রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বুধবার ২০ জানুয়ারি ২০২১, ৭ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৪:২৬ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ মোহাম্মদ অংকন এর কিশোর গল্পগ্রন্থ দুষ্টু কিশোরদের কাণ্ড ◈ গোবিন্দগঞ্জের বাইগুনীতে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট এর অভিযান ◈ শ্রীনগরে আলুর জমিতে কাজ করে বাড়তি আয় ◈ নবীনগরে বড়িকান্দিতে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে চাচা বাতিজার মৃত্যু ◈ বান্দরবান শহরে অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর আগুনে পুড়ে ছাই ◈ বড়াইগ্রাম পৌর নির্বাচনে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি দুই মেয়র প্রার্থীই বৈধ ◈ নবীগঞ্জে পণ্যবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বসত ঘরে, আহত ২,চালক পলাতক ◈ শাহজাদপুরে ব্যাতিক্রমী স্বেচ্ছাসেবীদের সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠিত ◈ না:গঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের আলোচনা সভা ও খাবার বিতরণ ◈ ধামইরহাটে নৌকার বিজয় নিশ্চিতে উঠান বৈঠক, শীতকে উপেক্ষা করে নারী ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি

সম্রাটের ‘ভাগ্য’ নির্ধারণ দুএকদিনের মধ্যেই

প্রকাশিত : ০৯:১৫ AM, ১ অক্টোবর ২০১৯ মঙ্গলবার ১৭৯ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

সন্ত্রাস, মাদক, টেন্ডার, জুয়া ও ক্যাসিনো বিরোধী চলমান অভিযানে দেশে এখন সবচেয়ে আলোচিত নামটি হচ্ছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাট। গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ করে বিশেষায়িত বাহিনী র‌্যাব এ অভিযান শুরু করে। অভিযানের পর যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক দেশের আলোচিত ‘টেন্ডার কিং’ জি কে শামীম, মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ চৌধুরী (ফ্রিডম পার্টি খালেদ), কৃষক লীগ নেতা কলাবাগান ক্লাবের সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজ (কালা ফিরোজ), বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক নিরাপত্তা রক্ষী লোকমান হোসেন ভূঁইয়াসহ অন্যরা কোটি কোটি টাকা, মদ ও অন্যান্য মাদক, অবৈধ অস্ত্র এবং জুয়া-ক্যাসিনোর সরঞ্জামসহ আটক হলেও এখনও আইনি জালের বাইরে রয়েছেন ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ হিসেবে এরইমধ্যে পরিচিতি পাওয়া ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট।

দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর পর থেকেই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল যেকোনো মুহূর্তে আটক হতে পারেন সম্রাট। কিন্তু অভিযানের শুরুর দিকে সম্রাট কাকরাইলের ভূঁইয়া ম্যানসনে তার ব্যক্তিগত অফিসে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও বিশ্বস্ত দেহরক্ষীসহ অবস্থান নিয়ে থাকেন। প্রথম ৪ দিন তিনি সেখানে অবস্থান করলেও তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক করেনি। এরপর তিনি ২২ সেপ্টেম্বর রাতের বেলা ওই কার্যালয় ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান। কথিত আছে, সম্রাট তার অফিস ছেড়ে রাজধানীর বনানী এলাকায় ক্ষমতাসীন দলের এক প্রভাবশালী নেতার আশ্রয়ে চলে গেছেন। সেখান থেকে তিনি সরকারের প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। সম্রাট তার অফিস ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকে কাকরাইলে তার ভূঁইয়া ম্যানসনের অফিসটিতে কার্যত শুনশান নীরবতা বিরাজ করছে।

এদিকে, অভিযানের সপ্তাহ পেরিয়ে এখনও আলোচিত সম্রাট আটক না হওয়ায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে- কী আছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের ভাগ্যে?

সূত্রে জানা গেছে, সম্রাটের ‘ভাগ্যে’ কী আছে, তা পরিষ্কার হবে আগামীকাল মঙ্গলবার বা পরদিন বুধবার। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ অধিবেশন থেকে এরইমধ্যে দেশের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) দেশে ফিরলেই সম্রাটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আওয়ামী লীগ ও সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে।

সূত্রের দাবি, জুয়া ও ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে যতগুলো ক্যাসিনো বন্ধ করা হয়েছে এর একটিরও মালিকানায় সম্রাটের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। আবার ক্লাবগুলোর দায়িত্বশীল কোনো পদেও তার নাম পাওয়া যায়নি। সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় তাকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক তার সকল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া, সম্রাট যেন বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারে এ ব্যাপারেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

অভিযান শুরুর পর কয়েকদিন আগে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সরোয়ার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সম্র্রাটের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই, আবার তাকে গ্রেফতারের ব্যাপারেও বাধা নেই। তার বিষয়ে তথ্য পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে, সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কাকরাইলের ভূঁইয়া ম্যানসনে সম্রাটের অফিসে গেলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সম্পাদকমণ্ডলীর একাধিক নেতা জানান, সম্রাট গুরুতর অসুস্থ। তার হার্টের সমস্যা বেড়ে গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুর যেতে হবে। চিকিৎসার জন্য তার সিঙ্গাপুর যাওয়ার আগাম প্রস্তুতিও ছিল। কিন্তু অভিযান শুরুর পর তাকে নিয়ে আলোচনা ও বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞার কারণে তিনি যেতে পারছেন না। এখন নেত্রীর দেশে ফেরার ও তার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন। নেত্রীর নির্দেশনা পেলেই তিনি চিকিৎসার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন।

‘যেকোনো সময় সম্রাট গ্রেফতার হতে পারেন’, এমন গুঞ্জনের বিষয়ে মহানগর যুবলীগের নেতারা বলেন, কাউকে আটক করতে হলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকতে হয়। তিনি তো ক্যাসিনোর মালিকও না, কোনা ক্লাবের সভাপতি বা পরিচালকও না। সম্রাটকে জড়িয়ে লেখালেখি করার কারণে এসময় গণমাধ্যমের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপস্থিত নেতারা।

পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ক্যাসিনো নিয়ে এ পর্যন্ত ১৭টি মামলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত সম্রাটের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT