চিন্তার কারণ নেই। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জরিপের কাজ শেষ হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ বিভিন্ন উপজেলায় দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট সংস্কারে কাজ শুরু করবে।’

সুন্দরগঞ্জে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোয় ভরসা

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চরখোর্দ্দা ও লাটশালা গ্রামে যাতায়াতের একমাত্র বাঁশের সাঁকোটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে ভাঙাচোরা বাঁশের সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই পারাপার হচ্ছে এলাকাবাসী। এতে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনারও আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।

উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের চরখোর্দ্দা ও লাটশালা গ্রামের শত শত মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম বাঁশের সাঁকোটি। খোর্দ্দা গ্রামের ইমামগঞ্জ বাজারের পূর্বপাশেই তাম্বুলপুর ছড়া নদী। সেই নদীতে দুই বছর আগে দুই পাড়ের মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে ও অর্থায়নে বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করে। নির্মাণের পর থেকে সেটি মেরামত না করায় নরবড়ে হয়ে আছে। তবু এই সাঁকো দিয়েই চলাচল করতে হয় স্থানীয়দের। তাই বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ভুগছে চলাচলকারীরা। প্রতিদিন হাট-বাজারসহ স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা এ সাঁকো দিয়ে পারাপার হয়। ওই পথ দিয়েই পার্শ্ববর্তী কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ গাইবান্ধাসহ বিভাগীয় শহর রংপুর যাতায়াত করে থাকে। খোর্দ্দার চরের বৃদ্ধ মজিবুর বলেন, ‘সাঁকোটি দিয়ে যখন শিশু শিক্ষার্থীরা পারাপার হয় তখন উৎকণ্ঠায় চেয়ে থাকি।’ জ্যোত্স্না বেগম নামের এক নারী জানান, তাঁর স্বামী জীবিকার তাগিদে বাইরে থাকেন। তাই তাঁর দুই শিশুর স্কুল যাতায়াতের সময় সাঁকোটি পর্যন্ত যেতে হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে সাঁকোর স্থানে যেন একটি সেতু নির্মাণ করা হয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মুনছুর বলেন, ‘ইতোমধ্যে উপজেলায় বেশ কিছু স্থানে সেতুর তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে চরখোর্দ্দা ও লাটশালা গ্রামের বাঁশের সাঁকোর স্থানটিও রয়েছে।’

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT