রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

রবিবার ০৬ ডিসেম্বর ২০২০, ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৭:১৪ পূর্বাহ্ণ

সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের পদ্ধতি নিয়ে দু’দেশের চুক্তি হচ্ছে

প্রকাশিত : ০৫:১৬ AM, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ Tuesday ২৪৭ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

ভারত তাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পণ্য সরবরাহ করতে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করবে- সে বিষয়ে গত বছর অক্টোবরে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে দুই দেশ। কিন্তু ব্যবহার পদ্ধতি কী হবে তা ঠিক না হওয়ায় এতদিন এ চুক্তি কার্যকর হয়নি। এবার এই ব্যবহার পদ্ধতি বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) বিষয়ে চুক্তি করতে যাচ্ছে দুই দেশ। আগামী মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় এই এসওপি স্বাক্ষর হবে। একই সঙ্গে এ সময় ‘হোয়াইট শিপিং’ চালুর বিষয়ে একটি সমঝোতা হওয়ার কথা রয়েছে। নৌ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

২০১৫ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দর ব্যবহার সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়। এরপর ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের মন্ত্রিপরিষদ এমওইউ পরবর্তী চুক্তির খসড়ায় অনুমোদন দেয়। পরে অক্টোবরে ভারতের দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেডের (পিআইডব্লিউটিটি)বৈঠকে এ চুক্তি হয়।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, এসওপিতে বলা হয়েছে, ভারত থেকে জাহাজে করে পণ্যবোঝাই কনটেইনার বন্দরে আসবে। কনটেইনার ভারত থেকেই ই-লক করা থাকবে। বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর কাস্টম কর্তৃপক্ষ শুধু ইলেক্ট্রনিক্যালি স্ক্যান করবে। অস্ত্র, বিস্ম্ফোরকসহ বাংলাদেশে নিষিদ্ধ এমন কোনো পণ্য রয়েছে কি-না তা পরীক্ষা করা হবে। এসব না থাকলে ওই কনটেইনার পুনরায় বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ই-লক করে দেবে। এরপর বাংলাদেশের আটটি সড়ক পথ এবং দুই দেশের নৌ-প্রটোকল অনুযায়ী নৌপথে ওইসব কনটেইনার চলে যাবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে। ভারতে পৌঁছানোর ঠিক আগে বাংলাদেশের করা ই-লক খুলে দেওয়া হবে। ই-লক হচ্ছে এমন ব্যবস্থায় কনটেইনার বন্ধ রাখা, যেখানে কেউ খুলতে চাইলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য চলে যাবে কর্তৃপক্ষের কাছে। অর্থাৎ দূর থেকে কনটেইনারের ওপর নজর রাখা যাবে।

মন্ত্রণালয়ের সংশ্নিষ্ট কয়েক কর্মকর্তা জানান, এসওপিতে বন্দর ব্যবহারে ভারতকে কোনো বাড়তি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না। অর্থাৎ, ভারতীয় মালবাহী জাহাজ ভেড়ানো বা পণ্য নামানোর জন্য বন্দরে বিশেষ কোনো ব্যবস্থা থাকছে না। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা যেভাবে বন্দর ব্যবহার করছেন, ভারতও একইভাবে ব্যবহার করবে। বাংলাদেশি ব্যবহারকারীরা আমদানি করা পণ্য খালাসের সময় ওজন বা দরের ভিত্তিতে শুল্ক্ক পরিশোধ করেন। ভারতীয়দের এ ধরনের কোনো শুল্ক্ককর দিতে হবে না। কনটেইনারের ভেতরে যে পরিমাণ বা যে মূল্যের মালপত্রই থাকুক না কেন, নির্ধারিত ফি দিয়ে তা পরিবহন করার অনুমতি পাবে। বন্দরের ফি পরিশোধ এবং বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে তা পরিবহনের জন্য বাংলাদেশি ট্রাক ও নৌযান ভাড়া করার জন্য ভারতের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে এজেন্ট অফিস খোলার সুযোগ পাবেন। বন্দর ব্যবহারের কারণে ভারতের কাছ থেকে তিন ধরনের ফি নেওয়া হবে। এর মধ্যে ট্রানজিট ফি রয়েছে, যা আগেই নির্ধারিত। এর বাইরে বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং ফি এবং কনটেইনার স্ক্যানিংসহ বিভিন্ন কাজের জন্য কাস্টমস ফি আদায় করা হবে। প্রতিটন ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে পরিবহন হলে শুল্ক্ক বিভাগ, বিআইডব্লিউটিএ ও সড়ক বিভাগ মোট ১৯২ টাকা পাবে। এর মধ্যে ১৩০ টাকা পাবে শুল্ক্ক কর্তৃপক্ষ। সড়ক বিভাগকে প্রতি টনে ৫২ টাকা দিতে হবে। আর ১০ টাকা পাবে বিআইডব্লিউটিএ। এর বাইরে ট্রানজিট পণ্য পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠান যদি পণ্যের নিরাপত্তা চায়, তবে প্রতি টনে আরও ৫০ টাকা মাশুল গুনতে হবে।

হোয়াইট শিপিং : ভারতের পক্ষ থেকে হোয়াইট শিপিং চালুর বিষয়ে একটি এমওইউ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। হোয়াইট শিপিং হচ্ছে)- বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজের পরিচিতি ও চলাচলের তথ্য বিনিময়ের আধুনিক প্রযুক্তি। এই ব্যবস্থায় একেক ধরনের জাহাজের জন্য একেকটি রঙ থাকে। বাণিজ্যিক জাহাজের রঙ সাদা। আর ধূসর বা ছাই রঙ হচ্ছে সামরিক জাহাজের রঙ। কালো বা ব্ল্যাক হচ্ছে অবৈধ জাহাজের রঙ।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, হোয়াইট শিপিং চালু হলে দুই দেশের সমুদ্রসীমায় কী পরিমাণ জাহাজ রয়েছে তার তাৎক্ষণিক রিয়েল টাইম তথ্য পাওয়া যাবে। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় কতগুলো জাহাজ অবস্থান ও চলাচল করছে, তাদের অভিমুখ সম্পর্কে জানতে পারবে ভারত। একইভাবে ভারতের সমুদ্রসীমায় থাকা জাহাজের রিয়েল টাইম তথ্য পাবে বাংলাদেশ। এতে সহজেই বোঝা যাবে বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর অভিমুখী কয়টি জাহাজ এখন ভারতের জলসীমায় রয়েছে। জাহাজগুলো কত সময় পর বন্দরে পৌঁছতে পারে তা জানা যাবে। একইভাবে ভারত এসব তথ্য জানতে পারবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT