রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শুক্রবার ২২ নভেম্বর ২০১৯, ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সমুদ্রগামী জেলেদের দিন ফেরাকে স্বাগত

প্রকাশিত : 07:27 AM, 29 October 2019 Tuesday ৩৩ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :
alokitosakal

মোমবাতির নিচে অন্ধকার থাকে। এটাই প্রকৃতির নিয়ম এবং বিজ্ঞান। কিন্তু মানুষ যখন এই নিয়ম এবং বিজ্ঞানকে নিজেদের জীবনযাপনের মধ্যে অপপ্রয়োগ করে, তখন তা মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কত অন্ধকারই না সরিয়ে পৃথিবীকে আলোকিত করেছেন মানুষ। কিন্তু সেই আলোর নিচে পড়ে আছে হাজার অমাবস্যার জমাটবাঁধা নিকষ কালো অন্ধকার। অনেকটা মোমবাতিরই মতো। তবে এই দুই অন্ধকারের মধ্যে আছে আলাদা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। একটি নিয়ম ও বিজ্ঞান। অপরটি অনিয়ম ও মানুষের ওপর মানুষের সীমাহীন নির্যাতন। তাই একটি অপরটির সমার্থক নয়, ব্যঙ্গাত্মক বলা যেতে পারে।

পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ শিরোনাম বলছে, ‘সমুদ্রগামী জেলেদের দিন ফিরছে’ সংবাদটি শুভ। কিন্তু শিরোনামটির সঙ্গে আরো একটি সত্য জড়িয়ে আছে। সত্যটি হলো, এত দিন তারা রাতের আঁধারে নিমজ্জিত ছিল। কথাটি মিথ্যা নয়। প্রকৃত অর্থেই তাদের সংসারে কোনো দিন সূর্যোদয়ের ঘটনা ঘটেনি। জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি তারা কেবল অমাবস্যাকেই দেখেছে। সংসারের অলিগলি থেকে কখনোই সরেনি অমাবস্যার অন্ধকার। এদের আমরা স্থান, কাল, পাত্রে নানা নামে ডেকে থাকি। তবে বিশ্বজুড়ে এদের একটি নাম। আর সে নামটি ‘শ্রমিক’। সভ্যতার অগ্রগতির প্রতিধাপেই রয়েছে তাদের অংশগ্রহণ। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, কাজ শেষে এরাই থেকেছে অবহেলিত, হয়েছে বঞ্চিত এবং শোষিত।

যে জেলেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, ঝড়-তুফান ও বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে সমুদ্রে মাছ আহরণের মধ্য দিয়ে দেশের বিপুলসংখ্যক জনসমষ্টিকে আমিষের জোগান দিয়েছে, সেই জেলেরাই থেকেছেন অভুক্ত। গত কয়েক দশকে বাংলাদেশে মাছের উৎপাদন পাঁচ গুণ বাড়লেও, বাড়েনি জেলেদের জীবনমান। সামগ্রিকভাবে জেলেরা হয়েছেন বঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার। অনেক দেরিতে হলেও এসব বঞ্চিত মানুষ ও অবহেলিত সম্প্রদায়ের প্রতি সদয় হয়েছে সরকার। গুরুত্ব দিয়ে চিন্তাভাবনার কথাও বলছে এবং পদক্ষেপও গ্রহণ করেছে।

জেলেদের প্রশিক্ষণ, আধুনিক সামগ্রী বিতরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। আগামী চার বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা। বলা হয়েছে, জেলেদের আধুনিকায়ন করা হবে। বিমা সহায়তার আওতায় আনা হবে

উপকূলের ১৬ জেলায় জেলেদের প্রশিক্ষণ, আধুনিক সামগ্রী বিতরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। আগামী চার বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা। বলা হয়েছে, জেলেদের আধুনিকায়ন করা হবে। বিমা সহায়তার আওতায় আনা হবে। এখানে একটি কথা না বললেই নয়, প্রকল্প সফল হলে মাছের উৎপাদন আরো বাড়বে এ কথা সত্য, কিন্তু প্রকৃত জেলেদের অবস্থার উন্নতি হবে কতটুকু তার কোনো দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়নি। জেলেদের দিন ফেরাতে হলে তাদের অর্থনৈতিক দৈনতার অবসান ঘটাতে হবে।

যারা সমুদ্রে মাছ ধরেন, তাদের অবস্থা শোচনীয়। অনেকের স্থায়ী ঘরবাড়িও নেই। তাই উপকূলীয় জেলেদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি দেখতে হবে সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের নিরিখে। পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশে উপকূলীয় অঞ্চলে দারিদ্র্যের হার শীর্ষে। সেখানে বছরের দীর্ঘ একটি সময় মানুষের কোনো কাজ থাকে না। আর সে কারণেই প্রয়োজন টেকসই কর্মসূচি। জেলেরা যাতে মহাজনের ঋণচক্র থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন, এ দিকটায় খেয়াল রাখা আজ জরুরি হয়ে পড়েছে।

সূত্র বলছে, সরকার দায়িত্ব নিচ্ছে। আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থার কথাও ভাবছে। সরকারের এই ভাবনার প্রতি আমাদের শুভেচ্ছা রইল। তবে কাজ শুরুর আগে সরকারকে এটিও ভাবতে হবে, উই পোকা যেন সব ধ্বংস করে না দেয়। সরকারের অনেক ভালো কাজ উই পোকার কারণেই ভালোভাবে হতে পারেনি অথবা বিলম্বিত হয়েছে। হয়েছে টাকার অপচয়। আমরা তা চাই না—এটুকুই প্রত্যাশা।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT